ইউজার লগইন

নিভৃত স্বপ্নচারী'এর ব্লগ

সময়

ওইখানে ছিল তার ঘর! মাত্র কিছুকাল আগে-
মনে পড়ে; সব!
ভাঙ্গনের খেলা দেখেছে কত এ দুটি চোখ !
ঝাপসা হয়ে আসে!, বারে বারে;

একদিন যৌবন ছিল, লড়েছে কত-
বানের সাথে; ঝড়ের সাথে!
এখন শুধুই স্মৃতি, মনে পড়ে; ক্ষণে ক্ষণে !
বুকের ভিতরে এখনো টের পায় ঢেউয়ের শব্দ -
কাঁপা কাঁপা পায়ে এসে দাঁড়ায়,
ভাঙা পাড়ে-

ওইখানে, ঠিক ওইখানেই ছিল তাঁর ঘর!
ছানি পড়া দু’চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে-
কিছুই নেই এখন আর- ঘর, যৌবন কিংবা সময় !
মনে পড়ে একদা কেটেছে সময়-
সবুজ বৃক্ষের ডালে ডালে পাতায় কিংবা ফুলে;

ধূসর দৃষ্টি মেলে তাকায়
পার হয়ে গেছে সুদীর্ঘ কাল,
জীবন সায়াহ্নের এই বালুকা বেলায়!
বয়ে যায় সময়, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা করে রাত্রি গড়ায়
জীবনের চাকা ক্ষয়ে ক্ষয়ে থমকে দাঁড়ায়;
নিষ্ঠুর নিয়তি-

কুঁচকে যাওয়া চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে ফিরে
ফেলে আসা দিন-
হারিয়েছে কত সাথীরে! কেউ প্রহর গুনছে আজ
তারই মত-
খুঁজে ফিরে উজ্জ্বল আলো; ওখানে আলো নেই!
মেঘলা আকাশ, ফ্যাকাসে, থমথমে!

রাত জাগা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো বুঝতে পারে না এখন আর!
হুক্কা হুয়া শিয়াল ডাকে দূরে কোথাও-
জানান দেয় গভীর হয়েছে রাত!
বসন্ত আসে, আবার চলেও যায়, অগোচরে-

এইসব দিনরাত্রি (একটি হাজিরা পোষ্ট)

আজকের সকালটা শুরু হল একটু অন্যরকমভাবে। ছুটির দিনে সাধারণত সকালে একটু দেরী করে ঘুম ভাঙ্গে কিন্তু আজকে অন্যদিনের মতই সকাল সকালই ঘুম থেকে উঠতে হল। প্রতিদিন সকালে একটা তাড়া থাকে অফিসে যাবার জন্যে তবে আজকের তাড়াহুড়াটা অফিসে যাবার জন্যে নয়, আমার মেয়ে রিয়াসা’র নতুন স্কুলে যাওয়ার জন্য। আজ তার স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। সে খুব খুশি, গত পনের দিন ধরে শুধু প্রশ্ন করে যাচ্ছিল কবে সে স্কুলে যাবে। স্কুলে গিয়ে দেখি পরীক্ষার জন্যে অপেক্ষমান বাচ্চা ও অভিভাবকদের সংখ্যাটা নিতান্ত নগন্য না । ভাবতে অবাক লাগে মাত্র চার বছরের একটা বাচ্চাকে ভর্তির জন্যে পরীক্ষা দিতে হয়, এই বয়সে আমরা লেখাপড়ার কথা চিন্তাও করি নাই!

ধ্বিক! হে কীট, ধ্বিক!!

তুমি দেখেছো কি
ঐ ছোট্ট শিশুটির ভয়ার্ত চোখ !
বুকে ধারণ করেছো কি
ভাষাহীন চোখে তাকিয়ে থাকা
ঐ বৃদ্ধার বুকের ভিতরের শূন্যতা !
কান পেতে শুনেছ কি
একবুক আশা নিয়ে বেড়ে ওঠা কিশোরের
স্বপ্নভঙ্গের মৌন আর্তচিৎকার !

কি করে করবে ?
তোমার ভিতরের মানুষ নামের
হিংস্র জানোয়ারটা যে আজ অন্ধ !
কি বন্য, উন্মত্ত উল্লাস তোমার !
মহাপূন্যে গর্বিত তুমি !

দেখো, দু’চোখ ভরে দেখো-
কি উজ্জ্বল ! টকটকে লাল হয়েছে !
দাউ দাউ করে জ্বলছে !
জ্বলছে স্বপ্ন-আশা-ভালবাসা !
পুড়ছে শত বছরের ইতিহাস !
কি পৈশাচিক তান্ডব তোমার !
নগ্ন উল্লাসে ফেটে পড়া
মিটেছে কি তোমার আশ !

জেনে রেখ-
তোমাদের জ্বালিয়ে দেয়া হিংসার আগুন
একদিন ফিরে আসবে তোমাদেরই দিকে !
ঐ ছোট্ট শিশুটিই সেদিন
আঙ্গুল তুলে বলবে তোমাদের-

ধ্বিক জানাই তোদের !
হে সমাজের কীট ! ধ্বিক !!

কীর্তনখোলার বাঁকে !

স্মৃতির দুয়ার খুলি,
খুঁজে ফিরি আজো মনের গহীনে
আজি হতে কত বর্ষা আগের
ফেলে আসা দিনগুলি !

বুনো ফুল ঘেরা মেঠো পথ আর
ফসলের মাঠে মাঠে,
দিন কাটাতাম হেলায় খেলায়
কাকতাড়ুয়ার সাথে।

অলস প্রহর পেড়িয়ে যেত
বট-শিমুলের ছায়ায় !
জড়িয়ে রাখতো আমায় তখন
কি এক নিবিড় মায়ায় !

গাঁয়ের পুকুরে উদাস দুপুরে
কচুরীপানার ভিড়ে,
ঘুঘু-ডাহুকের ডাকাডাকি
আমায় রাখতো ঘিরে !

ডানপিটে সব সাথীরা মিলে
ধবল বকের ঝাঁকে !
হারিয়েছি মোর রাঙা শৈশব
কীর্তনখোলার বাঁকে !

দিনের শেষে দিঘীর পাড়ে
সুর্য ডোবার ক্ষণে !
হারিয়ে যেতাম ঝিঁঝিঁপোকার
সন্ধ্যা রাতের গানে !

সাঁঝ বেলাতে ডাকত পাখি
জুঁই-চামেলীর শাখে,
আঁধার হলে জমতো খেলা
জোনাক পোকার সাথে !

সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ততা আর
হাজার কাজের ভিড়ে,
যখন তখন মন চলে যায়
বাবুই পাখির নীড়ে !

অন্ধকারের আলো

মেয়েটি দরজা খুলতেই ভূত দেখার মত চমকে উঠলাম ! এ কাকে দেখছি আমি ! আমার মুখের দিকে চোখ পড়তেই যেন নিজেকে লুকাতে রুমের ভিতরের দিকে দৌড়ে পালালো ও। আমিও কিছুটা ইতস্থত বোধ করছিলাম, রুমের ভিতরে ঢুকবো কি ঢুকবো না ভেবে কিছুক্ষণ দরজায় দাঁড়িয়ে থাকার পর অবশেষে ভিতরে প্রবেশ করলাম। ও তখনও আমার দিকে পিছন ফিরে নিজেকে লুকাতে ব্যস্ত।

আমারও তখন একই অবস্থা। আমরা কেউই ভাবিনি এই পরিবেশে এভাবে আমাদের দেখা হবে ! অনেকক্ষণ পর আমিই মুখ খুললাম। কেমন আছ পরী! পরী আড়ষ্ট ভঙ্গিতে আমার দিকে ঘুরে নীচে তাকিয়ে ছিল, লজ্জা ও সংকোচে আমার দিকে তাকাতে পারছিল না। আমি দেখতে পেলাম ওর চোখ দুটো ভেজা ! অনেকক্ষণ পর ও বলল- আমি তো ভাই কচুরিপানা, স্রোতের তোড়ে এখানে ভেসে এসেছি, আপনাকে এখানে দেখব ভাবি নাই !

রাতের অতিথি !

উৎসর্গ: অনিমেষ রহমান, আজকের এই দিনে যিনি ভবলোকে পদার্পণ করেছিলেন ! শুভ জন্মদিন আনি’দা !

ঘুমন্ত শহর, কোলাহলহীন সড়ক,
সড়ক বাতি, রাতের নির্জনতা
খোলা পার্ক কিংবা ফাঁকা ফুটপাত,
কেটে যায় খন্ডিত জীবন, দীর্ঘ রাত!

রাতের অতিথি ওরা,
খোঁজে মুক্তির স্বাদ !
উন্মুক্ত আকাশ, সামিয়ানা
উপহাস্যে নির্বাক চাঁদ !

নিয়ন আলোর নীচে
খোঁজে এতটুকু সুখ,
রাত্রি শেষের অপেক্ষায়
ঘরহীন কিছু উটকো মুখ!

এখানে জীবন ধূসর, বর্ণহীন !
বৃষ্টি-কাদা-জল, ভেজা বাতাস,
কেটে যায় কখনো বিনিদ্র প্রহর,
অভিযোগহীন !

তপ্ত হাওয়ায় কি ঘন কুয়াশায় !
কংক্রিটের বিছানা, আলোয়ান বিহীন!
এলিয়ে দেয় ক্লান্ত দেহখানি,
অনাকাঙ্ক্ষিত, কারো কাছে
তবুও ওরা বাঁচে, হয়ে মুক্ত, স্বাধীন !

ব্যাঙাচির জীবন, কি আসে যায় !
অট্টালিকা আকাশ ছোঁয়া
দূরে কিংবা খুব কাছে
বর্ণীল আলোর ঝলকানি !

তুমি আমার সকাল বেলার সুর...

খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল মামার ডাকে। মামা অনেকটা জোড় করেই ঘুম থেকে তুলে দিলেন। বললেন দেখ, সকালটা কি সুন্দর ! অনিচ্ছাসত্বেও উঠে গেলাম। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি তমাল ঘরের সামনের বাধাঁনো সিঁড়িতে বসে আছে, আমাকে দেখে হেসে বলে উঠলো তোমাকেও তুলে দিয়েছে ! আমি হেসে বলি- উঠে যখন পড়েছি, চল নদীর পাড়ে যাই। দুজনেই একসাথে নদীর দিকে হাঁটতে লাগলাম। পূব আকাশে তখনো সূর্য উঁকি দেয়নি, তবে অন্ধকার কেটে যাওয়ায় হালকা আলোয় চারিদিক আলোকিত। একটি চমৎকার স্নিগ্ধ সকাল। শরতের সকাল!
বাড়ি থেকে নদী একদম কাছে, খুব বেশী হলে এক’শ গজ হবে। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে অল্প সময়েই পৌছে যাই নদীর পাড়ে। চমৎকার আবহাওয়া। নদীর দিক থেকে হালকা ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে লাগতেই অদ্ভুত এক ভাললাগা অনুভূতি জাগে। মনের গহীন কোনে বাজতে থাকে ইন্দ্রানীর সুরেলা কন্ঠে নজরুলের গান- তুমি আমার সকাল বেলার সুর.....

এলোমেলো ঈদ ভাবনা

তোর সাথে যে নদীর অনেক মিল !
নদীর নামে তোকে তো তাই ডাকি।
রোদ পড়লেই নদীটা ঝিলমিল,
তোকে ভেবেই নদীর ছবি আঁকি। ছবি আঁকি।।

ধূসর গোধূলিঃ বিষন্ন ছায়াপথ

dhusor godhuli-14_0.jpg
হারু মেম্বার গদিতে বসে পান চিবাতে চিবাতে হাঁক দেয়- এই তোরা তাড়াতাড়ি কর। সন্ধ্যার আগে কাম শ্যাষ করতে না পারলে সবগুলার হাজিরা কাটুম।
সবাই তাড়াতাড়ি কাজে হাত লাগায়। জানে, মেম্বার সারাক্ষণ হাজিরা কাটার ধান্ধায় থাকে, সুযোগ পেলে ঠিকই টাকা কেটে রাখবে হারামিটা। আড়তের দরজায় এসে দাঁড়ায় বিভা। ওকে দেখে হারু মেম্বরের মুখে কপট হাসি দেখা যায়।
-এই যে পুন্নিমার চাঁন, আপনে আইছেন? যহন কামে হোগগলের দম বাইর হইয়া যায় তহন আপনারে দেহা যায় না, এহন বুজি টাকা পয়সায় টান পড়ছে। তাই এইহানে ধরনা দিতে আইছেন?
-না মেম্বর সাব, কয়দিন শরিলডা খুব খারাপ আছিলো, তাই আইতে পারি নাই।
-আইজকা দিন শ্যাষ, আর কামে নেওন যাইব না। কাইলকা আইও।
-আইচ্ছা, বলে ফিরে যায় বিভা।

সকালে উঠেই কাজে যাবার জন্য তাড়াহুড়া করতে থাকে বিভা। সময়মত চাউলের আড়তে যেতে না পারলে কাজে নিবে না হারু মেম্বর।
-এই প্রভা ওঠ। আমার এহনই বাইর হইতে অইব।
-তুমি একদিনও আমারে ঠিক মতন ঘুমাইতে দেও না

ধূসর গোধূলিঃ আপন ভূবনে ফেরা

অনেকদিন পর নাহিদকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলো শিউলি। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ছুটির অভাবে দু’জন একসাথে আসা হয়নি বহুদিন। শ্বশুরবাড়ি থেকে একা একা বাবার বাড়িতে হুট করে আর আসা হয়না শিউলির। এবার ঠিক হয়েছে নাহিদ চলে গেলে ও বেশ কয়েকদিন থেকে যাবে এখানে। দীর্ঘদিন পর ভাই বোনদের কাছে পেয়ে খুব খুশি। অয়নকে নিয়ে আশপাশটা ঘুরে এসে শিউলি দেখে মা চাল ভিজিয়ে ঢেকিতে গুড়া করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাছাকাছি আসতেই বকুল আর অয়নের দুষ্টুমি শুরু হয়ে যায়। অয়নকে দেখেই বকুল ক্ষেপাতে শুরু করে-
-এই পুচঁকি, আবার বান্দরের মতন লাফাইতে কই গেছিলি?
-এই ছোটু, তুই আমারে পুচঁকি কইলি ক্যান? বলেই বকুলকে ধরার জন্য পিছু পিছু দৌড়াতে থাকে অয়ন। শিউলি ওদের দিকে তাকিয়ে হাসে। ও জানে, পুচঁকি বললে অয়ন ক্ষেপে যায়, তাই বকুল সুযোগ পেলেই ওকে ক্ষেপায়।
দৌড়াতে দৌড়াতে যেই বকুল বলে- আমি বিভা’পুদের বাড়ি যামু, তুই কি আমার লগে যাবি? ব্যাস! সব রাগ শেষ। ছোটদি আমারে নিয়ে যা, বলে বকুলের পিছে পিছে বিভাদের বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে অয়ন। বকুল ও অয়নকে দেখে অবাক হয় বিভা।
-আরে, অয়ন ভাইয়া যে! কি খবর?
-বিভা’পু, মা তোমারে যাইতে কইছে। বকুল বলে

ধূসর গোধূলিঃ ক্লান্ত দিনের শেষে

সকাল থেকে ঘরের দরজায় চুপচাপ বসে আছে বিভা। প্রবল বৃষ্টিতে কয়েকদিন কাজে যেতে না পারায় গত তিনদিন অর্ধাহারে দিন কেটেছে ওদের। হারু মেম্বরের চালের আড়তেও কয়েকদিন ধরে কোন কাজ ছিলনা। নিজে না খেয়ে থাকলেও মেয়েটার দিকে তাকিয়ে পারুলের ঘরের দিকে পা বাড়ায় ও। বন্ধ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কয়েকবার ডাকাডাকির পর দরজা খুলে বেরিয়ে আসে পারুল।
-তোমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া দিলাম পারুবু, কি করুম? না ঠেকলে আইতাম না
-আরে এত কতা কইতে অইবনা, কি হইছে খুইলা ক
-আইজ তিনদিন ধইরা ঘরে কিছুই নাই। নিজেরে নিয়া ভাবিনা কিন্তু কি করমু কও, মাইয়াডার মুখের দিগে তাকাইতে পারিনা। তোমার ঘরে খুদ থাকলে কয়ডা দেওনা!
-আরে পাগলী, এমন কইরা কইতে অয়? তোরা না খাইয়া রইছস তয় আমার কাছে আইলি না ক্যান?
-তোমারে আর কত জ্বালাইমু?
-বিভা, এইডারে জ্বালান কয়না। আমিও তো চাচীরে অনেক জ্বালাইছি। তোর মা তোরে আর আমারে আলাদা কইরা দ্যাহে নাই। ভরা পেটে না পারি আধপেটা খাওয়াইতেও তো পারি!

ধূসর গোধূলিঃ (২য় পর্ব) দীর্ঘশ্বাস

dhusor godhuli-2.jpg

বিভা মাষ্টার বাড়ি থেকে ফিরে দেখে তখনো ঘুমাচ্ছে প্রভা। চাল থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে ঘরের অনেক জায়গাই ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। প্রভার পায়ের কাছে কাঁথাটার অনেকখানিই ভিজা।
-ইস! বিছনাডা এক্কেবারে ভিইজা গ্যাছে, মাইয়াডা কিছুই দ্যাহে না। এই প্রভা, ওঠ।
চোখ মুছতে মুছতে উঠে বসে প্রভা।
-তুই দ্যাহস না খেতাগুলান ভিইজা গ্যাছে? পইড়া পইড়া খালি ঘুমাস ?
-আমি কি করুম? চালের সব জায়গা থেক্কাই তো পানি পড়ে। খেতাগুলান তো সরাইয়াই রাখছিলাম, বৃষ্টিতে ভিজা গ্যাছে।
বিভা ঘরের চালের দিকে তাকায় আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে- ঘরের চালে কত জায়গায় যে ছিদ্র গুণে শেষ করা যাবে না। আট বছর আগে, প্রভার বাপে মরণের আগের বছর ছন দিয়ে ছাওয়া পুরানো ঘর, বৃষ্টিতে ভিজে ছন পঁচে গেছে অনেক জায়গায়।

ধূসর গোধূলিঃ (১ম পর্ব) শ্রাবন মেঘের দিনে

ভোরের আলো ফুটতে এখনও ঢের বাকি। চারিদিকে একটা আবছা গুমোট অন্ধকার। অনেকটা শ্যাওলা পড়া স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের মত হয়ে আছে মেঘলা আকাশটা। থমথমে সময়টা মন খারাপ করা আরেকটা রোদ্দুরবিহীন দিনের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। মেঘলা ভোরের এই ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি শ্যামলপুর গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষের। ঘুম ভাঙ্গানিয়া পাখীদের দলও যেন বুঝে গেছে বৃষ্টিভেজা এই বর্ষাভোরে তাদের আরামের ঘুমটুকু এখনই ভাঙ্গিয়ে দিতে নেই। তাইতো ওরাও যেন স্বভাবসুলভ কিচিরমিচির থেকে বিরত রেখেছে নিজেদের। কাল সারারাত মুষলধারে বৃষ্টি ঝরেছে, শেষ রাতের দিকে কিছুটা কমে এলেও থেমে যায়নি পুরোপুরি। ভেজা গাছের পাতা থেকে টুপটুপ করে ঝরে পড়ছে বৃষ্টির পানি। শ্রাবনের ভারী বর্ষণে চারিদিক পানিতে থৈ থৈ, যতদূর চোখ যায় কেবল পানি আর পানি। বর্ষার পানিতে টইটুম্বুর আউশের ক্ষেতগুলোর মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাড়িগুলোকে একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতই লাগছে। সারারাতের বর্ষণে রাস্তার পাশের ভেজা গাছগুলো কেমন যেন বিষণ্ণ সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আশে পাশের ফসলি জমিগুলোর মাঝখান দিয়ে একেবেঁকে ছুটে চলা কাঁচা রাস্তাটার অনেকটাই তলিয়ে আছে পানির নীচে

খরার পরে বৃষ্টি (শেষ পর্ব)

দুপুরের কাঠফাঁটা রোদে আবার রাস্তায় নামে অমিয়। শান্তিনগর মোড়ের দিকে হাটতে থাকে, রাস্তায় প্রচুর যানজট। বাস, প্রাইভেট কার, সিএনজি, রিকশা, ভ্যানে রাস্তা গিজ গিজ করছে। যানজটে মানুযের জীবনযাত্রা দিনকে দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রচণ্ড গরমে অস্থির। এর মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থাকা ! বেঁচে থাকার তাগিদে ছুটে চলে শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। বড় বড় অফিসের ব্যাস্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া দিন মজুর পর্যন্ত। সবাই ছুটছে জীবিকার প্রয়োজনে !

শান্তিনগর মোড়ে এসে অমিয় ভাবতে থাকে কোথায় যাওয়া যায় ? ঠিক এই মুহূর্তে ওর কোন কাজ নেই। কাজ না থাকাও একটা সমস্যা। ফাঁকা বাসায় একা একা সময়ও কাটবে না, ভাবতে ভাবতে একটা রিকশায় উঠে পড়ে।
-রিকশাওয়ালা জিজ্ঞেস করে- কই যাইবেন ?
-মতিঝিলের দিকে চলেন।
রিকশা ধীরে ধীরে এগুতে থাকে মতিঝিলের দিকে। রিকশাওয়ালা লোকটা বেশ বয়স্ক। রুগ্ন শরীর, বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে দরদর করে ঘামছে।
-চাচা, আপনার বাড়িতে কে কে আছে ?
-আমি আর আমার স্ত্রী।
-ছেলেমেয়ে নাই?
-তিনডা পোলা আছে, তারা যার যার সংসার নিয়া আছে।
-আপনারে দেখে না?

খরার পরে বৃষ্টি (পর্ব-১)

উৎসর্গ –অনিমেষ রহমানকে, আমাদের নাগরিক জীবনের চারপাশের জটিল চাল চিত্র সাবলীল ভাবে উঠে আসে যার লেখনিতে।

সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। অমিয় বাসা থেকে বের হয়ে অনেকক্ষণ রিকশার জন্যে দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তায় দু-একটা রিকশা দেখা গেলেও একটাও যেতে রাজি হচ্ছে না। আজকাল রিকশাওয়ালাদের যে কি হয়েছ! কোথাও যেতে চায়না। বৃষ্টি না থাকলে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত হেঁটেই যাওয়া যেত, কিন্তু এই বৃষ্টিতে হেঁটে গেলে ভিজতে হবে। রাস্তায় কয়েক জায়গায় পানি জমে আছে। প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করার পর অবশেষে একটা রিকশা পাওয়া গেল।

বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখে লোকে লকারণ্য। বাস, ট্যাক্সি বা সিএনজি কিছুই নেই। মেজাজটা আরও খারাপ গেল। এমনিতেই সারাদিনই শহর জুড়ে যানজট লেগে থাকে, তার ওপর আজ বৃষ্টি হওয়াতে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দিন দিন আমাদের শহরটা যেন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে !
দুই ঘণ্টা যুদ্ধ করে অমিয় অফিসে পৌছাল।