ইউজার লগইন

নিভৃত স্বপ্নচারী'এর ব্লগ

বাবা, তোমাকে মনে পড়ে

আমার স্বপ্নভঙ্গের দিনগুলোতে
কিংবা পরম সুখের মূহুর্তগুলোতেও
বাবা, তোমাকে মনে পড়ে
খুব মনে পড়ে!

যেদিন থেকে বুঝতে শিখেছি
মাথার উপর তোমাকেই পেয়েছি, বন্ধুর মত
মাকে আমি পাইনি কোনোদিন,
সেই অভাবও মিটিয়েছ তুমি
অনেক আদরে, পরম স্নেহ মায়ায়
আজ তুমিহীনা কষ্টের প্রহরগুলো
বুকের ভিতর জমাট কান্নার ঢেউ তুলে যায়!

প্রতিদিন ঘর হতে বের হবার সময় তুমি বলতে
সাবধানে চলিস বাবা!
আমি হেসে বলতাম, তোমার দোয়া সাথে আছে তো!
বাসায় ফেরার সময়ও দেখতাম
দাঁড়িয়ে আছ তুমি বারান্দায়
তীর্থের কাকের মত! আমার অপেক্ষায়,
আজ তুমি নেই, আমি একা; বড় একা!
আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেনা কেউ আর বারান্দায়,
মাথায় রাখেনা ভরসার হাত!

তোমাকে দেয়া কথাগুলো এখনও ভুলিনি বাবা!
তোমার শেখানো পথে আজও হেঁটে চলেছি
দুর্গম সে পথে ঝড় আসে, ঝঞ্ঝা আসে
তবু ছুটে চলি অবিরাম, জানি
পাশে আছ তুমি; ছায়ার মত!

বিষাদে ছেয়ে যাওয়া মনটা
বার বার খুঁজে ফেরে শুধু তোমায়
চোখের কোণে তপ্ত জল জমে,
মাঝে মাঝে বড্ড জ্বালা করে চোখদুটো,
বার বার তোমাকে মনে পড়ে যায়
খুব মনে পড়ে!
খুব!!

সেদিন বাঁধভাঙা চোখের জল খুঁজে পেয়েছিল ভালবাসার আশ্রয়

father-son2.jpg
শহরের ছোট্ট একটি এলাকা। আধুনিকায়নের ছোঁয়া তখনো লাগেনি তেমন। সারা মহল্লায় কয়েকটি একতলা বিল্ডিং, কিছু টিনশেড সেমিপাকা বাড়ি আর বাদ বাকী সব বাঁশের বেড়ার ঘর উপরে টিন কিংবা চাটাইয়ের ছাউনি। চলাফেরার রাস্তাগুলোর বেশির ভাগই কাঁচা আর বাড়িগুলোর ফাঁকে ফাঁকে বেশ কিছু খোলা মাঠ আর নিচু জমি। মোটকথা শহরের মধ্যেই কিছুটা গ্রামীণ পরিবেশের আবহ।

কিশোর বেলার কিশোর থ্রিলার

সেই ছেলেবেলায়, প্রাইমারীর গণ্ডি শেষ করেছি কি করিনি ঠিক মনে পড়ছে না। প্রতিদিন দুপুরে বাসার সবারই নিয়ম করে ঘুমানোর আদেশ ছিল, আমার কখনই দুপুরে ঘুম হত না। মন উদাস করা গ্রীষ্মের সেই দুপুরে একা একা ঘরের কোণে বসে ‘আরব্য রজনীর দেশে’ নামক একটি বই পড়ছিলাম। সেই-ই প্রথম শুরু পাঠ্য বইয়ের বাইরে বই পড়া। মামা ঘুম থেকে উঠে বইটা হাতে দেখে বলে উঠল-এখনই উপন্যাস পড়া শুরু করেছো! কণ্ঠে অনেকটা তাচ্ছিল্যের সুর। আমি বুঝতে পারিনি কি এমন ভুল করলাম, মনে মনে ভাবছিলাম-এটা পড়া কি নিষেধ নাকি!

ধীরে ধীরে মাথার ভিতরে সেই যে বইয়ের পোকা ঢুকে পড়ে আর বের হয় না। ছেলেবেলায় আমি একটু ঘরকুনো টাইপের ছিলাম। গ্রাম থেকে চলে আসার পর শহরটাকে নিজের করতে বেশ কিছুটা সময় পার হয়ে গিয়েছিল। তারপর শুরু হল নতুন স্কুল জীবন। নতুন বন্ধু, নতুন জগৎ! একসময় বন্ধুদের কল্যাণে পেয়ে গেলাম বিশাল বইয়ের খনি! ‘সেবা প্রকাশনী’ আমার সামনে উন্মোচিত করে দিল এক নতুন দিগন্ত! শুরু হল আমার নতুন অভিযান, অসাধারণ এক এডভেঞ্চার!

বৃষ্টি বিকেল

45869_rain_dhaka.jpg

বৃষ্টি তুমি অঝোর ধারায় ঝরো
সকাল বিকাল অলস দুপুর
নিজের হাতে গড়ো।

বৃষ্টি তুমি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়
বিষণ্ণ এই সন্ধ্যাটিকে
রঙিন করে তোলো!

জুঁই চামেলী হাস্না-হেনা
ভেজা কদম ফুল,
ঝড়ো হাওয়ায় উড়িয়ে দাও
শ্যামলা মেয়ের চুল!

মেঘ বালিকার স্বপ্ন উড়ে
সাদা মেঘের ভেলায়
উদাস প্রহর পার হয়ে যায়
শেষ বিকেলের মায়ায়!

আকাশটা আজ কাঁদছে দেখে
মন খারাপের ঢেউ
তোমার বুকেও কান্না জমে
জানলো না কেউ।

শেষ বেলার গল্প

ওল্ডহোমের উপর ভিত্তি করে অনেক গল্প, নাটক ও গান হয়েছে। এটিও খুব সাধারণ একটি গল্প। কাছের একজন মানুষের একাডেমিক কাজের অংশ হিসেবে খুবই স্বল্প পরিসরে ওল্ডহোমের উপর একটি মুভি তৈরির জন্য একটি গল্প প্রয়োজন ছিল, তার অনুরোধেই এই প্রচেষ্টা। আমাকে বলা হয়েছিল পজেটিভ ফিনিসিং হতে হবে তবে ড্রামাটিক কোন কারণে নয়, স্বাভাবিক নিয়মেই। আমি চেষ্টা করেছি সেভাবেই লিখতে, সবার সাথে শেয়ার করার জন্য আজ ব্লগে দিলাম।

আকাশটা যেন ভেঙ্গে পড়েছে আজ। পূব আকাশ কালো করে সেই যে একটানা শুরু হয়েছে আর থামাথামি নেই। দুপুরের পর থেকে তৈরি হয়ে বসে আছে রওশন আরা। আজ সে তার নতুন বাসায় যাবে। নতুন একটা ঠিকানা পেতে যাচ্ছে সে, যেখানে তাকে অভ্যর্থনা করার জন্য অপেক্ষা করে আছে অনেক মানুষ! আজ থেকে সে আর একা নয়, সে হবে অনেকের একজন! একাটা বিশাল পরিবারের একজন! একা একা থাকতে কি কারো ভাল লাগে! কথা বলার, গল্প করার কেউ নেই। সারাদিন মনমরা হয়ে বসে থাকতে থাকতে দিন দিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিল সে। আজ থেকে তার সাথে কথা বলার জন্য থাকবে কত লোক! সব তারই বয়সী। কত সুখ দুঃখের গল্প করতে পারবে, আনন্দ বেদনা সেয়ার করতে পারবে! এর চেয়ে বেশী আর কি চাই!

শেকল খুলে উড়িয়ে দেবো মাকে যদি এনে দাও...

179183_363908613709362_1466298972_n.jpg

শিশুটির বয়স মাত্র আড়াই বছর। ভালমত হাঁটতে পারেনা এখনও। বেশ ক’দিন ধরেই মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত সে। কান্নাভেজা কচি দু'টি চোখ খুঁজে ফেরে শুধু মা’কে। মা আর আসে না, আসতে পারে না। এগিয়ে আসে ফুপু, কখনো খালা কিংবা নানী। কোলে তুলে নেয় ছোট্ট শিশুটিকে, চেষ্টা চলে কান্না থামানোর। কাঁদতে কাঁদতে একসময় ঘুমিয়েও পড়ে।

মফস্বল শহরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চলে এক দুখিনী মা। চেতনে অবচেতনে অস্ফুট স্বরে কেবলই একমাত্র আদরের সন্তানের নাম ধরে ডাকে। দু’চোখ বেয়ে নামে অশ্রুর ধারা, মনে আফসোস- তার কিছু হলে তার সন্তানকে কে দেখবে? ও তো এখনও ভালমত হাটতেই পারেনা! পাশে বসা মা, বোনের হাত ধরে অনুরোধ- আমার ছেলেটাকে তোমরা দেখো। একসময় সবকিছু শেষ হয়ে যায়, চৈত্রের এক দুপুরে হতভাগিনী মা তার একমাত্র শিশু সন্তানটিকে ফেলে রেখে পাড়ি জমায় অন্য ভুবনে, যেখান থেকে কেউ কখনো ফিরে আসে না।

ছায়া

02bcaba6-af57-4772-aef7-05a614d275a5.jpg

ফ্রেমটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি
ওখানে তো কোন ছবি নেই!
হয়তো আছে, অদৃশ্য বলয়ে বন্দী আমি
দেখতে পাইনি, কিংবা দেখতে চাইনি

ফ্রেমটা কতকাল ঝুলে আছে দেয়ালে!
পুরনো ফ্রেম, রঙ চটে গেছে, ধুলো জমেছে অনেক
কি আছে ওখানে? কিংবা ছিল, কোন একদিন
কে যেন জবাব দেয়- ওটা তোমার ছায়া।

ও জমা রেখেছে তোমার ইতিহাস
আমার ইতিহাস! সে আর এমন কি!
কে ওটা?
কে যেন আবার বলে- ওটা তুমিই
আমি বুঝতে পারি না, ওটা কি আমি?
এত কুৎসিত! না না, এ তো আমি না!

নিজেকে চেনোনি?
ভাল করে দেখো আর একবার,
ভিন্ন চোখে, একেবারে ভেতরটা!
কি, আঁতকে উঠলে!
চিনতে পারনি?
ওটা তোমার কৃতকর্মের ছবি

নিজেকে অচেনা লাগে,
চিনতে চেষ্টা করি, ঐ ফ্রেমের মাঝে
এ তো আমি নই, হতে পারে না, এ মিথ্যে
তুমি ভুল বলছ, মিথ্যে বলছ
তোমরা সবাই ভুল দেখছ!

নিজের আসল চেহারাটা দেখে কষ্ট পেলে?
নিজেকে কি সবসময় লুকোনো যায়!

দেয়ালে ঝুলানো ফ্রেম, কত কথা জমা রাখে

আমার স্বপ্নপূরণ- আমার ছোট্ট রিয়াসা !

মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখে, আমি সব সময়ই চাইতাম- আমাদের একটা মেয়ে হবে। সে হাসবে, খেলবে, সারা ঘরময় ছুটে বেড়াবে! একসময় আমার সেই স্বপ্ন সত্যি হল। আমার মেয়ে এখন সারাক্ষণই ঘরকে মাতিয়ে রাখে। সারা ঘরময় ওর ছুটে বেড়ানো, পাকা পাকা কথা বলা, দুষ্টুমি, মান-অভিমান আমাদেরকে এক ভিন্ন আবেশে জড়িয়ে রাখে, ও চুপ করে থাকলেই বরং ভাল লাগে না !

Riasha Photo for amar blog_0.jpg

একজন বলরাম এবং কিছু কথা

ferry in the river.jpg
আজ ছুটির দিন। ছুটির দিনটি আনন্দেই কাটে অমিয়র। বিকালে রুপা ও একমাত্র মেয়ে আদৃতা নিয়ে ফ্যামিলি এলবাম দেখছিল। অমিয়র তিন বছরের মেয়ে এটা ওটা প্রশ্ন করছে, অমিয় উত্তর দিচ্ছে। এটা আমার দাদা, এটা দাদী। আচ্ছা বাবা দাদী তোমার কি হয়? তোমার দাদী তো আমার মা হয়। আদৃতা বলে আমি তোমার মা না ? অমিয় উত্তর দেয় হ্যাঁ, তুমি তো আমার মা। আদৃতা দুহাত প্রসারিত করে বলে আমি তোমাকে এতগুলো ভালবাসি। বুক ভরে যায় আনন্দে। দুহাতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে অমিয় আর মনে মনে ভাবে আমার কোন দুঃখ নেই, এই তো আমার সব। এর জন্যে তো আমি যে কোন কিছু ত্যাগ করতে পারি। মনে পড়ে বাবা বলতেন আগে বাবা হ, বুঝবি সন্তান কি । তখন বুঝিনি এখন বুঝি বাবা ঠিকই বলেছিলেন।

কষ্টের নীল ঢেউ

উড়ে যায় শ্বেত কবুতর
ভেসে যায় সাদা মেঘের ভেলা
সোনালী রোদ্দুরে, স্বপ্নীল দু’চোখ
নীলাকাশে সুখের পাখনা মেলা।

বাজপাখির তীক্ষ্ণ নখের থাবায়
কেঁপে ওঠে ধরণি,
স্বপ্নের হয় অবসান
অশ্রুসজল জননী চেয়ে রয়-
নির্বাক,
ঈশাণ কোণে কালবৈশাখী
থমকে যাওয়া জীবন।

মরে যাওয়া পদ্ম পুকুরে
কষ্টের চাষবাস,
তপ্ত মাটির বুকে
ধূসর বৃক্ষের অবিরাম ক্রন্দন,
নিস্পলক চেয়ে থাকা
ছল ছল চোখ-
আতিপাতি করে খোঁজে
জীবনের স্পন্দন

ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের আর্তনাদ-
লাল রঙের ভেঁজা মাটি
তুলোর মত সাদা পালক,
ছড়ানো-
পোড়া মাটির প’রে,
ধুলোয় লুটোপুটি।

হাজার মনের মেঘ কাটাতে
অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামেনা
পাঁজর ভাঙার শব্দ
দিকে দিকে শুধু বাজে
শূন্য বুকের কান্না থামেনা!

লাল সাগরের বুকে
কষ্টের নীল ঢেউ
আছড়ে পড়ে তীরে বার বার,
পাথর চোখের শূন্য দৃষ্টি মেলে
চেয়ে চেয়ে শুধু দেখা-
শবের পাহাড়।

অসহায় মানুষের মুখে মুখে
শুধুই হাহাকার,
বাতাসে লাশের গন্ধ শুকে শুকে
ধেয়ে আসে অপেক্ষার শকুণ
এবার সময় হল তার!

দ্বিধা

confusion.jpg

আমার কিছু কথা ছিল
তোমাকে বলার, শুধু তোমাকেই,
শুনবে?

আমার মনের মধ্যে এক নদীর বাস,
সে নদীর দুদিকে দু'টি ধারা
দুদিকেই টানে,
কোনদিকে যে যাই! বুঝতে পারিনা।

নিজেকে বড় অচেনা লাগে
এই বদলে যাওয়া নিষ্ঠুর সময়ের ভিড়ে
নিজেকে ঠিক মেলাতে পারিনা,
হয়ত এই সময়ে বড়ই অচল!

অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া ধূসর এ্যালবামে
হাতড়ে বেড়াই ক্ষয়ে যাওয়া অতীত,
ধ্বংশস্তুপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
দুমড়ে ফেলা মানচিত্র হাতে নিয়ে
ক্ষত বিক্ষত আমি মিলাতে চাই
জীবনের ভগ্নাংশের হিসাব নিকাষ,
মেলেনা, অপেক্ষার বৃষ্টিও নামেনা
কেন, বলতে পারো?

কখনো মনে হয় মনটাকে
ভাসিয়ে দেই সময়ের স্রোতে
যাক না ভেসে জোয়ারের টানে, যেদিকে খুশি!
হয়না, দ্বিধায় পড়ে যাই
কেন যে এত দ্বিধা !
তাও বুঝি না।

অনেক কিছুই করা হয়নি-
পারিনি মেঘলা দুপুরে ঝরা পাতার মর্মর
ধ্বনি মাড়িয়ে মেঘ বালিকার পিছু নিতে,
উদাসী পথে হেঁটে হেঁটে রঙধনুর
সাতরঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে,
কিংবা পিচঢালা পথে হেঁটে যেতে
অচেনা রোদ্দুরে!

অপেক্ষার বৃষ্টি

ঠিক পাঁচটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল শান্তনার। প্রতিদিন এই সময়ই ঘুম ভাঙ্গে তার। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা ভারী বরষায়ও। কাকভোরে উঠে তড়িঘড়ি করে ছুটতে হয় কাজে। সংসারে তার আপন বলতে একমাত্র ছোট ভাই অপু। কিশোরী সান্তনা যখন মাত্র প্রাইমারীর গণ্ডি পেরিয়ে হাই স্কুলে প্রবেশ করল তখনই বাবা ওকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়। আর মা, কয়েক বছর ওদের দু ভাই বোনকে আগলে রেখে সেই যে বিছানায় পড়ল, আর উঠলো না। দুই বছর ভোগে, শুধু ভোগে না বলে বলা যায় সবাইকে ভোগায়। তারপর সব শেষ! সেই থেকেই সান্তনার মাথার উপর আর কেউ থাকে না। পাশে থাকে শুধু অপু। ওর জন্য অপু আর অপুর জন্য ও।

একটি নতুন ভোরের জন্যে

ekti vorer jonye.jpg
আজ শুধুই এগিয়ে যাবার দিন
স্বপ্নের পথে চলতে হবে-
এসো নবীন, হাতে হাত রেখে হও আগুয়ান
আজ এসেছে ঋণ শোধ করার দিন
বাধা আসবেই, আঘাত হানবেই
জানি, মরণ ছোবল বসাবেই বিষাক্ত নাগীন।

খাবার গন্ধে আসবে ছুটে
সব আনাহারী বুভুক্ষদের দল
ছিড়ে-কুড়ে খেয়ে নিতে সব
একেবারে নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত-
তারপর, খাবার ফুরোলেই
চলে যাবে সব দৃষ্টির আড়ালে।

সিঁড়ির আরও অনেক উপর থেকে
নেমে আসে ওরা কারা, জান?
ওরা সব শব-
ঝলমলে পোষাকের আড়ালে
এতদিন ঢাকা ছিল ওদের শরীর,
আজ অনেকদিনের ক্ষুধা মেটাতে
ছুটে আসছে সব।
বেঁচে থেকে যারা কিছু পায়নি
আজ আসছে তারা দলে দলে,
এতদিনের সব পাওনা বুঝে নিতে-
লাজ-লজ্জা ভুলে
নিজেদের বিকিয়ে দিয়ে!

এতকিছুর মাঝেও কেউ কেউ পথ দেখায়
কেউ থাকে এগিয়ে
যারা সূর্যের তেজে বলিয়ান,
শত আঘাত, হুঙ্কারও যাদের টলাতে পারে না
ছুটে চলে দীপ্ত পদক্ষেপে-

যারা স্বপ্ন দেখতে জানে,
তারা এগিয়ে চলে, শুধুই সম্মুখ পানে-
দুর্বার সাহস নিয়ে, কাঁধে কাধ রেখে

আলোর পথযাত্রী

সবেমাত্র এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ করেছি। অফুরন্ত অবসর। আর ক’দিন পর ভর্তি কোচিং এ ব্যাস্ত হয়ে পড়তে হবে। তাই কোচিং এ ভর্তির আগে কিছুদিন বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমার এই বেড়ানোর সাথে বাবা তাঁর কিছু কাজ আমার কাঁধে চাপিয়ে দিলেন। বাবার সেই বিশেষ কাজে আমাকে পটুয়াখালী যেতে হয়েছিল । অনেক দিন পর ওখানে গেলাম ! একটা সময় বাবার চাকুরীর সুবাদে কয়েকটা বছর আমাদের ওখানে থাকতে হয়েছিল। ছোট্ট শহর, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম। তখন ছিল, এখন চেহারা বদলে গেছে অনেকটাই। পটুয়াখালীতে আমার অনেক ভালো লাগা স্মৃতি আছে, যেগুলো মনে পড়লে প্রায়শঃই নস্টালজিক হয়ে যাই। মনে আছে শহর ঘেঁসে দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট্ট নদীটা, নামটা ঠিক মনে নেই কিন্তু ভাল লাগা রয়ে গেছে এখনও।

স্মৃতিতে অম্লান – অন্য রকম জোছনা !

Moonlight.jpg

নাগরিক জীবনে নানা ব্যাস্ততার মাঝে ফেলে আসা দিনগুলোর কিছু কিছু স্মৃতি কখনো কখনো মনকে আন্দোলিত করে। আমরা অনেকেই হয়ত এগুলো ভেবে মাঝে মাঝে নস্টালজিক হয়ে যাই।

আমাদের কাজিনদের একটা বড় গ্রুপ ছিল। প্রতি বছরই পরীক্ষা শেষ হলে সাবই মিলে একসাথে গ্রামে বেড়াতে যেতাম। কমপক্ষে পনের দিন গ্রামে থাকা হত, সবাই মিলে বেশ মজা করতাম। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ, গ্রামে বেড়াতে গেছি।

একদিন সন্ধ্যার পর আমরা ঠিক করলাম রাতে খেঁজুরের রসের পায়েস খাব। নানাদের খেঁজুর গাছ তখনও কাটা শুরু করেনি, তাই মামাত ভাই শ্যামলকে নিয়ে খেঁজুরের রসের সন্ধানে নেমে পরলাম। ও বলল নদীর ওপাড়ে ওর বন্ধুদের বাড়ি থেকে রস পাওয়া যাবে তবে রাত একটু বেশি না হলে হাঁড়িতে তেমন রস জমে না। আমরা ঠিক করলাম রাত দশটার পরেই যাব, তবুও খেঁজুরের রসের পায়েস খাওয়া চাই।