কারও কারও ফাগুন শুরু স্মৃতিকাতর মন খারাপে...
রাত ফুরোলেই আমাদের ভালোবাসার আচার কানুন পাল্টে যায়। বোনোর লেখা, রয় অরবিসনের গাওয়া গানটার মতোই।
‘Night falls I'm cast beneath her spell
Daylight comes our heaven's turns to hell
Am I left to burn and burn eternally…’ (she is a mystery girl)
১.
সিএনজি থেকে বেশ অপমানজনকভাবে নামিয়ে দেওয়া হলো আমাকে। উহু, আমি অপমানিত হয়ে নেমে গেলাম। হুজুগে সহযাত্রা। ঘুম চোখে, কোনো মতে ব্রাশ করে, ট্রাউজারটা পাল্টে জিন্স চাপিয়ে। এই যাত্রার নকশাটা ভোরবেলাতে, বিদায় কালে। প্লেটোনিক লাভের বিপরীতে শরীরবাদিতা বরাবরই হারে পৌরষবাদী বহুগামীতার কলঙ্ক নিয়ে। কবিতা আমার আসে না ইদানিং। কাউকে নিয়ে লিখে ১০১টা কমেন্ট! তারপর দেখা যাবে!! এই চুক্তি ব্যর্থ হতে বাধ্য। বদলে ১০১টা লাল গোলাপ অনেক সেফ।
২.
আজ দুটো ডেট ছিলো। পরিচিত দু’জনকে দুটো একাউন্ট করে দিয়েছিলাম ফেসবুকে। তারা ব্যবহার করে না। আমার চেয়ে বড় লুল খুজতে বেশ জম্পেশ তাদের কার্যক্রম- পরিচিত বহু বাঘা মানুষের গোমরভাঙা। ফোনে কাকে কাকে ধরিয়ে দেবো সেটাও ঠিক করা। দিনটা আসলে অন্যরকম হওয়ার কথা ছিলো। ডেটের সময় নাই। একটা পেমেন্ট নিয়ে সোজা প্রেসে যাওয়ার কথা। জন্মযুদ্ধের কাজ আটকে আছে, সেখান থেকে বইমেলা। প্রেমের সুযোগ নাই কোনো, বেঁচে থাকলে বহু সুযোগ আসবে। কিন্তু সব কিছু পাল্টে যায়। যে পাবলিকের কাছে টাকা সে দেখি ফোনই ধরে না। একজন ভাষা সৈনিকের আমার ব্লগের বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের কথা। উনি অসুস্থ। শেষ ভরসা অরূপ। তার খবরও নাই। এসবের মাঝে বিড়ি ফুকতে ফুকতে সিএনজিতে। কই যাচ্ছো? জানি না। আমার মন খারাপ, একটু ঘুরবো।
৩.
রাস্তায় নেমে বুঝলাম ভুল হয়ে গেছে। ফাঁকা রোডে সিএনজির টানে আমি এখন চৌধুরীপাড়ার মুখে। পকেট খালি। চড়া রোদে অনেকটা পথ হাঁটতে হবে। ফোনটা কানে তুলেছি, অমনি রিকশায় চোখ পড়লো। আমি রাস্তায় ফ্রিজ, আরেকজন রিকশায়। অনেক বছর আগে, শেষ চিঠিতে, শেষ লাইনে শেষ আঁকুতি- তোমাকে না দেখে আমার মৃত্যু হবে! কোলে মেয়ে, রাজকন্যার চেয়ে একটু ছোটো। ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরলো কবে! এতবার ফোন হারিয়েছি, সিম খুইয়েছি, নাম্বারও নেই। ৫ ফুট দূরত্বটা রিকশা কয় লহমায় পেরুলো জানি না। নিশ্চিত জানি আমাদের চোখেরা এই অল্পক্ষণে বহু কথা বলে ফেললো। অনেক কুশল, অনেক অভিমান। ‘আমায় ছাড়া ভালো আছো!’ ‘এখনও কি ভাবো আমায় কোনো মনখারাপ করা সন্ধ্যা বেলা?’ ‘তুমি আগের মতো আছো, একটুও বদলাওনি!’ কি আশ্চর্য্য, আমাদের দীর্ঘশ্বাসগুলোও একসঙ্গে বেরিয়ে আসে। আমি হাঁটি, কি ভেবে ঘুরতেই দেখি রিকশার পেছনের পর্দাটা আবার নেমে গেলো। 'ভালো থেকো। '
৪.
বিধাতা এক মজার কিসিম। অদ্ভুত তার চিত্রনাট্য। কিভাবে কোথায় কোনখানে কাউকে অনুভূতিতে নিঃস্ব করে দেন, কিংবা ভরিয়ে দেন অসীম সম্পদে। ২০ মিনিটের পথচলায় ফিরে এলো ‘৮৬। ‘আপনি একটা হাফলেডিস, ছাদে তো মেয়েরা ওঠে, আপনি এখানে কি করেন?’ অতঃপর পৌরষ প্রমাণে ব্যস্ত সদ্য তরুণের গোলমেলে যাপন। সেভেন গিয়ার, কাটা রাইফেল, গিটার, ড্রাগস, কবিতা -বারুদে গোলাপে পাশাপাশি সে সাজিয়ে যায় ভালোবাসা। হ্যা, ভালোবাসা ঠিক এসেছিলো। চলেও গেছে ওই পৌরুষের তীব্রতা সইতে না পেরে। আজ এতদিন পরে এসবের আর কোনো মানে নেই। মানে থাকেও না। শুধু মনে আছে। মনে থাকে।





ফাগুনের আগুনটা নিভে গেল
প্রথম প্রিয় পোস্ট ...
ধন্যবাদ, মনটা বহুত খারাপ ছিলো। বাসায় ফিরে অর্ধেক লেখার পর বাত্তি গেলো। আবার নতুন করে লিখলাম। ডিটেল বাদ দিয়া।
ক্যাম্নে কী!
স্মৃতি তুমি বেদানা
পহেলা ফাল্গুনের যথার্থ একটা লেখা। স্মৃতির বদনা সবসময়ই মধুর
যার লাগে, তার তো বদনায় কাম হয় না
এইসব মোহমায়ার পিছে ছুটতে নাই
এতদিনে এই বয়ান দিলেন!
প্রেমের সুযোগ নাই কোনো, বেঁচে থাকলে বহু সুযোগ আসবে।
সেটাই
ছাড়া ছাড়া দীর্ঘশ্বাস আর কিছু বিগত ফাগুন অনুভুতি নিয়ে লেখাটা পড়লাম।
কথানাই শুধু প্রিয়তে। শুভ ফাল্গুন
অনেক অনেক ধন্যবাদ
মন খারাপের মতোন বিলাসীতা আর নাই...
দুঃখ বিলাস জিনিসটা একেবারে খারাপ না
একটা বয়সের ভালোবাসাগুলো এমনই হয়... পৌরুষের তীব্রতা আসেই এইসব ভালোবাসাগুলার লিগা আবার সেই তীব্রতার ঝাঁজেই ভালোবাসাটা চলে যায়.... অনেকদিন পরে স্মৃতিকাতর হতে হলো পিয়াল ভাই...
এত তীব্রতা সহ্য করা বেশ কষ্টকর। এখন মনে হয়, রাজকন্যার রাজত্বে রাজার বেইল নাই!!!
দীর্ঘশ্বাস........
এইটা কি লেখলেন বদ্দা !!! লেখা পৈড়া তো আমারই ভাল্লুক খাইতে মন চাইতাছে
বাহ, আপনের এমন লেখা পড়িনাই মনে হয়.....
বিষন্ন পোস্ট
এই প্রথম কোন ছেলের কাছে থেকে এধরনের লেখা পড়লাম। ভালো লাগলো। পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষায় থাকলাম।
ছৃতি তুমি বেদানা ......
পিয়াল ভাই, মাঝে-মধ্যে দেখা দেন। এই পোস্ট প্রিয়তে।
মন্তব্য করুন