ইউজার লগইন

একটি সুইসাইড নোট এবং কিছু অভিযোগ

প্রিয় শাদল,

কেমন আছো তুমি? কি করছো এখন? খুব ব্যস্ত হয়ে অফিসের কাজ করছো নাকি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছো? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। কয়েকদিন তোমাকে না দেখলেই আমার মধ্যে যে কী ভীষণ এক অস্থিরতা তৈরী হয় তা তো তুমি জানোনা। তোমার কাছে আমার দরকার ফুরিয়ে যেতে পারে, আমি একটা ঝামেলায় পরিণত হতে পারি কিন্তু আমার কাছে তুমি সবসময়ই দামী, অমূল্য। সারাদিন, রাত তোমার কথা ভেবে আমার আর কিছুই করা হয়ে উঠেনা। অসম্ভব কষ্ট হচ্ছে শাদল, কি করি বলতো?

তোমাকে যেদিন প্রথম দেখি সেদিনই তোমার বুদ্ধিদীপ্ত চেহারাটা আমার খুব ভাল লেগেছিল জানো? কিন্তু তোমাকে কোনদিন কথাটা বলা হয়নি। আমি এতো বোকা দেখো, বেশী কথা বলতে বলতে আসল কথাটাই তোমাকে কখনো বলিনি। তুমি যখন বিজয়া আর জেসিদের সাথে ঘুরতে আমার খুব মেজাজ খারাপ হত। আর মেজাজ খারাপ হত তৃষার সাথে কথা বলতে দেখলে। কি পাগল আমি! তাইনা? আসলেই তোমার ব্যপারে আমি সবসময়ই খুব পাগল ছিলাম। তাই তোমাকে কারো সাথে কথা বলতে দেখলে সেটা নেট এ হোক বা ফোনে আমি সহ্য করতে পারতাম না। কেদেঁকেটে অস্থির হয়ে পড়তাম। আর তাই নিয়ে তুমি আমাকে কত অপদস্থ আর অপমান করতে!

মনে আছে শাদল, তোমার মাস্টার্স পরীক্ষা শুরুর দিন আমি খুব সকালে তোমার বাসায় গিয়ে হাজির আর তুমি আমাকে দেখে সে কি রাগ! একরকম জোর করেই আমি তোমার সাথে ক্যাম্পাস পর্যন্ত গেলাম। ক্যাম্পাসে গিয়ে কবি জসীমউদ্দীন হলের সামনে বসে সিঙ্গারা খেতে খেতে এক কথা দুই কথায় তোমার সাথে আমার ঝগড়া বেধেঁ গেল। আর তুমি হলের সামনে আমাকে একা ফেলে চলে গেলে। পরীক্ষার কথা ভেবে আবার তোমাকে খুজঁতে বের হলাম আমি। লাইব্রেরীর সামনে গিয়ে দেখি আমাকে রেখে এসে তুমি বন্ধুদের সাথে বসে কত গল্প আর হাসিতে মেতে আছো। সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমি কিন্তু কখনো বুঝতে দেইনি। তুমি চাওনি অথচ তবু এসে দাঁড়িয়ে ছিলাম তোমার পাশে। কারন? কারন একটু পর তোমার পরীক্ষা ছিল তাই।

তোমার সাথে ঝগড়া করে কখনোই থাকতে পারতাম না আমি। অনেক কিছুই বলার পরে যখন আবার ফিরে আসতাম তোমার ভাষায় সেটা ছিল "গিরগিরানি"। তোমার সাথে ঝগড়া হলে প্রতিদিন প্রতিক্ষন আমি মোবাইলের স্ক্রীনে তাকিয়ে থাকতাম, কখন তুমি আবার ফোন করে বসো! তুমি কি সেটা জানো? অনেকদিন চলে যাওয়ার পরও যখন তুমি আমার কোন খোঁজ নিতেনা তখন আমিই ফোন দিতাম তোমাকে। বেশিরভাগ সময় তুমি ফোন ধরতেনা, আর ধরলেও সে কি রাগ! আর আমি যখন স্যরি বলতাম বা কান্না করতাম তখন তুমি বলতে, "চলেতো গেসিলাই তাইলে এখন ক্যানো এতো গিরগিরানি"? তোমার কাছে যেটা "গিরগিরানি" সেটা ছিল আমার কাছে প্রচন্ড কষ্ট।

কোন বিপদে আমি তোমাকে কখনো একা ছাড়িনি। শত ঝড়-ঝাপ্টার মাঝে আমি তোমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছি। যাতে কখনোই তোমার একা না লাগে, পাশ ফিরেই যেন আমাকে পাও। তাহলে আমার যখন তোমাকে খুব বেশী দরকার ছিল তখন তুমি আমাকে কেন একা ছেড়ে দিলে বলতে পারো? আমিতো তোমাকে আশ্রয় করে লতার মতো জড়িয়ে ছিলাম, পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলাম তোমার প্রতি। তুমি কেন আমাকে ছুড়েঁ ফেললে? তুমি এতো নিষ্ঠুর কিভাবে হলে আমার প্রতি? তোমাকে আশ্রয় ভেবে খুব বেশী কি ভুল করেছিলাম আমি? কিভাবে তুমি আমাকে ভুলে এতো ভালো থাকো আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে।

তুমি হয়তো আমার এই চিঠি পড়ে খুব বিরক্ত হচ্ছো। ভ্রু কুঁচকে বলছো, "এ আবার নতুন কী যন্ত্রনা শুরু হলো"! আমিতো তোমার কাছে যন্ত্রনাই। বিশ্বাস করো আর যন্ত্রনা করবোনা তোমাকে। এই শেষবারের মতো। একটু সহ্য করো প্লীজ। আর হয়তো কোনদিনও তোমাকে যন্ত্রনা করার জন্য আসবোনা আমি। শেষবার কয়েকটা কথা বলে যেতে দাও। শুধু কষ্টের স্মৃতিই বলবো আর আনন্দের বলবোনা তা কি হয়? মনে আছে, সেই যে ক্যাম্পাসের দিনগুলো? যখন বিকেলের সোনালী রোদে তুমি আর আমি হাত ধরাধরি করে যেতাম কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সোনালু আর জারুল গায়ে মেখে। আমার হাত ঘেমে ভিজে একাকার হয়ে যেতো তবু আমরা হাত ছাড়তাম না। কদম ফোয়াড়ার কাছে গিয়ে আমি মুখ বাড়িয়ে দিতাম ভেজার জন্য আর তুমি তাই দেখে হাসতে। সেই তুমি এতো বদলে গেলে কিভাবে শাদল?

তোমার কাছে তো আমি কিছুই চাইনি শুধু একটু ভালোবাসা ছাড়া। তুমি সেটুকুও দিতে পারলেনা? যখন তোমার পাশে কেউ ছিলোনা তখন আমি ছিলাম। এখন তুমি পরিপূর্ণ একজন মানুষ। আজকে সবাই আছে তোমার পাশে, তাই তোমার আর আমাকে প্রয়োজন হয়না। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! কত তুচ্ছ কারনে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে অথচ আমিই পারলামনা তোমাকে ভুলে থাকতে। কেন এতো পাগল আমি? কেন এতো বোকা? আমি যে আর থাকতে পারছিনা তোমাকে ছাড়া। আমার যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে!

এই চিঠিটা যখন তুমি পড়বে তখন আমি আর নেই। তোমার আর আমার দুজনের যন্ত্রনা কমানোর জন্যই আমি হয়তো তখন ঘুম না ভাঙ্গার দেশে গেছি। যে দেশে গেলে মানুষ চাইলেও আর ফিরে আসতে পারেনা। কি করবো বলো আমি যে তোমাকে ছাড়া একদম ভাল থাকিনা। শুনেছি সুইসাইড করলে নাকি আত্নার মুক্তি মেলেনা। অতৃপ্ত আত্না দুনিয়াতেই থেকে যায়, পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে পারেনা। সত্যিই যদি এরকম কিছু হয় তাহলে আমি বরং খুশী হবো জানো? আমি অন্তত মৃত্যুর পর তোমাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবো। তুমি চাইলেও আর আমাকে আলাদা করতে পারবেনা। ভয় পেওনা, আমি তোমাকে আর জ্বালাতন করবোনা। বুদ্ধিটা খুব ভালোনা শাদল?

ইতি,
অনিতা।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

একজন মায়াবতী's picture


সান্তনা

প্রিয়'s picture


নৃত্য

রাসেল আশরাফ's picture


শাদল বেচারারে হুদায় ফাঁসায় দিয়ে গেলো। Puzzled

প্রিয়'s picture


ফাঁসাইতে চায়নাই তো। Smile

তানবীরা's picture


নিজে না মরে শাদলকে খুন করার আইডিয়া কেমন? Tongue

একজন মায়াবতী's picture


Rolling On The Floor

প্রিয়'s picture


প্রেমে টুইটুম্বুর গল্প। Big smile

প্রিয়'s picture


ভালা বুদ্ধি ভালা বুদ্ধি। Laughing out loud

রায়েহাত শুভ's picture


মনেহয় অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম...

১০

প্রিয়'s picture


লেখতে আলসেমী লাগেরে ভাই।

১১

রায়েহাত শুভ's picture


আলসেমী লাগা ভালু না...

১২

প্রিয়'s picture


হ ঠিক। Big smile

১৩

সামছা আকিদা জাহান's picture


সুইসাইড চলবে না চলেবে না এমন স্বাভাবিক বিরধী কথা চলবে না? জন্ম তোমার নিজের ইচ্ছেয় হয় নাই তুমি নিজের ইচ্ছায় মরবেও না। Sad

১৪

প্রিয়'s picture


এক্কেবারে খাঁটি কথা। Laughing out loud

১৫

সুদূরের পিয়াসী's picture


প্রিয় আপনার লেখাটাও প্রিয় ।

১৬

প্রিয়'s picture


থ্যাঙ্ক ইউ। Laughing out loud

১৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এমুন মন খারাপ করা লেখা কেন দিলা প্রিয় প্রিয় আপু?

একটা মন ভাল করা লেখা দাও, প্লিই ই ই ইজ!!

১৮

প্রিয়'s picture


মন ভালো না থাকলে ক্যাম্নে মন ভালো করা লিখা দিমু? Shock

১৯

লীনা দিলরুবা's picture


তোমার লেখার হাত এতো ভালো... দারুণ লাগছিলো পড়তে।

পুরোই কল্পনাজাত লেখা এটি, যদি সত্যি তা হয় আমি খুব খুশী হবো প্রিয় Smile

২০

প্রিয়'s picture


লীনাপু, আপনি কি জানেন একটা লেখা দেয়ার পর আমি অধীর আগ্রহে বসে থাকি কখন আপনি কমেন্ট করবেন?

২১

কিঙ্কর আহসান's picture


কল্পনাজাত লেখা হলেও বাস্তবতার কাছাকাছি চলে এসেছে। লেখককে অভিনন্দন।

২২

শামান সাত্ত্বিক's picture


বেশ টাচি লেখা। এমন লেখা না লেখাই ভাল। Wink

শুভ কামনা।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

প্রিয়'s picture

নিজের সম্পর্কে

নিজে লিখার চেয়ে অন্য সবার লিখা পড়তেই বেশী ভাল লাগে।