মোবাইল মোবাইল প্রেম ( রম্য অপপ্রয়াশ)
ফোনটা ধরেই আবিরের মাথায় রক্ত উঠে গেল। নিরীহ ধাচের একটা ছেলে আবির। কারো সাতে নাই পাচে নাই। নিজের পড়া, বন্ধুবান্ধব, আড্ডা আর প্রেমিকা অনন্যাকে নিয়েই খুশী। বড়ই জটিল প্রেম । ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রেম। দেখার থেকে মোবাইল , ইন্টারনেট ইত্যাদির ভূমিকাই বেশি ।
আবিরের ভ্রু কোচকানো দেখে জাহিদ অবাক। যে এই শান্ত শিষ্ট প্রায় লেজবিশিষ্ট ছেলেটার আবার মেজাজ খারাপ ক্যান?
- কি মামা কি হইলো তোর আবার?
- আর বলিস না দোস্ত এই নাম্বার থেকে জ্বালাইয়া ফেলল।
- কেন ? কি করে?
- দিন রাইতে মিস কলের পর মিস কল।
- ফোন দিয়া গাইল দে
- আরে গাইল দিমু কেমনে বেটা?
- ক্যান মুখ দিয়া!!!!
- ধুর, মাইয়া মানুষ।
মেয়ে শুনে জাহিদ চোখ বড় বড় করে ঠোট গোল করে শিস দিয়ে উঠলো ।
- কও কি মামা। তাইলে তো কাহিনী কাহাব্বাত!!!!
- হ বেটা।
- ক্যামনে কি খুইলা ক।
আবির শুরু করলোঃ
যেই দিন দেশে নামলাম। মোবাইল নিয়া অনন্যারে ফোন দিলাম। গ্রামীন তো ডাকাইত তাই কম দামে পাইয়া ওয়ারিদ লইলাম একটা। ওয়ারিদ নেওয়ার দুই তিন দিন পরে প্রথম বার ফোন আসে একটা অপরিচিত নম্বর থেকে। ধরি। দেখি কথা বলে না। রাইখা দিলাম । দেখি শালার মিস কলের পর মিস কল। দ্বীতিয় বিশ্বযুদ্ধে মনে হয় এতো গুলি খরচ হয় নাই যত গুলা মিস কল আমি পাইছি। এরপরে একদিন ফোন দিলাম।
- হ্যালো।
- হ্যালো।
- কে আপনে মিস কল দেন কেন?
এই দিকে মাইয়াগলা শুইনা আমি কাইফা হালুকা। গলাটাও সুন্দর। এতো সুন্দর গলার মাইয়া চিনি না আবার আমারে মিস কল দেয়। মাথা নষ্ট মামা। যে কেডায় কাহিনী করে আমার সাথে। আমার অনন্যার কপাল কে ফাটাইতে চায়। এরপরে আমারে উত্তর দেয়,
- এমনি মিস কল দেই।
- কেন মোবাইলে টেকা নাই? ফকিন্নি নাকি?
- হ্যা আপনার দর্শনের ফকিন্নি।
- দেখেন মাস্তি মাইরেন না। কারে চান?
- আপনারে চাই ।
- আমি বিবাহিত ।
- তাইলে আপনার সাথে পরকীয়া করবো।
- হুর বাল নিজে ফোন দেন পরে গেজাই।
এই এমনে শুরু । এরপর থেইকা প্রত্যেকদিন জ্বালাইতেই আছেরে দোস্ত। কি যে করি!!!!
সব শুনে জাহিদ চিন্তা মগ্ন হলো।
- মামা এক কাম কর
- কি?
- মালটারে আইতে ক।
- কি কস!!!!
- হ বেটা ।
- কেন?
- দেখা করি ।
- না না অনন্যা মাইরা লাইবো আমারে।
- ধুর বাল , মাইয়াতো তোরে দেখে নাই , ৪ বছর পরে দেশে আইলি। আমি আবির সাইজ্জা দেখা করুম।
- কি কস?
- হ বে। ডাক।
- আইচ্ছা ডাকুম মামা আগে অনন্যার লগে কথা কইয়া লই।
জাহিদ মনে মনে খিস্তি করল হালা মেছোর। বউ ছাড়া কিছু বুঝে না!!!!
সেদিন রাতে ১২টার সময় আবিরের ফোন পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে ওর বাসায় এলো ।
- কিরে বেটা কি হইছে।
- মামা ছাদে চল। কাহিনীতো বড়ই কাহাব্বাত।
- কি কাহাব্বাত কাহিনী?
- আরে ফোন দিতো যে মালটা কেডা জানস?
- তুই মাল কইলি আবিররা??? বেদম সেক্সাইটেড লাগে?
- হ বেডা সেইটা অনন্যার ছোট খালা।
- মামা আমারে এক গেলাস পানি দে।
পানি খেয়ে দুইজন আবিরের বাসার ছাদে আসলো। জাহিদ বললো কাহিনী কি খুইল্লা ক।
আবির বয়ান শুরু করল "আমি তো মামার তোমার সাথে দেইখা কইরা গেলাম অনন্যার লগে দেখা করতে। অনন্যারে সব খুইলা কইলাম। অনন্যা কইলো নাম্বারটা দাও আমি ফোন দিয়ে কথা বলি। নাম্বার দিছি পড়ে দেইখাই কয় এইটা তো আমার ছোট খালার নাম্বার। খালার বিয়াও হইছে দুই বছর আগে। অনন্যা আমার লগে ওয়ারিদে কথা কইয়া একদিন কি জানি করতাছিলো। ওর খালায় জিগাইছে কেডা। অনন্যা কইছে। ফ্রেন্ড। জানোই মামা অনন্যাও বাইরে থাকে ওর কোন ফ্রেন্ডের লগে গেজায়। মজা করার লাইগা ওর খালায় নাকি নাম্বার নিছিলো। সব শুইনা পরে আমি এসএমএস দিছি খালা আপনে যা করছেন এইডি কেলার ১০ এর নব্য যৌবুনা মাইয়ারা করে। আপনার থেইকা এইরকম আশা করি নাই।"
জাহিদ কিছুক্ষন থুম ধরে বসে থেকে বলল “ তাইলে একটা প্রেমের প্রজেক্ট মিস। দেখা করতে না কইয়া ভালাই করছস। তোর বিয়ার তাইলে ২৮ট বাইজ্জা যাইতো। ”
কয়েকমাস পর।
আবির অনন্যার বিয়েতে জাহিদ সেই ছোটখালারে খুজে বের করে সালাম দিলো। সালাম দিয়ে বলল “ খালা কইছিলেন তো পরকীয়া করবেন। আইজকা থেইকা ওর লগে পরকীয়া করার লাইন ওপেন। করবেন নাকি?”
পুনশ্চঃ
ইহা এর আগে অন্য একটি ব্লগে প্রকাশ করিয়াছিলাম।





তা খালা কি কইছিলো, রাজী না.........? দেখতে কিরম, সেরম হইলে ইয়ে নাম্বারটা যেন কি লিখছিলেন?
খালা কি কৈছিলো সেইটা আমি জানিনা সেইটা জাহিদ আর আবির জানে। দেখতে কিরাম আমি কেম্নে কমু কন>? আমি তো দেখি নাই !!!! দেখতে কিরাম আর নাম্বারটা জানতে চাইলে আবির আর জাহিদরে খুইজ্যা বাইর করেন >:)
বস, জোশ হইছে, পইড়া হাসতে হাসতে আমি ...
যাউক পইড়া মজা পাইছেন হুইন্যা ভাল্লাগ্লো।
খেক খেক খেক জুশশশশশশশশশশশশ.....................
আগে পড়ি নাইক্কা।
বেদম মজাক পাইলাম।
পুলার নাম কি আবির? (এইখানে চিন্তায় চিন্তায় গাল খাইজ্জানির ইমু হইপে)
কিসের জুস!!!!!!!
চিন্তায় গাল খাউজ্যানি কমান চামড়া উডি যাইবো
খেক্!
;D
হুমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমমম.......................
হুম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম
আগেই পড়েছিলাম অন্য ব্লগে! আমারও কাছাকাছি একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল! এক অনেক দূরসম্পর্কীয় খালার প্রেমে পড়তে পড়তে পড়ি নাই! (অল্প সময়ের জন্য)
কাহিনীটা ছাড়েন তাইলে আমরাও পড়ি
গল্পের শেষটা জানতে মন চায়। খালার শেষ পর্যন্ত কি গতি হইলো?
খালা তো বিবাহিত ছিলো। তার তো আগেই গতি হৈয়া ছিলো
এইটা আমগো পদ্মলেচনের কুপিপেস্ট। নতুন গপ্পো ভেবে পড়তেছিলাম। নতুন একটা লিখো।
কাম চলতেছে জলদি ছাড়ুম।
খেক খেক
খিতা ঐলোরে বা!!!
ঘটনা সত্য কিনা তাই কন দেখি!
গল্প পড়িয়া পাঠক যাহা মনে করিবেন তাহাই মাথা পাতিয়া লৈব।
moja pailam....:D ghotona ki shotti?
রুমাইয়া মজাক পাইছেন শুইন্যা ভালা পাইলাম :D. আর ঘটনা??? গল্প পড়িয়া পাঠক যাহা মনে করিবেন তাহাই মাথা পাতিয়া লৈব।
পুরানা পোষ্ট হেইয়া কইল মুইও দিমু.........
নয়া ছাড়েন!!
দিয়েন মাঝে মইধ্যে। আপনেগো লেখা তো আছে। আমার গুলান্তো হাপিস কৈরা দিছি।
পুলাটা যে কই ডুব দেয়
কই আর ডুব দিবো। আছে আশে পাশেই।
আপ্নের নামটা মুরুব্বি নেন এডমিন রে বইলা ।
ডুবের অভ্যাস মজ্জাগত। আমাগো জেনারেশনের সবতেরই এই রুগ আছে। হাচা কৈলাম নি মিয়া বাই?
একটা সম্পূরক প্রশ্ন, আপ্নে কোনটা পদুদা? আবীর না জাহিদ ?
একজন দক্ষিন ভারতীয় আছেন এখানে যার নাম "পদ্মিনী"। দুষ্ট লোকেরা তাকে পিঠ পিছে "পদু" ডাকে। আপ্নের নিক দেখলেই আমার এইটা ক্যান জানি মনে হয় পদুদা ঃ)
আমি এবং আমার সকল বন্ধুই আবিয়াত্যা তানবীরা আপা। আবির জাহিদ কুনটাই হওয়ার চান্স নাই। আবার দুইজনই আমি। কারন তাদের জিনিসগুলা তো আমারৈ কল্পনা করা লাগছে
মন্তব্য করুন