কাবজাব - ৭
প্রিয় আয়েশা,
কেমন আছিস তুই? কতো দিন হয় তোর সাথে আমার কথা হয় না? ভুলেই গেছিস না? এই ছয় বছর মানে জানিসরে তুই? অর্ধযুগ মানে জানিস তুই? ছয় বছর। আচ্ছা তুই আমার সাথে ঝগড়া করে কখনই তো ২ দিনের বেশি রাগ করে থাকতি না। আমার দোষ থাকলেও তুই এসে স্যরি বলতি। সেই তুই আমার সাথে এমন করে রাগ করলি?
আমি জানি এখন তুই হাসবি। বলবি শালা তুই একটা পাগল। ভয়াবহ সত্যি কথা। আচ্ছা, একটা কথা আমাকে বলতো, ভোলা স্যার আর তুই আমাকে পাগল মনে করতি কি কারনে? মানি একটু খ্যাপাটে ছিলাম আমি সারাজীবন, কিন্তু তাই বলে পাগল? দেশে যখন ছিলাম ভোলা স্যারকে একদিন কল করেছিলাম। আগেই মতই আছে বুঝলি। আমাকে চেনার সাথে সাথেই প্রথম কথা “কিরে পাগলা কেমন আছিস?” তোকে আমি কি বলি। স্যারকে তোর থেকে ভালো আর কে চেনে? তোর মনে আছে স্যারের বাংলা ক্লাসে সারা জীবন আমাকে রিডিং পড়া লাগতো। দুই দিন রিডিংয়ের পর থেকে প্রতিদিন একই কাহিনী। উফ, অসহ্য লাগতো। তুইতো অবশ্য খুব মজা পেতি তাই না?
তোর মনে আছে মাসুদ রানা পড়া নিয়ে তখন কি পরিমান ঝগড়া হতো আমাদের? কে বই আগে পড়বে এই নিয়ে কি ঝগড়াই না করেছি!!! তোর আমিই সোহানা বইটা নিয়ে যে আমি রাগের মাথায় ছিড়ে ফেললাম মনে আছে তোর? মনে আছে, কি কান্নাটাই না তুই করেছিলি? মনে আছে, তোকে পরে আমি নতুন দুইটা বই কিনে দিয়েছিলাম? কি খুশীটাই না হয়েছিলি।
তোর কি কালিয়াকৈরে সেই প্রতিযোগিতার কথা মনে আছে? তুই নাচ, বিতর্ক, আর উপস্থিত অভিনয়ে প্রথম হলি আর আমি সাধারন জ্ঞানে। তোকে আর রাশেদকে ছাড়া সম্ভব হতো না বুঝলি। যুক্তি দিবি এখন যে আরে আমরা কি করলাম তুই কষ্ট করেছিস দেখে না পেরেছিস। সত্যি কি তাই রে? তুই আর রাশেদ জোর না করলে কি কোনদিন যেতাম আমি? মনে আছে সেদিন সকালেও আমি লুকিয়ে যাবো তাই তুই আগেই আমাকে ধরে নিয়ে এসেছিলি? শোন, প্রতিভা, কষ্ট আমার ছিলো কিন্তু সেটাকে ইন্সপায়ার তো তোরাই করেছিলি নাকি? এই মনে আছে পরে যখন বিভাগ পর্যায়ে গেলাম খাবার চুরি করে খাওয়ার কথা? এরপরে যে তুই আমাকে গালি দিলি আর আমি রাগ করে তোর সাথে ৩ দিন কথা বলিনি? যাক, তোর মনে আছে আমি যে তোকে বলেছিলাম আমার ফর্সা মেয়ে বিয়ে করা লাগবে নাইলে বাচ্চা কাচ্চা সব কাল্লু হবে। আর যদি ফর্সা বিয়ে করি কফি কালার হবে। তুই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলি কফি কালার কি। হাহাহা। বুঝলি আমার বউ আসলেই ফর্সা। দেখিস বাচ্চা কাল্লু হবে না হয় ফর্সা নাইলে কফি কালার। হা হা হা।
এই তুই কি আমার সাথে এখনো রাগরে? যেই তুই আমার সাথে দুই দিন এর বেশি রাগ করতি না সেই তুই ছয় বছরের উপর আমার সাথে রাগ করে আছিস? আমাকে কি কোন দিন তুই মাফ করবি না? তুই খুব স্বার্থপর সারা জীবন স্যরি বলেছিস আমাকে তুই স্যরি বলার চান্স দিলি না একবার। একটা বার বলতে দিলি না আমাকে মাফ করে দে, আর হবে না। তুই খুব খারাপ বুঝলি। সারাজীবনের জন্যে একটা শাস্তি দিয়ে গেলি আমাকে। যতই মাফ চাই, স্যরি বলি জানি তুই শুনিস, কিন্তু তোকে সামনাসামনি বলতে না পারার কষ্ট আমৃত্যু বয়ে বেড়াব। তার চেয়ে কষ্ট লাগে, তুই যখন আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চোরের মত চার বছর আগে চলে গেলি। একটা বারও কি তোর মনে হয়নি আমার কত কষ্ট লাগবে? একটা বার কি আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করেনি তোর? একটা বার কি বলে যেতে পারতি না তোকে মাফ করে দিলাম? তা তো বলবি না। তুই কি আমাকে অভিশাপ দিয়েছিলিরে যে তোর আর আমার দেখাও হবে না? শেষবার দেখতেও দিলি না নিজেকে একবার। একটা বার দেখতে পারিনি তোকে, যখন জানলাম তুই পরম শান্তিতে গভীর ঘুমে তখন। যখন জানলাম তোর কবর তখন তোর স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গেছে। কেন এতো বড় শাস্তি দিলি আমাকে?
জানিস জীবন শূন্য মনে হওয়াটা মনে হয় এখন প্রতিদিনের ব্যাধি হয়ে গেছে। সব থেকেও যেন কিছুই নেই। মুখে হাসি আছে কিন্তু ভিতরে অসার শূন্যতা। শূন্যতার গ্রাস থেকে মুক্তি বুঝি কখনোই কেউ পায় না। কিছুটা শূন্যতা রেখে দেওয়া যেনো জীবনেরই একটা অংশ। বুকের মাঝে কেমন যেন একটা ব্যাথা খামচে ধরে। অনুভূতিহীন মানুষ হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তা কি আর হয়ে উঠে? যত যাই করি না কেন মনের ভিতরে থেকে তো সব বের করে দিতে পারি না। তুই আসলেই ঠিক বলতি শূন্যতা যখন গ্রাস করে নেয় আসলেই সব খালি হয়ে যায়। কেন এত বড় শূন্যতায় আমাকে একা ফেলে তুই চলে গেলি? একটা বার মনে হয়নি তোর আমার কি হবে?
প্রতিদিন মনে হয় আজ বুঝি তোকে দেখব স্বপ্নে। তা আর হয় না। এতোই রাগ তুই আমার উপর? একবার আসবি স্বপ্নে প্লীজ? একটা বার? আয় না একবার আয়, এসে হাত ধরে জিজ্ঞেস কর, কেমন আছি আমি, তুই কেমন আছিস বলে যা। একবার বলে যাবি আমাকে তুই মাফ করে দিয়েছিস? একবার? প্লীজ একবার? আর কিছুই লেখবো না তোকে। তুই যদি না আসিস এবার আমিই রাগ করবো। আর আমার রাগ তো জানিসই তুই। জানিস না?
ভালো থাক।
২৪/৪/১১





আয়েশা রাগ করে আর থাক্তেই পারবে না ।
আয়েশাআআআ, আপনি যেখানেই থাকেন...ব্লগটা পড়েন
ওপারে কি ব্লগ পড়ার ব্যাবস্থা আছে?
বাহ বাহ
বাহ বাহ?
খুবই টাচি। বিশ্বাস করি শক্তির ধ্বংস নাই। কোথাও না কোথাও থেকে আয়েশা এই ব্লগ পড়ছে।
মন্তব্য করুন