ইউজার লগইন

কাবজাব - ৫

আমার মাঝে মাঝেই খুব অর্থহীন লাগে জীবন। জীবন জীবনের মানে সবই অর্থহীন লাগে। শূন্যতা ঘিরে ধরে নিজেকে। দার্শনিক একটা ধাচ চলে আসে নিজের মাঝে। অর্থহীনতার মাঝেই হাতড়ে বেড়াই, অর্থ খুজি। প্রিয় কোন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে, কথা বলে যখন নিজেকে অপরাধী লাগে বা নিজের কোন কৃতকর্মের কথা চিন্তা করে থই খুজে পাই না। কেমন যেন সব খালি হয়ে যায়। মনে হয় হয়ত বুদ্ধই ঠিক করেছিলেন, সংসার ধর্ম ছেড়ে মানব ধর্ম আকড়ে ধরেছিলেন। শূন্যতার মাঝেই খুজে পাওয়ার চেষ্টাই হয়ত তাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেছে। হয়ত লালনই ঠিক, এ জীবনের মানে শুধুই তিন পাগলের মেলা। বাউল সন্নাসীরা কেন ঘর ছাড়ে হয়ত একটু একটু বুঝতে পারছি আজকাল।

নিজের জীবনকে যখন অর্থহীন মনে হয়, যখন দেখি অন্যদের যার যার মত সুখেই আছে, পরিপূর্ণ আছে তখন বোধহয় অন্যের জীবন কাছ থেকে দেখেই জীবনের অর্থ বুঝতে হয়। কে জানি একদিন বলছিলো এটা এই বয়েসের দোষ এই বয়েসে নাকি সবাই একটু ফ্রাস্টেটেড থাকে, সবাই একটু ভাবুক থাকে। কে জানে হবে হয়ত। তবে হ্যা আমি দেখেছি আমাদের বেশীর ভাগ ছেলেই আজ জীবনের মানে খুজে পায় না। যারা পায় তারা কি করে পেল সেই রহস্যও জানায় না। জীবনের যখন মানে থাকে না, যখন সবই অর্থহীন লাগে একটা মানুষ হয়ত এমনিতেই নাস্তিক হয়ে উঠে। আমি নিজেই আস্তিক না নাস্তিক জানি না। মাথাও ঘামাই না। খোদা, ভগবান, ঈশ্বরে কি বা যায় আসে? একটা কিছু তো হলেই হলো। না হলেও বা কি জীবনতো থেকে থাকে না। কোন অর্থই খুজে পাই না।

বহু বছর সংসারের পরে যখন একটা ঘর ভেঙ্গে যায় তখন সেই মানুষের পক্ষে বা তার বাচ্চাদের জন্যে কিছুটা নাস্তিক বা দার্শনিক হয়ে পড়াটা বুঝি দোষের কিছু নয়। জীবনটাকে অর্থহীন মনে হওয়াটাও হয়ত স্বাভাবিক। কিংবা আমার হবু জীবন সঙ্গীনির যখন আমারই করা কোন কাজে বিশ্বাস ভঙ্গ হয় তখন জীবনটাকে শূন্যতায় পূর্ণ মনে হওয়া দোষের কিছু না। আচ্ছা তারও কি জীবনটাকে তখন শূন্য মনে হয়? অর্থহীন মনে হয় সব?একবারও কি আমার প্রতি ঘৃণা জাগে না? একবারও ইচ্ছা কি ইচ্ছা করে মুখ ভর্তি থুথু থুঃ করে আমার মুখে মারতে? কিংবা খুব কষ্টে কি কুকড়ে উঠে না সে? এরপরও যখন আমায় ক্ষমা করে আমার নিজের যখন ইচ্ছা করে নিজের মুখে থুথু মারতে, কিংবা বাথরুমে গিয়ে যখন আয়নায় নিজের চেহারায় নিজেই থুথু দেই তখন নিজের কাছে নিজের কোন মূল্য থাকে না। সব কিছু অর্থহীন লাগে। সব কিছু বড়বেশী শূন্য মনে হয়।

জীবনের কিছু হিসাব যখন মেলে না তখন খুব চেষ্টা করি সে সব হিসাব মেলাতে। হিসাব মেলাবো কি গড়মিলই তো খুজে পাই না তবে না ঠিক করা যাবে হিসাব। কৈশোরে যখন বিকালে আমি আর শিপলু হাটতাম মাইলের পর মেইল হেটে যেতাম। কি জন্যে জানি না। কোন অজানা উদ্দ্যেশে হেটে যাওয়াই তখন কাজ ছিল। আজ মনে হয় জীবনের রাস্তার সেইভাবে উদ্দ্যেশবিহীন ভাবে হেটে চলছি। কোন অজানা গন্তব্যের দিকে একা হেটে চলাই এখন জীবন। নিজেকে বড় অচ্ছ্যুৎ মনে হয়। যারাই কাছে আসে কষ্ট পেয়ে দূরে সরে যায়। নিজের অজান্তেই কখন যেনো “ কাছের মানুষকে আঘাত করাই” ভালোবাসা হয়ে গেছে। আজকাল কষ্ট দিয়েই মনে হয় ভালবাসি। কি পিকিউলিয়ার মানুষ! প্রতিবারই নিজের কাছে ওয়াদা করি, এইবারই শেষ আর হবে না। আর করব না এমন। যদি তাদের সুখে রাখি তবে আমিও হয়ত সুখে থাকব। জীবনের মানে হবে, হয়ত অর্থ খুজে পাবো। হয়না। হৈমন্তীর বাবা যেমন বলেছিলো, মানুষ প্রতিজ্ঞা করেই প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গার জন্যে। আমার ঠিক সেই অবস্থাই হয়েছে। আমি প্রতিবার নিজের কাছে করা প্রতিজ্ঞা ভেঙ্গে নিজেই নিজের কাছে ছোট হই।

জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া আমার মা। মার কোলে যখন মাথা রাখি, মনে হয় হ্যা জীবন মানে এই। জীবনের কাছে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু বাকি নেই। কিন্তু সেই মাকেই প্রতি নিয়ত কষ্ট দেই। বড় কষ্ট দেই মাকে। যখন মায়ের চোখে পানি দেখি আমার জন্যে। যখন মা দেশে বসে চিন্তা করে আমার ছেলেটা আজকে খেয়েছেতো। সে তো এই খায় ওই খায় না, যখন আমার মা আমি দেশে ফেরার পরে বলে আমি নেই দেখে আমার প্রিয় কিছুই ঘরে এতো দিন রান্না করতে পারেনি। তখন মুখ থুথুতে ভরে যায় । চরম ঘৃণা জাগে নিজের প্রতি। মার জন্যে কিছুই যে করতে পারিনি।

আমার হবু জীবন সঙ্গিনীর কথাও চলে আসে এর মাঝে। আমি মানুষ হিসাবে খুব এরোগ্যান্ট, একরোখা এবং আমার খুব বেশী ইগো সমস্যা আছে। প্রায় প্রতিদিনই তার সাথে আমি কিছু না কিছু খারাপ ব্যাবহার করি। কিভাবে কেন আমি নিজেও জানি না। কিন্তু সেই আমি অনলাইন না আসলে বা মোবাইল বন্ধ থাকলে যে যখন আমার জন্যে চিন্তিত হয়, আমার বন্ধুবান্ধবকে ফোন দেয়, কিংবা আমার খুব সমস্যার সময় আমাকে বলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন নিজের চেহারাটা একটা বুনো শুয়োরের মত লাগে। বড় ঘৃনা হয় নিজের প্রতি যখন সে কষ্ট পায় আমার কালো অতীত নিয়ে। যখন আমার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে সে এরপরও আমাকে ক্ষমা করে দেয়, এরপরও যখন আমাকে ভালোবাসে, এরপরও যখন আমাকে নিয়ে চিন্তিত হয়, তখন জীবনটাকে বড় অর্থহীন লাগে। নিজেকে বড় অর্থহীন লাগে।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


কই ছিলেন এতদিন?আগে এটা বলেন, পরে পোষ্ট পড়ি। জীবনের হিসাব সিলানোর দরকার কি?

পদ্মলোচন's picture


এই সব হিসাব মিলানোর কাজেই ব্যস্ত ছিলাম

জ্যোতি's picture


জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া আমার মা। মার কোলে যখন মাথা রাখি, মনে হয় হ্যা জীবন মানে এই। জীবনের কাছে চাওয়া পাওয়ার আর কিছু বাকি নেই।

হিসাব তো মিলছেই।
বউ এর সাথে খারাপ ব্যবহার কইরেন না। গুণাহ হয়।

পদ্মলোচন's picture


খারাপ বেভার করি না। কিন্তু নিজের অজান্তে হয়ে যায়।

মীর's picture


আজকাল কষ্ট দিয়েই মনে হয় ভালবাসি।
সেইম হিয়ার বস্Surprised

জ্যোতি's picture


খাইছে। বিদ্যাটা শেখা খুব জরুরী।

মীর's picture


আপনের না বলে হিসাব মিলে গেলো...Surprised

জ্যোতি's picture


হিসাব মিলাতে জানি বলেই তো দাবী করিনি কখনো।আমার তো চলেই যায়।

পদ্মলোচন's picture


ইন্টারেস্টিং....

১০

নজরুল ইসলাম's picture


শিরোনাম দেইখা ভাবলাম নিজস্ব বিষাদ কাটাই, পড়লাম আরো বিষাদ Sad

১১

পদ্মলোচন's picture


নজরুল ভাই, আপনার পোস্টটা আমি পড়েছি। কিন্তু নিজেও খুব ডিপ্রেসড থাকায় কিছু বলি নি। অর্থহীন লাগলো কিছু বলাটাও। কারন আপনার বেদনার গভীরতায় যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই কিছু বললাম না নিজ গুনে মাফ করে দিয়েন।

১২

বাতিঘর's picture


কি কওয়া উচিৎ কিছুই মাথাত আসেনা......শুধু কই, আপনি যে উপলদ্ধিটুকু করছেন এইটাই অনেক.....ভেতরের আগুন পোড়ালে সেই মানুষ খাঁটি সোনা হইতে বাধ্য! আমি এমনটাই বিশ্বাস করতে ভালোবাসি......আপনার জন্য অসীম শুভকামনা, ভালোবাস। ( ছিলেন কই এতোদিন? আর লাপাত্তা হইয়েন না গো!)

১৩

পদ্মলোচন's picture


ডুবের মধ্যে আছিগো ভাইডি। দোয়া রাইখেন।

১৪

তানবীরা's picture


এই লাইনদুটো বড়ো ভালো লাগলো

এরপরও আমাকে ক্ষমা করে দেয়, এরপরও যখন আমাকে ভালোবাসে, এরপরও যখন আমাকে নিয়ে চিন্তিত হয়, তখন জীবনটাকে বড় অর্থহীন লাগে। নিজেকে বড় অর্থহীন লাগে।

১৫

পদ্মলোচন's picture


Sad দিদি ভালো আছেন?

১৬

সাহাদাত উদরাজী's picture


নিজেকে বড় অর্থহীন লাগে। (বয়স)

১৭

পদ্মলোচন's picture


হয়ত তাই ভাইডি।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.