ইউজার লগইন

প্রবাসী ছাত্র ডায়েরি - ৪র্থ পর্ব

প্রথমেই দুঃখ প্রখাস পালা। গত কয়েকদিন আমি অসম্ভব ব্যস্ত ছিলাম বার এপ্লিকসশন নিয়ে। বার এপ্লিকেশন শেষ হওয়ার পরে আলস্য পেয়ে বসে। ঐসময়টায় আমার ৯০% সময় কীবোর্ডের সাথে যুদ্ধ করে কেটেছে। অনাকাংখিত আলস্যজনিত দেরীর জন্যে স্যরি আছি।

দৌড়ে ডিউটি ফ্রিতে ঢুকলাম। তিন কার্টন সিগারেট কিনে আরেক দৌড়ে গিয়ে লাইনে দাড়ালাম। লাইনে দাঁড়িয়ে বোর হচ্ছি আর আস্তে আস্তে এগুচ্ছি এমন সময় পাশে এয়ারটেলের বুথ দেখে মাকে ফোন দেওয়ার কথা মনে হলো। সাথের লোককে বললাম জায়গাটা দেখে রাখতে পারবে কিনা আমি একটা ফোন করবো। সে বলল অবশ্যই। পকেটে গোটা ত্রিশেক রূপি ছিলো। ফোন দিলাম দেশে। ২২ রূপি প্রতি মিনিট। গলা কাটা দাম। কিছু করার নাই।

মার সাথে কথা বলে লাইনে দাড়ালাম আবার। এরপরে গিয়ে ঢুকলাম বিমানের ভিতর। সীট বের করে বসলাম। আড়াইটায় উড়ার কথা থাকলেও ১০ মিনিট লেট হলো। সে যাক অবশেষে বিমান উড়লো। বোয়িং সুতরাং কোন কষ্টের কারনই নাই। আরাম করে হেলান দিয়ে বসলাম। হেড ফোন কানে নিয়ে দেখি হেড ফোনের এক সাইড বাজে না। দুইবার হোস্টেসকে ডেকে না পেয়ে আমি পাশের আইলের এক সীট থেকে হেড ফোন মেরে বদলে নিয়ে এলাম। লিস্ট করতে থাকলাম কি কি মুভি দেখবো এই ৮ ঘন্টায়।
বিমান উড়ার পরে লাঞ্চ দিয়ে গেলো। মুখে দিয়ে আমার মোটামুটি বমি চলে আসার অবস্থা। ভয়াবহ ইন্ডিয়ান টিপিক্যাল ফুড। বহু কষ্টে কিছুটা খেয়ে রেখে দিলাম। একটু পরে দেখি শারাব সাবাব নিয়ে হাটছে তারা। বললাম আমাকে জুসের সাথে জেডি দাও তো। দিলো। একটু পরে আবার চাইলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখি আর দেয় না।
মুভি দেখতে দেখতে হঠাৎ বেগ চাপলো। টয়লেটের দিকে যাওয়ার সময় দেখলাম একটা ট্রলি রাখা। আশে পাশে বিমান বালারা কেউ নেই। চোখের সামনে জেডির বোতল আর প্লাস্টিকের গ্লাস। ঝটপট খানিকটা ঢেলে গলায় চালান দিলাম। এরপরে টয়লেট থেকে বেরিয়ে সীটে এসে ঘুম।

পাশের লোকের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো । বিমান বালা কাগজ দিচ্ছে। হিথ্রোতে জমা দেওয়ার ইমিগ্রেশন পেপার। ফিল আপ করলাম। আর ঘুম এলো না। আবার মুভি ছাড়লাম। যথা সময়ের ১০ মিনিট পরে ল্যান্ড করলাম হিথ্রোতে। বিমান বড় হওয়ায় ল্যান্ড করার সময় কানে তেমন সমস্যা হয়নি হালকা দপদপ করছিলো। বিমান থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আমার প্রথম কথাই মনে হলো এ আমি কই এলাম? “I just wana do my time and go back” . সে যাক হিথ্রোতে নেমেও বুঝলাম আমি বেশ উড়ু উড়ু মুডে । ফার্স্ট টাইম স্টুডেন্টদের জন্য আলাদা লাইন। বিশাল এক লাইন। লাইনে দাড়ালাম। গরম লাগছিলো তাই জ্যাকেটটা খুলে ফেললাম। ব্যাগ নিয়ে আস্তে আস্তে এগুলাম। প্রায় ১ ঘন্টা পরে আবিস্কার করলাম আমি ডেস্কের সামনে। ইমিগ্রেশন অফিসার আমার দিকে তাকিয়ে হেসে হ্যালো বলল। আমি তাকে পাসপোর্ট আর অফার লেটার দিয়ে বললাম “ হ্যালো হোয়াট এলস ডু ইউ নিড।“ সে আমার মেডিকেল রিপোর্ট দেখতে চাইলো। দিলাম। পাসপোর্টে সীল দিয়ে বলল ইউ মে গো নাউ। আমি জিজ্ঞেস করলাম কই যাবো। বলে লাগেজ ডিপার্টমেন্ট থেকে লাগেজ নিয়ে তোমার যেখানে ইচ্ছা। আমি অবাক। হিথ্রোতে নাকি প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে হয়। সেখানে কিছুই হলো না আর দিল্লীতে এতো কিছু!!! একেই বুঝি বলে বাশের চেয়ে কঞ্চির জোর বেশি।

লাগেজ নিয়ে ট্রলি ঠেলে বের হতেই দেখি জামি, নোমান, মিশু মুখে মুলার দোকান খুলে দাঁড়ানো। জড়াজড়ির পর্ব শেষ করে রওনা দিলাম। মিশু আমার জন্যে আগে থেকেই ওয়েস্টার রেডী করে রেখেছিল। ওয়েস্টার নিয়ে জামির মোবাইল থেকে মাকে ফোন দিলাম। জানালাম আমি হিথ্রোতে। এখন ঘরের দিকে রওনা দিচ্ছি। গল্প করতে করতে ওয়েস্টার টাচ করে ঢুকে গেলাম ভিতরে। হঠাৎ দেখি হাতে সিগারেটের কার্টন নেই। আমার তো মাথায় বাড়ি। আমি নাহয় কিঞ্চিৎ টাল ওরা। সাথে সাথে দৌড় দিলাম উপরে। ওয়েস্টারের ওখানে থাকা লোকটাকে বলতেই সে বলল “ লস্ট এন্ড ফাউন্ডে যাও। আমি গেট খুলে দিচ্ছি যাওয়ার সময় আমাকে বলো তাহলে তোমাদের আরেকবার টাকা দিতে হবে না।“

চলে এলাম লস্ট এন্ড ফাউন্ডে। সুপারভাইজরকে জিজ্ঞেস করার পর বলল কি হারিয়েছে? বললাম সিগারেট। বলে কতগুলা? বললাম ৩ কার্টন। কি সিগারেট? মার্লবরো। সে একটা রিসিট লেখে সিগারেট ফেরত দিলো। আমি হিসাব মিলালাম। বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট হলে ১, এই সিগারেট পাওয়া যেত না। ২, গেলেও এতো সহজে না। খারাপ লাগলো নিজের দেশের জন্যে। নিজেই নিজেকে বুঝ দিলাম “ পেটে ভাত আসলে পরে সততা”। এরপরে আবার নিচে এসে পিকাডেলি লাইন ধরে রওনা দিলাম। যত বার এনাউন্স হচ্ছিলো দিস ইজ পিকাডেলী লাইন সার্ভিস আমার কানে বার বার ঢাকার টিকাটুলী বাজছিলো।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বাউল's picture


"লাগেজ নিয়ে ট্রলি ঠেলে বের হতেই দেখি জামি, নোমান, মিশু মুখে মুলার দোকান খুলে দাঁড়ানো" হা হা হা! লেখা জম্পেস হইছে কৈলাম।

পদ্মলোচন's picture


হে হে হে বাউলদা ধনে পাতা

হাসান রায়হান's picture


পদ্মলোচন's picture


টুটুল's picture


একেই বুঝি বলে বাশের চেয়ে কঞ্চির জোর বেশি... হ ঘটনা সইত্য :)

হয়তো দারিদ্রতার জন্য সততা কমে যায় ... হয়তো না... এখন আর সৎ অসৎ মনে দাগ কাটে না খুব একটা। আমরা নষ্ট হয়ে গেছি :(

পদ্মলোচন's picture


আসলেই নষ্ট হৈয়া গেছি

সাঈদ's picture


দারুন । টিকাটুলি !!!!! হাহাহা।

নষ্ট হয়ে গেছি সৎ অসৎ বলে কিছু নাই আর। পচন ধরেছে আমাদের।

চলুক। দারুন লাগতেছে।

পদ্মলোচন's picture


সিরিয়াসলী সাঈদ ভাই আমি পয়লা লাফ দিছি কিএর টিকাটুলী কয় কা!!!

নীড় সন্ধানী's picture


হিথ্রোরে আমি দুর থেইক্যাই ভয় পাই, এর পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও নাকি সেলাম দিতে হয়। কিন্তু তোমারে এত খাতির করলো ক্যান বুঝলাম না :)

১০

পদ্মলোচন's picture


জানি না। বাপের এক দোস্ত আছে। হুইন্যা কয় লাক বাপজান। একবার নাকি এক মাইয়ারে আনলিমিটেড এন্ট্রান্স দিয়া দিছিলো।

১১

সোহেল কাজী's picture


হাঃহাঃহাঃ কাহিনী উমদা হইছে।

সততার ব্যাপারে আমার দৃষ্টি ভঙ্গী ভিন্ন, পেলেনে জেডির বোতল একলা পাইলে চামে হয়তো দুইতিন পেগ মাইরা দিতাম মামারা যেই টেকা কেটারিং/ফুড কস্ট নেয় তার দুই আনাও খরচা করেনা।

এতো জামাই আদরে বাইরাইলেন দেইখ্যা টাস্খি খাইলাম।
মজা পাইতেছি চলুক্কক্কক্ক........................

১২

পদ্মলোচন's picture


আমি নিজেও টাস্কিত ছিলাম। যে হিথ্রতে বলে এই করে ঐ করে। পরেজামির থেইকা হুনলাম ওরেও নাকি কিছু কয় নাই। আমার থেকে বেশি জিগাইছে ২ লাইন কোন কলেজে কোন কোর্সে আইছো।

১৩

আপন_আধার's picture


১৪

পদ্মলোচন's picture


১৫

শওকত মাসুম's picture


১৬

পদ্মলোচন's picture


১৭

আত্তদ্বিপ's picture


খুব ভাল হচ্ছে লিখা।
আমি ইন্ডিয়াতে মাস দেড়েক ছিলাম, ওরা খুব ভাবারু আছে।
তবে এয়ারটেলের রেট তো ১১ রুপি। আমি দেশে করতে তাইতো কাটত।

১৮

পদ্মলোচন's picture


ইয়ারপুট দেইখ্যা মনলয় বেশি নিছে

১৯

তানবীরা's picture


আমার কাষ্টমস এর সাথে প্রথমবার দেখা হওয়ার মারাত্বক ঘটনা আছে ঃ), ভাবতেছি কইয়া ফেলবো কি না ঃ)

সর‌্যি টরি নাই, জলদি হাত চালান

২০

পদ্মলোচন's picture


দিয়া দ্যান দিয়া দ্যান পড়তে মুঞ্চায়

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.