অপ্রকাশিত চিঠি
মা,
এই চিঠিটা কোন দিন তোমার হাতে পৌছাবে না। কখনোই পোস্ট করা হবে না। কখনোই এই কথা গুলো তোমার কানে যাবে না। কখনোই তোমাকে বলতে পারবো না। মনটা প্রায়ই খুব খারাপ থাকে। তুমি বারবার ফোনে জিজ্ঞেস কর মন খারাপ নাকি মিথ্যে বলি। জানি আমার এই মিথ্যেটুকু তোমাকে একটু হলেও শান্তি দেয়।
তুমি যে দেশে না থাকতে বলতে মা না থাকলে বুঝবা। মাগো তুমি আছো তাও বুঝি তুমি কি। তুমি কি কষ্ট কর। যান্ত্রিক জীবন মা। বড় কষ্ট হয়। আমি খুব অবাক হয়ে আবিস্কার করলাম আমার ছোটবেলার অভ্যাস এখনো যায়নি। রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে উঠে আমি তোমার রুমে যাওয়ার জন্যে বিছানা থেকে নেমে গিয়েছিলাম। পরে হঠাৎ যখন মনে হলো আমি এতো দূরে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কান্না পাচ্ছিলো অনেক। কিন্তু জানোই কান্না কাটি আমার ধাতে নেই। হয়ত চোখ দিয়ে পানি বেরুলে বুকের গুমোট কষ্ট কমে যেত।
খাওয়া দাওয়া নিয়ে কত বকতে তুমি আমাকে। কত জ্বালিয়েছি তোমাকে। আর এইখানে গু গোবর সবই খাই। বিশ্বাস হয় তোমার আমি মাছের মাথা দিয়ে ভাত খেয়েছি!!! খেতে কষ্ট হয়েছে মা, তাও খেয়েছি তোমার জন্যে। কি করে তুমি যেন বুঝে যাও খেয়েছি কিনা। এ বুঝি মা দেখেই সম্ভব । রাত জাগার অভ্যাস দেখে তুমি কখনোই ফ্রিজ খালি রাখোনি। আর কিছু না হলেও অন্তত বিস্কুটের টিন সব সময় ভরা থাকত। সেই অভ্যাসটাই রয়ে গেছে। খিদে লাগলে কিছু বের করে খাবো ভেবে উঠি পরমুহুর্তেই বসে পরি।
তোমাকে সবচেয়ে বেশি মিস করেছি বারের এপ্লিকেশনের সময়। কেউ বুয়াকে বলেনি ওকে চা দাও। ও চা ছাড়া মনযোগ দিয়ে কিছু করতে পারে না। আমার চা খাওয়ার অভ্যাসটাও এখন ক্যামন যেন খাপছাড়া। তবে একটা জিনিস খুব ভালো হয়েছে রূমে ঢুকে কেউ নাক কুচকে বলে না এইটা কি রূম নাকি ডাস্টবীন। কেউ দেখে না রূম কত অগোছালো। কেউ বকে না। দেশে থাকতে অসহ্য লাগতো তোমার বকা । তবে মা কেন জানি তোমার ওই বকাটাই খুব মিস করি।
আগে থেকে না জানিয়ে ফিরতে কোনদিন দেরী হলে কত টেনশন করতে তুমি। আর এইখানে মাঝে মাঝেই রাতে ১টা ২টায় ফিরি। কেউ বকে না। কেউ টেনশন করে না। কেউ টেবিলে খাবার নিয়ে অপেক্ষা করে না। কেউ বলে না কালকে সকালে কোর্টে যাবো রাত বাজে একতা এখনো খাইনি, ঘুমাইনি। এতো ইরেস্পন্সিবল মানুষ হয়? সিগারেটের প্যাকেটটা কারো থেকে লিকিয়ে রাখতে হয় না। রূমে এয়ার ফ্রেসনার লুকিয়ে রাখা লাগে না। কখনো বুঝিনি এই স্বাধীনতাও যে খারাপ লাগতে পারে।
দেশে ফিরলে দেখো মা কত ভালো হয়ে গেছি । প্রতিদিন বাজার করি এখন। দেশে থাকতে কবে বাজারে গেছি মনেও নেই।
যাক মা। আমার কষ্ট গুলো আমার কাছেই থাক। তুমি শুনলে কষ্ট পাবে। এম্নিতেই অনেক কষ্ট কর, সারা জীবনতো খালি জ্বালালাম। এখন না হয় একটু নিজে কষ্ট করে তোমাকে খুশি দেখি।
ভালো থেকো মা।





হেডিং দেইখ্যাই বুঝছিলাম পোষ্টে ঢুইকা মন খারাপ হবে।
মানুষ বড় স্বার্থপর ভাই। আনন্দ ভাগ করার মত কষ্ট ভাগ করতে চায়। আমার স্কুলের দোস্ত নাজমুল লেখাটা পইড়া কৈল দোস্ত এখনো বাসায় বিস্কুটের টিন খালি থাকে না। ও প্রায়ই থাকে আমার বাসায়। রাতে উঠলে নাকি মা এখনো ঘুমের মধ্যে বলে " বাবা খিদা পাইছে?" মনটা আরো খারাপ হৈয়া আছে।
বুক চেরা দীর্ঘশ্বাস :(
এছাড়া আর কিছুই করার নাই মামা
মাকে ছাড়া এই পৃথিবীটা কল্পনাই করা যায় না।মনে হয় সারাজীবন যদি মার বুকে থাকতে পারতাম!দোয়া করি সবার মা ভালো থাকুক।মনটা খারাপ করে দিলেন সকালবেলায়
মা মাই। দুনিয়ার কিছুই সেই অভাব পূরন করতে পারে না। সকাল বেলা মন খ্রাপ করানোর জন্যে স্যরি।
কিচ্ছু বলার নাই আমার।
জানি সাঈদ ভাই।
মাকে নিয়ে এখন আর কিছুই লিখিনা, ভালো লাগেনা কিছু একদম। কবে ছুটি হবে? কবে?
লেখাটা প্রচন্ড মন খারাপ করে দিলো।
কাজীদা আমার প্রায়ই মনে হয় আমরা সবাই ছুটি গল্পের ফটিক। ফটিক ছুটির প্রতীক্ষায় আছি। কবে ছুটি হবে। কবে মার কাছে যাবো।
ভাই আজ প্রায় ৫ বছর হল পড়ার জন্য বাইরে থাকা (মানে দেশেই কিন্তু বাড়ি থকে)। প্রথম প্রথম এসব খুব মনকে কাঁদাইতো কিন্তু এখন সব কিছু সয়ে গেছে। বাড়ি থেকে এখন আসতে চোখ আর ঘলাটে হয়না। আপনারো একসময় সয়ে যাবে। তবে যেহেতু দেশের বাইরে, তাই একটু বেশি কষ্ট হবে। তবে যেদিন বারিষ্টার হয়ে দেশে ফিরবেন সেদিনের আপনার মায়ের সেই হাসিমুখ চিন্তা করে এই কষ্টটাকে অতিক্রম করুন। শুভ কামনা রয়লো।
ভাইডি সেই আশাতেই দাত চেপে সহ্য করছি। দোয়া রাখবেন।
কিছু কিছু কষ্ট কখনো আসলে অভ্যাস হয় না। মা'কে মিস করা কিংবা বাবাকে মিস করা। আগে শীতকালে আব্বু পানি গরম করে রাখতো, ভাত খেয়ে হাত ধুতে যেনো কষ্ট না হয়। একটা ইলেকট্রিক হিটার ছিল সেখানে আমাদের জামা কাপড় চাপিয়ে রাখতো, গরম পরব বলে। এখন ঠান্ডায় যখন হাড়ি কুড়ি ধুই ভাবি, কখনো ভেবেছিলেন তারা সেটা। আবার আমি আমার মেয়ের জামা হীটারে দিয়ে রাখি, সকালে গরম পরবে, ভাবি সেও একদিন দূরে কোথাও আমাকে এমন করে ভাববে, আজ যেমন আমি ভাবি একদিন হয়তো আমার মাও ভেবেছিলেন একদিন তার মাআআআআ.........
জীবনটা আসলে প্রতিনিয়ত ছেড়ে আসার খেলা
শেষের লাইনের সাথে ২০০% একমত
"জীবনটা আসলে প্রতিনিয়ত ছেড়ে আসার খেলা"
সেটাই...
আসলেই তানবীরা আফা একটা ১০০০টেকার কথা কৈছে
মন্তব্য করুন