ইউজার লগইন

একটি প্রেমের গপ্প

এই সিরিজটা অন্য কোথাও শুরু করেছিলাম। ট্রাডিশনাল প্রেমের গপ্প। আবার শুরু করতে ইচ্ছে হচ্ছে। তাই প্রথম থেকেই দেওয়া শুরু করলাম। বাংলা ছিঃনেমা টাইপ লাগলে লাগতে পারে। তবে কি জানেন মনে মনে সবাই ছিঃনেমার হিরো হৈতে চায়। সো......

অগ্নিলার ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ হয়ে গেল। ধ্যাত আরো একটা দিন চলে যাবে!!!! পাঁচ-পাঁচ লম্বা, ওভালশেপের মুখ , উজ্জ্বল ফর্সা । অসম্ভব প্রাণোচ্ছল মেয়ে, জীবনের ব্রত যেনো একটাই আশেপাশের সবাইকে জাগিয়ে তোলা। ওর সাথে কথা বললে না হেসে উপায় নেই। সব সময় বন্ধুবান্ধব দ্বারা পরিবেষ্টিত।

সদ্য কলেজ পাশ করে ভার্সিটিতে ঢুকেছে । গানও করে ছোটবেলা থেকেই। ইদানীং নামকরা এক গিটারিস্টের স্কুলে ঢুকেছে গিটার শিখতে। সমস্যা তার জীবনে একটাই ক্লাস নাইন থেকেই যেখানেই যায় সমবয়েসী বা সিনিয়ররা নিজেরাই যেচে এসে পরিচয় দেয়। এপর্যন্ত দুই কুড়ি প্রেমের প্রস্তাব সে প্রত্যাখান করেছে। এমনকি ভার্সিটিতে ঢোকার পরেও একই ঝামেলা। এই ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্যে সবাইকে বলেছে ওর বয়ফ্রেন্ড আছে। অস্ট্রেলিয়া থাকে। তাকে ছাড়া জীবনে ও কাউকে কল্পনাই করতে পারে না । এজন্যে সবাই কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। অনেকে ওকে দেখেই মানে মানে কেটে পরে বা এড়িয়ে যায় । এই মিথ্যে না বললে স্বাভাবিক জীবনযাপনটাই বিঘ্নিত হচ্ছিল বেচারীর। তাই এখন সবাইকেই বন্ধু বানিয়ে ফেলে।

ঘুম থেকে উঠেই রুদ্র জানালায় বৃষ্টির ছাট দেখতে পেল। ম্যানলি চেহারা। ছয় ফুটের মত লম্বা, উজ্জ্বল শ্যামলা। ভাবুক দুই চোখ, কাধ পর্যন্ত লম্বা চুল। বৃষ্টি ওর অসম্ভব ভালো লাগে। এক ধরনের স্বস্তি এনে দেয় সারা দেহ মনে। মনটাও কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। হয়ে যায় অন্য জগতের বাসিন্দা। তখন হয় সে সিডি প্লেয়ার ছেড়ে দিয়ে গান শোনে বা গীটারে কোন গানের সুর তোলে। ওর মা অবশ্য ওর এতো ইমোশন পছন্দ করেন না। প্রায়ই ওকে বলেন “ বাবা এতো ইমোশনাল হলে চলে না। জীবনে কিছুই করতে পারবে না। যারা বেশি ভাবুক তারা বাস্তব জীবন থেকে অনেক দূরে থাকে। তোমার বাবাকেই দেখো। কোন সমস্যা হলেই অস্থির হয়ে যায়। তখন সব দেখা লাগে আমাকেই।” রুদ্র হাসে। তার মার কথা সাথে সে একমত কিন্তু এরতো ভালো দিকও আছে। ভাবুক না হলে কি তার বাবা এতো সুন্দর সুন্দর লেখা লেখতে পারতেন?

রুদ্র নিজেও ওইধরনের । ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, থার্ড ইয়ারে। পড়ালেখার বাইরের সময়টা গীটার নিয়েই ব্যস্ত । মাঝে মাঝে লেখেও । কিছুদিন আগে তার বাবা কি করে যেনো তার একটা উপন্যাসের পান্ডুলিপি আর কিছু কবিতা বের করে ফেলেছেন। ধরা পরার পর বাবাকে চা ঘুস দিয়ে রেহাই পায়। আসছে বই মেলায় বাবা ছেলে দুইজনেরই বই বের হচ্ছে। এসব অবশ্য মা জানেন না । তাকে সারপ্রাইজ দেওয়া হবে । বন্ধুবান্ধবও খুব কম ওর। সবসময় নিজের মত করেই থাকে।

গীটার স্কুলে রুদ্রর বেশ নাম। ওর শেখা শেষ হলেও সব সময় আসে ও এখানে। হয়ত নিজের গুরুর সাথে বাজানোর লোভটাই ও ছাড়তে পারে না। মাঝে মাঝে ক্লাস নেয়। খুবই ভালো বাজায় তাই গুরুজীও ওকে আদর করেন অনেক। রুদ্র ছেলে হিসাবে খুবই মিশুক। তবে সে বলার চেয়ে শুনতে বেশি পছন্দ করে। আর যখনই যা বলে বেশ গুছিয়ে বলে।

অগ্নিলাও নতুন হিসাবে ভালোই এগুচ্ছে দেখে খুশী গুরুজী। তিনিই একদিন ডাক দিলেন রুদ্রকে। পরিচয় করিয়ে দিলেন অগ্নিলার সাথে। বলে দিলেন রুদ্র যাতে একটু খেয়াল রাখে অগ্নিলার দিকে, যাতে মাঝে মাঝে দেখিয়ে দেয় ।

রুদ্র হাসল। প্রতিউত্তরে অগ্নিলাও হাসল। রুদ্রই প্রথম মুখ খুলল “ গত বেশ কয়েকদিন যাবত দেখছি আপনাকে। লক্ষ করছি প্রথম যেদিন এলেন সেদিন থেকেই। আপনাকে দেখে মনে হয় বেচে থাকার প্রয়োজন আছে। জীবনের অন্য একমানে এসে ধরা দেয়। মনটা হঠাৎ অজানা এক আনন্দে ভরে যায়। আপনাকে আমার কাছে আসলে বৃষ্টির মত মনে হয়। ছন্দে ভরপুর, যতক্ষন থাকে সবাইকে সম্মোহিত করে রাখে।” কথা গুলো একবারে বলে বের গীটারটা কাধে তুলে বের হয়ে গেল রুদ্র। অগ্নিলার ঠোট তখন অজানা আবেগে তির তির করে কাপছে। উথাল পাথাল ঢেউ উঠেছে মনে। কে এই ছেলে? যেই উপমাটার জন্যে সে জন্ম জন্মান্তর ধরে অপেক্ষা করে আছে, কেমন নির্দ্বিধায় , অকপট তা বলে তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল!

পোস্টটি ১৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

কাঁকন's picture


ব্লগ ধারাবাহিক পড়তে ভয় লাগে আরম্ভ করে বেশিরভাগই শেষ করে না

শেষের প্যারাটা চয়নিকা চৌধুরীর নাটকের নায়কের মুখে খুব ভালো মানাবে

পদ্মলোচন's picture


শেষ করনের ইচ্ছা আছে। দোয়া রাইখেন। চয়নিকা চৌধুরী কেডা?ঃ|

কাঁকন's picture


ব্লগ ধারাবাহিক পড়তে ভয় লাগে আরম্ভ করে বেশিরভাগই শেষ করে না

শেষের প্যারাটা চয়নিকা চৌধুরীর নাটকের নায়কের মুখে খুব ভালো মানাবে

সাঈদ's picture


আগে পড়ছিলাম মনে হয় এইটা।

চলুক ভ্রাতঃ

পদ্মলোচন's picture


হ পড়ছিলা। যাউক ব্যাপার না। এইবার শেষ কৈরা দিমু

তানবীরা's picture


তারপর, একটা গান সম্ভবত? নায়িকা বালিশ বুকে নিয়ে বিছানা থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে পরছে। ওগো, তুমি যে আমার কতো প্রিয়......

সিনেমার রুল কি তাই বলে না ?

সুন্দর হচ্ছে।

পদ্মলোচন's picture


গান কুন্টা দেওয়া যায় ছায়াছন্দ বিশেষজ্ঞ থেইকা ঝান্তে চাই। তাইলে পারফেক্ট ম্যাচ হৈপে।

ঘোলাপানি's picture


তারপর...বৃষ্টির মাঝে হিরু-হিরুইনের রোমান্টিক একটা গান...

চলুক

পদ্মলোচন's picture


না বৃষ্টি না। টেলিফুনে গান হৈলে কিরাম হয়?

১০

নুশেরা's picture


নায়িকার নাম অগ্নিলা, সে গিটার শিখে, ভার্সিটিতে পড়লেও তার আশেপাশে অকারণে হিহিহি করা একদল সখী নাই। রুদ্র ছয়ফুট লম্বা তার উপর আবার ম্যানলি... নায়কের ধনী বাবা ম্যানেজারের হাতে খুন হওয়ার পর বিধবা মা বস্তির ট্রাকড্রাইভাররে ভাই ডাইকা নায়করে মানুষ করছে কিনা সেইটাও বলা নাই... সবচেয়ে বড় কথা অগ্নিলারে রুদ্র গুণ্ডাদের হাত থিকা বাঁচায় নাই...

নাহ্ ছিঃনেমা হয় নাই। বিদ্যা সিনহা মিম আর শিমুল (হাইটের জন্য) অভিনীত প্যাকেজ নাটক মনে হইতেছে। কাজেই গান ছায়াছন্দ থিকা নিলে হবে না। ইংলিশ গান দরকার।

১১

পদ্মলোচন's picture


নাদিয়ার লাইফ অব আ স্ট্র্যাঞ্জার কিরাম হৈপে?

১২

সোহেল কাজী's picture


ওরে শুক্কুর এইতো দেখি সেই, যাকে খুঁজছিলাম এতোদিন।

আপ্নে মিয়া বহুত ফাঁকিবাজী করেন। দুই দুইটা সিরিজে আইন্যা ঝুলাইয়া দিছেন। একটা পাইলাম। সাইফাইয়ের খবর কি। নয়া পর্ব কি মুক্তি পাইছে

পরের পর্ব জলদী না দিলে খপর আছে

১৩

পদ্মলোচন's picture


এইডা খতম কৈরা সাইফাইটা দিম। পরে পর্ব ১৫ মিনিটের মইদ্দ্যে আসিতেচে।

১৪

টুটুল's picture


পরের পর্ব জলদী না দিলে খপর আছে - কপিরাইট সোহেল কাজী

১৫

পদ্মলোচন's picture


ওখনি দিতাছি

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.