ইউজার লগইন

বিদ্যালয় ও পরীক্ষাকে হরতালের আওতামুক্ত রাখা হোক

বিএনপির ডাকা সাম্প্রতিক তিনদিনের হরতালে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের এ এক বড় অসুবিধা! রাজনীতিতে বড় কোনো ঘটনা ঘটুক- বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই বিদ্যালয় বন্ধ। বিদ্যালয় তখন ব্যবহৃত হয় আশ্রয়খানা হিসেবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বড় আকারের হলে বিদ্যালয় মাসের পর মাসও বন্ধ থাকে। আশ্রয় সেন্টার হিসেবে বিদ্যালয় ব্যবহৃত হওয়ার পরও অনেকদিন লেগে যায় সেটিকে ঠিকঠাক এবং সাফসুতরো করতে। স্থানীয় কিংবা জাতীয় নির্বাচনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন এবং বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নেই। ফলাফল হিসেবে পড়ালেখা ও পরীক্ষা বন্ধ। এলাকায় বড় কোনো মেলা বা বার্ষিক হাট বসলেও অনেকক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মাঠটিকেই ব্যবহার করা হয়। মোট কথা, ঘটনা বা অঘটনে বিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে ঝড়ঝাপটা বয়ে যাওয়া নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর তাৎক্ষণিক ফলাফল হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা এবং পরীক্ষা বন্ধ আর দীর্ঘমেয়াদী ফল হচ্ছে পড়ালেখার মান দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়া।

সাধারণত এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো হরতালের মতো বড় কর্মসূচি দেয় না। সাম্প্রতিককালে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দলটি পরপর তিনদিন হরতাল কর্মসূচি দিল। এর আগে শুধু সিলেটে দলটি একদিনের হরতাল কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ অন্তত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে হরতাল না দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু একদিনের হরতাল শেষ পর্যন্ত তিন দিনে গিয়ে ঠেকে। বিএনপি দাবি করেছে, তারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাপারে সচেতন, কিন্তু হরতাল না দিয়ে তাদের কোনো উপায় ছিল না।

বিএনপির ডাকা এই হরতাল যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক; তিনদিনের বদলে একদিন পালন করলেই তা যথার্থ হতো কিনা- সেই বিতর্কে না গিয়ে আমরা যদি পরীক্ষার্থীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি, তাহলে বলতেই হবে এ ধরনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, বিশেষত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অপূরণীয় ক্ষতি ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছে। সাদাচোখে মনে হতে পারে, বিএনপি যে কয়দিন হরতাল দিয়েছে, পরীক্ষা সে অনুযায়ী পিছিয়ে দিলেই তো হয়! বিষয়টি আসলে এতো সহজ নয়। কারণ একেকটি পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের পেছনে লাখ লাখ মানুষের পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। বিপুল পরিমাণ টাকাপয়সা খরচ তো হয়ই। পাবলিক পরীক্ষার আয়োজনটা এতোটাই বিশাল যে একদিনের ঝামেলায় সমস্ত পরিকল্পনা উলটপালট হয়ে যেতে পারে। মনে রাখা দরকার, বিপুল জনসংখ্যার কারণেই বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বড় শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর একটি। মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা এতোটা বড় না হলেও একেবারে কম নয়। সীমিত সম্পদে এরকম বড় শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিশেষত পাবলিক পরীক্ষা সামাল দেয়া কতোটা কঠিন তা সংশ্লিষ্টরা ছাড়া অন্য কারো পক্ষে উপলব্ধি করাটা খুবই কঠিন। দেশ পরিচালনায় পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় বিএনপির নেতৃবৃন্দের এই বিশালতা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারার কথা। যে ইস্যুতে বিএনপি হরতাল ডেকেছে, সেটির তুলনায় দেশব্যাপী এইচএসসি পরীক্ষা অগুরুত্বপূর্ণ কিনা, সেই প্রশ্ন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে করাই যায়। এমনকি বিএনপির আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়েছে কাদের সিদ্দিকীও বিএনপির নেতৃবৃন্দকে হরতালের পরিবর্তে অন্য কোনো কৌশল অবলম্বনের কথা বলেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে হরতাল কর্মসূচিকে অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু কোন সময়ে হরতাল ডাকলে তা ফলপ্রসূ হবে বা তাদের দাবিদাওয়ার পক্ষে যাবে তা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপলব্ধি করা দরকার।

এবারের হরতালের ধরনটিও কিছুটা ভিন্নরকম ছিল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী একদিনের হরতাল কর্মসূচি পালিত হওয়ার পর পরেরদিনের হরতালের ঘোষণা দেয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিকল্পনার বিঘ্ন ঘটেছে। আগের দিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এক বিষয়ের পড়ালেখা করে যদি সন্ধ্যায় আরেক বিষয়ের পড়ালেখা করতে হয়, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই তাদের পড়ালেখার গতিকে ব্যাহত করে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও দৈনন্দিন পরীক্ষা একরকম; আর এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ভিন্নরকম হওয়ারই কথা। এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গতিধারা নির্দিষ্ট করে দেয়। পরীক্ষায় ভালো না করতে পারলে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই স্তরেই ঝরে পড়ে। খরচের দিক দিয়েও চিন্তা করলে দেখা যায় পাবলিক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষাই বেশি ব্যয়বহুল। এই পরীক্ষার আয়োজন করতে সরকারের যেমন বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়, তেমনি শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে খরচের পরিমাণটাও নেহায়েত কম না। সব মিলিয়ে একদিনের পরীক্ষা বন্ধ মানে বিপুল ক্ষতি!

পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মানসিক ক্ষতিটাও কম নয়; যদিও এই দিকটা প্রায়শই উপেক্ষা থাকে। একেকটি পরীক্ষার পেছনে শিক্ষার্থীদের যে পরিমাণ মানসিক শ্রমের প্রয়োজন হয়, কিংবা মানসিকভাবে তাদেরকে যতোটুকু প্রস্তুতি নিতে হয়, সেটি সাধারণত মূল্যায়িত হয় না। একই পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে দেওয়াতে শিক্ষার্থীদের যে ফলাফল করার কথা, হঠাৎ করে পিছিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে ছন্দপতন ঘটে। তাছাড়া পাবলিক পরীক্ষা যেহেতু নির্দিষ্ট একটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, সুতরাং ওই সেন্টার ছাড়া উপজেলার বাদবাকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেন্টারের আশেপাশে থাকার ব্যবস্থা করতে হয়। যাদের বাড়ি একটু দূরে, তাদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয় যাতে ঠিকমতো পরীক্ষার হলে পৌঁছানো যায়। পরীক্ষা পিছালে এই বাবদ ব্যয় কিংবা প্রস্তুতির পুরোটাই নষ্ট! নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়, ব্যয়ও হয় সে অনুপাতেই।

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আদৌ চিন্তাভাবনা করে কিনা সন্দেহ। শুধু বিএনপি নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীরাও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাদের ডাকা হরতালে শিক্ষার্থীদের কোনো ছাড় দেয় নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার সময় অন্য অনেক কিছু বিবেচনায় নিলেও শিক্ষার্থী এবং পড়ালেখার কথা বিবেচনা করা হয় না। হরতাল ডাকা হলে বিদ্যালয়গুলো হয়তো অফিসিয়ালি ছুটি ঘোষণা করে না বা করতে পারে না। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠায় না। এর ফলাফল হিসেবে সেদিনের পড়ালেখা বন্ধ থাকে। এমনিতেই আমাদের বিদ্যালয়গুলো নানা ধরনের ছুটির ভারে আক্রান্ত। এর মধ্যে এসমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে অনির্ধারিত ছুটিগুলো শুধু পড়ালেখাকেই যে মারাত্মকভাবে ব্যহত করে তা নয়; শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে বিকাশেও মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। যদিও আমাদের বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে ততোটা আকর্ষণীয় নয়; কিন্তু তারপরও বিদ্যালয়ের পড়ালেখার একেকটি দিন কিংবা পরীক্ষার দিনগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে নানা অর্থে তাৎপর্য বহন করে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উচিত তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড গ্রহণের পূর্বে শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বিবেচনা করা।

হরতাল কিংবা এ ধরনের গুরুতর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কিছু কিছু সেবাকে ছাড় দেওয়া হয় মানবিক কারণে। হরতালের কঠোর পিকেটিং-এও অ্যাম্বুলেন্স স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারে। খোলা থাকে ওষুধের দোকান। বিদেশগামী যাত্রীদের বাহনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় তুলনামূলকভাবে কম। এ সবই করা হয় মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করে। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানা অর্থে অসুখ-বিসুখে ভুগছে। যে মানসম্মত শিক্ষার কথা আমরা প্রতিনিয়ত উচ্চারণ করি, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সার্বিকভাবে সেই মানে পৌঁছতে গেলে আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। নির্ধারিত ও অনির্ধারিত নানা বন্ধ-ছুটির কারণে একজন শিক্ষার্থীর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হতে হতে অতিরিক্ত কয়েকটি বছর পার হয়ে যায়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে হরতালের আওতামুক্ত ঘোষণা করা। তাদের বহনকারী যানবাহন যাতে নিরাপদে বিদ্যালয় ও বাসায় যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থাটুকু গ্রহণ করা। প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় অসহনীয় মাত্রার হরতালের কারণে দেশবাসী এখন কর্মসূচি হিসেবে হরতালকে অপছন্দই করে। হরতাল একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার- একে নিষিদ্ধ করাটা হয়তো যৌক্তিক নয়। কিন্তু হরতালের কারণে কতোটুকু ক্ষতি হচ্ছে এবং কী ক্ষতি সেটি হিসেব করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত। বিরোধী দলগুলো যদি অপ্রয়োজনীয় হরতাল বাদ দেয় এবং প্রয়োজনীয় হরতালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রেহাই দেয়, তাহলে তাদের পক্ষে জনসমর্থন একটু বাড়লেও বাড়তে পারে।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মেসবাহ য়াযাদ's picture


খুব ভালো বলেছেন গৌতম।
৬ ক্লাশে পড়ুয়া আমার ছেলেটার ১ম সাময়িক পরীক্ষা ছিলো। ৩ দিনের পরীক্ষা পিছালো। এইসব পরীক্ষা কবে হবে তা ওর স্কুল থেকে বলতে পারেনি। বলেছে- এখন তারিখ দিলে আবার যদি সেই তারিখে হরতাল হয় ?
এদিকে আমাদের আগের পিএম আপা বলেছেন, শনিবারের মধ্যে ইলিয়াছ আলীর পাত্তা না পাওয়া গেলে এরপর মানে রোববার থেকে লাগাতার কঠিন কর্মসূচি দিবেন তারা। কী সেই কর্মসূচি ? এইসব হরতাল দিলে লাভ কী ? ইলিয়াছ আলী কি ফিরে আসবে ? এই ভদ্রলোক আদৌ আর ফিরবেন কীনা, সেটাই সন্দেহ।
তাহলে শুধু রাজনীতির জন্য কোটি মানুষকে সমস্যায় ফেলে কেনো এই হরতাল ? বর্তমানে যারা হরতালের কারনে এইচ এস সি দিচ্ছে- কদিন পরে তারা ভার্সিটিতে ভর্তি হবে। হরতালের কারনে এসব ছাত্রদের যে ক্ষতি হচ্ছে- সেটাকে এরা কিভাবে নেবে ? আজকের এই হরতাল যারা দিচ্ছেন, তাদের প্রতি কি এসব ছাত্রদের শ্রদ্ধা বা সাপোর্ট কোনোকালে থাকবে বলে মনে হয় ? তাহলে কার জন্য এ রাজনীতির নামে বেসাতি...!!!

গৌতম's picture


সেজন্যই বললাম মেসবাহ ভাই- রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়ার আগে তাদের নানা হিসাব নিকাশ থাকে। সেখানে অন্য অনেক কিছু বিচারবিবেচনা করা হলেও পড়ালেখাটা সম্ভবত বিবেচিত হয় না।

রায়েহাত শুভ's picture


গুড থিংকিং এন্ড রাইট আপ।

গৌতম's picture


ধন্যবাদ শুভ ভাই। আমাদের দেশের পড়ালেখার যে অবস্থা, তাতে মনে হচ্ছে এখন শুধু দেয়ালে পিঠ ঠেকা বাকি। এ অবস্থায় মুমূর্ষু রোগীকে উদ্ধার না করে উপায় নাই। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যদি একটু সচেতনতার পরিচয় দিত!

শওকত মাসুম's picture


কেউ কথা শুনবে না। আসতেছে আরো হরতাল

গৌতম's picture


কেউ শুনবে না জানি। এসব কথা না শোনার জবাবদিহিতা করতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে।

জ্যোতি's picture


আপনি ভাবছেন এভাবে। কিন্তু যাদের ভাবা উচিত তারা ভাববে না। তাদের বোধোদয় এ জন্মে হবে না, এটা নিশ্চিত।

গৌতম's picture


যা বললাম এর বাইরে আমার কাছে আর কোনো হিসাবনিকাশ নাই। রাজনীতিকরা বড় মানুষ। তাদের নিশ্চয়ই আরো অনেক হিসাবনিকাশ আছে।

মীর's picture


২৯, ৩০ তারিখ আবার হরতাল।

১০

গৌতম's picture


Sad

১১

সামছা আকিদা জাহান's picture


গৌতম কি আর বলব। স্থগিত পরীক্ষা আজ স্কুলে। আমার ছেলেকে কাল থেকে বই কেন মুখে একটি প্রশ্নের জবাব ও দেয়াতে পারিনি। তার এক কথা আমি জানি। ও ড়/র,স/শ/ষ, জ/য খুব ভুল করে। শুধু বলেছি নড়ে বানানটা বল বাবা --না আমি জানি।

শুনেছি ইলিয়াশ সাহেবের মেয়ের ও এইচ এস সি পরীক্ষা চলছে। ঘটনাটা খুব দুঃখজনক। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে ইলিয়াশ এর গুম হওয়াটা তে বেদনার চেয়ে বিরক্তি বেশি।

১২

গৌতম's picture


আমার ধারণা, আপনার ছেলের সাথে একটা পুরো দিন কাটাতে পারলে ওর এই সমস্যাগুলো আমি দূর করে দিতে পারবো।

অবস্থা কোন পর্যায়ে গেলে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে একজন সাবেক মুক্তিযোদ্ধাও হরতালের বিকল্প কৌশল অবলম্বন করতে বলে!

১৩

নীড় সন্ধানী's picture


(জন) অরণ্যে রোদন! Stare

১৪

গৌতম's picture


Sad

১৫

উচ্ছল's picture


রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে হরতালের আওতামুক্ত ঘোষণা করা। তাদের বহনকারী যানবাহন যাতে নিরাপদে বিদ্যালয় ও বাসায় যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থাটুকু গ্রহণ করা।

- সহমত।

১৬

গৌতম's picture


ধন্যবাদ।

১৭

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে কি করবে? খুব ভাল রেজাল্ট করবে।
তারপর কি করবে? একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।
তারপর কি করবে? একদিন সবচেয়ে সেরা রেজাল্ট করবে।
তারপর কি করবে? একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে।
তারপর কি করবে? অশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতাদের হাত-পা ধরবে, রাজনীতি করবে, নিজেকে বেচে দিবে।

আর বিদ্যালয়ে পড়াশুনা না করে কি করবে? খুব খারাপ রেজাল্ট করবে।
তারপর কি করবে? পাতি মাস্তান থেকে বড় মাস্তান তারপর বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা হবে।
তারপর কি করবে? তথাকথিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের পালবে।

সুতরাং শিক্ষা-ব্যবস্থা ও সিলেবাস ঢেলে সাজাতে হবে। রগ কাটার সহি উপায়, বাস পুড়ানো-গাড়ি ভাঙ্গার সহজ পদ্ধতি, লগি-বৈঠার বিকল্প ব্যবহার, ঘুষাঙ্ক, কিভাবে মন্ত্রীর এপিএস হওয়া যায় - এইসব যুগোপযোগী বিষয় সিলেবাসে সন্নিবেশিত করতে হবে।

...জীবনের সাথে সম্পর্কহীন শিক্ষা পঙ্গু (ছুডু বেলায় পড়েছিলাম)...

~

১৮

গৌতম's picture


তা অবশ্য ভালো বলেছেন। দিন দিন এটাই বাস্তবতা হয়ে যাচ্ছে!

১৯

শর্মি's picture


আমি আমার বুয়েটিয় ভাই-বেরাদারদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি যাতে তারা "ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং" ডিপার্টমেন্ট খুলার জন্য আন্দোলনে ঝাঁপায়ে পরে। তাতে আর ভবিষ্যেতে বুদ্ধিজীবি পালতে হবে না, বরং কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে এককোপে নির্বাচন দখল হয়ে যাবে। এই বিভাগে পড়ার জন্য ছাত্রলীগ/ছাত্রদল করার অভিজ্ঞতা কে প্রধান যোগ্যতা বিবেচনা করার জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ হউন।

২০

গৌতম's picture


একমত এবং সহমত!

২১

মাহবুব সুমন's picture


ভাতিজা থাকে নিকুন্জে, পরীক্ষার সিট পড়েছে মতিঝিল, সে যাইবো ক্যামনে ? পরীক্ষা হইলেও তারতো যাবার উপায় নাই ! কোনোমতে গেলেও জীবনের নিরাপত্তা কে দিবে !

২২

গৌতম's picture


সেজন্যই বিদ্যালয় ও পরীক্ষাকে হরতালের আওতামুক্ত ঘোষণা দেবার অনুরোধ জানালাম!

২৩

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

২৪

গৌতম's picture


ধন্যবাদ।

২৫

তানবীরা's picture


ইসলামীর বিএনপি শাখার মহিলা আমীর বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে সবাইকে এইচএসসি পাশ ঘোষনা করা হবে। কেউ এইচএসসি ফেল থাকবে না।

নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা এমন গুরুত্বপুর্ন কিছু নয়। গুরুত্বপুর্ন হচ্ছে ইলিয়াস। ইলিয়াসকে খোঁজে বের করার পরীক্ষায় যদি সরকার পাশ না করে, এইচএসসি পাশ দিয়ে কি হবে।

খালেদা বলেন, এইচএসসি পাশ করেও কোন লাভ নাই। তিনি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে বলেন, আমাকে দেখ। আমি, শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান তরুন নেতা তারেক জিয়া ও আমার অপর পুত্র আরাফাত কোকো এইচএসসি পাশ না করেই কুটি কুটি টেকা কামাই করেছি।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার চেয়ে বড় পরীক্ষা ক্লাস এইটের ফাইনাল পরীক্ষা। যদি তাতে তোমরা পাশ কর, তাহলেই চলবে।

২৬

মেসবাহ য়াযাদ's picture


লা জবাব ক্যাপ্টেন... Big smile

২৭

জেবীন's picture


এক ক্যাপ্টেনই বুঝতে পারছে ম্যাডামের মনের কথা! টিপ সই

২৮

গৌতম's picture


মতিকণ্ঠ! Big smile

২৯

জেবীন's picture


সেজন্যই বিদ্যালয় ও পরীক্ষাকে হরতালের আওতামুক্ত ঘোষণা দেবার পরও নানান সমস্যার সম্মুখিন হবে শিক্ষার্থীরা, তারা যে স্কুলে/কলেজে যাবে সেই সময়ের নিরাপত্তা কেউ দিবে না, ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে ফেলতে দ্বিধা করছে না এইসব নেতা-নেত্রীর ইন্ধনে চলা অমানুষেরা।

৩০

গৌতম's picture


এটার জন্যই আনুষঙ্গিক দাবি করেছি- শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে সেই ঘোষণা ও ব্যবস্থা করে দেয়া। ...তবে এটা ঠিক- দাবি করলাম ঠিকই, কিন্তু আস্থা রাখতে পারছি না!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

গৌতম's picture

নিজের সম্পর্কে

অনিশ্চয়তার মধ্যে আমার বসবাস। পৃথিবীর কোনো কিছু সম্পর্কেই আমি নিশ্চিত নই। এমনকি যা লিখি, যা পড়ি, যা বলি, সেগুলো সম্পর্কেও নয়।
সমাজতন্ত্র সম্পর্কে মোহ আছে, তবে সমাজের তান্ত্রিকদের কাছ থেকে দূরে থাকতে চাই।

আমার লেখার সব লাইসেন্স ক্রিয়েটিভ কমন্সের by-nc-nd-এর আওতায় রক্ষিত। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।

শিক্ষাবিষয়ক একটি ওয়েব সাইট নিয়ে কাজ করছি কিছুদিন ধরে - www.bdeduarticle.com