ইউজার লগইন

আহমেদ মারজুক'এর ব্লগ

মোবারকঃ শেখার সুযোগ খালেদা-হাসিনার

আনোয়ার সাদাতের দল এনডিপি অনেকটা সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি এর মতো গঠিত হয়েছিল ।ক্ষমতায় থেকে মসনদি হাতিয়ারের তেলেসমাতিতে জন্মে যায় এনডিপি । রাষ্ট্র আর দল যেন একই জিনিস বরং দ্বিতীয়টার গুরুত্ব বেশি, রাষ্ট্র যেন এক সম্ভ্রম হারানো আসহায় নারী । ১৯৭৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠা করে ১৯৮১ তে আনোয়ার আল সাদাতের করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়। দলটা দাঁড়িয়ে যায়, দাঁড়াবেই তো , অনেক অর্থ প্রাচুর্যের দল যে ওটা, সোনার চামুচ মুখে নিয়ে জন্মানো দল যে ওটা ।এনডিপি কেবল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টিই নয় এই দল তাত্ত্বিক ভাবে মিশরীয় জাতীয়তাবাদের প্রচার প্রসার আর অন্তরে ধারণের প্রধান বাহক। আমাদের বিএনপিও মসনদি মমতায় গড়ে উঠে ১৯৭৮ এ আর ১৯৮১ তে মহান প্রতিষ্ঠাতার দুঃখজনক পরলোক গমন, কিন্তু দলটির শক্তিশালী অবস্থান যথারীতি আর দাবীর বলে তারাও আমাদের জাতীয়তাবাদের অভিভাবক ।

এক দুই এবং পরবর্তী

দেয়ালে একটা বড় পোস্টার লাগানো আছে, সাফল্য সিক্ত লড়াকু সাকিবের মেজাজি ছবি দেখা যাচ্ছে তাতে । রাতে বাতির আলো কিছুটা শোষন করলেও দেয়ালের হতশ্রী ভাবটা ঢেকে রাখতে পোস্টারটির বিকল্প হতে পারত না কিছুই । নীচের দিকটা বিছানার খুব কাছাকাছি, বিছানার সিংহ ভাগকে দেয়ালের গা থেকে ঝরে পড়া অবশেষ থেকে রক্ষা করতে ব্যবধান কম । কোনার দিকটায় পেনে লেখা কিছু মোবাইল নম্বরের সাথে ঠিকানার এলোমেলো অবস্থান, কথা বলার সময় এগুলোর উল্লেখ এলে তড়িৎ তা টুকে নেবার প্রয়াস থেকে পোস্টারের জমিনে নানান ভাবে লেখা এগুলো । পড়ার টেবিল থেকে চোখ তুলে তাকালে দেবদারু গাছের মাথায় ভর করে থাকা আকাশের নীল দেখা যায়, ঋতু বৈচিত্রে আকাশ আর দেবদারুর বদল কত স্মৃতির পাতা উল্টে যায় অবলীলায় তা তাৎক্ষনিক বুঝা না হলেও জীবন এক সময় ঠিকই টের পায়।

আড়িয়ল বিলঃ আবার ফাইদা

রাজনীতি নিয়ে কোন কিছু লেখার যোগ্যতা বা সাহস আমার তেমনটা নাই, আর থাকলেও কি বা হতো দুটো বড় দলের যে কোন একটা অথবা পালাক্রমে দুটোরই কৃতদাস রূপে বিবেকের সাথে বেঈমানি করে বেঁচে থাকতাম । আড়িয়ল বিলে বিমান বন্দর নির্মাণের ইস্যু নিয়ে সারা দেশ ভাবিত, এমন সময়ে একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে দেশে নতুন বিমান বন্দর নির্মাণের বিষয়টা মাথায় পজেটিভ ভাবে আসছে না।

ঈভ টিজিং ; অধরা প্রেম

বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাধারণ তথ্য যতো দ্রুত পৌঁছে যায় ততো দ্রুত এমন আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে থাকা দেশ গুলোর মানুষের কাছে দেশ বা মানুষ সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছায় না । এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রায় পুরো দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটের সমতা এবং ঐতিহ্য গত সাদৃশ্য, এ ছাড়াও আছে বিস্তৃত সমভূমির ভূ-প্রকৃ্তি এবং মুঠো ফোনের সহজ লভ্যতা ।

শূন্য

খুব একা লাগে, শূন্যতায় ভরে যায় পৃথিবী
আমি ছুটে চলি আমার প্রার্থিত গন্তব্য ফেলে
জীবনের রাস্তায় কত গলি পথ, কত বাঁক পেরিয়ে
আমি বুঝতে পারি না কিভাবে বিবর্ণ হয়ে যায় জীবন ।

হয়তোবা প্রতিটি গলি আর বাঁকের বর্ননা করতে পারি,
পারি হৃদয়ে হীম শীতল স্রোতের অনুভূতি নিতে
সংজ্ঞাহীন একটা কিছু বেরিয়ে আসতে চায় ভেতর থেকে,
সামনে উপস্থিত প্রশ্ন বোধক চিহ্নটা সরাতে পারি না,
পরাজিত মানুষের কোন শক্তি থাকে না,
আমি আজ তাই, শূন্যে দাঁড়িয়ে থাকা তথা কথিত কেউ ।

অশ্রুহীন দু চোখে ক্লান্তির আঁধার নেমে আসে
মস্তিষ্কের তপ্ত চিন্তাগুলো বাড়িয়ে চলে শূন্যতা,
হৃদয়ের দু কূল ছাপানো হীম শীতল স্রোতে আমি ভেসে যাই।

আর কোমল কন্ঠের কবিতা শান্তি বিলাতে আসবেনা,
দেখা হবেনা এলোকেশী প্রতিমার মুখোবিম্ব
অর্জিত কোন প্রলম্বিত যন্ত্রনায় ডুবে যাবো আমি,
প্রত্যাবর্তনের পূর্বে বার বার ফিরে দেখার সাধে বিভোর থেকে।

বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ- ৩

পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত, পুঁজি হারানো মানুষের আর্তনাদ,পৌর নির্বাচনের প্রাক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সাময়িক ব্যবস্থাপন টুল গুলো এতো বেশি ব্যস্ত হয়ে যাবে যে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি কাজ গুলোতে গুরুত্ব কিছুটা কমতির দিকে থাকবে এবং কাক্ষিত লক্ষ্য মাত্রার যাত্রা পথ দীর্ঘায়িত হয়ে অসীমে মিলাবে । সাময়িক ভাবে আসতে থাকা বিষয়গুলো স্থায়ী হবে , হতে বাধ্য কারণ রাজনীতির মাঠে ওয়াক ওভার মানে বিশাল ক্ষতি। সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলো কেবল মাত্র নিজেদের লাভের করণে জনতার স্বার্থ না ভেবেই বিভ্রান্তির জালে জড়িয়ে পরিস্থিতি অন্য দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবে আর তার অনেকটা জুড়ে থাকবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সংক্রান্ত অপ্রকৃ্ত বিশ্লেষন।সরকারের দু আড়াই বছর শেষে রাজপথের মিছিল আর প্রতিপক্ষ সামলানোই হয়ে পড়ে সরকারের একমাত্র কাজ । এমন সব কারণ সমূহে বিদ্যুতের জন্য সরকারের দৈনন্দিন কাজ কর্ম, চিন্

অস্ত্রের ব্যবহার সবখানেই, নড়বড়ে নড়াইল

সামনে সেচ মৌসুম তাই ভাবছিলাম বিদ্যুতের উপর আরেকটা লেখা লিখব আর তাতে একটু রাজনৈতিক আলাপও থাকবে কারণ সরকার সম্প্রতি যে হলুদ কার্ড দেখেছে তার প্রধান কারণ সমূহের মধ্যে যেমন অনিয়ন্ত্রিত দলীয় আচারণ আছে তেমন মূদ্রাস্ফিতি, আইন শৃংখলা ও বিদ্যুৎ স্বল্পতাও সমান ভাবেই আছে । কিন্তু আজ আর বিদ্যুৎ নিয়ে লেখা হবে না, একটা নিউজ শুনবার পর কোন ভাবেই ওটা ছাড়া আর কোন কিছুতে মন নিতে পারছিনা । বাংলাদেশ বিশ্বকাপের দল ঘোষনা করেছে আর তার জের ধরে নড়াইলে হরতাল, বাংলাদেশের বড় অস্ত্রের আরেক দফা ব্যবহার।

বান্দর খেলা ও ফার্স্ট বয়দের গল্প

আশি নব্বই এর দশক বা আরও আগে যাবার দরকার নাই, এখনও বাংলার অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে ক্লাশের পড়া আদায় শেষে যারা পড়া বুঝিয়ে দিতে আপারোগ থাকে তাদের কান মলে দিতে একেবারে প্রথম দিক থেকে মেধাবী ২/৩ জনের ডাক পড়ে মাষ্টামশাই এর কাছ থেকে।। ঐ বয়সে ঐ ডাক যে কি সম্মানের আর কর্ম সম্পাদন যে কি নায়কোচিত তা কেবল কম মানুষই আনুধাবন করতে পারবেন। এ সুযোগের অভাব জনিত কারণে ক্লাশের বাকী সব ছেলেই ঐ ২/৩ বীর শিশু পুরুষকে হিংসা করে আর ভেতরে ভেতরে তাদের মতো হবার , তাদের বন্ধুত্ব পাবার জন্য চেষ্টা করে। এমন শৈশবের হিরোরা কেবল তাদের মেধা, ক্ষীপ্রতা,যোগ্যতা, দক্ষতা থাকার কারণে হারিয়ে যায়, দেশে তাদের যা অবস্থা হয় তা বলে বুঝানোর না, ঠিক ঝরে যাওয়া একটা পাতা ক্লোরোফিল উজাড় করে ঝরে পড়ে গেলে যেমন তার মূল্য থাকে না ঠিক তেমন।

রাজশাহীঃ ক্লান্তির শেষে স্বর্গ ও রাসেল আশরাফ

ঠিক কি কারণে আমি রাজশাহীকে এতো ভালোবাসি তা বলতে পারবনা, কারণ ছাড়া যে ভালোবাসা তা মধুরতম। রাজশাহীর নিজের কোন কিছুতেই পূর্ণতা নেই হয়ত কিন্তু এখানে জন্মে, এর গলি পথে হেঁটে আমার যে পূর্ণতা আছে তার তুলনায় স্বর্গও কিছু কম হয়ে যায় । এখান থেকে আকাশ দেখে চোখ জুড়ায়, পদ্মার খাঁ খাঁ করা বালুতট সংগ্রামী করে, সরু গলি পথ হৃদ স্পন্দন ধরে রাখে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে লিটনের চা আর ভেসে আসা রোড ফুডের সুগন্ধে আমার জীবন যেমন কেটেছে তা আমি আর কখনই ফিরে পাবোনা হয়তো। ফিরে পাবনা এগুলো থেকে পাওয়া আনন্দ আর ঐ খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর আদর।

বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ- ২

যখন এ পর্ব লিখব লিখব মনে করছি তখন সংশ্লিষ্ট প্রধান সংস্থা বিপিডিবি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা রেখেছে। বানিজ্যিক পর্যায় বলে বিশেষায়িত করলেও তা্র যে সর্ব ক্ষেত্রেই প্রভাব তা সহজেই অনুমেয়।বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দাম বৃ্দ্ধি মানে আপাত ভাবে সরকারের আয় ব্যয়ের একটা স্বমন্বয়ের সুযোগ মাত্র যদিও দারিদ্র্য বিমোচন, মধ্য আয়ের দেশ,শিল্প নির্ভর স্বপ্নের সাথে তার দূরত্ব যোজন যোজন মাইল। মোটা দাগে বলা যায় অর্থনৈতিক চরমাবস্থা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সুস্বপ্নকে চুরমার করে অপেক্ষাকৃ্ত দূর্বল গণতন্ত্রের দেশকে অস্থিতিশীল করবে। এমন এক সময়ে এসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে যখন উৎপাদন ছাড়া সরবরাহ আর বিপণনের ক্ষেত্রে আগ্রহ কম বা অস্পষ্ট এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবার মান আর গ্রাহক বৃ্দ্ধির ইচ্ছা অনুপস্থিত। অন্য দিকে যে ব্যক্তিটি বিদ্যুৎ পেলনা সেও এর মুল্য বৃ্দ্ধি জনিত প্রভাবে বাজারে গিয়ে অর্থনৈতি

?????

সভ্যতা যেখানে প্রতি নিয়ত সংজ্ঞা পাল্টায়
আমি সে সময়ের একটা বন্ধুর পথে হেঁটে চলেছি ।

বস্তু আর মানুষের প্রশ্নে যেখানে বস্তু এগিয়ে
এমন এক পৃথিবীর উপর দাঁড়িয়ে আছি নির্লিপ্ত হয়ে,
পাশ্চাত্য প্রকাশ্যে যখন শোষন করছে প্রাচ্যকে---
তখন পাশ্চাত্য পূজারী দাস হয়ে বেঁচে আছি আমি,
নারীর প্রেম যেখানে খন্ডিত আর পুরুষের মরিচিকা
সেখানে আমি মিথ্যা সুখের রঙধনূ এঁকে বেঁচে আছি।

একটা নদী অথবা একটা জীবন অথবা একটা স্বপ্ন,
সব গুলোই যখন অস্তিত্ব হারিয়ে ধূসর হয়ে বেঁচে থাকে---
সে রকম এক অসহায় সময়ের গণিতের খাতা খুলে বেঁচে আছি ।

সমৃদ্ধি যখন কাম্য, স্বপ্ন যখন অসীম
বিপ্লব যখন অনিবার্য, সংগ্রাম যখন মুক্তির হাতিয়ার
তখন একচোখা আর দু-মুখোর জীবনে বেঁচে আছি,
বেঁচে আছি বৃক্ষ পত্রের লুকানো কীটের মতো হয়ে।

বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিদ্যুতের অবস্থা নিয়ে প্রত্যেকটা মানুষের ক্ষোভ কম বেশি আছে। তারপরও বলব বিদ্যুতের অবস্থা বাংলাদেশের রাজনীতি, আইন,নিরাপত্তা এগুলোর মতো অতো ভয়াবহ নয়। হয়তো রেশনিং এর ব্যবস্থাপনা ভালো হলে মানুষের বুঝতে সুবিধা হবে আর বুঝতে পারলে সহ্য ক্ষমতাও বাড়বে।তবুও সহ্য ক্ষমতা আর রেশনিং দিয়ে তো আর উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব নয়, বড় জোর দু/এক মাস পেরিয়ে বছর চলতে পারে, চলছেও তেমন করে। সম্প্রতি ভাড়া ভিত্তিক ও বেসকারি উদ্যোগে বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা দেশের মানুষকে দ্রুত আংশিক সমাধান এনে দেবে হয়তো কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে দামে বেড়ে গরীবের নাগালের বাইরে চলে যাবে এই কাক্ষিত বিদ্যুত। বিদ্যুত তো আর মুঠোফোন ব্যবস্থার মতো না যে এর গ্রাহক বাড়লে ট্যারিফ (রেট) হ্রাস পাবে, এটা হলো উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ ও বিপননের মতো ক্রমানুসারিক সমন্বিত এবং বহু স্তরে বিন্যস্ত এক প্রক্রিয়া যার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ মেয