ইউজার লগইন

আনিকা'এর ব্লগ

আজিরা দিনপঞ্জী... ৩

গ্রীষ্মের ইউরোপ একটা কঠিন অভিজ্ঞতা... অফিস ট্রিপে জংগলে গেলাম পরশু বিকালে... পরিচিত একজনের অনুপস্থিতি ভেবেছিলাম একটু অস্থির করবে আমাকে... কিন্তু এইবার দেখলাম আমি দিব্যি নিজের মতো থাকতে শিখে গিয়েছি... বাকি সহকর্মীদের সাথে গল্প করতে করতে বেশ সময় কেটে যাচ্ছিলো। আর এইখানকার জংলী ফুল এতো বেশি অলৌকিক লাগে দেখতে... মনে হয় রূপকথার রাজ্যে ঘোরাঘুরি করছি... এক্ষুণি হাওয়া থেকে এক পক্ষীরাজ নেমে আসবে বুঝি। আমরা তো দেশে মানুষ বাড়াতে বাড়াতে জংগলকে উচ্ছেদ করে দিয়েছি প্রায়... ছোটবেলায় যেমন যেখানে সেখানে অদ্ভুত সব ফুল, ঘাসের চাপড়া, বুনো ফলের ঝোঁপ দেখতাম... আজকাল গ্রামে গেলে কদাচিত চোখে পড়ে সেসব। আমরা সভ্য হচ্ছি কিনা... পাকা বাড়ির উঠানে তাই বাগানবিলাস শোভা পায়! বৈঁচি ঝোপ কিংবা মাধবীলতা এমনকি অনেক গ্রামেও ভীষণ সেকেলে বৈকি... যাই হোক, আমি ছোট মানুষ... এইসব ভাবের কথা আমার সাজেনা...

আজিরা দিনপঞ্জী... ২

আপাতত রিফিউজি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি, এক পরিচিত বন্ধুর বদান্যতায় সপ্তাহের জন্য একটা ঘর পাওয়া গেছে অবশ্য। আশেপাশের জায়গাটা খারাপ না, রাস্তার নাম রিভারসাইড রোড... নদী ঠিক না, তবে নদী থেকে বেরিয়ে আসা একটা খাল মতো জায়গা আছে পাশেই... ওর থেকেই এই নাম।

আজিরা দিনপঞ্জী... ১

একটা ঘর, রংগিন কাঁচের জানালার ওপাশে গ্রীষ্মের ঝকঝকে তারাজ্বলা আকাশ। দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কোন একটা উত্তরের অপেক্ষায় আছি... মাঝে মাঝে ভ্রূ কুঁচকে ভাবি... প্রশ্নটা ঠিক ছিলো তো? কিংবা আদতে কোন প্রশ্ন ছিলো কি? বহুদিন ধরে আটকে রাখা অনুভবের নদী একটু ফাঁক পেলেই উছলে উঠতে চায়... অবিমৃষ্যতা ভেবে সেটুকুও দু'পায়ের তলায় প্রাণপণে চেপে রাখি। জীবন বড়ো অদ্ভূত হয়ে সামনে হাজির হয়। খুশি হবার পথ খুব বেশি নেই, যাকিছুই বা আছে অন্য কারোর অখুশি'র চাপে হারিয়ে যায় বারবার। মন কেবলি আকুলি বিকুলি করে চেনা পরিচিতদের ভিড়ে ফিরে যেতে... আবার বিষম দোটানায় পড়ি... পরিচিতদের ভিড়ে পরিচিতিটাই যদি হারিয়ে যায় কোনভাবে? কি করি, কোথায় যাই বুঝে পাই না... অপরিচিত রাস্তায় অজানা গাছের পাতা ছুঁয়ে বলি, তোমাদের প্রার্থনায় আমাকেও রেখো। কারো বিরুদ্ধে আমার মন অভিযোগের খাঁড়াও তোলেনা... খালি মনে হয় সবাই সবার মতো ভালো থাক...

সত্যি জাদুকর

ভূমিকা:
ফেব্রুয়ারীর প্রথম দিকে... তখন মাত্র মাস খানিক হলো বিলাতে এসেছি... দেখি বই এর দাম সস্তা, আর যা কিনতে চাই তাই পাওয়া যায়। আমার আবার ছোটবেলা থেকেই ফ্যান্টাসি'র উপরে প্রবল টান... এক বন্ধুর উইশলিস্ট দেখে 'লয়েড আলেক্সান্ডার' এর একটা সিরিজ কিনে ফেললাম... প্রাইডেন নামের একটা ইমাজিনারি দুনিয়ার গল্প... মূলত ওয়েলস এর মিথ এর উপরে ভিত্তি করে লেখা। 'দ্য ফাউন্ডলিং এন্ড আদার স্টোরি'স অব প্রাইডেন' হইলো ওই সিরিজের শেষ বই... সিরিজের মূল বইগুলোর এপেনডিক্স মার্কা... এই বই এরই একটা ছোট গল্প এইটা। কি ভেবে যেন অনুবাদ করেছিলাম। এর আগে অন্য একটা ব্লগ ঠিকানায় ছদ্মনামে লিখেছিলাম ... তিন পর্বে... এইখানে একটু পরিমার্জন পরিশোধনের পরে একসাথে গোটা গল্পটা দিচ্ছি।

.............................................................................

কি আশায় বাঁধি খেলাঘর?

ছোটবেলায় সত্যজিত রায়ের একটা ছোটগল্পে পড়েছিলাম একটা বাচ্চা ছেলের কথা, গভীর দুঃখে যার হাতের তেলো নীলচে হয়ে যায়। ওই সময়টায় আমি ভাবতাম... আহা! আমার জীবনে কতো কষ্ট... বাবা-মা সারাদিন ঝাড়ির উপরে রাখে, আরো কি কি সব অদ্ভুত কষ্ট। আর এই মুহূর্তে আমি এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি যে সামনে ধূ ধূ ফাঁকা জীবন। কষ্টের এমন অদ্ভুত অবস্থা যে মাঝে মাঝে মনে হয় ভীষণ বাজে একটা দুঃস্বপ্নের দুনিয়ায় আটকে আছি। সামনে একটা ইকোস্ফিয়ার... দেখতে কিউট... কিন্তু ওর ভেতরে চারটে জ্যান্ত চিংড়ি মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে... আমার মতো ওরা কি জানে ওরাও একটা অসীম চক্রে আটকে আছে... মরে যাবার আগ পর্যন্ত ওখানেই থাকবে?