ইউজার লগইন

আনিকা'এর ব্লগ

রং এর গোলাগুলি

বিলাত আসার পরে আমার ছোট বোন আমাকে এক বাক্স রং কিনে পাঠিয়ে দিসলো, আমার যখন মন খারাপ হইতো সেইগুলা গুলায়ে আমি মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মতো খাতার পাতা ভরাইছি... এইগুলা সেইসবেরই নমুনা... মন ভইরা হাসতে পারেন... আমি মাইন্ড খাবোনা, প্রমিজ। আমার রং এর খেলা খেলতে খেলতে কেমনে কেমনে জানি মন ভালো হয়ে যায়... মনে হয়.. বাহ! দুনিয়া ব্যাপক রংগিন। Smile

1
2
3

অ্যাডাল্ট কেক রেসিপি

cake

এই রান্না শুরু করার আগে বাসায় খুঁইজা দেখেন, কোন কঠিন পানীয় আছে কিনা... কঠিন পানিতে এলার্জি থাকলে ফলের জুস দিতে পারেন, তয় সেইটা আংগুর বা বেরী জুস হইলে ভালো হয়। যাউগ্গা জিনিসপাতি যা যা লাগবো সেইটার লিস্টি:

* লেডি ফিংগার বিস্কুট ( দুকানে পাওয়া যাওয়ার কথা, নামেই বুঝা যাইতেছে মহিলাদের আংগুলের মতো দেখতে বিস্কুট... ভুলে ঢেঁড়স কিন্ন্যা ফেল্লে আমার দুষ নাই)- ৮টা পিস ( এক প‌্যাকেট কিনলেই হওয়ার কথা)।
* তিন টেবিল চামচ কফি,
* ৫ টেবিল চামচ আইসিং সুগার,
* একটা ২৫০ মিলি হুইপিং ক্রিমের ডাব্বা,
* একটা ২০০ গ্রাম ফিলাডেলফিয়া ক্রিম চিজ,
* একটা কুকিং চকোলেটের বার (১৫০ গ্রাম)

আজিরা দিনপঞ্জী... ১১

ভোরবেলার ছায়া ছায়া অন্ধকারে রোজ ঘুম ভেঙ্গে যায়, বিছানার পরতে পরতে আলিস্যি জড়ানো থাকে... আমার খুব ইচ্ছে করে তোমার স্বপ্নে চলে যাই... মেঘবালিকার মতো ছুঁয়ে দিই কপাল। আমি জানি এইরকম কথা আমার তোমাকে কখনো বলা হবেনা, সত্যিকারের স্বাভাবিক মানুষেরা হয়তো এইরকম কথা কখনো বলে না। আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমি কি আসলে স্বাভাবিক মানুষ? তোমাকে যে এরকম কিছু বলতে ইচ্ছে করে আমার তাও না। আমার ইচ্ছেগুলো খুব সাধারণ, তোমার কথা শুনবার ইচ্ছে, আমার কথা তোমাকে শোনাবার ইচ্ছে... তুমি যখন হাসো, তখন তোমাকে দেখবার ইচ্ছে। যখন তুমি চশমার ফাঁক দিয়ে ভ্রূ কুঁচকে তাকাও, তখন বলবার ইচ্ছে, ''ওহে, বুদ্ধু, কখনো সখনো তো একটু ভালো মুডে থাকো...।''

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ২

আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিলো অসলো রয়্যাল প‌্যালেসের ঠিক পাশেই, বেশ পশ জায়গা... অবশ্য হোটেলটা ঠিক সেই অর্থে রাজকীয় সুলভ কিছুনা, তবে নেহায়েত মন্দও না। আমি, মৌসুম আর মাল্লিকা এই তিন মহিলা এক ঘরে। অফিস করি রোজ পাঁচটা-ছ'টা পর্যন্ত... এরপরে হোটেলে ফিরে কোন কোন দিন অন্য কলিগদের সাথে ঘুরতে বেরুই... কোনদিন একা একাই ঘুরি... রাত বারোটা পর্যন্ত দিনের আলো থেকে যায়... তাই সময়ের তেমন অভাব নাই... আর আমার শরীরের ভেতরে কেমনে জানি অ্যালার্ম সেট করা হয়ে যায়, তাই আমি ভোর পাঁচটায় উঠে পড়ি... খুটখাট করে বাইরে হাঁটতে চলে যাই... গ্রীষ্মের গাঢ় সবুজ পটভূমিতে যা দেখি তাতেই মুগ্ধ। আর হোটেলের সামনেই রাজার বাড়ি আর বাড়ি সংলগ্ন বাগান... হোটেল থেকে দশ পা গেলেই একটা ডাক-পন্ড... তার উপরে আবার কাঠের ব্রিজ... ওখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে হাঁস দেখি, সমুদ্রের চিল দেখি... রাজকীয় বাগানের বেঞ্চিতে বসে গল্পের বই পড়ি সাতটা পর্যন্ত...

বিলাতের দিনরাত্রি...১

বিলাত চলে আসার সিদ্ধান্তটা বড়ো আচমকা ছিলো, নিজের সাথে আড়াইটে বছর অন এন্ড অফ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলছিলাম... তারপরে হঠাৎ করে মনে হলো... বাহ! বেশ ক্লান্ত লাগছে তো। একবার এই কথা মনে হলো তো আর যায় কোথা... দিনরাত মনে হতে লাগলো। তিন বছরের
চাকরি জীবনে যতোদূর সম্বল ছিলো একাট্টা করে চলে এলাম এই দেশে। বাপ-মাকে ম্যানেজ করতে গিয়ে অবশ্য তেরোটা বেজেছিলো। এর মাঝখানে নিশীথ সূর্যের দেশে একটা চাকরী'র অফার পেয়ে গেলাম... কিন্তু নিজের আবেগের লাগাম তখনো নিজের হাতে ছিলোনা, তাই সাহস করে উঠতে পারিনি... যাই হোক বিলাতের দশটা মাসের জীবন নিয়ে লিখার ইচ্ছে ছিলো অনেক, আর তাই এই সিরিজ।

ছবি: গ্রীনিচ সানডে মার্কেট
sunday market 1

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ১

অনেক পুরনো ডায়েরী আর ব্লগ ঘেঁটে, তার সাথে স্মৃতির জোড়াতালিতে নূতন করে আবার লিখছি নিশীথ সূর্যের দেশে ঘুরে আসবার কাহিনী।
(কিছু ছবি অন্যদের ক্যামেরা থেকে চুরি করা.. আশা করি তারা জীবনেও আমার এই ব্লগ পড়ে আমাকে পিটুনি লাগাবে না)
.......................................................................................................................................

আজিরা দিনপঞ্জী... ১০

''তবু চাইছি তোমাকেই... তুলে নিতে অঞ্জলিতে... রোদের ফোঁটা।''

সূর্যটা অনেক দূরে, তবু কেমন করে যেন বিনা তারে তার ঊষ্ণতা এসে পৌঁছোয়... অযাচিতে খবর পাই ঐন্দ্রজালিক তার জাদুর ঝোলা নিয়ে বসে আছে অপেক্ষায়। দুরু দুরু মন কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায়না। কিন্তু আর কোন ব্যাখ্যা-ই অংকগুলো মিলিয়ে দিতে পারেনা। এ হয়তো শেষ বেঞ্চির ছাত্রটার টেনেটুনে পাস করার মতো ব্যাপার...হয়তো এও আরেক কল্পনার বুদবুদ আমার, নিমেষে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে কাল। তবু যতোক্ষণ সে আছে আমার মনে, তাকে আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরি, বিষন্নতায় নীল হয়ে আসা আমার দুনিয়ায় ঝলমলে এই রংধনুকে স্বাগত জানাই চুপেচুপে... একদম নিজের ভেতরে কোথাও।

আজিরা দিনপঞ্জী... ৯

lavender

আজিরা দিনপঞ্জী... ৮

''হঠাত একটা রোদ হয়ে যাও, রোদ হয়ে যাও... আমার গা ছুঁয়ে যাও, গা ছুঁয়ে যাও।''

এ'যেন একটা অসীম চক্রে ঢুকে গেছি। ওই লোকটার সাথে আমার দু'দিন খুব আনন্দে কাটবে, যেন কতো জীবনের কতো কাছের বন্ধু আমরা দু'জনা...এরপরে আমি হয়তো কল্পনার ঘোড়াকে সীমানা পার হয়ে যেতে দেবো... আর তখনি সামনে এসে দাঁড়াবে সেই অদৃশ্য দেয়াল। যার ওপারে কি আছে আমি কোনদিনও জানতে পারবোনা। এইরকম সময়গুলোতে আমি একটা অস্থির শূণ্যতার বুদবুদের ভেতর ঢুকে যাই- যার কেবল আটকে রাখবার ক্ষমতা আছে, আদি-অন্ত বলে কিছু নাই। আর এইসব সময়গুলোতে আমার খুব অদ্ভুতভাবে স্মৃতিকাতরতা জাগে। এমনসব স্মৃতি, যাদের সত্যিকার অর্থে কোন সিগনিফিকেন্স নাই।

হোটেল দাদু

কিছু মানুষ আছে, যাদের সাথে থাকলে আমার পৃথিবীটাকে অনেক অদ্ভুতরকমের ভালো একটা জায়গা বলে মনে হয়। জন এইরকমের একটা লোক। অথচ কদ্দিন হলো চিনি ওরে? ২০০৮ এর সামারের শুরুতে কোন এক রোববারে সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম...হাঁটা শেষে হোটেলে ফিরবার মুখে হোটেলের দরোজায় সান্তা ক্লজের মতো দেখতে এক অতিকায় বৃদ্ধ হাসিমুখে অভিবাদন করলো, আমি ওই হোটেলেই থাকি, অথচ ও আমাকে দেখনি কখনো, সেই নিয়ে কিছুক্ষণ গ্যাঁজানো... ওই সময়েই ও নাকি ওভেনে কি করতে গিয়ে ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে ফেলেছিলো... সেইটা নিয়েও হাসাহাসি হইলো কিছুক্ষণ। কারণ অ্যালার্ম বাজার পরেও হোটেলের ত্রিশ জন বোর্ডারের কেউই ঘুম থেকে উঠেনি, শুধুমাত্র একটা বাচ্চা ছেলে নাকি ঢুলতে ঢুলতে নিচে নেমে ভ্রূ কুঁচকে কি হলো বুঝবার চেষ্টা করছিলো... কোথাও কোন বিপদ দেখতে না পেয়ে আবার চলে গেছে ঘরে। এরপর থেকে প্রায়ই ডিনারের সময় দেখা হতো...

আজিরা দিনপঞ্জী... ৭

তেমন কোন কারণ নেই, তারপরেও আমি প্রায় প্রতিদিনই রাত এগারটা কি বারোটার দিকে অফিস থেকে বেরুই... অফিসে কেউ থাকেনা আরো অনেক আগে থেকেই। বিশাল ফুটবল মাঠ মার্কা অফিস স্পেসে আমি ফুল ভ্যলুমে গান শুনি, নিজেও চেঁচিয়ে সুরে-বেসুরে গান গাই, কখনো সখনো মন চাইলে এক দুই পাক নেচেও নেই। বারোটার শেষ বাসের জন্য যখন দাঁড়িয়ে থাকি, নিশীথ সূর্যের এই দেশে তার খানিক আগ থেকে মাত্তর রাতটা শুরু হয়... সন্ধ্যের নীলাভ ছায়া আকাশের অন্ধকারে কোথায় যেন মিশে থাকে তখনো। চাইলেই পারি, কিন্তু আমার কেন জানিনা কখনো বাসের টাইমটেবল দেখে বেরুতে মন চায়না। অপ্রয়োজনে এইটুকু সময় নষ্ট করার বিলাসিতা আমি বেশ আরামেই উপভোগ করি। আর বেশিরভাগ দিনই তাই কমের পক্ষে মিনিট দশেক বাস স্টপে দাঁড়িয়ে থাকা লাগে। বাসে যখন উঠি, আর কেউই প্রায় থাকেনা তখন... বাস ড্রাইভাররা কেউ ক্লান্ত মাথা নাড়িয়ে নড করে, কেউ হাই বলে...

আজিরা দিনপঞ্জী... ৬

''আমি তো অচিনপুর, তেরো নদী সমুদ্দূর দূরে, ভেবেছি জানবে না লোক, আমাকে ছোঁবে না শোক... ভেবে নেবো কেউ কোথাও রোদ্দূরে হাসছিলো।'

চিলতে রোদে

সদ্য গজিয়ে উঠা ব্যালকনির দেয়ালে ঝিকিমিকি একটা রোদের ছায়া তিরতির করে কাঁপছিলো। আকাশছোঁয়া বাড়িঘরের ফাঁকফোঁকড় গলে রোদটা কেমন করে দেয়ালের গায়ে ঠিকানা খুঁজে পেলো কে জানে? ব্যালকনির ধার ঘেঁষে কতোদূর এগিয়ে একটা লাল ছোট টবে একটা ফ্যাকাশে হলুদ চারাগাছ খুঁজে পেলো রোদটা। চারাগাছটাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে রোদটারও ভীষণ ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছিলো। একটু ভালো করে উঁকিঝুঁকি মারতেই চারাগাছের মাথা ফুঁড়ে উঁকি দিতে চাওয়া একটা বেগনি রং এর ফুলের আধাফোঁটা কলি চোখে পড়লো। চারাগাছে ফুল? এই ভাবতে ভাবতেই হঠাত কলিটা মাথা নেড়ে খ্যাঁক করে উঠলো, ''ড্যাবড্যাবিয়ে কি দেখছো শুনি? জানোনা, অন্যের বাড়িতে উঁকিঝুঁকি দিতে নেই!'' বাড়ি?

আজিরা দিনপঞ্জী...৫

আজকাল কেমন ঘোরের দুনিয়ায় আছি, যা কিছু ঘটছে আমার মনে হয়... ওহ! আচ্ছা... দেখা যাক সামনে কি আছে। ভালোবাসা বড়ো অদ্ভুত অনুভবের খেলা। না ভালোবেসে উপায় নেই, আর বাসতে লাগে ভয়। সামনের মানুষটাকেও ছুঁয়ে দেখতে ভয় লাগে... মনে হয় রংগিন বুদবুদের ভেতরের স্বপ্ন বুঝি এক। আয়নার নিজের চোখে ক্রমাগত বিষাদের ছায়া দেখতে দেখতে খুশির ঝলকটুকু কেমন অদ্ভুতরকমের অচেনা লাগে... নিজের প্রতিবিম্বের দিকেও ভয়ে তাকাইনা, মনে হয় পাছে ভুল স্বপ্ন ঢুকে যাই। আবার মনে হয় অনেক তো হলো, এইবার বুঝি হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যায় অন্য একটা হাত। কিন্তু ভেতরে ভেতরে বরফ হয়ে যাওয়া আমার হাতের ঊষ্ণতা ফেরত আনবার স্পর্শটার অপেক্ষা করি। হয়তো আসবে, হয়তো আসবে না। তবু দিবাস্বপ্ন নেহায়েত মন্দ লাগেনা।

আজিরা দিনপঞ্জী...৪

একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি...
তাই দিয়ে মনে মনে রচি মম ফাল্গুনী।

অনেক অনেক দিন পরে আমি অনেক ভালো আছি, ভালো লাগবার আলাদা কোন কারণ নেই। কেবলমাত্র কোন মানুষের উপস্থিতি'র অনুভূতি কেমন করে এতো শান্তি'র হয়-তার ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই, কখনও ছিলোনা। যাই হোক, আপাতত ব্যাখ্যা খোঁজা বাদ দিয়েছি, নিজের থেকে কিছু করবার চিন্তাও বাদ দিয়েছি... যেটুকু সময় ভালো লাগে সেটুকু ভালো লাগাতেই কাটুক। আজ হপ্তা শেষে ছুটির দিন... কেন জানিনা এখানে এলেই ভোর বেলায় ঘুম ভেংগে যায়... আজকেও সম্ভবত পাঁচটার দিকে ঘুম টুটে গেলো, নিজেকে অনেক ঠেলেঠুলে, মাথায় হাত বুলিয়ে আবার ঘুমুতে পাঠালাম... শেষমেষ যখন মনে হতো লাগলো বেলা বুঝি দুপুর গড়িয়ে এলো প্রায়... উঠে দেখি বাজে মোটে ন'টা। কি আর করার... উঠেই পড়লাম। উঠে মনে হলো অনেকদিন আমার দিনের হিসাব লিখে রাখা হয়না... তাই কোলের যন্তরটা'রে নিয়ে বসলাম।