ইউজার লগইন

আনিকা'এর ব্লগ

আজিরা দিনপঞ্জী... ১৫

মাঝে মাঝে কারো লেখা পড়ে নিজেও কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করে, কখনও লেখা হয় আবার কখনও কি লিখবো কিছুতেই খুঁজে পাইনা। আর আজকাল অনেকবার আধাপৃষ্ঠা, এমনকি একটা গোটা পৃষ্ঠা লিখে ফেলেও আবার মুছে ফেলেছি সব। অনুভূতিটা ঠিক অভিমানবোধ কিংবা হতাশাবোধও নয়- কেমন একটা মিশেল অনুভূতি। কেন লিখবো সেই কারণটাকে নিজের কাছে জাস্টিফাই করতে পারিনা। আমি একটা কেমনধারা যেন ! একটা সময় ছিলো নিজেকে নিয়ে কনফিউজড ছিলাম অনেক, এখন আর কনফিউশান নাই সেই মাত্রায়... তবে একেবারেই যে নাই সেই কথা জোরগলায় বলতে পারছিনা।

অনিকেত... ২

ফ্রিজ খুলে চিন্তা করছিলাম তাড়াতাড়ি করে কি বানানো যায়। গত সপ্তাহে বাজার করেছি, কয়েক পদের সবজি আর ডিম ছাড়া তেমন কিছু নেইও ফ্রিজে। ডিম পরোটা আর কুঁচনো সালাদ বানাবো ঠিক করলাম, খুব বেশি সময় লাগবেনা তাতে। জলদি করে দুটো ডিম ভেংগে নিয়ে পেঁয়াজ আর মরিচ কুঁচি মিশিয়ে নিলাম, রেডিমেড পরোটা ছিলো ফ্রিজে। বের করে আনার সময় ভাবছিলাম জীবনকে কতো সহজ করে ফেলার চেষ্টায় থাকি আমরা। অথচ জীবনটা ভীষণ হতচ্ছাড়া! ঠিকই জটিলতায় ঘুরপাক খেতে থাকে আপন মনে। ডিম পরোটা ভেজে তুলবার ফাঁকে ফাঁকে শসা, আর টমেটো কুঁচিয়ে নিয়ে সাথে কাঁচামরিচ আর ধনেপাতা দিয়ে সালাদ বানিয়ে ফেললাম চটপট। টেবিলে সব তৈরী করে রেখে মাহফুজকে ডাক দিলাম। মাহফুজ এর মধ্যে বাইরের কাপড় পাল্টে নিয়েছে। জানিনা কেন, আজ হঠাৎ মাহফুজকে দেখে মনে হচ্ছিলো অনেকদিন আমি ওকে তেমন করে খেয়াল করিনি, বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো আজ ওকে।

আজাইরা দিনপঞ্জী.... ১৪

আমি এই বছরটা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশায় দিন গুণছি। কিছু দিন আগে দেখা একটা পপুলার হিন্দি মুভির প্রোটাগনিস্ট প্রার্থনা করছিলো এই বলে যে, '' অনেক এক্সাইটমেন্ট হয়েছে প্রভু, দোহাই লাগে এইবার বাকি সময়টা বোরিং বানিয়ে দাও।'' আমার খানিকটা ওইরকমই অবস্থা। নিজেকে ছাড়া তো এক্সপেরিমেন্ট করার কেউ নাই, কিছুদিন তাই নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখে দেখছিলাম কোথায় কেমন করে কি হচ্ছে। একটা অনেক পুরনো সত্যি কথাই কেবল টের পেলাম নতুন করে, কোন কিছুই কারো জন্যে কোথাও আটকে থাকেনা। আমি যদি নাই হয়ে যাই সেইটা একটা বিশাল স্পেসে একটুখানি ছোট্ট ঢেউ হয়ে মিলিয়ে যাবে, আমার যতো গুরুত্ব সেইটা নিজের কাছেই। আর ব্যাপারটা সবার জন্যে একইরকম।

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ৪ ( একটুকরা জার্মানী)

ছবি: নরওয়েতে শেষ রাত
last
আমাদের তিন সপ্তাহের অসলো যাত্রার শেষকাল চলছে, পরেরদিন ভোরবেলা অসলো থেকে রওয়ানা দিব... রাতে আমার হঠাত করে মনে পড়লো আমি রাজ্যের মানুষকে লাফালাফি করে জানিয়েছি জার্মানীতে আসছি...এবং শেষ মুহুর্তে আমার যা স্বভাব... কারো সাথে যোগাযোগ করি নাই । শেষে মৌসুমরে বললাম কিছু করতে... সে ভাস্করদারে ফোন দিলো... ভাস্করদা আবার কেমনে কেমনে জানি চোরদা'র (উনি চোর নামে সামুতে লিখতেন এককালে, উনার সত্যিকারের নামটা বেমালুম ভুলে গেসি) সাথে যোগাযোগ করে ফেললো.... শেষমেষ জানা গেলো সাত-সকালে আমাদেরকে রিসিভ করতে ফ্র্যাংকফুর্ট এয়ারপোর্টে কেউ একজন থাকবেন ( কে সেই অভাগা ব্যক্তি তখনো জানিনা।) কেমন জানি লজ্জা করছিলো...কাকে না কাকে জ্বালাচ্ছি কে জানে।

রান্নাবান্না

roll1
roll2

ছেঁড়া মেঘে ছেঁড়া রূপকথা... (২)

batighar
''রাজকন্যা পড়ায় ফাঁকি দিতোনা বাবা?''
''তা দেবে কি করে? ও তো ফাঁকি দেয়া শেখেই নাই, আর তারপরেও যদি ওর কখনো পড়তে ইচ্ছা না করতো ও চুপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো। আর ও একটু বেশি সময় ধরে পড়াশুনা না করলেই ডাইনীটা ওর জন্যে অনেক কঠিন সব শাস্তির ব্যবস্থা করতো। যেমন সারারাত ধরে ভয়ানক চেহারার রোবট ওকে ভয় দেখাতো, নাইলে ওকে চিরতার রস গেলানো হতো কিংবা ইলিশ মাছের কাঁটা বাছতে দেয়া হতো। ওর তাই না পড়ে উপায়ই ছিলোনা যে।

ছেঁড়া মেঘে ছেঁড়া রূপকথা... (১)

batighar

দৃশ্যত...

(১)
ফ্রস্টের কবিতার মতো, পথের দুটো শাখা ছিলো অজানার দিকে এলিয়ে। মনে মনে কেমন করে যেন জানাই ছিলো দীর্ঘশ্বাসের শব্দ একদিন গাঢ়তর হবেই, তাই চোখ বুজে হেঁটেছি মন যেদিকে চেয়েছে। অনেক পথের পরে এক নিঃশ্ছিদ্র পাথরের দেয়াল আজ পথের সমান্তরাল। নিজেকেই প্রশ্ন করি, পৃথিবীর শেষ প্রান্তেও কি দেয়ালের কোথাও ফাটল পাওয়া যাবেনা? কিংবা সমান্তরালে হয়তো সবাই চলে, কারো চোখে অদৃশ্য থাকে দেয়াল, আবার কেউ অনেক দেরীতে খুঁজে পায়... কেউ হয়তোবা দেয়াল খুঁজে পাবার আগে নিজেই হারিয়ে যায়। আমি কি তবে সৌভাগ্যবানদের কেউ... যে দেয়ালের সমান্তরালেও ফাটলের স্বপ্ন দেখে?
chhobi
(২)

আজিরা দিনপঞ্জী... ১৩

অনেকদিন আমার অসুখ করে না, আমার যে খুব শখ অসুখ করবার এমনও না। তবু কেন জানিনা, আজকে ভোরে ধানমন্ডি লেকের পাশ দিয়ে দৌড়ুতে দৌড়ুতে আমার এই কথাটাই মনে হলো ... সত্যিই তো! আমার কতোদিন অসুখ করেনা!

বিলাতের দিনরাত্রি...২

একে তো চরম মন খারাপ করা দিন কাটে, তার উপরে ক্লাস থেকে ফিরে রোজ দরজা খুলে ঘরে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই একটু, শুনি মহিলাটি আবার কাঁদছে। কাছে গিয়ে সান্ত্বনা দেবার লোভ সামলাই কোনরকমে। চোরের মত ত্রস্তপায়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা আটকে বসে থাকি। ল্যাপটপটা কোলের উপরে নিয়ে অন্যমনস্কের মত এই সেই ওয়েব পাতায় ঘুরে বেড়াই। পাশের ঘর থেকে খসখসে বয়স্ক আর তীক্ষ্ণ কিশোরী কন্ঠের চিৎকার ভেসে আসে। মহিলাটি সিলেটি ভাষায় কি বলে যাচ্ছেন, তার পুরোটা বুঝতে পারিনা, আধাআধি যা বুঝি তাতে মনে হয় বারো বছরের মেয়েটির ব্রিটিশ উচ্ছৃংখলতা সিলেটের পাড়াগাঁ থেকে লন্ডন চলে আসা মায়ের সহ্যের বাইরে চলে গেছে। মায়ের কথা না বুঝলেও, মেয়ের মুখের ''শাট আপ, ইউ ব্লাডি হোর'' শুনে আপাদমস্তক চমকে উঠি!

আজিরা দিনপঞ্জী... ১২

''কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা,মনে মনে...
মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে।''

আবারো রং

হুদাই কিছু আঁকাআঁকির চেষ্টা চরিত্র করলাম আবারো, সাথে কিছু পুরানা স্কেচ মার্কা ছবি আর আমার খেলনা খেলনা গ্লাস পেইন্টিং প্র্যাকটিস। য়াযাদ ভাই বলেছেন বড়ো হইয়া আটিস হবো, এই ভরসায় আঁকাআঁকি শিখুম ভাবতেসি, নাহয় আমার বয়স তিরিশই হইলো... এই বয়েসে শিখলে মাইর তো আর দিতাসে না কেউ... আর ভাগ্যিস ছবি আঁকলে প্রতিবেশীরা শুনতে বা দেখতে পায়না, তাই আমার জানালা পঁচা ডিমের হাত থাইকাও বাঁইচা যায়। আর তাছাড়া এই অ্যাডে'র সাগর পাড়ের দাঁড়ানো শিল্পী'র চে ভালো আঁকতে পারি এইটা আবিষ্কার কইরাই আমি মোটামুটি আমোদে আছি।
p1

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে....৩

২০০৭ এর সফরে আমি, মৌসুম আর আমাদের তৎকালীন টিম লিডার একসাথে ঘুরে বেড়াতাম বেশিরভাগ সময়ে। একদিন গিয়েছিলাম সাগর সৈকতে, প্রথম বীচটাতে ঢুকে অবশ্য লিডার আমাদেরকে আর সেইখানে ঢুকতে দেননি, সেইটা নাকি ন্যুডিস্ট'দের জায়গা ( আহা! দেখা হইলো না Wink )। যাই হোক বীচে গিয়ে আমার আর মৌসুমের মোটামুটি স্বপ্নভংগ... কই আমাদের কক্সমামু'র বিশাল বালির সৈকত, আর কই এই পাথুরে খ্যাড়খ্যাড়ে বীচ! তবে যেইখানকারই হোক না কেন সাগরের একটা ভীষণরকম আকর্ষণ আছে, কেমন একটা নোনা জলের গন্ধ পাওয়া যায় বাতাসে, পাথরের উপরে বসে কিছুক্ষণ দৃশ্য দেখাদেখি, কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে পানি আর পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি করে চলে আসলাম। ফেরত আসার সময়ে রাস্তা হারিয়ে দুইটা ঘন্টা এদিক সেদিক হাঁটাহাঁটি করসিলাম এইটা বেশ ভালো মতো মনে আছে, পানির তেষ্টায় কলিজা শুকিয়ে গেসলো।

অনিকেত... ১

আমি নিজে আজকে দুপুরে ঘুমিয়ে গেসলাম.. ঘুম থেকে উঠে বেশ একটা কিছু লিখতে মন চাইলো... তাই এইটা লিখতে শুরু করছি... কি দাঁড়াবে জানিনা।
....................................................................................................

আনারস মুরগী

pineapple

যা যা লাগবে:
এক ক্যান আনারসের টুকরা করে কাটা ( দেশী আনারস হইলে এক কাপ জুস ও লাগবে),
একটা মুরগী (ছোট করে কাটা),
ক্যাপসিকাম কুঁচি: আধা কাপ ( বিভিন্ন রং এর হইলে ভালো হয়।)
কাঁচা মরিচ: ২টা (ফালি করা),
আদা কুঁচি: ২ চা চামচ
রসুন কুঁচি: ১.৫ চা চামচ
পেঁয়াজ কুঁচি: আদা কাপ
সয়া সস: ২ টেবিল চামচ
লেবুর রস: ১ টেবিল চামচ
চিনি: ১/২ চা চামচ
ময়দা: আধা কাপ
কর্ন ফ্লাওয়ার: ১/২ টেবিল চামচ
গোলমরিচের গুঁড়া: ১/৪ চা চামচ
তেল: আধা কাপ
লবণ: আন্দাজ মতো