ইউজার লগইন

এ টি এম কাদের'এর ব্লগ

jidajidir jidtai

একদেশে দুই নামিনী,
ঝগড়ে কাটায় যামিনী ।
বাগে পেলে এ উহারে
জবর কষে ঠোকর মারে ।

এক নামিনীর দন্ত-নখর
তীক্ন বেশি অষ্ট প্রহর,
অন্যটার বাসি গু
ঘেটে ছড়ায় অখুশবু ।

দোহাররা তার কোরাস ধরে
হোক্কা হুয়া হুয়া করে ,
ষোল কোটি ভয়ে ডরে
কুত্তার লাহান লেজ নাড়ে ।

অন্যটা একটু কম বাক,
রাখেও কিছু রাখ ঢাক ।
'ডঃ' এর শিং নাইযে
সমান তালে গুতাবে ।

দুইজনেরই উনারা নাই,
খোকা-খুকুরাও বিদেশ থায় ।
দুই নাইয়ার আছে শুধু
জিদাজিদির জিদটাই !

কোথায়

প্রিয় মীর,

কোথায় আপনে ? হন্য হয়ে প্রতিদিন খুঁজি । প্লিজ মীর ! এ বি'র দোহাই লাগে ! এ বি লিভ করবেননা ! হৃদয় দিয়ে আপনার অনুপস্থিতি অনুধাবন করছি !

আমি জানি আমার কোন মন্তব্য আপনার বিরক্তির উদ্রেক করেছে । আমি এও বিশ্বাস করি ভিন্ন মতের প্রতি সহমত না হলেও মীর যথেষ্ট সহণশীল । কিন্তু আমি বুঝতে পাইনা মীর কেন দীর্ঘদিন প্রিয় ব্লগ ছেড়ে !

ব্লগার ভাইদের আটকে আমরা সবাই আহত । এ ক্ষেত্রে জাগরণ মন্চের ভুমিকাও আশাপ্রদ নয় । সাভারের ভবন ধ্বসে মানুষ হত্যা, জামাত-শিবির-হেফাজতের তান্ডব, পুলিশি অ্যাকশন, মানুষের প্রাণহানি, সবতাতে রাজনীতিকদের নাক গলানো এবং রাজনীতির রং ছড়িয়ে সুবিদা হাতানোর মরিয়া চেষ্টা ইত্যাকার নানা কারণে মানুষ দারুণ হতাশ । আর ঠিক এসময়ে মীরের মতো উদ্দীপ্ত তারুণ্য যদি পিছিয়ে পড়তে চায় সেটা হবে সবার ব্যর্থতা । আমি আশা করি আমরা সেটা হতে দেবোনা । মীর, এজ আই হোপ, অবশ্যই ফিরে আসবেন, লিখবেন...লিখবেন... এবং লিখবেন !

ফুল, মৌমাছি, মানুষ আর মাকড়সা

ফুল সৃষ্টিকর্তার অপরূপ দান । মানুষ এর সৌ্ন্দর্য উপভোগ করে, সুবাস নেয় । মৌ্মাছি মধু আহরণ করে ফুল থেকে আর মাকড়সা তূলে নেয় বিষ । যার যেমন অভিরুচি !

ব্লগার অনিমেষ রহমানের জিন্নাহ বিষয়ক জোকস্ [ অনিমেষ রহমানের বেহস্তী বয়ান - ২ ] এর উপর আমার মন্তব্যের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করে ব্লগার ‘বিষাক্ত মানুষ’ ল্যাঞ্জা আবিষ্কার করেছেন । এ মহা আবিষ্কারের জন্য তিনি অনেক অনেক ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকারী । আমার পক্ষ থেকে আমি জানিয়েছিও । তবে ১৮/০৬/১২ থেকে ২৫/০৬/১২ পর্যন্ত বাইরে থাকায় যথা সময়ে জানাতে পারিনি । ইতিমধ্যে পোষ্টটি অনেক পেছনে চলে গেছে বিধায় সংলিষ্টদের নজরে না পড়ার সম্ভাবনা । তাই এ ক্ষীণ প্রয়াস ।

নরকত যাই খা !

অউ হাছিনা, অউ খালেদা, তোরা অ-বইন যা,
কারে মারি ক’নে খাবি ? নরকত যাই খা ।
তোরার জ্বালায় দেশর মানুষ থাইত নপারের,
কইত নপারের, সইত পারের ধাইতঅ নপারের ।

হিতিরে দিলে (ভোট) তুই মারছ, তোরে দিলে হিতি,
দেশর মানুষ ক্যান গড়িবো, হইব কন গতি !
এই স্বাধীনর কি দাম অবইন ইক্কিনি ভাবি চা—
কারে মারি কনে খাবি ? দোজকত যাই খা ।

ছাব্বিশ বছর ধরি তোরা ক’বার ভোট নিলি ?
বিনিময়ে দেশের মাইনসেরে কি যন্ত্রণাটা দিলি ?
বাপ মারিলি, ভাই মারিলি, বইনর নিলি গা,
আর কি বাকি খাইবার আছে রৌ্রবত যাই খা !

তালাক

জাহান্নামে যাও তোমরা যত রাজনীতিবাজ,
তোমাদের দিলাম তালাক তালাক তালাক ।
দূর হও থাকে যদি কণা মাত্র লাজ,
দেশ-জনতা-গণতন্ত্র এবার মুক্তি পাক ।

হাজার বছর মানুষের রক্ত চুষেছ,
যা কিছু মহৎ সকলই নেশেছ ।
বিনিময়ে হনন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস দিয়েছ,
এ দেশের জলবায়ু বিষে বিষায়েছ ।

তোমাদের অশুভ ইংগিতে আজ,
ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে তরুণ সমাজ ।
কলম কেড়ে নিয়ে নিয়ে দিয়েছ বন্দুক,
থুক ! তোমাদের মুখে দিই শতবার থুক ।

সাহিত্যিক, সাংবাদিক যত বুদ্ধিবাজ,
বাংলার মানুষের ঘৃ্না লহ আজ ।
তল্পিবহন, পদলেহন অনেক করেছ,
মহৎ সকল পেশায় কলংক লেপেছ ।

শিক্ষক-ছাত্র, যত আমলা পুলিশ,
এঁকেছ জাতির ভালে কলংকের টিপ ।
ধর্ষণে-মর্ষণে চিতায়েছ বুক,
তোমাদের শিরে খোদার কহর নামুক ।

তালা্‌ক তালা্ক‌, তোমাদের দিলাম তালাক,
এ দেশ-জনতা-গণতন্ত্র এবার মুক্তি পাক ।

কাহার তুমি বাংলাদেশ ?

-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ !
কাহার তুমি বাংলাদেশ ?
-সুন্দরের, শ্যামলের ?
শুভ্রতার, সুস্মিতার ?
সমতার, সততার ?
সুমতির, সুনীতির ?
সংহতির, সম্প্রীতির ?
ন্যায়ের, নিয়মের ?
কাহার তুমি বাংলাদেশ ?

-বাংলাদেশ কুৎসিতের ।
বাংলাদেশ কুবৃত্তের ।
সন্ত্রাসের, সংহারের ।
সংঘাতের, সংঘর্ষের,
ধর্ণেষর, মর্ষণের,
দূর্জনের, দূর্মদের,
-বাংলাদেশ বজ্জাতের,
বাংলাদেশ কমজাতের,
হার্মাদের, হারামজাদের,
হারামখোর, ঘুষখোরের,
অন্যায়ের, ঔদ্ধ্যতের,
বাচালের, প্যাঁচালের,
বাংলদেশ উস্কানীর,
বাংলদেশ চুল্কানির,
বংলা আজ এসবের !

-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ !
-কাহার তুমি ! বাংলাদেশ ?
গৌ্রবের ? বংলাদেশ ?
সৌ্রভের বংলাদেশ ?
ভ্রাতৃ্ত্বের, মাতৃত্বের ?
সুশীলের ! শালীনের ?
ধানের দেশ বাংলাদেশ ?
গানের দেশ বাংলাদেশ ?
সমৃদ্ধির, উন্নতির ?
ধান সিঁড়ির, জল সিঁড়ির ?
জলাঙ্গীর ! জল পরীর ?
কাহার তুমি বাংলাদেশ ?

কবিতা '৭২~ '১২

কবিতা ’৭২ ~ ’১২

সবুরে মেওয়া ফলে জানেন তো !
সুতরাং সবুর করুন !
নাহয় পেঠে জ্বলুক আগুন
তিনটে বছর -----
তারপরতো সবই পাবেন,
কোর্মা খাবেন, কোপ্তা খাবে্ন ----
তিনটে বছর---
নাহয় একটু কমই খেলেন,
কি এমন এসে যায় !

আপনারা বড্ড বেশি চেঁচামেচি করেন ।
জিনিষ পাতির দাম বেড়েছে ?
আরে ---- এতে চেঁচাবার কি আছে ?
বিশ্বজুড়ে দাম বেড়েছে
দু’দশ গুণ সব কিছুরই,
এথায় নাহয় পাঁচশ গুণই,-----
এ নিয়ে নাহক হৈচৈ নাইবা করলেন !

আপনাদের মোটেই শোকর ছবর নাই,
কেবলই খাই খাই নাই নাই !
আরে ---- কিছুই কি পান নাই ?
সব কিছুর স্বাধীনতা যে পেয়েছেন,
এই যে নকল দখল খুন ধর্ষণ
ফ্রিলি করতে পারছেন,
এ সবও দেখছি ভুলে আছেন ।
আর স্মরণ করুন
পাকিদের হাতে মরতে ছিলে
কি বাঁচাই না বেঁচে গেছিলেন !
এর জন্য অন্ততঃ শোকর দেন !

আপনারা, মহিলারা বড্ড বেশি লাজুক,
টি সি বি’র শাড়ী পরেছেন ?

ডার্টি পিপল

ডার্টি পিপল

- গত ২৬শে কিছু লেখা হয়নি । ২৬, ১৬; স্বাধীনতা, বিজয় এসব এখন আর তেমন নাড়া দেয়না ! রক্তে খলবল ঝড় তোলেনা ! ’৭১ এ ছিলাম তারুণ্য ছুঁই ছুঁই দুরন্ত কিশোর ! শিরায় ছিল আগুনের ফুলকি ! শত্রু চিহ্নিত ছিল, লক্ষ্য ছিল স্থির ! দ্বিধা, সংশয় ছিলনা । থাকার কথাও ছিলনা । তখন বিদেশীরা লুঠচ্ছিল মা-বোনের ইজ্জ্বত, খুন বহাচ্ছিল বাপ ভাইয়ের । মা-মাটি-মাতৃভুমি ধর্ষিতা হচ্ছিল । আগুন লেগেছিল রক্তে – আমার, আমার মতো লাখো কিশোর, তরুণ, যুবকের । কোটি প্রাণ এক হয়েছিল সেদিন । ’৭১ সবাইকে এক করেছিল । সে মিলিত একতার কাছে নত হয়েছিল দানবের শির ।
- আজ ৪০ বছর পর কারা মা-বোনের ইজ্জ্বত চাখে ? বাপ-ভাইয়ের খুন ঝড়ায় ? এরা কি বিদেশী কেউ ?

- সে দিন একজন ডাক দিয়েছিলেন, বিদ্রোহের অনল জ্বেলেছিলেন একজন । জেগে উঠেছিল জাতি । সে মহাজাগরণের তোড়ে খড় কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল শত্রু ।

"তারা এদেশের সবুজ ধানের শীষে"

- কলেজে আমাকে নিয়ে একচোট হাসাহাসি হয়ে গেল । গাঁয়ের ছেলে আমি, লুঙি পড়েই স্কুলে যেতাম । গাঁয়ে পেন্টের চল হয়নি তখনো--আমার ছিলও না । সবার উৎসাহে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়েছি । ওখানে লুঙ্গি চলবেনা । সমস্যা হয়ে গেল ! তো অগতির গতি বড়বু’কে খবর দে’য়া হলো । দূলা ভাই জাহাজী । বাড়ী আসার সময় অনেক জামা-কাপড় নিয়ে আসতেন । ফিরে যাবার সময় ওগুলো আর নিয়ে যেতেন না, সিন্দুকে তোলা থাকতো । বুবু ওখান থেকে দু’জোড়া শার্ট-পেন্ট ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “ নে -- লম্বায়তো মা’শাল্লা তাল গাছ হয়ে গেছিস, কোমরে ঢিলে হতে পারে –বেল্ট কষে নিস’ । ‘কই পামুনে বেল্ট’! আমি নাকি স্বরে বললাম । বুবু একটু ভাবলেন, তারপর বললেন, ‘ ঈদের পা’জামা তোলা আছেনা তোর ? ওটার নেড় [ফিতা] বের করে নে । তার পর পরে দেখা, কেমুন লাগে দেখি’ ! অগত্যা কি আর করা!

শাশ্বত ছাব্বিশ

-‘মুক্তি’ আর ‘স্বাধীন’ ! প্রজন্ম ,৭১ আর প্রজন্ম ’৭৫ ! কাকতালীয়ভাবে দু’জনই মাতৃ-পিতৃ হারা ! আমার মায়ের কোলেই মানুষ, আমার মাকেই মা ডাকে !

একুশ এলে

একুশ এলে গর্জে উঠি হটাত্‍ জাগা সিংহের মত ,
তারপর যে ডুবকি মারি গভীর জলের মত্স্য যত ।
বেড়ার ধারে শেয়াল ডাকে
শ্রী প্রহরী নাকটি ঢাকে
বাচ্চা মেরে পালিয়ে গেলে ঘেউ ঘেউ করি অবিরত ।
ছাল ছড়া লোম পড়া নেড়ি কুত্তা যত ।

ফাগুন এলে আগুন জ্ব্লে কলজে জুড়ে ,
আনত শির হটাত্‍ করে উঠতে চায় আকাশ ফুঁড়ে ।
কাকেরা সব ময়ুর সাজে
পূচ্ছে ময়ুরপালক গুঁজে
তুচ্ছ করে দু'দিন পড়ে ছুঁড়ে সে সব আস্তাকুঁড়ে ,
বীর শহীদদের আত্মারা সব দূর নীলিমায় গুমরে মরে ।

আমরা মানুষ আছি ?

আমরা মানুষ আছি ? সন্দেহ হয় ,
যে সমাজে প্রতিদিন মনিষ্য খুন হয়,
ধর্ষণের হননের নিত্য যেথা জয়,
সে সমাজ মানুষের ? কি করে যে হয় !

বিবর্তনের উল্টো রথে কি জানি কবে,
অমানুষ হয়ে গেছি বাঙ্গালী সবে ।
সন্ত্রাসের সংহারের নিত্য করি চাষ,
মানুষ আমরা ? নাকি দানব পিচাশ !

বোনের ইজ্জ্বত লুঠি, ভাই করি খুন,
কষে -------মেরে দিই যার খাই নুন ।
নির্দ্বিধায় মিথ্যা বলি, স্বার্থে হলে হানি,
জনকের জান নিতেও সংকোচ না মানি

ভালবাসি

আমি ভালবাসি সখি একটি কুসুম,
প্রস্ফুটিত যা আমার হৃদয় কাননে,
আমি আঁকি নিয়ত তার পাপড়িতে চুম ।
ভালবাসি আমি তোর হৃদয় কুসুম !

আমি ভালবাসি সখি দু’টি চোখ কালো,
ডাগর সায়রে যার ডুব দিয়ে সই,
থই নাহি পাই কভু, না পাই দিশালো,
আমি ভালবাসি তোর চোখ জোড়া কালো ।

আমি ভালবাসি তোর অধর পলাশ,
লাল গোলাপের চেয়েও আরো লালিমায়,
ছোঁয়ায় রাঙ্গায় মোর মনের আকাশ,
আমি ভালবাসি তোর অধর পলাশ !

ভালবাসি ! ভালবাসি ! ভালবাসি !

২১ এর প্রার্থনা

ঈশ্বর আমরা ষোল কোটি বাঙ্গালী,
হাতে গোনা ক’জন বেজন্মা বাদে---সবাই
নতজানু তোমার দরবারে,------ কায়মনোবাক্যে
প্রার্থনা করি প্রভু !
তুমি আমাদের প্রার্থনা শোন !

এই দেশ, এই মাটি আর এই ফসলের মাঠ,
এদেশের আলো-বাতাস-জল আর সবুজ বনানী,
মেঘ-বৃষ্টি-রোদ আর ফুল-পাখি-গান,
সর্বোপরি এ দেশের মানুষ আর এই মৃত্তিকার সন্তান,
এসব তুমি রক্ষা করো প্রভু !
রাজনীতি নামের দুর্নীতির ক্রুঢ়তা থেকে,
রাজনীতিক নামের কীটদের হিংস্রতা থেকে,
ওদের বিষাক্ত নিঃশ্বাস থেকে ,
অহেতুক জেদাজেদির সর্বনাশ থেকে,
হরতাল আর গণতন্ত্রের গণযন্ত্রনা থেকে !

ঈশ্বর আমরা চাইনা, কেউই চায়না ---
আমাদের সন্তান মস্তান হোক !
চাইনা ঝাপ্টাবাজ বা চাঁদাবাজ হোক !
খুনি, ধর্ষক কিংবা নেশাখোর হোক !
অথচ ওরা ওই কথিত জন দরদীরা
নিজেদের সন্তান বিদেশে সড়িয়ে রেখে,

নওতো ছবি

শিল্পীর তুলি আঁকা নওতো ছবি,
শাশ্বত মৃত্তিকায় গড়া মানবী অয়ি !
তবুওকি চিরকাল র’বে ছবি হয়ে—
আমার জীবনে হে পাষাণ হৃদয়ী !

মোনালিসা নওতো গো ক্যানভাসে গড়া,
স্বরগের অস্পরী নও চাঁদ তারা !
কেন তবে মোনালিসা চাঁদিনীর মতো
হাসি দাও আলো দাও, দাওনা ধরা !

যদিও কবিতা তনু, কবিতাতো নও,
ফুল ওতো নও যে শুধু মূক হয়ে রও!
কেন তবে কবিতা বা কুসুমের মতো,
অনুভবে নাহি আসো সুবাস ছড়াও !