আন্তন চেখভের ছোটগল্পঃ একটি অপবাদ
একটি অপবাদ
মূলঃ A Slander by Anton Chekhov
সাহিত্যের শিক্ষক সের্গেই কাপিতোনিচ আহিনেভের মেয়ের বিয়ে, ইতিহাস এবং ভূগোলের শিক্ষকের সাথে। সুচারু আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান খুব চমৎকারভাবে এগোচ্ছে। বসার ঘরটাকে হলরুম বানিয়ে চলছে নাচ, গান, অভিনয় ইত্যাদি। কালো কোটের সাথে ময়লাটে সাদা টাই পরা খানসামারা ত্রস্ত পায়ে এ ঘর থেকে সে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের আনা হয়েছে স্থানীয় একটা ক্লাব থেকে। চারদিকে হৈ হল্লা করে আমন্ত্রিত অতিথিরা আলাপচারিতায় মগ্ন। সোফায় পাশাপাশি বসে অংকের শিক্ষক, ফরাসি শিক্ষক, উঠতি আয়কর কর্মকর্তা তুমুল তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত, কথার মাঝে একে অন্যকে থামিয়ে দিতেও দ্বিধা করছে না। তারা আলাপ করছিলেন মানুষকে জীবিত কবর দেয়ার কিছু অদ্ভুত ঘটনা আর আধ্যাত্মিকতা নিয়ে। আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস কারুরই নেই, কিন্তু তারা সবাই এই বিষয়ে একমত যে মানুষের জানা-বোঝার অতীত অনেক কিছু বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে রয়েছে। পাশের ঘরে সাহিত্যের শিক্ষক অতিথিদের কাছে ব্যাখ্যা করছিলেন ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশ পথচারীদের উপরে গুলি চালাতে পারে। আলাপের বিষয়গুলো, আপনারা যেমনটি ভাবছেন—বেশ বিপজ্জনক আবার একই সাথে উপভোগ্য। অধীনস্ত লোকজন, যাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই, উঠান হতে জানালা দিয়ে বাড়ির ভেতরের দিকে দেখছে।
ঠিক মধ্যরাতে গৃহকর্তা গেলেন রান্নাঘরে, রাতের খাবারের আয়োজন সব ঠিকমতো আছে কি না তার তদারকি করতে। রান্নাঘরের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত পুরোটাই রাজহাঁস, পাতিহাস, এবং আরও অনেক পদের খাবারের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে। দু’টো টেবিলের ওপরে ছুরি-কাঁটা-গ্লাস, পানীয়, হালকা খাবার ইত্যাদি দারুণভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রাঁধুনি মারফা, লালমুখো মেয়ে, যার শরীরের দিকে তাকালে মনে হবে যেন একটা বিরাট পিপার গায়ে কেউ বেল্ট চড়িয়ে রেখেছে, ব্যস্তসমস্তভাবে টেবিলের চারপাশে ঘোরাফেরা করছে।
-‘স্টাজান মাছটা আমাকে দেখাও তো মারফা’—হাত কচলে, সশব্দে ঠোঁট চেটে আহিনেভ বলে। ‘আহ্ কী ঘ্রাণ! আমার ইচ্ছা করছে পুরো রান্নাঘরটাই খেয়ে ফেলতে।’
মারফা চটজলদি একপাশে বেঞ্চের উপরে রাখা তেলে ভিজে চুপচুপা খবরের কাগজের মোড়ক খুব সাবধানে খোলে। খবরের কাগজের নিচের বড় পাত্রে রাখা আজকের রাতের প্রধাণ আকর্ষণ। বিরাট একটা স্টাজান মাছ, থিকথিকে জেলিতে মাখা, গাজর, জলপাই আর চাটনিতে সাজানো। সে দিকে তাকিয়ে আহিনেভের দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। আনন্দে চেহারা উজ্জ্বল হয়ে তার চোখ কপালে ওঠে। লোভাতুর চোখে নিচু হয়ে সে ঠোঁট দিয়ে চকাস চকাস শব্দ করে ফেলেন গোটা কয়েক। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দু’হাতের আঙ্গুল ফুটিয়ে মাছটির দিকে সশব্দে কয়েকটা চুমু ছুঁড়ে দেন।
-‘আহ্ কী পিরিতরে! কার লগে চুমাচুমি লাগাইছস মারফা?’—পাশের ঘর থেকে একটা কন্ঠ ভেসে আসে। দরজার এসে দাঁড়ায় অ্যাসিস্টেন্ট বাবুর্চি ভানকিন।
-‘ কে রে? ওহ্ স্যার আপনে? খুব খুশি হইলাম আপনার দেখা পাইয়া। আপনে খুব রসিক এক বুড়া, এইটা আমার মানতেই হইব’—ভানিকিন আহিনেভকে দেখে বলে।
-‘ কই আমি তো কাউকে চুমু খাচ্ছিলাম না। এসব বাজে কথা কে বলেছে?’—আহিনেভ সসংকোচে বলে ওঠেন। ‘আমি তো কেবল মাছটা দেখে খুশি হয়ে ঠোঁট দিয়ে চুমুর আওয়াজ করেছি, হয় তো একটু জোরেই হয়ে গেছে শব্দটা।’
-‘হ, আপনে কইলেন আর আমি মানলাম। এই সব কিচ্ছা অন্য কাউরে গিয়া কন।’—দাঁত বের করে ভানকিন জোরগলায় বলে।
আহিনেভের চেহারা লাল হয়ে ওঠে।
‘ধুত্তোরি। হারামিটা এখন বাইরে গিয়ে সবার কাছে এই বানোয়াট কাহিনি বলে বেড়াবে। আমার মান-সম্মানের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে, অমানুষ কোথাকার’—আহিনেভের মনে দুশ্চিন্তা ভর করে।
ভয়ে ভয়ে বড় হলঘরটাতে ফিরে এসে সাবধানে ভানকিনের গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করেন আহিনেভ। ভানকিন পিয়ানোর পাশে দাঁড়ানো, একটু ঝুঁকে সে ইন্সপেক্টর সাহেবের শালীর কানে কানে কী যেন বলছে। মেয়েটা ভানকিনের কথা শুনে হেসে কুটিকুটি।
-‘আমার কথা বলছে, নিশ্চয়ই আমার নামে কুৎসা রটাচ্ছে, গোল্লায় যাক হারামজাদা। মেয়েটাও মনে হয় ওর কথা বিশ্বাস করছে! হাসছে কেমন বোকার মতো! হায় হায় খোদা, আমার মান-সম্মান সব ধুলায় মিশে গেল। নাহ্ এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না, এই অপবাদ লোকে বিশ্বাস করার আগেই আমার কিছু করা উচিত । আমি সবাইকে আগেই জানিয়ে রাখবো, যাতে হারামিটার কথায় কেউ কান না দেয়’—চিন্তাক্লিষ্ট আহিনেভের মাথায় ঝড় বয়ে যায়।
আহিনেভ অস্থির ভঙ্গিতে মাথা চুলকান, তারপর অধোবদনে এগিয়ে যান ফরাসি শিক্ষকের দিকে।
‘বুঝলেন আমি একটু আগে খাবার-দাবারের তদারকি করতে রান্নাঘরে গিয়েছিলাম। আমি জানি আপনি মাছ খুব পছন্দ করেন। বিরাট একটা স্টাজান মাছ সবার উদরপূর্তি করতে সেজেগুজে বসে আছে, প্রায় সাড়ে তিন হাত লম্বা। হা হা হা। ওহ্ ভালো কথা, রান্না ঘরে মাছ দেখতে গিয়ে একটা ব্যাপার ঘটেছে। মাছটা দেখে আমার মুখে পানি চলে এসেছিলো, মনের ভুলে একটা চুমুর শব্দ করে ফেলেছি। এমন সময় বদমাশ ভানকিন এসে বলে আপনি কাকে চুমু খাচ্ছেন? মারফাকে নাকি? কেমন ফালতু হলে লোকে এমন ভাবতে পারে বলুন দেখি! আর মারফার মতো কুৎসিত দেখতে মেয়েমানুষ আর একটাও নেই, মনে হয় খোদা বেশ কয়েকটা বন্য পশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মিলিয়ে ওকে বানিয়েছেন। ওর দিকে তাকালেই তো আমার ভয় হয়, চুমু খাওয়া তো দূরের কথা। এমন একটা মুর্খ, আজব মানুষ ঐ ভানকিন, আর কথা পেলো না। ’—আহিনেভ ফরাসি শিক্ষককে বলেন।
‘আজব মানুষের কথা মনে হয় শুনলাম’—পেছন থেকে এগিয়ে এসে অংকের শিক্ষক বলেন।
‘আরে ঐ বোকা ভানকিনের কথা বলি। আমি গিয়েছিলাম রান্নাঘরে...’—আহিনেভ পু্রো ঘটনা আবার খুলে বলেন, ‘আমি ওর কথা শুনে হাসতে হাসতে শেষ, ছাগলটার মাথায় এক ছটাক ঘিলুও নেই। আমি প্রয়োজনে একটা কুকুরের মুখে চুমু খাব, কিন্তু মারফা? কোনো অবস্থাতেই না।’
কথা শেষে আহিনেভ দেখলেন তার পেছনে আয়কর কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে।
‘আমরা ভানকিনের কথা আলাপ করছিলাম। ও রান্নাঘরে আমাকে মারফার পেছনে দেখে দুনিয়ার সব আজগুবি কাহিনি বানাতে শুরু করেছে। আজব মানুষ—ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের কথা ভাবে শুধু। আমাকে বলে—আপনেরা চুমোচুমি করছেন কেন? হারামিটা বোধহয় মাতাল হয়ে সপ্তম আকাশে পৌঁছে গেছে। আমি বললাম প্রয়োজমে আমি একটা বনমোরগকে চুমু খাব, কিন্তু তবুও মারফাকে না। আমার বউ-বাচ্চা আছে ব্যাটা হনুমান। তবে খুব মজা পেয়েছি এসব আলতুফালতু কথা শুনে।’—আহিনেভ হড়বড় করে বলে যান।
-‘কার কথা শুনে মজা পেলেন?’—আড়াল থেকে পাদ্রী সাহেব বেরিয়ে এসে জানতে চান।
‘ভানকিন। আমি গিয়েছিলাম রান্নাঘরে স্টাজান মাছটা দেখতে...’
এভাবে পরের আধাঘন্টায় প্রায় সব অতিথিই জেনে গেলেন ভানকিনের সাথে মাস্টার সাহেবের কী ঘটেছে রান্নাঘরে।
‘যা এবার, যাকে খুশি গিয়ে বল তোর অদ্ভুতুড়ে কাহিনি। বলতে গেলেই ধমক খাবি—ফালতু কথা বলবি না ভানকিন, আমরা আগে থেকেই এই ঘটনার সব জানি।’—আনন্দে হাত কচলে আহিনেভ মনে মনে বলেন।
আহিনেভ এতটাই নিশ্চিন্ত বোধ করছিলেন যে সে মনের আনন্দে চার গ্লাস মদ বেশি খেয়ে ফেলেন। খাবার পালা শেষ হলে অতিথিদের যার যার শোয়ার জায়গা দেখিয়ে দিয়ে সে নিজেও ঘুমাতে যান। সারারাত মোষের মতো ঘুমিয়ে সকালে উঠে ভাবেন গতরাতের ঘটনাটি বোধহয় ওখানেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বিধিবাম! মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। একটা বিষাক্ত জিহবা এর মধ্যেই ঘটনাটি ছড়িয়ে দিয়েছে সবখানে, আহিনেভের অতি চালাকি কোনো কাজেই আসলো না। মাত্র এক সপ্তাহ পরেই, সঠিকভাবে বলতে গেলে, বুধবারে তৃতীয় ঘন্টার পরে—আহিনেভ যখন শিক্ষকদের রুমের মাঝে ভিয়েসকিন নামের এক মারাত্মক বেয়াদব ছাত্রকে শায়েস্তা করতে ব্যস্ত , হেড মাস্টার সাহেব গিয়ে তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসলেন।
‘শোনেন সের্গেই কাপিতোনিচ, মাফ করবেন, এটা আসলে আমার নাক গলানোর কোনো বিষয় না। তবে আশা করি আপনি বুঝবেন, এটা আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। লোকজন বলাবলি করছে আপনি নাকি রাঁধুনি মেয়েটার সাথে গোপনে প্রেম করছেন। এতে আমার কিছু যায় আসে না, কিন্তু ঢলাঢলি, জড়াজড়ি, চুমোচুমি করা—একটু বুঝে শুনে করবেন দয়া করে, অন্তত মানুষের চোখে যাতে না পড়ে। আমি আপনাকে দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করি, ভুলে যাবেন না যে আপনি একজন স্কুল মাস্টার।’
আহিনেভের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার অবস্থা হয়। স্কুল থেকে বেরিয়ে এসে হাজার হাজার মৌমাছির দংশনে ক্ষতবিক্ষত, ফুটন্ত পানিতে দগ্ধ আধমরা মানুষের মতো বাড়ির দিকে যাত্রা করেন। যাবার পথে তিনি শিউরে উঠতে থাকেন এই ভেবে যে হয়তো গোটা শহর তাকিয়ে আছে তার দিকে, চুন-কালি-আলকাতরা লেপে দিয়েছে সবাই মিলে তার সমস্ত শরীরে।
-‘কী ব্যাপার আজ দেখি গপগপ করে কিছু গিলছেন না।’— বউ রাতে খাবারের টেবিলে তাকে জিজ্ঞেস করে। ‘ভাবছেন কী এত মন দিয়ে? প্রেয়সীর কথা মনে পড়েছে? মারফার জন্য মন কাঁদে? আমি সব জানি দুশ্চরিত্র বুড়ো! পাড়ার লোকে আমার চোখ খুলে দিয়েছে, ওওওহ্...নির্লজ্জ পশু কোথাকার!’
বউ সপাটে চড় মারে আহিনেভের গালে। চড় খেয়ে তিনি টেবিল ছেড়ে উঠে পড়েন, হঠাৎ করেই যেন পায়ের নিচের মাটি উধাও হয়ে গেছে। মাথার টুপি বা পরনের কোট ছাড়াই রাস্তায় নামেন, ভানকিনকে গিয়ে ধরতে হবে। সে বাসাতেই ছিল।
-‘ এই ব্যাটা বদমাশ’— রেগে টং আহিনেভ ভানকিনকে ধমক দিয়ে ডাকেন, ‘তুই সারা শহরের মানুষের সামনে আমাকে এভাবে হেনস্থা কেন করলি? এমন একটা অপবাদ আমার নামে কীভাবে ছড়ালি? কী ক্ষতি করেছিলাম আমি তোর?’
-‘কী বলেন এইসব? কীসের অপবাদ?’
-‘মারফারে নিয়ে আমার নামে আজেবাজে,চু্মোচুমির কথা সবাইরে কে বলেছে? তুই বলিস নি? সত্যি করে বল, তুই বলিস নি নিমকহারাম কোথাকার?’
ভানকিন চোখ পিটপিট করে আকিয়ে চেহারায় রাজ্যের সব বিরক্তি নিয়ে এসে স্পষ্ট স্বরে বলে,’ খোদার কসম আমি কাউকে কিছু বলি নাই। আমার চোখ দুইটা যেন অন্ধ হয়ে যায়, খাড়ার উপরে আমার লাশ পড়ে, যদি আমি আপনার বদনাম কাউকে বইলা থাকি। আমার ঘরে আগুন লাগবো, রক্তবমি হয়ে মারা যাব—আমার মুখ থেকে যদি একটা শব্দও বের হয়ে থাকে।’
ভানকিনের কথায় আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। নিশ্চিতভাবেই এই অপবাদ সে ছড়ায়নি—আহিনেভ বুঝে নেন।
-‘কে করলো এই কাজ তাহলে? কে?’—আহিনেভ অবাক হয়ে ভাবতে থাকেন, মনে মনে তার আর সব বন্ধু-বান্ধবের কথা স্মরণ করেও কুল-কিনারা করতে না পেরে নিজের বুকে নিজেই থাবড়া লাগিয়ে স্বগতোক্তি করেন, ‘কে? কে তাহলে?’





সরাসরি প্রিয়তে। কুনো আলাপের সুযোগ নাই। অনুবাদ দিন দিন ভালো হচ্ছে।
ধন্যবাদ মীর ভাই। এটা একটা পরীক্ষামূলক অনুবাদ, দেখি বাকীরা কী বলেন
হা হা হা! চেখভের গল্পের মজাই আলাদা। আপনার অনুবাদও ভালো হয়েছে।
হ, এইটা চেখভের একটা ভিন্নধর্মী গল্প। পড়ে ভালো লাগায় আর অনুবাদের লোভ সামলাইতে পারলাম না।
একটা প্রস্তাব রাখি- আপনারা যারা ইংরেজি ভালো জানেন, তারা বাংলা ভাষার লেখকদের লেখাগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করুন। বাংলা সাহিত্য যে কতোটা শক্তিশালী, সেটা দেখিয়ে না দিলে কেউ নিজ উদ্যোগে দেখতে আসবে না।
গৌতমজি,
বাংলা তো আমাদের হৃদয়ে, মনে, আত্মায়--তাই ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর যতটা সহজ, বাংলা থেকে ইংরেজি করা ততটাই কঠিন। আমি আমার নিজের গল্পগুলোকে ইংরেজি করতে গিয়ে দেখেছি, দশগুণ বেশি সময় লেগে যায়। তবে যা করা যায় সেটা হলো, বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচয় করে দেবার উদ্দেশ্যে সিরিয়াসলি একটা অনুবাদ প্যানেল বানানো, যোগ্য লোকের সমন্বয়ে। যেখানে কাজ ভাগ ভাগ করে নিয়ে একে অপরকে সাহায্য করবেন। এতেও অনেক সময় লাগবে, তবে ব্যক্তি উদ্যোগের চাইতে ভালো কাজ হবে।
এ বিষয়ে আপনার মতামত শোনার অপেক্ষায় থাকলাম।
গৌতমজি ডাকটা অম্ল না মধুর বুঝতে পারলাম না।
যা হোক, আমার মত হলো- বাংলা থেকে ইংরেজি করা কঠিন হলেও নিশ্চয়ই তা অসম্ভব নয়। আপনারা যারা ইংরেজি ভাষাটা তুলনামূলকভাবে ভালো পারেন, এ কাজে আপনাদেরই এগিয়ে আসা দরকার। অন্তত কয়েকটি কাজ করে যদি উদাহরণ সৃষ্টি করেন, তাহলে সেটা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো অনেকে এ কাজ করতে আগ্রহী হবেন বলে আমি মনে করি। আর যদি আপনার কাজ তেমন ভালো না হয়, তাহলে রেগেমেগে অন্য কেউ হয়তো একদিন এই একই অনুবাদ নিয়ে বসবেন এবং আপনার অনুবাদের চেয়ে উৎকৃষ্ট আরেকটা কিছু সেই রাগের ফলে সৃষ্টি করে ফেলবেন- সেটাই বা কম কি!
অনুবাদ প্যানেল বানানোর চিন্তাটা ভালো। কিন্তু (কিছু মনে করবেন না, আমিও বাঙালি, কিন্তু একটু ক্ষোভ নিয়েই বলি) বাঙালি খুব কম কাজই যৌথ উদ্যোগে করতে পারে। সেক্ষেত্রে অনুবাদ প্যানেল বানানোর কাজটা একদিকে চলতে পারে, আরেকদিকে আপনি আপনার নিজ উদ্যোগে কিছু কাজ করতে পারেন।
আর এক্ষেত্রে আপনারা লেখালেখি করার সময় যদি চা-টা বানিয়ে দিতে হয়, কিংবা কলম ফুরিয়ে গেলে মুদি দোকান থেকে এক ডজন কলম কিনে আনতে হয়, কিংবা হারামজাদা মশা তাড়ানোর জন্য দুএকটা কয়েল ধরানোর কাজে যদি আমাকে যুক্ত করে নেন, অধম তাতেই বিশ্বসাহিত্যের দরবারে সচকিত হবে এই বলে- "মনে রেখো, আমিও করেছিলাম ওই তিনখানি কাজ!"
গৌতমজি,
সম্বোধনটা অম্ল-মধুর কোনোটাই না, সম্মানসূচক
আপনার কথাগুলো মাথায় থাকলো, সাহস করে শুরু করে দেব একদিন। তবে গুড নিউজ ইজ, অনুবাদ প্যানালের বিষয়ে জোরদার আলোচনা চলছে যোগ্যতাসম্পন্ন এবং সৃজনশীল কিছু মানুষের সাথে। সময়ে সব জানতে পারবেন।
আর চা-পানি বানানোর যেই দায়িত্বটা চাইছেন, সেখানে কর্মখালি নাই নোটিশ ঝোলানো হয়ে গেছে, কারণ কাজটা হয় তো এই শর্মাকে নিজেই করতে হবে। আপনি থাকবেন লেখক গবেষক চিন্তাবিদ পরামর্শক এবং মুরুব্বী হিসাবে
শেষমেষ মুরুব্বী বানায়া ছাড়লেন!
বাপকে খোটা দেয়া কিন্তু এষা-আয়লা সহ্য করবে না।
গল্পটা ভালো লাগলো। চেখভ সবসময়ই দারুণ লাগে।
অনুবাদ ভালো। প্রাঞ্জল। কিন্তু সংলাপের অংশে আমার কিছু দ্বিমত আছে। প্রথমেই একটা শিক্ষক সমাজের চিত্র দেওয়া হয়েছে, তাই সংলাপের এই চলতি ভাষাটা চোখে লেগেছে। আরো একটু শুদ্ধ ভাষায় তারা কথা বলবে এমনটাই আশা করেছিলাম।
নজু কথাটা আমিও ভাবছি। সংলাপগুলো শুদ্ধ ভাষাতেই লিখছিলাম শুরুতে, কিন্তু একটু খাপছাড়া লাগছিল। কথ্য ভাষাটা পরীক্ষামূলক, পাঠকরা ভালো না পেলে আবার শুদ্ধ ভাষায় বদলে দেয়া যাবে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ বন্ধু
নজু ভাইয়ের সাথে একমত
ভোদাই নিজের অপবাদ নিজেই করছে
মামুন ভাই, পড়তে পড়তে আমিও ভেবেছিলাম ভাষার ব্যাপারটা বলবো। নজু ভাই বলে দিলেন। এখানে প্রমিত বাংলা ব্যবহারই ভালো হবে।
গল্পটাতে যেনো কি একটা ম্যাসেজ আছে
আরো এমন সুন্দর গল্প আশা করছি আপনার কাছ থেকে
হ, মেসেজ ছাড়া গল্প লিখে লাভ কী?
তোর অনুবাদ ভালো হয়েছে, সংলাপগুলো বাদে। নজু ভাইয়ের সাথে একমত। এর পর থেকে ঠিকমতো লিখিস।
বন্ধু, সংলাপগুলো পালটে দিয়েছি। এবার পড়ে বলিস কেমন লেগেছে।
ভাস্কর'দা আর মামুন ভাইর অনুবাদ পড়ার প থেকে আমি নতুন অনুবাদে হাত দেবার সাহস পাচ্ছিনা।
অদিতি,
আমি আপনার অনুবাদ্গুলো সেভাবে পড়িনি, আসলে সিরিজের শুরু থেকে পড়া না থাকলে মন বসানো কঠিন। একটা ছোট গল্পের অনুবাদ করুন সময় পেলে, তারপর আলোচনা করা যাবে নিজেদের মধ্যে। মনখুলে লেখালেখির চর্চা, আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়েই আমাদের কলমের জোর বাড়বে
মামুন ভাই এরকম ঝরঝরে অনুবাদ আমি খুব কমই পড়েছি। দূর্দান্ত অনুবাদ।
লেগে রাহো ভাই।
অনেক ধন্যবাদ শাপলা। লেগেই আছি ভাই
মামুন ভাই, সম্ভব হলে বাংলায় চেখভের একটা রিভিউ জুড়ে দেন গল্পের শেষে।
আর মৌলিক গল্প দেন। সেইদিন না লিখলেন, কবিতা পোস্ট করবেন। করেন না ক্যান?
ভাই চেখভের রিভিউ কি আমার মতো লোকের করা সাজে!
কবিতা পোস্টে করনের মতো সাহস এখনও হয় নাই, তবে মৌলিক গল্পের কাজ এগোচ্ছে। পেয়ে যাবেন কিছুদিনের মধ্যেই
এবিতে খুব ভালো ভালো অনুবাদ হচ্ছে এখন। চালিয়ে যান মামুন ভাই।
অসংখ্য ধন্যবাদ মাসুম ভাই।
চেখভের অনুবাদ করবো গত দেড়যুগ ধরে ভাবতে ভাবতে গেলগা। যাক শেষমেষ একজনকে পেলাম আমার প্রিয় গল্পকারের অনুবাদ নিয়ে এসেছেন। চেখভের গল্প অনুবাদে সবচেয়ে বাধা হলো রসটাকে অনুদিত করা। ওর গল্পের প্রাণ হলো প্রচুর কষ্টের মধ্যেই হাস্যরসের উপাদান। সেজন্য সাহস করিনি, আপনাকে অভিনন্দন জানাই সাহস করার জন্য। চলুক আরো।
ধন্যবাদ নীড়'দা। অনুবাদ কেমন হয়েছে তা তো বললেন না
মন্তব্য করুন