হংকং ইমিগ্রেশন ও সর্ষের তেল বৃত্তান্ত ( শেষ পর্ব)
নুশেরাপার কথাই ঠিক। শিরোনামের আওতার মধ্যে থাকতে গিয়ে অনেক কথাই হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ভাবছি আর দু’টো ঘটনার জাবর কেটে এই পর্বেই এর শিরোনামের দাফন সম্পন্ন করে ফেলবো। নতুন লেখা আসবে সামনে, আরেকটু গুছিয়ে, হয়তো বড় পরিসরে।
সেবার ফিরে আসছিলাম তাইওয়ান থেকে, ২০০২ এর শুরুর দিকে। ওখানে নোঙ্গর ফেলার সফল যোগাড়যন্ত্রের আনন্দে কিছুটা বিহ্বল। দিনের পর দিন, চাঁদের পর চাঁদ বেভুলা , বেতালা ভেসে বেরাবার দিন বোধহয় শেষ হয়ে এল। হংকং এ ফিরে এসেছি সবাইকে বিদায় জানিয়ে যৎসামান্য তল্পি-তল্পা গুছিয়ে নিতে। এমন আনন্দের প্রহরে ইমিগ্রেশন সেরে বেরুতেই আমাকে আটকে দিল মাদক নিয়ন্ত্রণ পুলিশ। শুরুতে অবাক হলেও ভয় পেলাম না। মাদকের ধারে কাছ দিয়েও হাঁটিনি কখনো, ভয়ের কী আছে? এত মানুষের মধ্যে হুট করে আমাকে আটকানোয় ঘাবড়ে না গিয়ে কেন জানি একটু মজা করার লোভ সামলাতে পারলাম না। ভাবলাম আজ সোজা ব্যাটে খেলব—হয় ছক্কা নয় অক্কা। কোনমতেই খোশামুদি টরেটক্কা নয়।
আমাকে নিয়ে গেল ভেতরের এক রুমে। গম্ভীর চেহারার দুই চ্যাংড়া মতোন ব্যাটাছেলে আর এক সুবেশী মহিলা অফিসার সেখানে। আমার লাগেজ আগে থেকেই সেখানে হাজির। ভাবলাম আগুনে ফাস্ট বল ফেস করার আগে একটু শ্যাডো প্র্যাক্টিস করে নেই। কেউ কিছু বলার আগেই আমি বড় বড় চোখে চারদিক দেখে বোকা বোকা চেহারা করে জানতে চাই—“কুকুরগুলোকে বেঁধে রেখেছেন তো?”
-“মানে? হোয়াট ডু ইউ মিন?”-হতভম্ব একজন জানতে চায়।
“মানে টিভিতে দেখেছি নারকোটিকসের লোকজন কুকুর ছাড়া কোন কাজ করতে পারেনা। আমার আবার কুকুরে ভীষণ ভয়।”
-“ আরে না, এখানে কুকুর আসবেনা। এটা একটা রুটিন চেকআপ মাত্র। তবে তোমার লাগেজ আমরা একটু তল্লাশী করে দেখতে চাই। আপত্তি নেই তো?’
“বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। তবে শরীর তল্লাশীর কাজটা ম্যাডামকে দিলে খুশী হব”—লঘু স্বরে বলি।
এবার ঘর থেকে হালকা টেনশনের গুমোট হাওয়াটিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে একসাথে তিনজনই হো হো করে হেসে ফেললো।
এর পরের আধা ঘন্টা আসলেই মজায় কাটলো। তারা সোজা প্রশ্ন করলে আমি ত্যাড়া জবাব দেই, আর ত্যাড়া করলে তরল। একটা উদাহরণ দেই। আমারে নানা পদের মাদকের ছবি এনে দেখিয়ে বলে, “ এগুলোর কোনটা কী চেন?”
আমি বলি, “খুব চিনি। এই ধবধবে সাদামতোন এইটা মনে হয় সুপাই ফাইন সুগার, আর ঐটা ময়দা। দানা দানা এইটা বোধ হয় গুড়ো দুধ, বাতাস লেগে জমে গেছে।”
ওরা হাসবে না কাঁদবে বুঝে পায়না। তবে বুঝতে পারে যে আমি ইচ্ছা করেই ফাজলামো করছি। খানা-তল্লাশীতেও আপত্তিকর কিছু খুঁজে না পেয়ে বাকি সময়টা নিছক গল্প গুজবে কেটে গেল। কোত্থেকে এসেছি, কোথায় যাই, কী করি, বাড়ি কোথায় ইত্যাদি নির্বিষ কথোপকথনে। বুঝলাম এদের আটোসাঁটো , ভাবগম্ভীর ব্যক্তিত্বের আড়ালে আমাদের মতোই সাদাসিধা, গড়পড়তা, আনন্দলিপ্সু মানুষের বসবাস। বিদায় দেয়ার সময় একজন যেচে এসে তার কার্ড বাড়িয়ে দেয়, বলে-“তোমার সাথে গল্প করে খুব ভালো লাগলো, এর পরে কখনো এয়ারপোর্টে কোন ঝামেলায় পড়লে আমাদের জানিও”। যদিও সেই কার্ড আমি পরের দিনই হারিয়ে ফেলি আর তাদের কারওর সাথে এর পর কোনদিন দেখা হয়নি। কিন্তু অজস্র যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার ভীড়ে এই ঘটনাটি একটি চমৎকার ব্যতিক্রম হিসেবে আজও মনে আছে।
এবার আসি সর্ষের তেলের কাহিনীতে। মূলত এই ঘটনাটা বলতে গিয়েই আগডুম বাগডুম কতো কথা বলে ফেললাম।
বছর দুয়েক আগের কথা। দেশ থেকে ফিরছি। দেশ থেকে ফেরার সময়েই প্রতিবারই হাবিজাবি অনেক কিছুই সাথে নিয়ে আসি। বিশেষ করে বই-পুস্তক আর মশলাপাতিতেই এক স্যুটকেস ভর্তি হয়ে যায়। তাইওয়ানে ইদানীং কিছু মশলাপাতি সুপারমার্কেটগুলোতে পাওয়া যায়, আগে কিছুই পাওয়া যেতনা। আর যে জিনিষটা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত একদমই কোথাও পাইনা সেটা হলো সর্ষের তেল, তন্ন তন্ন করেও খুঁজেও না। আর সব ধরনের ভোজ্যতেল হাত বাড়ালেই মেলে। অথচ এই জিনিষটার প্রতি আমার দূর্বলতার ইতিহাস অনেক পুরোনো। পেয়াজ মরিচ চানাচুর আর মুড়ির সাথে সর্ষের তেলের যৌথ প্রযোজনায় যে বস্তু তৈরী হয় তাকে এক বাক্যে অমৃত হিসেবে স্বীকার করে নিতে আমাদের কারওরই আপত্তি থাকার কথা না। বৃষ্টিমুখর দিনে ঝালমুড়ির কোন বিকল্প নেই। এই বস্তু ক্ষুধার্তকে তৃপ্ত করে, আর তৃপ্তকে করে ক্ষুধার্ত। ঝড় বৃষ্টির দিনে উদাসী চোখে জানালা দিয়া বাইরে তাকিয়ে থাকি, গরম চায়ের সাথে সর্ষের তেল মেখে মুড়ি-চানাচুর খেতে মন আকুলি বিকুলি করে। তো সেবার দেশে যাবার আগে মাকে বলে রেখেছিলাম আর হোক বা না হোক খাঁটি সর্ষের তেল আমার লাগবেই। আমার মা সে অনুযায়ী সব গুছিয়ে রেখেছিলেন। গ্রামের বাড়ীর ঘানিতে ভাঙানো অর্গানিক মাস্টার্ড অয়েল।
প্রেক্ষাপট আরেকটু ব্যাখ্যা করি, আর নয়তো হংকং এয়ারপোর্টে এর পরের ঘটনাগুলো শুনলে আমাকে যে কেউ হেমায়েতপুরের টিকেট ধরিয়ে দেবে। ঢাকা শহর আমাকে ক্লান্ত করে। তাই সেবার ঢাকাতে কয়েকদিন থেকেই চলে গেছিলাম গ্রামের বাড়ি, বরিশালে। সেখানে দূর্দান্ত, অতুলনীয় একটা সপ্তাহ কাটিয়ে রাতের লঞ্চে ঢাকা ফিরি। ঘুম যে হয়নি বলাই বাহুল্য। ফিরেই সেদিন রাতের বাসে যাই রাজশাহী, বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। সেখানে সকালে পৌছেই আবার রাতের ফিরতি বাসে ফিরে আসি ঢাকা। একটানা দু’রাত ধূলি-ধূসরিত বাস ভ্রমণের ধকল আমার অনভ্যস্ত ফুসফুস নিতে পারলোনা। ফলাফলঃসর্বগ্রাসী মরণকাশি, কাশির দমকে চোখে অন্ধকার দেখি, দম আটকে আসে, ঘুম আমার ত্রিসীমানায় ঘেঁষারও সুযোগ পায়না। মানে সব মিলিয়ে আমার অবস্থা পুরোই কেরোসিন।
রাজশাহী থেকে সারারাত বাস জার্নি করে ফিরে পরের রাতেই আমার ফিরতি ফ্লাইট। কাশতে কাশতে প্লেনটাকে গরম করে দিয়ে, সহযাত্রীদের চক্ষুশূলে বিদ্ধ হতে হতে ভোরবেলায় হংকং পৌছালাম। তাইওয়ানের কানেক্টিং ফ্লাইট ঘন্টাখানের পরে। একটানা চার রাতের ঘুমহীন, কাশিতে বিধ্বস্ত, ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীরটাকে টেনেটুনে সিকিউরিটি চেকিংয়ে আসতেই বাঁধলো মহা বিপত্তি। আমার সাথে একটা হ্যান্ড ব্যাগ ছিল, মা গুছিয়ে দিয়েছিলেন, চলতি পথের দরকারী টুকিটাকি জিনিষপাতি সমেত। এমনই কপাল সর্ষের তেলের বোতলটা ছিল ঐ ব্যাগে। সাথে অতিরক্ত উপদ্রব হিসেবে কয়েক বোতল কেওড়া জল, জাফরান আর পাঁচ ফোড়ন। বাকি সব মশলাপাতি চেক ইন লাগেজে থাকলেও এগুলো কীভাবে ক্যারি অন লাগেজে ঢুকে গিয়েছিল সে বিষয়ে আমার কোন ধারণাই ছিলনা। আমি জানতাম যে নতুন ঘোষিত নিয়মের খাড়ায় পড়ে ১০০ সিসির উপরে কোন তরল পদার্থ নিয়ে আর প্লেনে ওঠা যায়না। ঢাকা এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা কর্মীরাও যদি আমাকে জানাতেন যে ব্যাগের অতিরিক্ত লিকুইড আছে তাহলে সেখানে থাকতেই একটা ব্যবস্থা নেয়া যেত, কি জানি তারা বোধহয় চেকিং এর বদলে আকাশের তারা গুণতে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু এখনতো পড়েছি পৃথিবীর অন্যতম জটিল-কঠিন এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি চেকিংয়ের খপ্পরে, এদের চোখ এড়িয়ে একটা মশা-মাছিও গলতে পারেনা, আর আমার সাথে বেশ কয়েক বোতল সন্দেহজনক দেখতে বিদঘুঁটে তরল।
খুব ভোরে আসায় সিকিউরিটি চেকিংয়ে আর কোন যাত্রী ছিল না। আর আমাকে বমাল পাকড়াও করলো এক তরুণী অফিসার, আগে কখনই দেখিনি তাকে, ভাবভঙ্গীতেও কিছুটা অনভিজ্ঞ বলে মনে হলো। প্রথমে স্ক্যানিং মেশিনে দেখে বুঝতে পারেনি, পরে ব্যাগ খুলে গলা অবধি ভরপুর বোতলকে বোতল অচেনা তরল দেখে তার চোখ ছানাবড়া। আমি একবার ভাবলাম আশেপাশে যেহেতু আর কেউ নেই, দেখি ভ্যাবলা হাসি আর দু’চারটা মিঠা মিঠা কথা বলে তার মন গলানো যায় কিনা। কিন্তু নিজের কাকের বাসা মাথা আর রক্তজবা চোখের কথা মনে পড়তে আর সে দুঃসাহস করলাম না। প্রথমে খুব ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করলো এগুলো কী? সাথে নিয়ে কেন ট্রাভেল করছি? আমিও চোখে মুখে যতটুকু সম্ভব দুঃখ দুঃখ ভাব এনে কেওড়া জল আর সর্ষের তেলের পরিচয়, ব্যবহার জানালাম, সাথে যোগ করলাম যে এগুলো ভুলবশত নিজের অজান্তেই আমার ব্যাগে চলে এসেছে, এমনটি আর হবেনা, এবারের মতো ছেড়ে দেয়া হোক ইত্যাদি ইত্যাদি। মেয়েটা একটু বিব্রত হয়ে জানালো সে আমার কথা বিশ্বাস করে কিন্তু আইন অনুযায়ী এগুলো নিয়ে আমাকে প্লেনে উঠতে দিতে পারবেনা, আমি যেন তাকে ক্ষমা করে দেই। এই বলে একে একে সে কেওড়া জলের বোতলগুলো নিয়ে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিল।
কিন্তু যখনই সে সর্ষের তেলের বোতলটা হাতে নিল, আমার ভেতরে একটা চোরা লাভাস্রোত বয়ে গেল। এতদিনের প্রতীক্ষার বস্তু , আমার চাচীর ক্ষেতের ফসল, গ্রামের ঘানিতে পেষা, মায়ের অপটু হাতে স্কচ টেপ দিয়ে সিল করা বোতলটিকে এভাবে আবর্জনার স্তুপে হারিয়ে যেতে দিতে মন সায় দিলনা। তাকে থামিয়ে বললাম এই জিনিষ আমার মায়ের হাতের, এটা আমি কোনমতেই ফেলতে দিতে পারিনা, দরকার হলে তুমি ল্যাবে পাঠিয়ে টেস্ট করে দেখ এর মধ্যে কোন বিপজ্জনক কিছু আছে কিনা। সে অবাক হয়ে বলে, ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট আসতে অনেকদিন লেগে যাবে, আর বেশ খরচেরও ব্যাপার। আমার রোখ চেপে যায়, তাকে জানাই, যতদিন লাগে লাগুক আমি অপেক্ষা করবো এয়ারপোর্টেই। সিনেমাতে দেখনি এক লোক অনেক বছর প্যারিস এয়ারপোর্টে আটকে ছিল, দরকারে সেই লোকটা আমি হব, আমাকে নিয়েও সিনেমা হবে। মেয়েটা আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করে, আমি অবুঝের মতো কথা বলছি, সিকিউরিটি ইন চার্জ জানলে আমাকে জরিমানাও করতে পারে। কিন্তু আমার তখন যুক্তি-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, কোনভাবেই সে আমাকে বোঝাতে পারেনা। এক পর্যায়ে সে আমাকে নিয়ে চেকিং এরিয়ার এক কোণায় চলে যায়, বলে, সত্যি করে বলোতো এই জিনিষটা তোমার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? আমি আবারও জানাই একেতো এই বস্তু তাইওয়ানের কোথাও পাওয়া যায়না আর তার উপরে আমার মায়ের স্মৃতিমাখা, আমার মা অসুস্থ অবস্থায় আমার জন্য এটা যোগাড় করেছেন। ভুল করে নিরীহ ভোজ্যতেল সাথে এনে আমি অন্যায় কিছু করিনি। তোমাদের আইন কানুন মানুষের নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু মানুষের অনুভূতির প্রতি মূল্যহীন হলে তার কোন অর্থ থাকেনা । মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ হয়ে থাকে। তারপর নীচু গলায় আমাকে বলে, দেখ আমি তোমার কথা বিশ্বাস করছি, আমার মায়ের দেয়া কোন জিনিষ আমিও কোনদিন ফেলতে পারিনা। তোমার জন্য আমি যা করতে যাচ্ছি, ধরা পরলে আমার চাকরিতো যাবেই জেলও হতে পারে। আমি এটা আমার ব্যাগে লুকিয়ে স্টাফ এলিভেটরে তোমার প্লেনের গেটে যাব। তুমি আমার জন্য ওখানে অপেক্ষা কর। আর দয়া করে আর কোনদিন এভাবে আমাকে বা আর কাউকে বিপদে ফেলনা।
আমি রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গেলাম, মানুষ মানুষকে এই ঘোর যান্ত্রিক কলিকালে এখনো এভাবে বিশ্বাস করে, অন্যের আবেগের প্রতি সম্মান দেখায় সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। গোঁয়ারের মতো তর্ক করে গিয়েছি ঠিকই কিন্তু মনে মনে এটাও জানতাম এই লড়াইয়ে জেতার কোন আশাই আমার নেই। কিন্তু বুঝলাম সব মানুষ যন্ত্র হয়ে যায়নি, যন্ত্রের আড়ালেও মানুষ মানুষই থাকে ।
মেয়েটা আমার আগেই প্লেনের গেটে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি যেতেই ব্যাগ খুলে সর্ষের তেলের বোতলটা আমার হাতে ধরিয়ে জলদি বাগে পুরে নিতে বলে ঝটপট চলে গেল। একটা ধন্যবাদ দেবারও সুযোগ পাইনি। যদিও মেয়েটার কথা মনে হলে আজও কৃতজ্ঞতায় আমার মন নুয়ে আসে।
মামুলি সর্ষের তেল নিয়ে এতবড় কাহিনী ফেঁদে বসেছি। আমার মতো আপনাদেরও কি রবিঠাকুরের সেই হাহাকারবাণি মনে পড়ে যাচ্ছেনা—‘সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙ্গালী করে, মানুষ করনি’ ?





শেষ পর্বে এসে একটা মায়ার ধাক্কা দিলেন। মেয়েটার সহমর্মীতার কথা আবারো চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো, মানুষই তো! সারা পৃথিবীতে একই মানুষেরই বসতি। মেয়েটার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেল আমারো।
ধন্যবাদ ভাই, এইটাই বলতে চাই প্রতি লেখায়। পৃথিবীর সব সাধারণ মানুষ ভালো। গিয়াঞ্জাম করে শুধু পলিটিশিয়ান আর পলিসি মেকাররা। মানুষ এখনো মানুষের জন্য অনেক কিছু করে। নিজের জীবনেই শত শত বার দেখছি।
আমি তো মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেলাম রে
অনেক ভালো লাগলো লেখাটা। মানুষের প্রতি বিশ্বাস আমার কখনোই কমে নাই। কমবে না।
মেয়েটা দেখতে সোন্দর আছিল রে মামা, তার থেকেও দারুণ তার মন-মানসিকতা।
....ওয়াও, সব দেশি মেয়েরাই মায়াবী হয় দেখি...অসাধারান লাগলো.....
(আর দেহ তল্লাসী কি শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাডামই করলো?
)
ধন্যবাদ শাওন। না ভাই, দেহ তল্লাশীর সৌভাগ্য সে যাত্রা আর হয় নাই। তবে দুবাইয়ে একবার খটাশমতো দেখতে এক গোফওয়ালা আরব করছিল, কপালের নাম গোপাল আর কি
আহ! সর্ষে তেল এর গন্ধে এলাম...সেইরকম স্বাদ পেলাম। আপনার আসলেই এডভেঞ্চার গল্প লেখা উচিৎ। আর এতো মায়াময়ী অফিসার এয়ারপোর্টে কাজ করে! নতুন বলেই মায়া শুকায় যায় নাই এখনো...
ধন্যবাদ আপনাকে। অ্যাডভেঞ্চার গল্প আমিও লিখতে চাই, পারিনা। তবে চেষ্টা থাকবে।
কি কমু ভাই আপনার লেখা পইড়া আমার ম্যাজিক কার্পেটে ভ্রমণ হইয়া যায়।
সুপার্ব। জয়তু সরিষার তেল, জয়তু বাঙালি আর বাংলার মা।
ভ্রমণ কাহিনী এখনো সেভাবে লেখা হয়ে ওঠেনি। অনেক ধন্যবাদ উৎসাহ দেয়ার জন্য। ভালো থাকবেন
সুপার্ব
আসলে এটাই সত্যি ... সব দেশের সাধারণ মানুষেরা ভালো
নতুন কিছু দ্রুত শুরু করুন... মিছাইতাছি
হ বস, মানুষ সব খানেই ভালো। ক্ষমতাবান আর ক্ষমতালোভীরাই সকল গ্যাঞ্জামের উৎস।
ভালো লাগলো; সবাই তো শুধু বিরম্বনার কথাই লিখে আপনি ভালো কিছু স্মৃতি শেয়ার করলেন
আমার কেন জানি দুঃখ শেয়ারের অভ্যাসটা গড়ে উঠলনা। দেখি একদিন বিড়ম্বনার কাদুনী গাইতেও হয়তো শিখে যাব
আপনের অভিজ্ঞতার লগে তো আর কোনদিন পাল্লা দেওনের সম্ভাবনা নাই, এখন বুঝতাছি প্রকাশের বেসিক ব্যপারেও আপনে অনেক আগাইয়া...
আপ্নে যা বলেন না বস!
অভিজ্ঞতা আর বয়ান সবই দারুণ।
বৃত্তান্তের বেড়াজাল ভেঙ্গে লার্জ স্কেলে লিখতে থাকুন; মলাটবন্দী করে ফেলুন।
ধন্যবাদ নুশেরা। চেষ্টা থাকবে অবশ্যই
আপনি তো দেখি ভালই পটাইতে পারেন? শিক্ষনীয়।
মামুন ভাই এই একটা জিনিস আশ্চর্য। এরা মাঝে মাঝে অনেক বেশি মানুষ হয়ে যায়
পৃথিবীর সবাই আসলে ভাল মানুষ। ঠেকে ঠেকে খারাপ হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন