ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয়
এর আগের দিন গিয়েছিলাম টাঙ্গাইল। সুন্দর জায়গা। বিশেষ করে পাহাড়ী এলাকার দিকে যাওয়ার রাস্তাটা বেশি সুন্দর। কক্সবাজার থেকে লামা যাবার সেই পাহাড়ী পথের মতোন। সেখানে একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে। ভেতরে আছে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল। অনেক পোশাকধারী সেনাসদস্য। কিন্তু ঢাকার জাহাঙ্গীর গেটের ভেতর থাকা সদস্যদের মতো খড়খড়ে নয় তারা। সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়ায়, বাজার করে, বাজারের দোকানে বসে চা খায়, গুলতানি মারে; অনেক বেশি জনসম্পৃক্ত। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা থেকে শুরু করে সবই করে। শুধু নিয়মটা ভাঙ্গে না। আর আমাদের জাহাঙ্গীর গেটের ভেতরের গুলো সারাদিন গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং এমন একটা ভাব ধরে থাকে যে, ভেতরে না জানি কি রসগোল্লা-মন্ডা-মিঠাই পাকানো হচ্ছে! মানুষ একবার টের পেলেই হলো, সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে এসে সব মিষ্টি খেয়ে চলে যাবে। তাই হিংসুটিদের মতো গেট আগলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং এই দাঁড়িয়ে থাকতেই থাকতেই পার হয়ে যায় তাদের একেকজনের অমিত সম্ভাবনাময় মানবজীবন। অথচ কাজের বেলায় সব ঠন-ঠনাঠন। আজ দেশে যদি ন্যাটো একটা ড্রোন হামলা চালায়, তার বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছু এই গেটধারীরা করতে পারবে বলে আমার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস হয় না।
ইজরায়েলিদেরকে আমার জীবনেও কোনোদিন ভালো লাগতো না। এখন আরো বেশি লাগছে না। ওদেরকে নিয়ে অনেক মিথ চালু আছে। ১০ বছর পর থেকে নাকি ওদের সবাইকে আলাদা করে রাখা হয়, কি কি সব ট্রেনিং দেয়া হয়, ওরা নাকি অনেক বুদ্ধিমান, অনেক ধনী, অনেক মেধাবি ইত্যাদি। আসলে টাউটের টাউট সবগুলা। আর আপনারে-লহে-এত-বিব্রত থাকলে মেধা-ধন-সম্পদ-সুযোগ ইত্যাদি কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে কই? ওদের হয়েছে সেই করুণ অবস্থা। কালকে দেখলাম সাধারণ প্যালেস্টাইনিরাও ওদের বিমান হামলায় মারা পড়েছে। এর মানে যুদ্ধ। যুদ্ধ খারাপ জিনিস না। সভ্যতার অগ্রযাত্রার প্রথম নিয়ামক। সব যুদ্ধেই সাধারণ মানুষ মারা পড়ে, নাহলে গণিমতের মালে পরিণত হয়। তবে একটা যুদ্ধে ইজরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন আর ভারত একসঙ্গে হেরে গেলে সবচাইতে ভালো হতো। রাশিয়া তো যুদ্ধে জড়াতেই পারবে না। তারপরও তাদেরকে-ও হারতে হবে। কারণ ওরা যুদ্ধ না করতে পারলেও অস্ত্র ব্যবসাটা ঠিকই করে। বদমাইশ জাতি একটা।
এর আগের দিন যখন টাঙ্গাইলের সুবজ বন কেটে তৈরি করা পথের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তোমার কথা মনে পড়েছিলো। ওখানে তখন যদি তুমি পাশে থাকতে, তাহলে হয়তো টুকটাক আলাপ-আলোচনা করতে করতে সময় কাটতো। সেটা কেমন হতে পারে, সে ব্যপারে আমার কাল্পনিক কিছু ধারণা আছে কিন্তু প্রকৃত ধারণা নেই। কারণ তোমার সঙ্গে কখনো ওভাবে ঘোরা হয় নি। হয়তো এমন হতে পারে তুমি পাশে থাকলে আমার পরিকল্পনাগুলো পরিকল্পনাই থেকে যেতো। বাস্তবায়িত চেহারায় কখনো প্রকাশিত হতো না। মানুষ তো সবসময়ই কল্পনাপ্রেমী। বাস্তবটা যে সেই কল্পনার চেয়ে অনেক ভিন্ন; সেটা সে যতো বুঝতে পারে, ততোই বুড়ো হতে থাকে।
আরেকটা সুন্দর, অসাধারণ বিষয় হচ্ছে কৃষক-জ্যামিতি। মহামতি ইউক্লিড আবিস্কার করে গিয়েছিলেন। আমাদের কৃষকেরা হয়তো ইউক্লিডের নাম জানে না কিন্তু জমিতে আইল দিয়ে বর্গ, আয়তক্ষেত্র, রম্বস ঠিকই আঁকতে জানে। এঁকে এঁকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে, যেন পথচারীরাই তাদের জ্যামিতি খাতার পরীক্ষক। আমি যতোবার রাস্তা থেকে অনিন্দ্যসুন্দর সেই ভূমিচিত্রগুলো দেখি, ততবার এক বিচিত্র ধরনের মানবিক অনুভূতিতে আক্রান্ত হই। সুন্দর যেকোন কিছুর সামনে গিয়ে পড়লেই আমি আসলে অসহায় বোধ করতে শুরু করি। সোনালী রঙয়ের আমন ধান, ধান উঠিয়ে নেয়া জ্যামিতিক শুকনো ক্ষেত এবং সিমেন্টের চাতালে কাঁচা সোনার মাড়াই দেখা- সবকিছুই আমাকে ভীষণ অসহায় করে তুলতে থাকে। আমার ভেতর এক ধরনের সর্বগ্রাসী হাহাকার জন্ম নেয়, চোখ দিয়ে জোর করে পানি চলে আসে এবং আমি নিজের জীবনটা নিয়ে আরো একবার অখুশি হয়ে উঠি। এই সবকিছুর চেয়ে বেশি করে আমি হতে চেয়েছিলাম সাধারণ একজন চাষী। আমার মনের সে চাওয়া আমি বা আর কেউ কখনো বুঝতেই পারে নি।
তবে ওস্তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে, জীবনটা শুধুই অপ্রাপ্তি দিয়ে ভরতে হয় নি। সবচে' খুশি হয়েছিলাম, যেদিন নিজেই নিজেকে খানিকটা এগিয়ে তোমার কাছে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম। তুমি তারপরে আমায় এমনভাবে গুছিয়ে দিলে, সবকিছু এতো সাজিয়ে দিলে যে; এখন আর আমাকে কিছু করতে হয় না। বসে বসে দিন পার করি এবং তাতে কোনো সমস্যা হয় না। শুধু তোমার জন্য কষ্ট পাই। আজ অনেকগুলো দিন পার হয়ে গেছে, তাই না? এতদিনে হয়তো আমরা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে ফেলতে পারতাম। ‘আপ’ মুভির ওই বুড়োটা নিজের কুঁড়েঘরের সঙ্গে বেলুন বেঁধে সেটাকে নায়াগ্রা ফলস্ এর ওপর নিয়ে গিয়েছিলো। আমরাও হয়তো সেখানে একটা কুঁড়েঘর বানাতে পারতাম। ওই বুড়োর ঘরের পাশে।
আমাকে যদি প্রতিদিন সকালে দরজা খুলে বাগানে ফুটে থাকা ফুল আর হৃৎপিন্ড খামচে ধরা নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সৌন্দর্য্য দেখার জন্য ঘুম থেকে উঠতে হতো, তাহলে বোধহয় সবচেয়ে ভালো হতো। আমি দরজা খুলে বাইরে এসে শুভ্র বসনে একা দাঁড়িয়ে থাকা তোমাকে দেখতাম। জড়িয়ে তোমার চুলের গন্ধ নিতাম। তোমার গালে মুখ ঘষতে ঘষতে শুভ সকাল জানাতাম। জীবনটা কত সহজ হতে পারতো, তাই না?
এর আগের দিন রাতে টাঙ্গাইল থেকে ফেরার পথে বাসের সিটে বসে এ কথাগুলোই ভাবছিলাম। শুধু এ কথাগুলো সময় সময় ভাবতে হবে বলেই আমাকে এখনো টিকে থাকতে হয়েছে। নাহলে তুমি আর আমি তো সেই কবেই হোটেল ট্রান্সসিলভানিয়ায় গিয়ে উঠে যেতে পারতাম। একটা কামরা নিয়ে থাকা শুরু করে দিতে পারতাম চিরকালের জন্য। আমাকে কখনোই আব্দুল্লাহপুর থেকে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত একা একা আসতে হতো না। সেই পুরোনো স্মৃতিগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাকে একদম নিশ্চল করে রাখতো না। গভীর রাতে ঘরে ফিরে কবি কিংবা অন্য কোনো কিছুর কাছে কখনো আশ্রয় খুঁজতে হতো না।
তবু তোমাকে ভালোবেসে
মুহূর্তের মধ্যে ফিরে এসে
বুঝেছি অকূলে জেগে রয়
ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয় ।
---
(শিরোনাম আর শেষ চার পঙক্তির জন্য কবি জীবনানন্দ দাশের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো।)





প্রথম কমেন্ট করার কৃতিত্ব নিচ্ছি আগে ।পরে পড়বো।
এইবার কিন্তু আমি খুব লজ্জা পাচ্ছি নাজনীন আপু।
লজ্জ্বা জিনিসটা মেয়েদের একচেটিয়া।তুমি সেখানে ভাগ বসাতে চাছো? খারাপ কথা।
তাহলে আপনি জোর করে জিনিসটা আমাকে দিতে চাচ্ছেন যে?
" বাস্তবটা যে সেই কল্পনার চেয়ে অনেক ভিন্ন; সেটা সে যতো বুঝতে পারে, ততোই বুড়ো হতে থাকে।"
হয়ত।কিন্তু যার কল্পনা করার ক্ষমতা এত তীব্র সুন্দর সে কক্ষণো বুড়ো হতে পারেনা।
হিহি থ্যাংকু আপুমনি। লক্ষ-কোটি থ্যাংকস্। আর এগুলো দুপুরে খাবার জন্যে-

জীবনটা এখন সহজ হতে পারে না আপনার ভাবনার মত? পারে তো।এখনও তো অনেক পথ বাকী।
আপনে নতুন লেখা দেন। আপনের কতটুকু পথ বাকী আছে দেখি। নতুন লেখা পড়লেই বুঝতে পারবো।
হাই জ্যাজ, গুড মর্ণিং
লে মী মিস ইউ। কিরামাছেন? কি ক্রেন?
কামলা দেই । ঝিমাই । রাত ৩ টা পর্যন্ত মুভি দেখছি। ভালো নেই একদম ।
কেমন আছেন? এত সকালে আজ আপনার মর্নিং হলো যে!
আমি ৩টার দিকে একবার নিচে গিয়েছিলাম খাবার খুঁজতে। দেখি সেদ্ধ ডিম ছাড়া আর কিছু নেই। ডিম আর কলা খেয়ে উঠে এসে গ্যাংস্ অফ ওয়েসিপুর ২ দেখা শুরু করলাম। আমার খুব প্রিয় সিনেমা। ফ্যায়জাল খানের বাঁশি টানা দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম মনে নেই। সকাল নয়টায় চোখ খুলে দেখি পুরো শরীর ঝরঝরে লাগছে।
আমি রাত তিনটা পর্যন্ত দেখলাম ইংলিশ ভিংলিশ। তারপর সকাল সাতটায় উঠতে হলো। চোখ কচলাতে কচলাতে অফিস যাওয়া
কি দারুন লেখেন আপনি। মুগ্ধ হই বার বার!
এটা আসলে পক্ষপাতিত্ব থেকে আপনে হয়ে যান। আমার লেখার কোনো ভূমিকা নেই।
কইছে আপনেরে। আপনে বেশী বুইঝেন না। অকিজ?
আচ্ছা
আমি তো আর কেয়ারটেকার সরকার না। তাই এক সাইডে নিবোই। আর ভালো লাগে বারবার তাই বারবার জানাই। ইহা নিতান্তই আপনার ভালো লেখনী ও আমাদের ভালোবাসার প্রতিদান!
আমার মতো এক অভাজনকে এই ভালোবাসা আর সম্মান দেখানো, মূলত আপনার ও আপনাদের মহৎ মনের ইমেজটাকেই আরেকটু পরিস্কারভাবে ফুটিয়ে তোলে; আর কিছু না।
মীরকে প্রিয় ব্লগার বলার সুযোগ নাই... কারন ব্যাটা আগেই প্রিয়তে ঢুইকা আছে
তাইলে মীরকে বলো একটা পার্টি দিতে।দিতেই হপে।
টুটুল ভাইওতো আমার প্রিয়তে ঢুকে আছে সেই কবে থেকে। যখন আমি প্রথমদিকে এখানে লিখতাম এইসব ছাইপাশ, তখন উনি আমাকে বলতেন; 'আপনি শুধু লিখে যেতে থাকেন। বছরশেষে দেখবেন সব দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে-মুছে কোথায় চলে গেছে। তখন এ লেখাগুলো পড়লে পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে পড়বে।' সেইসব দিন থেকে টুটুল ভাই আমার প্রিয় মানুষ, প্রিয় বন্ধু, প্রিয় ব্লগার এভরিথিং।
ভালো কথা, পার্টি হচ্ছে নাকি কোথাও? জানা থাকা দরকার তো।
মনের মাঝে গান থেমেছে, সুর নাহি আর লাগে
শ্রান্ত বাঁশি আর তো নাহি জাগে
----------
----------------------
রইল রে তোর অসীম আকাশ,
অবাধ প্রসার ধরা।
জানাতে যতো যাই কথা, হারাই ততো মানে
ভালোবাসি তোমায় তাই জানাই গানে...
মুগ্ধ হইলাম! ভালো থাকবেন সবসময়।
উচ্ছল ভাই, আপনার কমেন্টগুলো সবসময় লেখালেখির অপচেষ্টা চালাতে আমাকে উৎসাহিত করে।
ভাই টাঙ্গাইল থেকে নায়াগ্রা যাওয়ার সহজ পথ কুনটা, যদি জানাইতেন
(
রিক্সা নিয়ে সোজা মিরপুরের দিকে যাইতে হপে মনয় । তাই না?
টাঙ্গাইল থেকে নায়াগ্রা যাবার সহজ পথের দিশে জানেন হুমায়ূন আহমেদ। উনার আত্মজীবনীগুলোর কোনো একটাতে পেয়ে যাবেন
বরাবরের মতোই, সাবলীল ও সুন্দর।
থ্যাংক ইউ ভেরী মাচ মাসুম ভাই। আপনাকে এখন অনেক কম কম দেখা যায়। আরেকটু যদি নিয়মিত হইতেন
মাসুম ভাই ভালো কথা বলেছেন, বরাবরের মতোই সাবলীল ও সুন্দর। আমিও এ কথাটাই বলতে চাই।
সকলেই পথ চলে — সকলেই ক্লান্ত তবু হয় —
তবুও দুজন কই বসে থাকে হাতে হাত ধরে!
তবুও দুজন কই কে কাহারে রাখে কোলে করে!
এখানে কি টাঙ্গাইল থেকে নায়াগ্রা ভায়া মিরপুর যাওয়া হচ্ছে!!
শেষটা এত্ত এত্ত এত্ত বেশি সুন্দর হইছে!
নেক্সট একটা গল্প পড়তে মন চায়!
আপনের একেকটা লেখার নাম দেখেই আসলে লেখাটার প্রতি এডভান্স কিছু ভাল লাগা জমা হয়ে যায়। আর আমি লেখার নামই খুজে পাই না!
ফেবু তে জেডি'র পেজে কবিতাটা দেখেই ভেবেছিলাম এই নিয়ে ব্লগ লিখব... মীর লিখে আামারে বাচায়ে দিলেন লিখা থেকে
... আর পাঠকদের-ও বাচায়ে দিলেন অত্যাচারের হাত থেকে...
জেডি'র কবিতা আর পোস্ট দুই নিয়াই মুগ্ধতার কথা জানায়া গেলাম
মন্তব্য করুন