ইউজার লগইন

রায়েহাত শুভ'এর ব্লগ

আত্মমগ্ন কথামালা-৫

সারাদিন খুব ভালো কেটেছে। আজকেই প্রথম আমার নয়া সেকেন্ড হ্যান্ড ক্যামেরা নিয়ে হাটাহাটি করছি। মন মেজাজ ভালই ছিলো।

কিন্তু কিছুক্ষণ, ধরা যাক ৪৫ মিনিট, আগে পর্যন্তও মন খুবই ভালো ছিলো। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেলো। কিছু ছোটখাট ব্যাপারে মাঝে মাঝে আমার মন খুব বেশী খারাপ হয়ে যায়। যেমন হয়তো লাইটের কাছে একটা পোকা বসে আছে তার বসে থাকার ভঙ্গীটা বিষণ্ণ মনে হয় বা কোন কবিতার একটা শব্দ পড়ে সেই শব্দটাকে দুঃখী দুঃখী লাগে কিংবা কোনো গল্প পড়ে বুকের ভেতর থেকে কান্নার মতো কিছু একটা উঠে আসতে চায়। হঠাৎ করেই ফেসবুক নোটিফিকেশন চেক করার সময় একটা লিংক শেয়ার পেলাম, সেখানে একটা গল্প অপেক্ষা করছিলো। সেই গল্পটা পড়লাম আর মনের ভেতর কিছু একটা হয়ে গেলো...

কয়দিন এরকম থাকে কে জানে?

...ইতি, আব্বু। [শুরুরও অনেক আগে]

অনেকদিন ধরেই ভাবছি। আমার মনের ভেতরে চুপটি করে বসে থাকা আমার শিশুকন্যাটা, যার নাম আরো দু'বছর আগেই রেখেছি শুদ্ধ শুচিস্মিতা, তাকে উদ্দেশ্যে অনেকগুলো চিঠি লিখে রাখবো ব্লগে। যার ভিতর দিয়ে সে তার বাবাকে জানতে পারবে। তার মা কে চিনতে পারবে। তার জন্য বাবার আবেগ কেমন ছিলো, তাকে ঘিরে তার বাবার স্বপ্নগুলো কেমন ছিলো, কিভাবে সেই স্বপ্নগুলোর বিবর্তন হ'লো। সব... সব... কিছু জানিয়ে রাখবো ওকে অকপটে। ও যেদিন বারো'তে পা দেবে, সেদিন ওকে ব্লগে বসতে বলবো। পড়তে বলবো ওকে লেখা বাবার লেখা চিঠিগুলো।

আত্মমগ্ন কথামালা-৪

স্বর্গফর্গ ইত্যাদি লইয়া চিন্তা ভাবনা বাদ্দিছি বহুদ্দিন হইলো। অনেক দিন আগের চিন্তায় স্বর্গটা বেশ রইদ ঝলমলা আছিলো।

আত্মমগ্ন কথামালা-৩

অস্থিরতাটাকে কেমন জানি উপভোগের পর্যায়ে নিয়া চইলা গেছি। অস্থির না থাকলেই শালার কেমন কেমন লাগে। কে জানে? হয়তো সাইকোলজিতে এইটারও কোনো গালভরা নাম আছে। যখন অস্থির থাকি ভিতরে, তখন বাইরে বাইরে খুব স্থির কুউউল একটা ভাব ধইরা থাকার চেষ্টা করি। মজাই লাগে। বেশ মজা।

বহুতদিন ভিক্ষুকদের গ্রুপ ধইরা ভিক্ষা করতে দেখিনা। সবার মধ্যেই এখন ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম চইলা আসছে। দুইদিন আগে, হঠাৎ এক রাস্তায় দেখলাম তিনচার জন ভিক্ষুক সেই পুরানো স্টাইলে ভিক্ষা করতেছে। তবে আগের ভিক্ষুক গ্রুপের ভিতর যেই বৈচিত্র থাকতো, সেইটা এদের ভিতর নাই। সবাই একই রকমের। ভালোলাগলেও আসলে সেরম ভালোলাগেনাই।

মাথার ভিতর ঘুরঘুর করতেছে। ভাল্লাগতেছে না। এই কথাগুলা এখন পুরানা হইয়া গেছে। নতুন কিছু ভাইবা নেওয়া দরকার। আলসিতে সেইটাও হইতেছে না।

কয়দিন পর মন আবার ১৮০ ডিগ্রী ঘুরান দিবো কে জানে।

রাতের রেশম অন্ধকার

আজ সন্ধ্যায়, চায়ের কাপেরা অনেক বেশিই ব্যাস্ত ছিলো
হাতে-হাতে
ঠোঁটে-ঠোঁটে
স্পর্শে এবং অবহেলায়।

বহমান নদী, পথভুলে, নাগরিক যানজটে হারিয়েছিলো
জীবনের অনেকটা গান।
টেলিভিশনের রঙচঙে পর্দায়,
মুখোশের আড়ালে, শত শত চোখ, লোলুপ তাকিয়েছিলো
রেশমী কিংখাবে ছড়ানো ছিটানো তারাদের দিকে।

রাত নেমে আসে শহরের শরীরে
নদীর ভেজা বাতাসে
কুয়াশা ছোঁয়া নিঃশ্বাসে এবং প্রশ্বাসেও।

ক্লান্ত আমি,
অন্ধকারের রেশম রেশম আবেশে ভিজিয়ে নেই দু'টি পা।

আত্মমগ্ন কথামালা-২

কোনো ভন্ড মানুষরে কেন যে ভন্ড বলতে পারি না, সেইটা একটা প্রবলেম। একান্ত নিজস্ব প্রবলেম। একবার বলে এইটা আমার পছন্দ না, আবার ঠিক তার পরের মিনিটেই সেই অপছন্দের জিনিস করবার স্বপক্ষে যুক্তিও মারায়। তার চোখে এইটাই জগতের সেরা যুক্তি। উদাস দৃষ্টিতে তাকাইয়া তার ভন্ডামী দেখি। আসলে উদাসী হইয়া যাওনের ভিতর মনেহয় মহান টাইপের ঝিলমিলি আছে। একেবারে রাইতের বেলা দূর থিকা বিয়াবাড়ির মরিচ বাতি গুলা দেইখা যেমন উৎসবের আমেজ আসে সেরকমই।

লোকজন যখন বুঝতে ভুল করে, সেইটা বড়ই পেইনদায়ী। ফল? বিটকেলে টেস্টের কোনো একটা হইবো, যেইটা আমার ভাল্লাগেনা। যেরম- এলাচ কিংবা কাঁচা পিয়াজ কাঁচা রসুনের মিক্সড একটা ফ্লেভার আর টেস্ট।

খুব কইরা চেষ্টা করতেছি একটা জিনিস খুঁজার, কিন্তু সবদিকেই কংক্রীটের দেয়ালে মাথা ঠুইকা যাইতেছে। নগরায়নের কুফল আর কি। তারপরেও চেষ্টা জারি রাখতেছি। দেখি কি হয়।

আত্মমগ্ন কথামালা-১

নিয়মিত অসামজিক হয়ে উঠি। শিরায় শিরায় ছুটে চলা রক্তে আবার নতুন করে ছড়িয়ে যাইতেছে অসামাজিকতার আমেজ। পৌনঃপুনিক দিনযাপন কইরা চলি। সকাল দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত। যে কাজগুলা না করলেই না সেগুলা নিয়েই বিজি। অফিস-বাসা-অফিস। একই রুট, একই লাইটপোস্ট, একই চেহারা। এই বৃত্ত থিকা বেরইতে ইচ্ছা করতেছে বড় বেশী কইরা। সময়টাই মনে হইতেছে হঠাৎ প্যাঁচ খাইয়া গেছে। মাথার ভিত্রে লেখা-টেখা কিলবিল করতেছে। এয়ার টাইট কৌটার মত আটকায়া রাইখা দিতেছি। বাতাসের অভাবে অভাবে একদিন ঠিকই মইরা যাইবো। আমি সেই মইরা শুটকি লাগা লেখা গুলারে দেইখা বিভৎস আনন্দ পামু। আহ! ভাবতেই কেমন মজা লাগতেছে। কি জানি?

বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ

*
উত্তুরে বাতাসে বৃষ্টিক্ষত ছড়িয়ে যায় ক্যান্সারের দ্রুততায়
টুপ টাপ টুপ টাপ টুপ
জলেদের ছন্দপতন জমা হয় নাগরিক পাপোষে।
অস্থির সন্ধ্যা, মুখ গুঁজে দেয় রাতের কনুইয়ের ভাঁজে
কপাল জুড়ে আলো ছড়াতে থাকা চাঁদের টিপটা বার বার ঢেকে যায়
মেঘেদের এলোচুলে।
বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ আটকা পড়ে যায়
ছড়ানো ছিটানো স্পাইডার ওয়েবের শ্যেন প্রহরায়।
হাসির উচ্ছল পায়রা ওড়ে চতুর্দিকের কোলাহল সাথী করে
যেখানে কংক্রীট পথ, দু'হাত ছড়িয়ে থাকে আলিঙ্গনের আকাঙ্ক্ষায়।
অশান্ত গাড়িগুলো দ্রুতলয়ে দলে যায় পথের কোমলতা
তখন, বাড়ি ফেরার তাড়া জেগে ওঠে মহাশুন্যবাসী নক্ষত্রদের মাঝে।

এলোমেলো রক্তছোপ

ইদানিং এসফল্টের রাস্তায় ছোপছোপ রক্ত দেখতে পাই। কুয়াশা মাখা সোডিয়াম সোনালী আলোয় হাঁটতে হাঁটতে যতবারই এগিয়ে যাই, রক্তের ছোপ গুলো দূরে সরতে থাকে। আর সেখান থেকে জন্ম নেয় ঘিনঘিনে পোকারা।

কি খবর হে? দিনকাল কেমন যায়।

পাঠ প্রতিক্রিয়া : রশীদ করীম

রশীদ করীমের উপন্যাস সমগ্র পড়া শেষ করলাম।
সেই ১৯৬১ এ লেখা প্রথম উপন্যাস “উত্তম পুরুষ” থেকে ১৯৯৩ এ লেখা শেষ উপন্যাস “লাঞ্চবক্স” পর্যন্ত। প্রথমেই বইলা রাখা ভালো, আমি কোনো সমালোচক নই। যার জন্য এই উপন্যাস সমগ্র নিয়া যা যা লিখতেছি তা সবই আমার নিজস্ব ভাবনা।

উপন্যাস সমগ্র পড়বার একটা সুবিধা আছে। বিভিন্ন সময়ে লেখকের বিভিন্ন রকম ভাবনা-চিন্তা গুলারে এক মলাটে পাওয়া যায়। তাতে লেখকের চরিত্র সম্পর্কেও মোটামুটি বেশ পরিষ্কার ধারণা জন্মায়। যাক এইসকল কথাবার্তা, পাঠ প্রতিক্রিয়ায় আসি।

আনটাইটেলড-১

ধরি,
আগামী রোববার আমাদের হাতে কোনো কাজ থাকবে না।

সেদিন সূর্যের আলো থাকবে গাঢ় কুয়াশায় ঢাকা,
বছরের প্রথম শৈত্য প্রবাহে থরথর কাঁপবে হলদেটে পাতার দল
বুড়িগঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলো
হাঁসের মত পালক গুটিয়ে জবুথবু সদরঘাট,
মোটা মাফলার জড়িয়ে অপেক্ষাক্লান্ত হয়ে পড়বে মুদি দোকানীর,
চা'য়ের কাপ ছেড়ে ধোঁয়ারাও উড়বেনা ছাদ কিংবা আকাশের দিকে,
কোনো কাজই হবেনা সেদিন।

কারণ, আমরা প্রথমেই ধরে নিয়েছি আগামী রোববার আমাদের হাতে কোনো কাজ থাকবেনা।

হাবিজাবি... হাবিজাবি...

╙╜ ইদানিং... না ঠিক ইদানিং না, বেশ কিছুদিন হইলো আমার কি জানি হইছে। লেখালেখি করতে পারি না। ঘন্টার পর ঘন্টা নেটে ঢুইকা বইসা থাকি, ব্লগে ঢুইকা ঝিমাই, ফেসবুক ওপেন কইরা রাইখা দেই। লিখতে পারি না। ব্লগে লগিন করি না, অফলাইনে বইসা মন্তব্যের ঘরে একটা দুইটা শব্দ লেখার চেষ্টা করি কী-বোর্ডের কী গুলা মনে হয় লাফাইয়া লাফাইয়া সইরা চইলা যায়। পড়ছিলাম, ডিস্লেক্সিয়া হইলে মানুষ পড়তে পারেনা, অক্ষরগুলা মনে হয় দৌড়াদৌড়ি লাফালাফি করতেছে। কিন্তু অনেক খুইজাও আমার রোগের কোনো ব্যখ্যা পাইলাম না Sad

╙╜ মাথার ভেতর কয়েকজন মানুষের নাম নিয়া ঘুরতেছি অনেক অনেক দিন ধইরা। কেউ বাইরে আসতে চায়না Sad

সাময়িক আড্ডাদায়ী পোস্ট

আছেন নাকি জনগন? আড্ডা দিবার মঞ্চাইতেছে। কিছু লেখতে ইচ্ছা কর্তেছে না। খালি আড্ডা দিতে শখ হৈছে। আছেন না নাই???

আছেন নাকি জনগন? আড্ডা দিবার মঞ্চাইতেছে। কিছু লেখতে ইচ্ছা কর্তেছে না। খালি আড্ডা দিতে শখ হৈছে। আছেন না নাই???

আছেন নাকি জনগন? আড্ডা দিবার মঞ্চাইতেছে। কিছু লেখতে ইচ্ছা কর্তেছে না। খালি আড্ডা দিতে শখ হৈছে। আছেন না নাই???

আছেন নাকি জনগন? আড্ডা দিবার মঞ্চাইতেছে। কিছু লেখতে ইচ্ছা কর্তেছে না। খালি আড্ডা দিতে শখ হৈছে। আছেন না নাই???

আছেন নাকি জনগন? আড্ডা দিবার মঞ্চাইতেছে। কিছু লেখতে ইচ্ছা কর্তেছে না। খালি আড্ডা দিতে শখ হৈছে। আছেন না নাই???

আছেন নাকি জনগন? আড্ডা দিবার মঞ্চাইতেছে। কিছু লেখতে ইচ্ছা কর্তেছে না। খালি আড্ডা দিতে শখ হৈছে। আছেন না নাই???

আছেন নাকি জনগন? আড্ডা দিবার মঞ্চাইতেছে। কিছু লেখতে ইচ্ছা কর্তেছে না। খালি আড্ডা দিতে শখ হৈছে। আছেন না নাই???

শূন্যে ছুঁড়ে দেয়া কয়েনের দিকে তাকিয়ে

ব্যাকস্টেজেঃ

প্রৌঢ় দড়াবাজ দাঁড়িয়ে।
জীবনের শেষ দড়াবাজির খেলা দেখাবে বলে
রং মেখে লুকানো, ভাঁজ পড়া চেহারায়
মঞ্চ ফাঁকি দিয়ে আসা টুকরো আলোরা আলতো ছুঁয়ে যাচ্ছে,
বুঝিবা সান্তনার হাতে।

মঞ্চেঃ

চড়া তালে বেজে চলেছে বাজনা
উদ্দাম ড্রাম বিটের সাথে ছন্দ মিলিয়ে এগিয়ে আসছেন প্রেজেন্টার
তার চকচকে জুতোয় পিছলে যাচ্ছে স্পট লাইট
ধাঁধিয়ে দিচ্ছে চোখ, দর্শকদের।
ভরাট গলায় ঘোষিত হচ্ছে খেলা এবং খেলোয়াড়ের নাম।

বাইরেঃ

কুয়াশার মৃদু গন্ধ মাখা রাতের চাদরে
থিতিয়ে আসা ধুলোরা জমছে ধীরে
একঝাঁক রাতজাগা পাখি
নড়েচড়ে বসছে দূরবর্তী গাছের ডালে
নৈশব্দ এবং কোলাহল হাতধরে চলছে এসফল্টের রাস্তা জুড়ে।

আবার ব্যাকস্টেজেঃ

দড়াবাজের কাঁপা হাত খুঁজে নিয়েছে
জীবনের প্রথম রোজগারের কয়েনটাকে, যেটা

বিচ্ছিন্ন পংক্তিগুলো

বাতাসের দেওয়াল তৈরী হয় অগোছালো নদীতীরে
স্পর্শপাপ বাঁচিয়ে বেড়ে ওঠা ফুলেরা
এলোমেলো হয়।

অস্ফুট আবেগ এবং শরীরের গান মিলেমিশে একাকার

কুয়াশাঘোর মাখা চোখ জুড়ে ছেঁড়াখোঁড়া ছবি
একই নিঃশ্বাসে মিশে থাকা অনাকাংখিত উত্তাপ
আর, অতৃপ্তির ছোপছোপ দাগ।

শিরোনামহীন সম্পর্কের দায় জুড়ে থাকে বর্তমানের সবটা

দৃশ্যতঃ ঘোরাক্রান্ত হই নানাবিধ সম্পর্কে
ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বাস্তবতা
ঘোর ঘোর ঘণঘোর...

________________________________________
ডিস্ক্লেইমার:- এই পঞ্চাশ শব্দের যন্ত্রণাটা বড়ই পেইনফুল Sad