ইউজার লগইন

রায়েহাত শুভ'এর ব্লগ

জলপাই বনের আখ্যান

*
ধুসর গুবরেপোকাটা সেজেছিলো ফিরোজা সোনালী ডোরাকাটা রঙের সাজে।

**
জলপাই বনের স্নিগ্ধ সবুজে ঘুরতে এসেছিলো একটা নীল প্রজাপতি। সবুজগুলো আরো বেশী সবুজ হয়ছিলো সেই নীল প্রজাপতির আগমনী গানে। জলপাই বনের পাখিরা, কেউই দেখেনি গুবরেপোকার আনন্দ। শুধু রঙ মাতাল বসন্ত তার দারুচিনিগন্ধী হাওয়া ছড়িয়ে দিয়েছিলো এদিক ওদিক।

***
কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়াটে চাঁদের আলো ঈর্ষায় খয়েরী হয়ে যায়। জলপাই পাতাগুলি জড়োসড়ো হয়ে ওঠে সেই খয়েরী চাঁদের ঈর্ষায়। মৃদু আলোমাখা পথ ধরে ফিরে যেতে থাকে আনন্দের দল, আর অস্ত্র সজ্জিত বিষাদেরা এক এক করে দখল নিতে থাকে দারুচিনীগন্ধী হাওয়ার।

****

ভুলে যাওয়া রুম নম্বর

***
ঘাসফড়িঙের দল পাখায় বয়ে নিয়ে আসে ভেজা মাটির দুঃখবোধ, ধুলো ওড়া দুপুর

অপেক্ষারা ফিরে ফিরে আসে সিগারেটের ধোঁয়া, এসফল্ট পথ আর ধুলিময় জুতোজুড়ে

সন্ধ্যা নামে। শালিকের হলুদ কাজল আঁকা চোখে আঁধারের সরোদ

হাসি আর কথাগুলো ছড়িয়ে যায় সাতমসজিদ রোডে, আলো ও আঁধারে

ভুলে যাওয়া মুঠোফোন সংকেত ও সংবাদ

নিরব পথের খুনসুটি টেনে নিয়ে যায় সিঁড়িঘরে, বিদায়ের ক্ষণ।

...ইতি, আব্বু। [১]

শুদ্ধ,
মা আমার, তুই ভালো আছিস তো?

তোর বোকাতম আব্বুর এই লেখাটা কি আগ্রহ নিয়ে পড়ছিস, নাকি অনিচ্ছায় পড়ছিস সেটা একমাত্র তুই ই জানিস। একটা জিনিস সবার আগে জানিয়ে রাখি; তোকে লেখা চিঠিগুলোতে আমি যে কথগুলো বলবো সেগুলো কোনো আদেশ না। বরং এগুলো তোর বোকা আব্বুর উপলব্ধি। যেগুলোকে তুই অনায়াসে ইগ্নোর করতে পারিস, আবার ভালোবেসে আপন করে নিতে পারিস। একেবারেই তোর ইচ্ছা। এখান থেকে তুই যদি জীবন পথের কিছু পাথেয় পেয়ে যাস, সেইটাই আমার সবচে বড় প্রাপ্তি হবে।

প্রথম চিঠি বলে,সততা নিয়ে আমার ভাবনাটা তোর সাথে শেয়ার করা উচিত বলে মনে করছি। আমার কাছে সততার সংজ্ঞা যেমন, সেটা অন্য অনেকের সাথেই হয়তো মিলবে না।

প্রসঙ্গঃ ব্লগ দিবস এবং আমরা বন্ধু ব্লগের সম্পৃক্ততা

গত ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একটি ব্লগের আহ্বানে একদফা ব্লগ দিবস পালিত হ'লো। আবার ফেব্রুয়ারীতেও আরেকটি ব্লগের আহ্বানে পালিত হতে যাচ্ছে আরেকটি ব্লগ দিবস।
ব্লগ দিবসের প্রয়োজনীয়তা, সার্বজনিনতা, উপকারিতা, অপকারিতা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নাই। আমার মাথা ব্যথা অন্য বিষয় নিয়ে। এই দু'টো আহ্বায়ক ব্লগের আচরণ নিয়ে আমার কিছু বক্তব্য আছে। এই আহ্বায়ক ব্লগ দুইটাই অন্য ব্লগের অনুমতি ছাড়াই তাদের নাম সম্পৃক্ত করেছে তাদের ব্লগ দিবসে অংশগ্রহনের ব্যাপারে।
দুটো ব্লগের একটাও অন্য ব্লগের মতের প্রতি নুন্যতম শ্রদ্ধা প্রকাশ করে নাই। একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের চিঠি পাঠালে এবং সেই চিঠির উত্তর না পেলেই যে একজন সেখানে অংশগ্রহনে ইচ্ছুক এটা কখনোই সাধারণ ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে না। সেই সাথে কোনো মিডিয়ায় কারো অনুমতি ছাড়াই তার নাম ছেপে দেয়াটাও সাধারণ ভদ্রতার বাইরে।

আত্মমগ্ন কথামালা-৫

সারাদিন খুব ভালো কেটেছে। আজকেই প্রথম আমার নয়া সেকেন্ড হ্যান্ড ক্যামেরা নিয়ে হাটাহাটি করছি। মন মেজাজ ভালই ছিলো।

কিন্তু কিছুক্ষণ, ধরা যাক ৪৫ মিনিট, আগে পর্যন্তও মন খুবই ভালো ছিলো। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেলো। কিছু ছোটখাট ব্যাপারে মাঝে মাঝে আমার মন খুব বেশী খারাপ হয়ে যায়। যেমন হয়তো লাইটের কাছে একটা পোকা বসে আছে তার বসে থাকার ভঙ্গীটা বিষণ্ণ মনে হয় বা কোন কবিতার একটা শব্দ পড়ে সেই শব্দটাকে দুঃখী দুঃখী লাগে কিংবা কোনো গল্প পড়ে বুকের ভেতর থেকে কান্নার মতো কিছু একটা উঠে আসতে চায়। হঠাৎ করেই ফেসবুক নোটিফিকেশন চেক করার সময় একটা লিংক শেয়ার পেলাম, সেখানে একটা গল্প অপেক্ষা করছিলো। সেই গল্পটা পড়লাম আর মনের ভেতর কিছু একটা হয়ে গেলো...

কয়দিন এরকম থাকে কে জানে?

...ইতি, আব্বু। [শুরুরও অনেক আগে]

অনেকদিন ধরেই ভাবছি। আমার মনের ভেতরে চুপটি করে বসে থাকা আমার শিশুকন্যাটা, যার নাম আরো দু'বছর আগেই রেখেছি শুদ্ধ শুচিস্মিতা, তাকে উদ্দেশ্যে অনেকগুলো চিঠি লিখে রাখবো ব্লগে। যার ভিতর দিয়ে সে তার বাবাকে জানতে পারবে। তার মা কে চিনতে পারবে। তার জন্য বাবার আবেগ কেমন ছিলো, তাকে ঘিরে তার বাবার স্বপ্নগুলো কেমন ছিলো, কিভাবে সেই স্বপ্নগুলোর বিবর্তন হ'লো। সব... সব... কিছু জানিয়ে রাখবো ওকে অকপটে। ও যেদিন বারো'তে পা দেবে, সেদিন ওকে ব্লগে বসতে বলবো। পড়তে বলবো ওকে লেখা বাবার লেখা চিঠিগুলো।

আত্মমগ্ন কথামালা-৪

স্বর্গফর্গ ইত্যাদি লইয়া চিন্তা ভাবনা বাদ্দিছি বহুদ্দিন হইলো। অনেক দিন আগের চিন্তায় স্বর্গটা বেশ রইদ ঝলমলা আছিলো।

শুকনায় লেখা

প্রথমে শুরু হ'লো নাম পড়া দিয়ে। তারপর নামের উপর মাউসপয়েন্টার ধরে ইউয়ারএল দেখা। তারপর ইউয়ারেলের নাম দেখে, সেই নাম নেবার সময় ইউজারের মানসিক অবস্থা কেমন চিন্তা করা। তারপর ইউজারের চেহারা কেমন তা নিয়ে চিন্তা করা। তারপর নাম নেবার মুহুর্তে এরকম মানসিক অবস্থা কেন ছিলো তার কারণ অনুসন্ধান। তারপর বাসা-বাড়ি ছোটবেলা-বড়বেলা, প্রেমিক-প্রেমিকা......... এভাবেই শুরু আগামী গল্পের।

কনফেশন- শুকনা খায়া, সামুতে ঢুইকা অনলাইনে লিস্টি দেখতে দেখতে মাথায় কথা গুলা আইলো। আর চরাচর যেহেতু স্লো হইয়া গেছে। চিন্তার দৌড়ঝাঁপও সেরকমই স-ল-ল-ল-ল--ল--ল---ল---ল-ও----ও---------ও হইয়া গেছে। এইরকম অনুভুতির উপর এক্সপেরিমেন্টের জন্য এই লেখার ড্রাফট.................................

আত্মমগ্ন কথামালা-৩

অস্থিরতাটাকে কেমন জানি উপভোগের পর্যায়ে নিয়া চইলা গেছি। অস্থির না থাকলেই শালার কেমন কেমন লাগে। কে জানে? হয়তো সাইকোলজিতে এইটারও কোনো গালভরা নাম আছে। যখন অস্থির থাকি ভিতরে, তখন বাইরে বাইরে খুব স্থির কুউউল একটা ভাব ধইরা থাকার চেষ্টা করি। মজাই লাগে। বেশ মজা।

বহুতদিন ভিক্ষুকদের গ্রুপ ধইরা ভিক্ষা করতে দেখিনা। সবার মধ্যেই এখন ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজম চইলা আসছে। দুইদিন আগে, হঠাৎ এক রাস্তায় দেখলাম তিনচার জন ভিক্ষুক সেই পুরানো স্টাইলে ভিক্ষা করতেছে। তবে আগের ভিক্ষুক গ্রুপের ভিতর যেই বৈচিত্র থাকতো, সেইটা এদের ভিতর নাই। সবাই একই রকমের। ভালোলাগলেও আসলে সেরম ভালোলাগেনাই।

মাথার ভিতর ঘুরঘুর করতেছে। ভাল্লাগতেছে না। এই কথাগুলা এখন পুরানা হইয়া গেছে। নতুন কিছু ভাইবা নেওয়া দরকার। আলসিতে সেইটাও হইতেছে না।

কয়দিন পর মন আবার ১৮০ ডিগ্রী ঘুরান দিবো কে জানে।

রাতের রেশম অন্ধকার

আজ সন্ধ্যায়, চায়ের কাপেরা অনেক বেশিই ব্যাস্ত ছিলো
হাতে-হাতে
ঠোঁটে-ঠোঁটে
স্পর্শে এবং অবহেলায়।

বহমান নদী, পথভুলে, নাগরিক যানজটে হারিয়েছিলো
জীবনের অনেকটা গান।
টেলিভিশনের রঙচঙে পর্দায়,
মুখোশের আড়ালে, শত শত চোখ, লোলুপ তাকিয়েছিলো
রেশমী কিংখাবে ছড়ানো ছিটানো তারাদের দিকে।

রাত নেমে আসে শহরের শরীরে
নদীর ভেজা বাতাসে
কুয়াশা ছোঁয়া নিঃশ্বাসে এবং প্রশ্বাসেও।

ক্লান্ত আমি,
অন্ধকারের রেশম রেশম আবেশে ভিজিয়ে নেই দু'টি পা।

আত্মমগ্ন কথামালা-২

কোনো ভন্ড মানুষরে কেন যে ভন্ড বলতে পারি না, সেইটা একটা প্রবলেম। একান্ত নিজস্ব প্রবলেম। একবার বলে এইটা আমার পছন্দ না, আবার ঠিক তার পরের মিনিটেই সেই অপছন্দের জিনিস করবার স্বপক্ষে যুক্তিও মারায়। তার চোখে এইটাই জগতের সেরা যুক্তি। উদাস দৃষ্টিতে তাকাইয়া তার ভন্ডামী দেখি। আসলে উদাসী হইয়া যাওনের ভিতর মনেহয় মহান টাইপের ঝিলমিলি আছে। একেবারে রাইতের বেলা দূর থিকা বিয়াবাড়ির মরিচ বাতি গুলা দেইখা যেমন উৎসবের আমেজ আসে সেরকমই।

লোকজন যখন বুঝতে ভুল করে, সেইটা বড়ই পেইনদায়ী। ফল? বিটকেলে টেস্টের কোনো একটা হইবো, যেইটা আমার ভাল্লাগেনা। যেরম- এলাচ কিংবা কাঁচা পিয়াজ কাঁচা রসুনের মিক্সড একটা ফ্লেভার আর টেস্ট।

খুব কইরা চেষ্টা করতেছি একটা জিনিস খুঁজার, কিন্তু সবদিকেই কংক্রীটের দেয়ালে মাথা ঠুইকা যাইতেছে। নগরায়নের কুফল আর কি। তারপরেও চেষ্টা জারি রাখতেছি। দেখি কি হয়।

আত্মমগ্ন কথামালা-১

নিয়মিত অসামজিক হয়ে উঠি। শিরায় শিরায় ছুটে চলা রক্তে আবার নতুন করে ছড়িয়ে যাইতেছে অসামাজিকতার আমেজ। পৌনঃপুনিক দিনযাপন কইরা চলি। সকাল দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত। যে কাজগুলা না করলেই না সেগুলা নিয়েই বিজি। অফিস-বাসা-অফিস। একই রুট, একই লাইটপোস্ট, একই চেহারা। এই বৃত্ত থিকা বেরইতে ইচ্ছা করতেছে বড় বেশী কইরা। সময়টাই মনে হইতেছে হঠাৎ প্যাঁচ খাইয়া গেছে। মাথার ভিত্রে লেখা-টেখা কিলবিল করতেছে। এয়ার টাইট কৌটার মত আটকায়া রাইখা দিতেছি। বাতাসের অভাবে অভাবে একদিন ঠিকই মইরা যাইবো। আমি সেই মইরা শুটকি লাগা লেখা গুলারে দেইখা বিভৎস আনন্দ পামু। আহ! ভাবতেই কেমন মজা লাগতেছে। কি জানি?

জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া গন্ধরাজ

*
ওয়ালেট ভর্তি অস্থিরতা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এদিক ওদিক
মাঝে মাঝে ছড়িয়ে রাখা টেবিলের বার্ণিশড সমতলে
অস্থিরতা বিলাস পালিত হলো আজ সারাদিন ধরে।

উইন্ডশীল্ড জুড়ে সারাক্ষণ ছবি এঁকে চলেছে
রাগী রাগী চেহারার বৃষ্টি সাপের দল।
উল্লিখিত উপাত্তটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়
সাইনবোর্ড নিয়ে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ এবং ওরা। তাই,
উড়ে গেছে পরিযায়ী বালিহাঁস
ঠোঁটে মেখে নিয়ে ধুলোবালি আর সবুজের গান।

সযত্নে সাজিয়ে রাখি ভঙ্গুর সময়ের ঘ্রাণ
আর, জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া একটা গন্ধরাজের ঝোপ।

জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া রজনীগন্ধা

*
ওয়ালেট ভর্তি অস্থিরতা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এদিক ওদিক
মাঝে মাঝে ছড়িয়ে রাখা টেবিলের বার্ণিশড সমতলে
অস্থিরতা বিলাস পালিত হলো আজ সারাদিন ধরে।

উইন্ডশীল্ড জুড়ে সারাক্ষণ ছবি এঁকে চলেছে
রাগী রাগী চেহারার বৃষ্টি সাপের দল।
উল্লিখিত উপাত্তটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়
সাইনবোর্ড নিয়ে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ এবং ওরা। তাই,
উড়ে গেছে পরিযায়ী বালিহাঁস
ঠোঁটে মেখে নিয়ে ধুলোবালি আর সবুজের গান।

সযত্নে সাজিয়ে রাখি ভঙ্গুর সময়ের ঘ্রাণ
আর, জোনাকীর অভিমানে পুড়ে যাওয়া একটা রজনীগন্ধার ঝোপ।

বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ

*
উত্তুরে বাতাসে বৃষ্টিক্ষত ছড়িয়ে যায় ক্যান্সারের দ্রুততায়
টুপ টাপ টুপ টাপ টুপ
জলেদের ছন্দপতন জমা হয় নাগরিক পাপোষে।
অস্থির সন্ধ্যা, মুখ গুঁজে দেয় রাতের কনুইয়ের ভাঁজে
কপাল জুড়ে আলো ছড়াতে থাকা চাঁদের টিপটা বার বার ঢেকে যায়
মেঘেদের এলোচুলে।
বৃষ্টিপাপ অথবা দৃষ্টিপাপ আটকা পড়ে যায়
ছড়ানো ছিটানো স্পাইডার ওয়েবের শ্যেন প্রহরায়।
হাসির উচ্ছল পায়রা ওড়ে চতুর্দিকের কোলাহল সাথী করে
যেখানে কংক্রীট পথ, দু'হাত ছড়িয়ে থাকে আলিঙ্গনের আকাঙ্ক্ষায়।
অশান্ত গাড়িগুলো দ্রুতলয়ে দলে যায় পথের কোমলতা
তখন, বাড়ি ফেরার তাড়া জেগে ওঠে মহাশুন্যবাসী নক্ষত্রদের মাঝে।