ইউজার লগইন

রায়েহাত শুভ'এর ব্লগ

আত্মমগ্ন কথামালা ১৪

সরলতা

মানুষের সরলতা সবসময় আচরণে লেখা থাকে না,
কখনো কখনো ওপরের ঠোঁটের কোনায়ও তাকাতে হয় পেছন থেকে।
সরলতার আচরণ, সে তো চর্চিত অভিনয়;
কৈশোরিক সারল্য ফুটে ওঠা ঝলমলে ঠোঁটের কার্ণিশে যে দৃষ্টি রেখেছে
সে ঠিকই চিনে নিয়েছে অভিনয় আর স্বতঃস্ফুর্ততার পার্থক্য...

সবুজ

বিস্তৃত সবুজের মাঝে লুকানো অন্ধকার দেখে ভয় জাগে
আলোর উপস্থিতি স্বস্তি আনে না মনে...

ঠোঁট

আমাদের ঠোঁটে আঁকা থাকে বিবিধ আবেগের গ্রাফ
সময় এবং অসময়ে ওঠানামা করে নিয়মহীন...

এবং দরজা...

দরজা খুলে দিলে উড়ে আসে ধুলোমাখা মেঘ, পাখিদের পালক;
কার্ণিশে বসে থাকা ঘুম, দুদ্দাড় ছুটে যায় আকাশের দিকে,
ভুলে যাওয়া কবিতারা ভীড় জমায় কিবোর্ড ঘিরে..

সাদা-কালো স্মৃতিগুলো জড়িয়ে থাকে দরজার চৌকাঠে,
বেরোতে কিংবা ঢুকতে, স্বর্ণলতা হয়ে ওঠে।
আদতে,
স্মৃতিরা ফেরেনা ঘরে
হারায়ও না অচেনা রাস্তার ভীড়ে।
চৌকাঠে, দরজায়,
যাপিত দিনের তলানি জমতে থাকে নিরন্তর..

মেঘের দরজা খুলে দেখি বৃষ্টির পদধ্বনি, ভেজা রোদের গান;
সারিবদ্ধ চোখে পলক পড়ে মিলিটারি শৃংখলায়
কাজের ফিরিস্তি লিখে আগামীর খাতায়।
ভয় ঘিরে থাকা আংগুল গুলো গিলে ফেলে নিজেদের অনুভূতি,
ভেসে যাই গতানুগতিক স্রোতে...

দরজার এদিকে পরিচিত দীর্ঘশ্বাস, ওদিকে অপরিচিত...

ব্যাক্তিগত দরজাগুলো যতটাই এঁটে রাখা যাক না কেন,
হাট হয়ে খুলে যায় বাতাসের মৃদু স্পর্শেই...

গল্পপাখিটা মনমরা, উড়ে চলে গেলে
শব্দরা ধীরে ধীরে ফিরে আসে চেনা বারান্দায়।
কেউ কেউ দরজা পার হয়ে ঢুকেও পড়ে অগোছালো বেডরুমে
যেখানে স্মৃতিবুড়োর কাঁপা হাতে ব্যাস্ততা, হারানো শব্দ খোঁজার...

দরজা বন্ধ করে দিলে আড়মোড়া ভাঙ্গে ঘুম

ম্যাজিক বিষয়ক কয়েকছত্র...

▄▌মঙ্গল▐▄

পকেট ভরা ম্যাজিক নিয়ে হেঁটে গিয়েছিলাম পূবের পাহাড়ে,
চোখে রেখেছিলাম চিতার ক্ষিপ্রতা,
পায়ে, সরীসৃপ মসৃণতা।
দু'হাতে ধরা ছিলো ছিন্ন হৃদয়, বনদেবতার অর্ঘ্য...

▄▌বুধ▐▄

ম্যাজিক হ্যাটে বন্দী থাকা খরগোশের মনোবেদনা
স্পটলাইটে ঢাকা পড়ে যায়,
দর্শকের হাততালিতে চাপা পড়ে লুকোনো পায়রার কান্না;
নিজের দুঃখ গুলো পামিং করে দস্তানায় লুকিয়ে রাখে চৌকষ ম্যাজিশিয়ান,
আলোকজ্জ্বল মঞ্চে হাত নেড়ে সুখাভিনয়, পৌনঃপুনিক...

▄▌বৃহস্পতি▐▄

ঘুমিয়ে থাকা রাজকন্যেকে জাগাবো বলে
শিখে নিয়েছি তিনশ পনেরটা ম্যাজিক ট্রিক্স
বিনিময়ে হারিয়েছি অন্তর্গত জাদুকাঠির অধিকার
শুধু সেকারণেই
রাজকন্যে জেগে উঠলো অন্য জাদুকরের ছোঁয়াতে...

▄▌শুক্র▐▄

একটা ম্যাজিক মিরর কিনে দিয়েছিলাম তোমাকে
হয়তো সস্তা ছিলো, তাই তোমার চেয়ে সুন্দরী কারো ছবি ভেসে ওঠেনি
প্রতারক ভেবে সরিয়ে দিয়েছো দূরে
বোঝোনি সহজ সত্যটা, তুমিই আমার সুন্দরীতমা এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে...

▄▌শনি▐▄

বিভ্রান্ত ম্যাজিসিয়ানের দিনলিপি লেখা মেঘের পরতে পরতে
বৃষ্টি হলেই নেমে আসবে মাটির বুকে
কিংবা, রোদের আঁচে ভেসে যাবে অন্য ঠিকানায়...

▄▌রবি▐▄

আত্মমগ্ন কথামালা ১৩

অনেকদিন ধরে কিছু লিখতে পারতেছি না। ব্লগেও লগিন করতে আলসি লাগে Sad ফেসবুকে পইড়া পইড়া ঝিমাই, আর হাবিজাবি স্ট্যাটাস দিয়া থাকি। লেখালেখি করতে যেহেতু পারতেছিনা, সেহেতু এই হাবিজাবি স্ট্যাটাসগুলাই একত্র কইরা রাখি আর কী Sad

মে ১২
█▓▒░
পথের ধুলো কাদা পা'য়ে জড়িয়ে ফিরে আসা সেই
প্রতিদিনের নিজস্ব কোণে। পরিচিত দরজায় পরিচিত পিপহোলে নজর রেখে
কড়া নাড়া প্রতিবার, একই ছন্দে; আধো অন্ধকার, নয়তো আলোকজ্জ্বল গহ্বরের
গিলে নেয়া নিয়মিত রুচিবোধে।
চিরচেনা কথাগুলো নতুন নতুন রূপ ধারণে খুবই পারঙ্গম,
এড়াতে চেয়ে, মুখগুজে পড়ে থাকা নীলচে কল্পনায়...
হয় কিংবা হয়ে ওঠেনা সবসময়।
তীক্ষ্ণধার কথারা, ফালাফালা করে দেয় চিন্তার নরম বুক;
অভ্যস্ত হয়েও কোথায় জানি অনভ্যস্ততা রয়েই যায়।

সিদ্ধান্তের দোলাচলে ক্রমশঃ
দিনান্তে জমা হয় ঘর বাঁধার অসুখ।

মে ১৪
█▓▒░
এসো, আজ কিছু কথা আঁকি কাগজের ক্যানভাসে
সেই পুরোনো দিনের মতো।
চোখ বুজে ভুলে যাই না পাবার ক্ষত;
এসো, রঙীন আবীর ছুঁড়ে হেসে উঠি উচ্ছল
কালো মেঘ সরে গিয়ে রোদ্দুর ঝলমল...

মে ১৫
█▓▒░

[৪] শিরোনামহীন

একটুকরো অন্ধকারের অপেক্ষায় কেটে যায় হাজার দুপুর
দু'হাতের রেখায় জমা হতে থাকে শৈত্যপ্রবাহের ছাপ
মুখের বলিরেখায় অবিরাম কথা বলে ওঠে লু'হাওয়ারা।
সময় পার হয়ে গেলে,
ওড়ার অপেক্ষায় থাকা জোড়া শালিক;
চলে যায় নিজ নিজ পথে।
বিদায়?
বুঝে নেই পড়ে থাকা পালকের গানে,
ভেসে যাওয়া মেঘেদের রঙে।

চিত্রগ্রাফী...

অনেকদিন ধরেই ভাবতেছি ছবি ব্লগ দেই একটা। কিন্তু আলস্যের কারণে দেয়া হয়ে ওঠে নাই। আইজ ভাব্লাম কি আছে দুনিয়ায়! কস্ট কইরা দিয়াই ফালাই একটা ছবি ব্লগ। কিন্তু কথা হইলো যে আমি গৌতম'দার মতো অত সুন্দর কইরা কথা লিখতে পারি না। সেইলাইগাই শুধু ছবি, আর লগে এগুলার নাম দিয়া দেই...

বিস্মৃত স্মৃতি
DSC_1711_web.jpg

স্বপ্নের ভুবন
DSC_1689_web.jpg

Time pass
DSC_0022_web.jpg

Here comes the transport

ভাস্কর'দার সাথে কথা বার্তা

রায়েহাত শুভঃ- রাত জেগে জেগে ক্লান্ত চাঁদটা যখন ঘুমিয়ে পড়ে পশ্চিমের কামরায়
তার কিছুটা আগে থেকেই শুরু হয় পথ চলার গান...

ভাস্কর'দাঃ- প্রতি দিন তার ঘুমের রুটিন পাল্টে গেলে
পথ চলা কিম্বা গানের রুটিনো কি তবে পাল্টে যায়?

রায়েহাত শুভঃ- গানের রুটিন পালটায় ঋতুচক্রের পালাবদলে
পথচলাও বদলে যায় সময় বদলানোর সময়ে...

ভাস্কর'দাঃ- যখন দিবস দীর্ঘ হয় তখন পথের দৈর্ঘ্য
কার সাথে তবে যাতায়াত করে‍! নাকি পথের সীমানা
অন্ধকার চাঁদ অথবা পথিক কারো নিয়ম মানে না...

রায়েহাত শুভঃ- পথিকেরই সব দায়,
পথ থাকে পথেরই মতো।
পথিক নিয়ম ভাঙে এবং গড়ে
পথ তার রুক্ষ্ম বুকে ধারণ করে রাখে পথিকের হাসি কান্না দুঃখ সুখ...

ভাস্কর'দাঃ- তবে ইতিহাসে শুনিয়াছি পথের আরম্ভ কিম্বা শেষ
কেবল পথিক নিজেই সাজায়, পথের আসলে কোনো
অস্তিত্ব থাকে না পথিকের পদছাপ ছাড়া...

৩* শিরোনামহীন

হুড়মুড় বাতাসে ভিজে যায় স্বপ্নহীন সময়;
হলদেটে দুপুর, অট্টালিকার কার্ণিশে হাঁটে উদাস পায়ে।
বিষাদের রঙ ছড়িয়ে গেলে,
আটপৌরে শাড়িও ছোপ ছোপ অশ্রুময়।
পেরিয়ে যাওয়া সীমানার দিগন্তে অপেক্ষা করে থাকে আরো সীমানা প্রাচীর
এবং আরো আরো অনেক প্রতিবন্ধক
এগুতে চেয়েও হয়না এগিয়ে যাওয়া।
বুকপকেটে জমিয়ে রাখা একাধিক অদৃশ্য ফুলের গন্ধে
চিন্তারা ভারী হয়ে আসে ক্রমশ
দেখবার চোখ, শুনবার চোখ আর বলবার চোখে জমা হয় বিবিধ ঘষা কাচের আস্তর।
জলফড়িঙেরা কখনো ছুঁয়ে যায়না গড়িয়ে যাওয়া অশ্রু
প্রজাপতিরা উড়ে বেড়ায়না অদৃশ্য ফুলের আকর্ষণে।

আত্মমগ্ন কথামালা ১২

কাইল্কা শাহবাগ থিকা ফিরনের পথে ঝড়ে আর বৃষ্টির ভিত্রে পড়লাম। রিক্সায়। উরে মা রে মা। কি যে ঠান্ডা পানি। এক্কেরে গুলির মত বিধতেছিলো। পকেটের ম্যাচ গেছে ভিজা। লগের জনের থিকা বিড়ি লইয়া বিড়িও ধরাইতে পারিনা। লগের জনের কাছে আছিলো লাইটার সেইটাও ঠান্ডা হইয়া গেসে। শেষ্মেষ বাসার নিকটে যখন পৌছাইলাম দুইহাতে কোনো সাড় নাই, থরথর কইরা কাপ্তেছি। রাস্তা পার হইতে গিয়া দেখি পায়ের উপ্রেও কন্ট্রোল নাই।

কয়দিন হইলো কি জানি হইছে বাল। ঝিমাইতে বেশী ভাল্লাগে Confused ব্লগে সবার লেখা পড়তেছি। ভালো লাগতেছে। কিন্তু লগিন কইরা কইতে মন চাইতেছে না Sad নিজেরে নিয়া বড়ই হতাশ।

অঞ্জন দত্ত বুইড়ায় ভালোই গান টান গাইতেছে। ইদানীং তার গানাবাজনা শুনতেছি। এই ব্যাটার গান শুনলে অল্টাইম নিজের ভিত্রে বিশাল বিশাল সাইজের ডিপ্রেসনের মেঘ জমা হইতে থাকে। সেই মেঘগুলারেই ঘুরাইয়া ফিরাইয়া দেখি নিয়মিত।

আত্মমগ্ন কথামালা-১১

আমি অনেক বড় ফটোতোলক। আমার বিরাআআআট সাইজের একখানা ক্যাম আছে, লেটেস মডেল। লেন্সও আছে গোটা পাচেক, যুম, ম্যাক্র, টেলি, প্রাইম, ফিস আই। সবরকমের। আমার একটা নীতি আছে। কষ্ট কইরা ছবি তুলুম না কখনই। ছবি কি কষ্ট কইরা তোলনের জিনিস? আরামে আরামে গিয়া অল্প হাঁটাহাটি করমু। পায়ে ধুলা বা কাদা যাতে না লাগে সেইদিকে খেয়াল রাখমু বেশি। উত্তর-দক্ষিন-পুর্ব-পচ্চিম-ইশান-বায়ু-নৈঋত-অগ্নি-উধ্ব-অধ সবদিকে বিভিন্ন লেন্স তাক কইরা ফটাফট শাটারে চাপ দিমু। ধরেন শ-ছ্যেকক ছবি তুইলা নিমু দেড় ঘন্টার ভিত্রে। কম হইলো মনেহয়। আরো কিছু বেশিই তুলমু, আপনাদের বলুম কেন কয়টা তুলছি? এই দেড় ঘন্টায় একশ আশিবার রুমাল দিয়া ঘাম মুছুম, পরিশ্রম হইতেছে না? এই খটখটা রোইদের ভিতরে কি ভালো ছবি উঠে?

অসামাজিক

▄▀▄ এই লেখাটা ১৩ বছর আগের। গ্রাজুয়েশন করতেছি, মগবাজার থিকা প্রতিদিন মীরপুর বাংলা কলেজে যাই ক্লাশ করতে। সেদিনও যাইতেছিলাম। ফার্মগেইট থিকা ডাবল্ডেকারের দোতলায় সিট পাইছি। জানালার পাশে। ফার্মগেইটের পার্কের ভিতরে চোখ চইলা গেলো, দেখি একজন নারী ঘুমাইতেছেন। পোশাক আশাকে বুঝা যাইতেছে যৌনকর্মী। তার ঘুমানোর ভিতর কেমন জানি একটা পবিত্র ভাব দেখতে পাইলাম। মাথার ভেতর এই লেখাটার প্রথম তিনটা লাইন তৈরী হইলো। পরে বাসায় ফিরা বাকিটুকু। সেদিন লীনাপু বলতেছিলেন লেখায় বিষয় বৈচিত্র আননের জন্যে। সেইটা মাথায় রাইখা এত পুরানা লেখাটা শেয়ার করতেছি...

▄▀▄
▀▄▀

অশ্লীল রাতের পরিশ্রম শেষে
শ্লীলতার শয্যায় শায়িত
বেশ্যা!
প্রকাশ্য দিনের আলোতে
অপ্রকাশ্য মনের বেদনা।
উদয়াস্ত পরিশ্রম তার ক্ষেত্রে অসাড়,
বরং অস্তোদয় পরিশ্রম করে সে।
কে দায়ী?
আমি?
তুমি?
না এই অশ্লীল, অসামাজিক
সমাজ ব্যবস্থা?

অনস্তিত্ত্ব বিষয়ক রেললাইন

*
এইসব লাল-নীল-হলুদ
এইসব আদিগন্ত সন্ধ্যা,
সবার ভালোলাগায় সিক্ত হয়ে উঠে এসো চাঁদ
বিষণ্ণ রাতের আঁধার জোছনার চাদরে ঢেকে দিয়ে।
দূরে মিলিয়ে যাওয়া মেঘ ও মাঠের দিকে যতই এগিয়ে যাওয়া হয়
তারা সরে যেতে থাকে দূর থেকে দূরে।
শহরের সীমারেখা আঁকা ক্লান্ত কাকের দল ডানায় রোদ্দুর মেখে
বিশ্রাম নিতে শুকনো গাছের আশ্রয়ে নামে, স্বরে মিশে থাকে করুণ আর্তি।
দূরাগত ট্রেনের হুইসেলের উদাস
ভর করে পথিকের চোখে এবং মনের চিলেকোঠায়।
বৃষ্টিতে ভিজে হেঁটে যাওয়া দুই জোড়া পা
অনস্তিত্ত্ব বিষয়ক রেললাইন ধরেই চলে যেতে থাকে বহুদূরে
পাশাপাশি, তবু একজীবনের ব্যবধান রয়ে যায় মাঝে...

মুক্তগদ্যঃ বর্ষানগর

*
বর্ষানগরের কৃষ্ণচুড়ারা একে একে ফুটে চলেছে।

**
দুপুরের ঝলমলে রোদ ভেঙ্গে ছুটে যাওয়া রিকশার টুনটুন শুনে বুকের ভেতর চাপচাপ ব্যাথা জমা হতে থাকে। এমনই টুনটুন রিকশা ছুটে গিয়েছিলো যেদিন তুমি চলে গিয়েছিলে শহর থেকে। আমার নিজস্ব নগর থেকে। ভাঙা চুড়ির মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো শব্দগুলো এসফল্টের রাস্তা জুড়ে।

***
দূর আকাশের কোনে, একপাল কাফ্রী মেঘের মিটিং জমায়েত ছিলো সেদিন। তাই বুঝি বিদ্যুতের চাবুক হাতে নেমেছিলো সোনালী সন্ধ্যা। নিঃশব্দ চাবুক চমকাচ্ছিলো সুর্যকে ঘিরতে উদ্যত মেঘেদের পিঠে। নির্যাতনে অভ্যস্ত কাফ্রী মেঘেরা আনন্দে খলখল হেসে উঠছিলো থেকে থেকেই। আর বেড়ে চলছিলো সংখ্যায়।

****

হাবিজাবি পংক্তি১

নীলবর্ণ সুড়ঙ্গে হারায় সৌর লিরিক।
*
যেখানে লুকানো ছিলো তারাদের জমাট আলো,
সেখানে কৃষ্ণগহ্বরের হাতছানিতে জেগে ওঠা একাধিক বৃক্ষশাখা
কোলাহলে মেতেছে।
*
কালো পাখি আলো চোখে উড়ে গেছে সাগরের দিকে
ফেননিভ ঢেউয়ে চেপে বাতাসটা গেছে পিছে পিছে।

▀▄ দুঃখ বিলাস ▄▀

█▀▄█
গ্রীলের ফাঁক গলে হুড়মুড় করে
ঘরে ঢুকে গেলো একরাশ দস্যি হাওয়া
পিছুপিছু এলো কিছু
বৃষ্টিকণা।

█▀▄▀▄█
ক্ষুদে বারান্দায় পড়ে থাকা, জালিকাটা জোছনাও
পালিয়ে গেলো হুট করেই।
ফেলে রেখে গেলো শুধু
মেঘের কার্ণিশে, নীলাভ আঁচল।

█▀▄▀▄▀▄▀▄█
হাওয়ার দস্যিপনায় তাল দিয়ে
আড়মোড়া ভেঙ্গে
জেগে উঠলো দুঃখবিলাসী মন।

█▀▄▀▄▀▄▀▄▀▄█
ভুল করে,
টেবিলে একমুঠো আনন্দ ছড়িয়ে রেখেছিলাম।

মিনিটের কাঁটা একপাক ঘুরে আসার আগেই
আনন্দগুলোয় এক পরত মিহি বেদনার ধুলো,
আর ঘন্টার কাঁটা ন'টার ঘর না পেরোতেই
বিষণ্ণ শ্যাওলায় ঢাকা পড়লো আনন্দের চকমকে শরীর...

█▀▄▀▄▀▄▀▄▀▄▀▄▀▄█
আহা বিষণ্ণতা!
আমার স্নিগ্ধ সবুজ বিষণ্ণতা
আমার মখমল কোমল বিষণ্ণতা
আমার জোৎস্না ধোয়া নীলাভ বিষণ্ণতা
আমার বৃষ্টি মাখা উত্তাল বিষণ্ণতা...