তোমার হলো শুরু, আমার হয়নি সারাঃ ২
গতকাল রাত থেকে মেয়েটার শরীর খারাপ, ঠান্ডা লেগেছে-জ্বর জ্বর ভাব। এমনিতে এখানে ঠান্ডা পড়ছে এখন তার উপর বিকালে জেদ করে খেয়েছে ঠান্ডা দুধ....। তাই আজ সকালে মেয়েটাকে চাইল্ড কেয়ারে পাঠালাম না। ল্যাবে যা কাজ আজ ছিল তা সোমবারে এক্সট্রা পরিশ্রম করলে শেষ করতে পারবো, তাই মেয়েকে নিজের কাছে রাখার জন্য ল্যাব ফাকি দিলাম। মেয়েতো মহা খুশি।
মেয়েটাকে নাস্তা করিয়ে কম্পুটারের সামনে বসলাম, আজ তাকে বাইরে নেবো না, নীচে নামতে দিলে ঠান্ডা বেড়ে খবর হয়ে যাবে। তাই ভালো করে মেয়েটাকে কাপড়-চোপড় দিয়ে মুড়ে কোলে নিয়ে টম এন্ড জেরী দেখাচ্ছিলাম। জানতাম বেশীক্ষন তাকে এইভাবে ধরে রাখা যাবে না, কারন এত চন্চল মানুষকে এইভাবে বেধে রাখা সম্ভব না, তবু যতক্ষন পারা যায়।
আধাঘন্টার মধ্যে টম এন্ড জেরীর আগ্রহ শেষ, আমাকে একটু উঠতে হলো মেয়ের জন্য দুধ গরম করার জন্য, এই ফাকে গায়ের কাপড়-চোপড়ের ভার কমিয়ে সে মেঝেতে নেমে নাচানাচি শুরু করেছে। কে বলবে এই মেয়ের ঠান্ডা লেগেছে। দ্রুত পাকড়াও করে বিছানায় উঠালাম, কাপড়-চোপড়ে মুড়ালাম আবার। কিন্তু তার জেদ বাইরে যাবে, থ্রেট দিলাম বাইরে যেতে চাইলে চাইল্ডকেয়ারে যেতে হবে, জোকের মুখে নুন.... হাহাহা। বিছানায় বসিয়ে দিয়ে পেছনে বালিশ দিয়ে হেলান দেয়ার ব্যবস্থা করে দিলাম, আর লোভ দেখালাম "ফাইন্ডিং নিমো" দেখানোর। মেয়ে রাজি।
অনলাইনে ফাইন্ডিং নিমো খুজে বের করে তাকে বসিয়ে দিলাম দেখতে। আমি খুলে বসলাম ল্যাপটপ। ১০ মিনিট না যেতেই মেয়ের মুড়ামুড়ি শুরু হলো। গায়ের কম্বল ফেলে দিয়ে সোজা হয়ে বসলো। আমি আড়-চোখে দেখলাম, কিছু বললাম না। বুঝলাম আগ্রহ কমা শুরু করেছে। আমার দিকে আসলেই বলি, চাইল্ড কেয়ারে যাবা? মেয়ে আবার নিজের জায়গায় ফিরে যায়। এমন চললো কয়েকবার।
এর মধ্যে আমরাবন্ধুতে ঢুকলাম, ব্যানার দেখে মেয়ে ঘাড়ের উপর এসে উঠলো। ব্যানার নির্দেশ করে সে জিজ্ঞেস করে "এইতা কি?" বললাম, "ব্যানার"। "বেনাল? না এতা বেনাল না। এইতা বু(ব্লু), এইতা পাপ্পেল (পারপেল), এইতা পিন্ক, এইতা ওলো (ইয়েলো), আর এইতা গিন(গ্রীন)..।" অর্থ্যাৎ সে ব্যানারের কালারের কথা বলছিলো।
আবার থ্রেট, চাইল্ডকেয়ারে যাবা? আমাকে বিপদে ফেলে রাজি হয়ে গেলো, হু যাবো, চলো যাই। একটা চকলেট ঘুষ দিয়ে বসিয়ে দিলাম আবার বিছানায়। সে যাত্রা রক্ষা। চকলেট শেষে এখন আমার ফোন নিয়ে তার মায়ের সাথে কাল্পনিক আলাপ চলছে, "হেলো, আম্মু তুমি ককন আসবা?, তাড়াতাড়ি আসো।"
কোন ফাকে আবার গায়ের থাকে জ্যাকেট টা খুলে ফেলেছে....।আর পারা গেলো না বিচ্ছুটার সাথে..কপালে আজ খারাবি আছে....





বড় মায়ায় ভরা লেখা, ছোট্ট মামণির মতো্ই। কী নাম ওর?
থ্যান্কি!
মেয়ের নাম জুমানা।
রাফি ভাই মেয়ের বাবা না হলে কখনই বুঝতাম না বাবা হওয়া কি জিনিষ। আজ তিনচারদিন আমার মেয়েটার ডায়রিয়া। এখনও কোনও উন্নতি নাই
। আমার দুশ্চিন্তার অন্তনাই। ঘুম হয়না। বিছানায় এপাশ ওপাশ করে রাত কাটাই। সারাদিন ইন্টারনেন্ট ঘেটে ডায়রিয়ার উপর পড়ি আর ফোনের উপর ফোন করে দেশে বউকে আর মা'কে এটা কর ওটা করোনা উপদেশ দিই। দুএক ঘন্টা যেতে না যেতেই দেশে ফোন করে জিজ্ঞেস করি "এখন কি অবস্থা আমার মেয়ের?" আমার হাজারও প্রশ্নে দেশের সবার কান ঝালাপালা।
আপনার মা'মনিটা সুস্থ্য হয়ে উঠুক তাড়াতাড়ি এই দোয়া করি। ভাল থাকবেন।
মেয়ে আমার এখন ভালো আছে।
আপনার মামনি কেমন আছে? আমি বুঝতেছি আপনার অবস্থা, এমন সময় আমারও গেছেরে ভাই.....। ইনশাল্লাহ মামনি সুস্থ হয়ে উঠবে দ্রুতই।
আমার মা'মনিটা ভালো নেই রাফি ভাই। দোয়া করবেন যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে।
আরে কিছু হবে না.।.।.।।।আল্লাহ আছে না!!!!!!!!আচ্ছা রাফি ভাই ওকি এখনো ওইভাবে ঘুমায়?????
একা ঘুমালে ঐ ভাবেই ঘুমায়, তবে ইদানিং বাপের বুকের উপর উপুর হয়ে ঘুমানো শিখেছে...।
কিউট লাগলো লেখাটা
থ্যানকি থ্যান্কি।
হে হে , জটিল তো ... ছোট্ট সোনামনিকে অনেক আদর ...
ধন্যবাদ বাহে। আদর পৌছায়া দেয়া হৈপে।
সবদিকেই অসুখবিসুখ নাকি। আমারটাও সর্দি কাশি জ্বরে পড়েছে কদিন। আপনাদের ওদিকে তো বেশ ঠান্ডা এখন। সাবধানে রাখবেন। জুমানাকে অনেক আদর। পিচ্চিটা পাকা হয়ে উঠেছে। কালার চিনতে শুরু করেছে, হা হা....
সিজন চেন্জের গ্যান্জাম মনে হয় নীড়দা। মেয়েকে সাবধানেই রাখি, কিন্তু চাইল্ডকেয়ারে গেলে ইচ্ছেমত বালি আর পানি দিয়ে খেলে, এইটাই সমস্যা। ওশিন মামনি তাত্তাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক এই কামনা করি। পিচ্চি অনেক পেকেছে, এত প্রশ্ন করে.......
হাহাহাহাহা
পড়ার লাইগা থ্যান্কি।
কি মায়া দিয়ে লিখেছেন! কিন্তু মেয়েকে ভয় দেখিয়ে বাবা ব্লগিং করতে চায় এইটা মেয়ে টের পেয়েছে। খুব ভালো। আপনার সোনামনির জন্য আদর।
এক ভয় বেশিক্ষন দেখানো যায় নারে বোনডি। আদর পৌছায়া দেয়া হৈপে।
মামনি কে অনেক আদর ।
থ্যান্কি সাঈদ ভাই।
সাবাশ আম্রার মামণি!
উচিৎ জবাব বাপের ডর দেখানির...হাহাহাহা এই নিষ্ঠুর হাসিটা দিলাম আপনের ঐসময়ের মুখ কল্পনা করে..ইয়াহাহাহা..আর দেখাইপেন ডর? বাপ মেয়ের এসব আহ্লাদিপনার গল্প পড়ে মনটা ভরে যায় রে ভাইডি । আপনের নাম যে এটা, সেটা আমি কি ঝান্তামনি! যাক ব্যাপার না। পাইসি আপনেরে এটাই অনেক! এখন সময় সুযোগ করে আপনার ক্লাসিক কিছু লেখা ছাড়েনদি ভাই। মামণিটার জন্য অনেককককক আদর আর দোয়া।
ভালো থাকা হোক। শুভেচ্ছা নিরন্তর!
হেহে এত খুশি হৈয়া লাভ নাই। হৈক একটা পিচ্চি, টের পাইবেন হাউ মেনি তিল গিভস হাউ মাচ ওয়েল।
মেয়েকে শুভেচ্ছা। শুভকামনা।
থ্যান্ক্যি।
সবাই দেখি বাচ্চা-কাচ্চার কথা লেখে। সব দেখি বুড়া-বুড়া।

তাইলে, আম্রা কি লিখবো?? আগামী ১০ বছর পরে আমাদের বাবুটার জ্বর হবে, তাকে কাঁথা গায়ে দিয়ে, তার সাথে "আইস এজ" দেখাবো...
চমৎকার লাগলো ভাইয়া, লেখাটা।
জুমানা ভালো থাকুক, সুস্থ হয়ে উঠুক দ্রুত। এই কামনা।
হাহহা। বিবাহ কইরালান।
গত মাসে রিমঝিমের শরীরের উপর ঝক্কি গেল। প্রথমে জ্বর টারপর জলবসন্ত। এইটুক বয়সে এমন শরীর খারাপ, কেমন লাগে! একদিন অফিসে গেলাম না। সারাদিন ওর সাথে ছিলাম। মাথায় হাত বুলিয়ে দিছি। সন্ধ্যার দিকে বলে, আর কোনো বাবা কি তোমার মত এত আদর করে?
হাহাহা। পিচ্চি গুলোর পাকনা কথা শুনলেো মনটা ভরে যায়।
মেয়ের বাপ হইবার চাই!!

বিবাহ করা ও পুন্যবান হওয়া আবশ্যক।
আমাদের মতো অধমদের একটু যদি ফু দিয়ে একগ্লাস পড়া পানি দিয়ে দিতেন.।।তাইলে আমরা একটু ঘোরঅনামিশা থেকে একটু জোনাকির আলো দেখতে পাইতাম।
আপডেট জানান ... এখন ক্যামন আছে?
জ্বর নাই, ঠান্ডা আছে। ঔষধ চলতেছে। তবে সে ফুর্তিতে আছে। বাপের কোলে বসে এখন মিঃ বিনের কার্টুন দেখে।
ছোট্ট মনিটার অসুখ সেরে যাক।
থ্যান্কি, দোয়া জারী রাইখেন।
মেয়ে না থাকলে বাবা হওয়ার মজা নাই।
হক্ব কথা।
কাতুকুতু আদর এর সুইট লেখা। মেয়েকে আদর
মন্তব্য করুন