খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে ২
আমরা বন্ধু বিশ্বকাপ পাতার কল্যাণে নিশ্চই জেনে গেছেন আজকের খেলার সূচী। আজ ১২ জুন বিশ্বকাপে তিনটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ বি'এর দুটি এবং সি গ্রুপের একটি খেলা।
দঃ কোরিয়া বনাম গ্রীস
আর্জেন্টিনা বনাম নাইজেরিয়া
ইংল্যান্ড বনাম যুক্তরাষ্ট্র্র
দঃ কোরিয়া বনাম গ্রীস
চলুন আমরা আজকের খেলাগুলোতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চালচিত্র দেখে নেই। দিনের প্রথম খেলাটি দিয়েই শুরু করা যাক। এশিয়া মহাদেশের দল দঃ কোরিয়া খেলবে গ্রীসের সাথে। মানের নিরীখে এ দল দুটোর খেলায় আহামরি কোনো বৈশিষ্ঠ্য নেই। গ্রীসের খেলায় স্পষ্টতই রয়েছে ৬০-৭০ দশকের হিট এন্ড রান কৌশলের প্রভাব। পূর্ব পুরুষদের সহিংস ফুটবলের কতোটুকু তারা বাদ দিতে পেরেছে সেটা মাঠেই প্রমাণ করতে হবে তাদের। তবে ২০০৪-এ এই দলটি সাড়া ফেলে দিয়েছিলো ইউরো জয়ের মাধ্যমে। এক ফুটবল পাগল জার্মান অটো রেহাগেল'এর তত্ত্বাবধানে তাদের নেতিবাচক ফুটবলে কিছুটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এসময়ে। সেই রেহাগেল এবারের বিশ্বকাপেও দলকে তুলে আনতে ভূমিকা রেখেছেন। যদিও বাছাই পর্বের গ্রুপিং রেহাগেলকে সহযোগিতা করেছে অনেকটাই। সম্ভবত ইউরোপের সবচাইতে দূর্বল গ্রুপ থেকে আসা দুটি দল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিচ্ছে এবার, সু্ইজারল্যান্ড এবং গ্রীস। রক্ষণভাগকে সংহত করে বিরক্তি উদ্রেক করা ফুটবলের শুরুটা জার্মানীতেই হয়েছিলো বলে ধরা হয়, সেই জার্মানরাও আজকাল সৃষ্টিশীল ফুটবলের দিকে মনোযোগি হয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের বিশালদেহী নরডিকরাও আজকাল কেবল মাথা উচিয়ে হেডে গোল করার কথা ভাবে না। কিন্তু গ্রীসের লম্বা স্ট্রাইকারদের যেনো আর কোন পথ খোলা নেই। খেলায় যদি প্রতিপক্ষের মাথার উপর দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলে ঢোকানো যায় একবার, তাহলেই গ্রীক স্ট্রাইকার সামারাস-গেকাস কিম্বা আমানাতিদিসকে মধ্যমাঠের নীচে নেমে খেলতে দেখা যায়। দলের মূল নির্ভরতা জেনোয়ায় খেলা স্টপার পাপাসতাথুপুলুস তার সহকর্মী রয়েছেন ইতালিয়ান লীগের মধ্যমসারির দল বোলোনিয়ায় খেলা মোরাস আর লিভারপুলে নিবন্ধিত কিরগিয়াকোস। অধিনায়ক কারাগোনিস নামে মধ্যমাঠের পাওয়ার হাউস হলেও তাকে নিজেদের ডি বক্সের আশেপাশেই বেশি দেখা যায়।
অন্যদিকে দঃ কোরিয়ার গতিময় ফুটবল নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও মাঝে মাঝে কিছু বলে ফেলেন। যদিও এই সব মন্তব্যে তাদের কৌশলের প্রশংসার চাইতে খেলোয়াড়ের পরিশ্রমের বিষয়টাই মূখ্য আলোচনার বিষয় হয়। ছোট ছোট পাসে জায়গা তৈরী করে তাদের আক্রমণ দানা বেধে ওঠে। তবে ইউরোপিয়ান লীগে বেশ ক'জন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতার কারনে সাম্প্রতিক সময়ে দঃ কোরিয়ার খেলাতেও উইং নির্ভরতা দেখা যায়। এ বছরের শুরুর দিকে দঃ কোরিয়া বেশ ভালো খেলছিলো। দুটো প্রস্তুতি ম্যাচে তারা হারিয়েছিলো আইভরী কোস্ট আর ইকুয়েডরকেও। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা স্পেনের সাথে একটা প্রস্তুতি ম্যাচে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে হেরে যাওয়া ছাড়া আর কোন সুখবর দিতে পারে নি।
হু জাং মু'র কোচিঙে দঃ কোরিয়া উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই চলেছে গতো কয়েকবছর ধরে। দলের বড় তারকা পার্ক জি সুং, যিনি ম্যাঞ্চেষ্টার ইউনাইটেডে প্রায় নিয়মিত'ই খেলেছেন এবছর। গোল করাতে কিংবা করতে যথেষ্ট পারঙ্গম। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়ের নাম বলতে গেলে আসে মধ্যমাঠের লি চুং ইয়ং আর কি সাং ইয়ং। এই দুজনও ইউরোপীয়ান লীগে এন্ট্রি নিয়েছে ইতোমধ্যেই। মধ্যমাঠ নির্ভর গতিময় ফুটবলের সাথে রক্ষণাত্মক নেতিবাচক ফুটবলের কনটেস্টে আমি অবশ্যই দঃ কোরিয়ার পক্ষে থাকার কথা ভাবি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এ খেলায় গ্রীসের জয়ের সম্ভাবনা খুব কম মার্জিনের হলেও একটু উপরে রয়েছে। তবু আমি দঃ কোরিয়ার পক্ষে বাজি ধরতে চাই এ খেলাতে।
আর্জেন্টিনা বনাম নাইজেরিয়া
আর্জেন্টিনার ফুটবল বিশ্লেষণ করতে গেলে জানি অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হবে বাংলাদেশের যেকোনো প্রচারমাধ্যমে। আর্জেন্টিনা মানে আসলে সবসময়েই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের দল। আর্জেন্টিনা মানেই ম্যারাডোনা-মেসি-হিগুয়েইন-তেভেজ-বুড়ো ভেরন, কিন্তু মধ্যমাঠের আরেকজন খেলোয়াড়ের নাম কি বলতে পারবেন কেউ? যে মেসিকে একটা শেষ পাস বাড়িয়ে দেবে? যেই পাস ধরে মেসি'র ড্রিবল শুরু হয়ে এদিক-ওদিক পড়ে যাবে পাঁচ/ছ'জন মিডফিল্ডার-ডিফেন্ডার? আমি একজন সাধারণ ফুটবল প্রেমী বাঙালি যে আসলেই মনে করতে পারে না এই মানুষটা কে হবে! ভেরন কি কখনো রিকুয়েমের চাইতে ভালো খেলোয়াড় ছিলো? লিভারপুলের মাসচেরানোকে আমার কখনোই পাওয়ার হাউস হওয়ার মতোন খেলোয়াড় মনে হয়নি। স্টিফেন জেরার্ডের পাশে সহযোগী হিসাবেই তার রাশিং পুশিং দেখেছি। যাতে সৌন্দর্য্য নাই আদৌ। ভেরনের খেলায় স্কিলের চাইতে পাওয়ার বেশি। প্রতিপক্ষের মধ্যমাঠ একটু সৃজনশীল হলেই তার উপস্থিতি আর লক্ষ্য করা যায় না মাঠে। ডিফেন্সেও ম্যারাডোনা কেবল পুরোন ওয়াল্টার স্যামুয়েলকে জায়গা দিয়েছেন। যে তার পড়ন্ত বেলায় ইউরোপে কোন দল খুঁজে পায়না। তবু আর্জেন্টিনায় অখ্যাত ক্যানিজিয়া কিংবা ভালদানোকেও সুপার হিরোর মতো ফুটবল খেলতে দেখা গেছে আগের বিশ্বকাপ ইতিহাসে। এবারেও সেরকম কেউ হয়তো ঝলক দেখিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।
তবে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলা পড়তি ফর্মের নাইজেরিয়া হওয়াতে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা নিশ্চিন্ত থাকতেই পারেন। ক্যামেরুন, সেনেগাল কিংবা আফ্রিকার অন্য দলগুলির মতো নাইজেরিয়া কখনোই ব্যক্তি নির্ভর খেলাতে মনোনিবেশ করেনি। দলবদ্ধ খেলেই নাইজেরিয়া বিশ্ব ফুটবলে তাদের নাম লিখিয়েছে। এবং এবারের দলটি বহুদিন ধরেই ভালো খেলছেনা। দলের তারকা ফুটবলার নওয়ানকো কানু। তিরিশ ছাড়ানো এই সংগ্রামী ফুটবলার কতোটুকু দায়িত্ব নিয়ে দল পরিচালনা করতে পারবেন সেটা দেখার বিষয়। তার উপর তাদের কোচ ল্যাজারব্যাক দায়িত্ব নিয়েছেন এক মাস হয়েছে মাত্র। আফ্রিকান অনিয়মতান্ত্রিকতাকে একটা ছাঁচে ফেলার জন্য সময়টা কতোটুকু সেটা মাঠেই হয়তো তিনি প্রমাণ করবেন, কিন্তু ফুটবল বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ মতে অপ্রতুল সময়ে সব কিছু করে ফেলা যায় না। ওবি মিকেল থাকলে তাও দল পরিচালনায় অনেকখানি নিশ্চিন্ত হওয়া যেতো। এ খেলা নিয়ে আমার ভবিষ্যদ্বানী খুবি সোজাসাপ্টা আর্জেন্টিনা দেবে ২ গোল নাইজেরিয়া একটি গোল পরিশোধে সক্ষম হবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স দূর্বলতায়।
ইংল্যান্ড বনাম যুক্তরাষ্ট্র্র
বিশ্বকাপ এলে ফুটবল ইতিহাস কচলানোটা বেড়ে যায় অনেক। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছিলো মার্কিনীরা এই ইতিহাস মাথায় নিয়েই প্রচার মাধ্যমগুলি এই খেলার গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলছে। কিন্তু আমার মনে হয় না রিও ফার্ডিনান্দের অভাব ছাড়া ইংল্যান্ড আর কোথাও সমস্যার সম্মুখীন হবে এ খেলাতে। মার্কিন দলের সবচাইতে বড়ো তারকা এভার্টনের টিম হাওয়ার্ড একজন গোলরক্ষক। এর বাইরে এসি মিলানে খেলা ডিফেন্ডার ওগুচি অনিয়ু আর ইংলিশ লীগের নতুন মধ্যম সারির দল হাল সিটির জযি আল্টিডোর।
ইতিহাস পুঁজি করে রুনির ইংল্যান্ডকে কিভাবে আবার তারা বধ করে সেটা আসলেই আরেকটি নতুন ইতিহাস নির্মাণের পাথেয় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টার এ্যাটাক নির্ভর খেলা এবারে খুব একটা গুরুত্ব না পাওয়ার কথা ইংল্যান্ডের কাছে। এবারের ইংল্যান্ড কোচ যে ফ্যাবিও ক্যাপেলো! কাউন্টার এ্যাটাক নির্ভর খেলাও যে অনেকসময় শিল্প হতে পারে সেটাতো শুরু হয়েছে তার দেশের ক্যাটানেশিও স্ট্র্যাটেজিতেই। ইংল্যান্ড তার প্রথম খেলায় নার্ভাসনেসের জন্য গোল দিতে পারবে খুব বেশি হলে দুটি ধরে এই খেলার ফলাফল ধরছি ইংল্যান্ড ২ - যুক্তরাষ্ট্র ১(?)।
গতোকাল আমার ভবিষ্যদ্বানী প্রায় পুরোটাই ফলে গেছে :P। আজকের খেলা শেষে তাই আমার এই বিশ্লেষণ মিলিয়ে নিতে ভুলবেন না। চোখ রাখুন বিশ্বকাপে, নইলে পড়বেন অনুতাপে।





গিরিস- ২ দক্ষিন কুরিয়া -১
আর্জেন্টিনা ৩ - নাইজেরিয়া -১
ইংল্যান্ড- ২ আমিরাকা- ০
আমার মনে হইতেছে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া খেলা ড্র হবে।
গ্রিস কোরিয়া ড্র হবে
আর্জেন্টিনা হারবে
আর ইংল্যান্ড জিতবে
আর্জেন্টিনা একটা খাইলে তিনটা দিবে।
ইংল্যাণ্ড অল্প মার্জিনে জিতবে, হয়তো ১-০।
ভাল বিশ্লেষণ
বিশ্লেষন ঠিকাছে। তবে মিড ফিল্ড নিয়া তেমন চিন্তা করতে হবেনা আমার মতে। কারণ আক্রমন ভাগে এমন সব আর্টিলারি আছে এখন আর্জেন্টিনার হাতে সেগুলি সামলাইতেই প্রতিপক্ষের খবর হয়ে যাবে। মাঝমাঠ তেমন টপক্লাস না হইলেও চলবে। আর নতুন খেলোয়াড়রা যে উইঠা আসবেনা তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? এরম একটা কাপে সবাই তার সেরা খেলাটা দেখাইতে চাইবে। তবে আমার মতে আর্জেন্টিনার আসল সমস্যা এর কোচ।
আমি ধরে নিচ্ছি তেভেজ আর মেসি দুজনেই একটু নীচে নেমে এসে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। যে কারনে মিডফিল্ড হয়তো অতোটা গুরুত্বপূর্ণ নয় আর্জেন্টিনা দলের কাছে। কিন্তু বার্সেলোনায় জাভি আর ইনিয়েস্তা কিংবা ম্যান ইউ'তে রুনি এরাই কি মেসি আর তেভেজকে বল জোগায় না? মেসি আর্জেন্টিনার পক্ষে গতো এক বছরে অনেক দায়িত্ব এবং প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও ভালো খেলতে পারেনি, এর কারণ কি?
আর্জেন্টিনার ফুটবল দল নিয়ে আমিও কিন্তু শেষ কথা বলতে চাই না। পোস্টে তাই ক্যানিজিয়া-বুরুচাগা'র উদাহরণ দিয়েছি। এছাড়াও ভালদানো ছিলো ৮২'তে যে পরবর্তীতে বেশ নামকরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো।
নাইজেরিয়া আজ পুরা ডিফেন্সিভ খেলবে - এটা বোঝাই যায় তার উপর আফ্রিকাতেই খেলা হচ্ছে আর আর্জেন্টিনার উপর থাকবে বাড়তি চাপ।
আর্জেন্টিনার খেলোয়াররা স্বাভাবিক নৈপূন্য দেখাতে পারবে কি না সেই চাপ সামলে আর নাইজেরিয়ার ডিফেন্সের কারনে - সেটাই চিন্তা করছি।
নাইজেরিয়ার বর্তমান কোচ একজন সুইডিশ। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ফুটবল মানেই কাউন্টার এটাক নির্ভর খেলা। উনি সুইডেন দলকে ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলিয়েছিলেন ৪-৩-২-১ ফর্মেশনে, নাইজেরিয়াকেও সেভাবেই খেলাবেন বলে ধরে নেয়া যায়।
প্রথম খেলাতেই আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের দূর্বলতা চোখে পড়েছে প্রবল। মেসির প্রতিভা যে কতোখানি সেটা টের পাওয়া গেছে পুরোটাই। কেবল একজন প্লেমেকারের অভাবে মেসিকে অনেক নীচে নেমে এসে খেলতে হয়েছে,বার্সেলোনায় যেটা তাকে করতে হয় না। হয়তো তার চমকপ্রদ ম্যুভ গুলি সাফল্যের মুখ দেখেনি কেবল টায়ারিং ফিনিশিংয়ের কারনেই। ভেরনকে তাও কিছু উইথ বল ম্যুভে দেখা গেছে। মাসচেরানোকে বাজে ট্যাকল আর ভুল পাস ছাড়া চোখে পড়েনি তেমন। নাইজেরিয়ার ছোট ছোট সেটপিসেই কেঁপে উঠেছে আর্জেন্টাইন ডিফেন্স সেটাও কিন্তু চোখে পড়ার মতোন বিষয়।
তেভেজ আর মেসির এতো প্রচেষ্টার একটা দুটো সফল হলেইতো আর্জেন্টিনার জন্য যথেষ্ট। তবে আজকে মেসির জন্য মার্কার ছিলো না। অন্য দিন যে থাকবেনা তার নিশ্চয়তা কি!
আমি ফুটবল তেমন দেখিনা বেশি কিছু বলা তাই না জাইনা বলা হবে। কিন্তু তারপরো মনে হচ্ছে মেসি টাইপের খেলোয়াড়রা সেরাটা সংরক্ষণ করে রাখে চূড়ান্ত সময়ের জন্য। আবার উল্টাও হইতে পারে।
আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, তাহলে আমি চাইবো মেসি তার সেরা খেলাটাই খেলুক। ভালো ফুটবল দেখার মজাই আলাদা। জয়তু ফুটবল!
আর্জেন্টিনা যদি হারে খুশি হমু চ্রম।
প্রথম খেলা নিয়ে করা প্রেডিকশান আজকেও শতভাগ মিলে গেলো। আমি আমার বিশ্লেষণের মাধ্যমে দঃ কোরিয়ার পক্ষে বাজী ধরেছিলাম। তবে গ্রীস দল তার সুনামের ধারে কাছে খেলতে পারেনি প্রথম খেলায়। দঃ কোরিয়ার কোচ হু জাং মু'র কৌশলের ফাঁদে তার আটকা পড়েছে। কোরিয়ার একটু নীচ থেকে খেলা শুরু করার কৌশল পুরো খেলাতেই গ্রীস দলকে তাদের নিজেদের একই ধরনের খেলাকে এলোমেলো করে দিয়েছে। দঃ কোরিয়ার মধ্যমাঠ সুসংহত থাকায় গ্রীস কখনোই চিন্তা মুক্ত আকাশে ভাসাতে পারেনি বল। কোরিয়ার চাও ডুরি এবং লি চাও ইয়ং প্রেস করে খেলে নিখুঁত সব থ্রু বাড়িয়েছে গ্রীস ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে। এককথায় চমৎকার খেলে বল নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাচ জিতেছে দঃ কোরিয়া। জয় হোক সুন্দর খেলার!
নাইজেরিয়ার গোলকিপার যখন হলুদ জার্সি পড়ছে দেখছি, তথনই বুঝছি আইজ তারা হারবো। আফসুস গোল আরও বেশি হইলো না। ব্যাপার না।
হাসান রায়হানকে দেয়া জবাবটি আপনাকেও দিতে চাই বলে কপিপেস্ট করছি।
প্রথম খেলাতেই আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের দূর্বলতা চোখে পড়েছে প্রবল। মেসির প্রতিভা যে কতোখানি সেটা টের পাওয়া গেছে পুরোটাই। কেবল একজন প্লেমেকারের অভাবে মেসিকে অনেক নীচে নেমে এসে খেলতে হয়েছে,বার্সেলোনায় যেটা তাকে করতে হয় না। হয়তো তার চমকপ্রদ ম্যুভ গুলি সাফল্যের মুখ দেখেনি কেবল টায়ারিং ফিনিশিংয়ের কারনেই। ভেরনকে তাও কিছু উইথ বল ম্যুভে দেখা গেছে। মাসচেরানোকে বাজে ট্যাকল আর ভুল পাস ছাড়া চোখে পড়েনি তেমন। নাইজেরিয়ার ছোট ছোট সেটপিসেই কেঁপে উঠেছে আর্জেন্টাইন ডিফেন্স সেটাও কিন্তু চোখে পড়ার মতোন বিষয়।
তেভেজ আর মেসির এতো প্রচেষ্টার একটা দুটো সফল হলেইতো আর্জেন্টিনার জন্য যথেষ্ট। তবে আজকে মেসির জন্য মার্কার ছিলো না। অন্য দিন যে থাকবেনা তার নিশ্চয়তা কি!
ঐ হলুদ জার্সির গোলকিপার এনিয়েমাই কিন্তু মেসির সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলো।
মেসির প্রতিভা দেখলাম। আসলেই আর্জেন্টিনার মধ্যভাগের দূর্বলতা চোখে পড়ার মত।
আরেকটা জিনিস খেয়াল করলাম, নাইজেরিয়ার মত দলের সাথে খেলতে গিয়ে যদি রক্ষনভাগের খেলোয়ার নামাতে হয় এত , দ্বিতীয়ার্ধের কথা বলছি, অন্য টিমের সাথে কি হবে ?
আর নাইজেরিয়ায় ভালো একজন স্ট্রাইকার থাকলে আর্জেন্টিনা কয়েকটা গোল খেত বলা যায়।
আর্জেন্টিনা জিতছে ঠিকাছে, কিন্তু এই পারফর্মেন্স নিয়া সেকেন্ড রাউন্ড পার হইতে পারবো বলে মনে হয় না।
আরে ভাই সময়ে সব ঠিক হইয়া যাইবো
আর্জেন্টিনা'ও জিতছে
যূক্তরাষ্ট্র আশাতীত ভালো খেলে ম্যাচ ড্র করলো। রুনিকে বোতলবন্দী করে রেখেছিলো অনিয়ূ। তবে সমতাসূচক গোলের জন্য ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জাবুলানিকে দায়ী করার সম্ভাবনা রাখে। টিম হাওয়ার্ডের দলকে অভিনন্দন।
খুবই শিক্ষনীয় আলোচনা শিখলাম, ফুটবল কাহাকে বলে, কতো প্রকার ও কি কি
মন্তব্য করুন