বাংলাদেশের জিম্বাবে সফর: এসব কিসের আলামত? (১)
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ একটা অপরাজেয় দল, জিম্বাবুয়েতে গিয়ে সফরকারীরা অনায়াশে সব ম্যাচ জিতে নেবে। এর জন্য যদিও আমাদের দলের অধিনায়ক এবং তার ধারাবাহিকতায় দলের সিনিয়র সদস্যরাও দায়ী। দেশে থেকে প্লেনে উঠার আগে তারা নিউজ মিডিয়াগুলোতে সাক্ষাতকার দিতে শুরু করে বাংলাদেশ অল্প খানিকটা হলেও ফেভারিট দুই দলের লড়াইয়ে। আমরাও তাদের বিবেচনায় বিশ্বাস করে বসি। বিশ্বাস করাটা যদিও দোষের না, নতুন নির্বাচক কমিটি, দুইজন প্লেয়ারের কাউন্টি অভিজ্ঞতা কিংবা এক মাসের ফিটনেস ট্রেনিং সব মিলিয়ে বেশ খানিকটা নির্ভরতা তৈরী করতে পেরেছিলো জেমি সিডন্স কাল পিছু ফেলে আসা বাংলাদেশ দল।
অধিনায়কের ফেভারিট বলে ঘোষণা দেয়াতে হয়তো গতো বেশ কয়েকবছরের দ্বিপাক্ষিক সফরগুলোর রেজাল্ট আর আইসিসি রেটিং এই দুই ফ্যাক্টরই সম্ভবতঃ কাজ করেছে। আপাতভাবে এই জাজমেন্ট সঠিক মনে হলেও ক্রিকেটে এমনটা করা যে বোকামি সেটা সফরের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলো জিম্বাবের দ্বিতীয় সারির দলটি। বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ দলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন নি এখনও। এছাড়া স্টুয়ার্ট ল কোচ হিসাবে এখনও পরীক্ষিত সৈনিক নন। ডেভ হোয়াটমোর বা এডি বার্লো যতো সহজে বাংলাদেশকে বুঝে নিয়েছিলেন ল তার চাইতে খানিক বেশি সময় নিতেই পারেন। বাংলাদেশ দলের সাথে যোগ দেয়ার ১০ দিনের মধ্যে তাকে বিদেশ সফরে যেতে হচ্ছে দল নিয়ে, বিষয়টা বেশ অ্যাডভেঞ্চারাস শোনালেও বাস্তবে এই সফরে কোচের কোনো মূল্যায়ণ সম্ভব নয়। তিনি অধিনায়ককে কাছ থেকে দেখেছেন ২ দিন আর সহ অধিনায়ককে পুরোপুরি ফিট পেয়েছেন ৩ কি ৪ দিন। এ প্রসঙ্গে এডি বার্লোর কথা মনে পড়ে। তিনি বাংলাদেশে ল্যান্ড করার ২/৩ ঘন্টার মধ্যেই সেসময়ের কাপ্তান খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে আলোচনার জন্য বলেছিলেন বোর্ডকে। ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্ব বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একটা দল কোন ধরনের অ্যাটিচুডে খেলবে সেটা কোচ বুঝিয়ে দিলেও মাঠে গিয়ে তার একজিকিউশনের দায় পুরোটাই অধিনায়কের। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, নেতৃত্বের ভাষাই ঠিক করে দেবে দলের বাকী সবাই ম্যাচকে কিভাবে নেবে। এর বাইরে স্টুয়ার্ট ল দলকে মাঠে খেলতে দেখেছে মাত্র তিনদিন, যার একদিন আবার বৃষ্টিবিঘ্নিত ছিলো। যে কারণে জাতীয় দলকে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়ানডে স্টাইলেই খেলতে হয়েছে। এমন দোটানায় প্রতিপক্ষেরও সমস্যা হয়। পরিকল্পণা মতো বোলিং, ফিল্ডিং করা সম্ভব হয় না।
অন্যদিকে জিম্বাবে দল বিশ্বকাপের পর থেকেই যেন এই ট্যুরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তাদের কোচ অ্যালান বুচার হাই প্রোফাইলধারী কেউ নন। ইঙল্যান্ডের পক্ষে একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলা বুচারের খ্যাতি ছিলো পেইস বোলিঙ সামলানোতে। অবসর নেয়ার পর তিনি এসেক্স ও সারে কাউন্টির কোচ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোচিঙ ক্যারিয়ারে বলার মতো সাফল্য নেই। বরঙ তার ছেলে মার্ক বুচারের ক্যারিয়ার বেশ ঝলমলে, ইঙল্যান্ডের পক্ষে ৭১ টি টেস্ট আর আটটি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া জুনিয়র বুচারও বছর দুয়েক আগে সবধরনের ক্রিকেট থেকেই অবসর নিয়েছেন। জিম্বাবে দল গতো মার্চে বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে অ্যালান বুচারকে নিয়োগ দিলেও তাদের পরিকল্পণা আসলে একদমই ভিন্নরকম ছিলো। গতো দশকের শেষভাগে মুজাবে সরকারের পতন হলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন বাঁক নেয়। তার সূত্র ধরেই জিম্বাবের স্বর্ণ সময়ের ক্রিকেটাররা দেশে ফিরে ক্রিকেট সঙশ্লিষ্ট দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বর্তমান বিশ্বের টেস্ট র্যাঙ্কিঙের ১ এবং ২ নং দল ইঙল্যান্ড এবং ভারতের কোচ দুজন প্রাক্তন জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার। এ তথ্য থেকেই বুঝে নেয়া যায় কৌশল প্রণেতা হিসেবে প্রাক্তন জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটারদের গ্রহণযোগ্যতা ক্রিকেট বিশ্বময়। শুরুতে একসময়কার খ্যাতনামা ব্যাটসম্যান অ্যালান ক্যাম্পবেল নির্বাচক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তিনি ফিরেই বর্তমানে ইঙল্যান্ডের কোচ একসময়কার বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি ফ্ল্যাওয়ারের ছোট ভাই গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নেন। তাকে দেয়া হয় দলের ব্যাটিঙ কোচিঙের দায়িত্ব। অভিমান করে চলে যাওয়া একসময়কার বিশ্ব কাঁপানো পেস বোলার হিথ স্ট্রিককে নিয়ে আসা হয় বোলিঙ কোচ হিসেবে। পার্শ্ববর্তী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তী অ্যালান ডোনাল্ডও কয়েকবার ঘুরে গেছেন জিম্বাবে শিবির।
পেস বোলিঙে ব্যাটিঙ কৌশল দেখানোতে স্ট্র্যাটেজিশিয়ান অ্যালান বুচার, স্পিন বোলিঙে খেলার জন্য স্পেশালিস্ট গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, পেস স্কোয়াড তৈরীর জন্য হিথ স্ট্রিককে নিয়েই নতুন জমানার জিম্বাবে তার যাত্রা শুরু করে। দলে বর্ষীয়ান রে প্রাইস, তারুণ্যের প্রতিনিধি প্রসপার উৎসেয়া আর সম্ভাবনাময় গ্রেম ক্রেমার এই ত্রয়ী নিলো স্পিন অ্যাটাকের দায়িত্ব। তাদের ব্যাটিঙ নিয়েই বেশি সমালোচনা হচ্ছিলো গেলোবারের বিশ্বকাপে, সবাইকে অবাক করে দিয়ে তারা বিশ্বকাপের সময় খেলে যাওয়া ব্যাটিঙ লাইনআপটাকেই অক্ষত রাখলো প্রায়। কৈশোরে বিস্ময়বালক মাসাকাদজা সব ভুলে ক্রিকেটেই মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ব্রেন্ডন টেলর সবসময়েই জিম্বাবের জন্য প্রয়োজনিয় ছিলেন তাকে দেয়া হোল দলের অধিনায়কত্ব। বিশ্বকাপের ক্যাপ্টেন এল্টন চিগুম্বুরা নিজেই দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। দলের অলরাউন্ডার কোটা তার চাইতে আর কেইবা ভালোভাবে পূরণ করতে পারবে। একসময়কার বিষ্ময় টাটেন্ড টাইবু গতো বেশ কিছুদিন ধরেই ইন ফর্ম। মিডল অর্ডারের খুটি শন আরভিন কাউন্টিতে খেলার জন্য দল ছেড়ে গেলেও তার ছোট ভাই আরেক আরভিন দায়িত্ব নিলেন।
জিম্বাবের ক্রিকেট ইতিহাসে হিথ স্ট্রিক একটি টার্নিঙ পয়েন্ট। তার আগে জিম্বাবে দলে কার্যকরি ফাস্ট বোলার ছিলো না বললেই চলে। তাকে জিম্বাবে ক্রিকেটের সেরা বোলার হিসেবেও ধরা হয়। ফাস্ট বোলিঙের সাথে সীমের উপর বল স্যুইঙ করানোর ক্ষমতার জন্য তার খ্যাতি ছিলো বিশ্বজুড়ে। ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টির অধিনায়ক ছিলেন দীর্ঘদিন। সেই হিথ স্ট্রিকের হাত ধরেই জিম্বাবে ক্রিকেট নিজেদের পাল্টে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলো। গতো মেতেই অ্যালান বুচার ঘোষণা করেন এবার জিম্বাবে দল পেস বোলিঙের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলে আসে প্রাক্তন জিম্বাবুইয়ান বোলার পল জার্ভিসের ছেলে কাইল জার্ভিস আর ক্রিকেট দুনিয়ার নতুন বিষ্ময় ব্রায়ান ভিটোরি। তাদের সদ্য কৈশোর পেরোন তারুণ্যে হিথ স্ট্রিকের নয়নাভিরাম সৌকর্য্যের প্রলেপ পড়েছে গতো তিন মাস ধরে।
টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আগেই রিলায়েন্স বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া এবঙ ভারতকে হারানোর রেকর্ড গড়েছিলো জিম্বাবে। এরপর তারা হয়তো প্রথম সারিতে চলে আসেনি একবারে, কিন্তু ভালো ক্রিকেটের প্রদর্শনি দেখানোর সুনাম তাদের সবসময়। দলে বিশ্বমানের খেলোয়ার এসেছে নিয়মিত ভাবেই। সবদান উল্টে গেলো স্বৈরাচারী মুগাবে সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে। আপাত শান্ত জিম্বাবেতেও সাদা-কালো বিভাজন তৈরিতে নামলো রাষ্ট্র। এর প্রতিবাদে দলের সবচাইতে বিখ্যাত খেলোয়ার অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার কালো ব্যাজ পরে খেলতে নামে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। কেবল এটুকুই হলে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হোত না। অ্যান্ডির সাথে সেসময়কার আরেক খ্যাতনামা ফাস্টবোলার হেনরী ওলোঙ্গাও কালো ব্যাজ পরে। সরকারের রেসিস্ট দৃষ্টিভঙ্গী থাকলেও দল হিসেবে যে জিম্বাবে এককাট্টা ছিলো তার প্রমাণ মেলে এই ঘটনায়। এরপর ধীরে ধীরে অনেকেই দল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে শুরু করেন।
জিম্বাবে ক্রিকেট বদলে যায় একেবারেই আপসাইড ডাউন। ১৮/১৯ বছর বয়সী প্লেয়ারদের নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়া হয় ২১ বছর বয়সী টাটেন্ডা টাইবুর হাতে। শুরু হয় পতনোম্মুখ ইতিহাসের। বাংলাদেশের কাছেও তারা প্রথম টেস্ট সিরিজ হারে অ্যাওয়েতে, আর নিজেদের মাটিতে কোনরকমে ড্র করে সম্মান রক্ষা করে। এমন এক সময় জিম্বাবে ক্রিকেট টেস্ট না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ওয়ানডেতে যদিও নিয়মিত ভাবেই দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের কাছেও সিরিজ খোয়ানোর নজির তৈরি হচ্ছিলো। জিম্বাবে ক্রিকেট যেন অন্ধকারে তলিয়েই যাচ্ছিলো ক্রমাগত। হিথ স্ট্রিকের জিম্বাবেকেও হারানোর কথা ভাবতে পারতো না কখনো বাংলাদেশ। কিন্তু তলিয়ে যাওয়া দিশাহারা জিম্বাবেকে তারা বলে কয়েই হারিয়েছে গেলো কয়েক সিরিজে।
ক্রিকেট স্কিল নির্ভর খেলা। সঠিক পরিচর্যার অভাবে প্রতিভায় মরিচা ধরার নমূণা হরহামেশা দেখতে পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক পরিসরেও। অথচ বাংলাদেশের অধিনায়ক অনুশীলনে গাফিলতি করেন। মকরক্রান্তির হিমেল বাতাস আর ঘাসের উইকেটে খেলতে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ দল খেলেছে জাতীয় দলে জায়গা না পাওয়া কমজোরি পেসারদের। বোলাররা উইকেট নিয়েছে কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রবেশ করতে যাওয়া তরুণদের যারা এখনো এই মানের ক্রিকেটে অভ্যস্ত হয়ে উঠেনি। আর জিম্বাবে তখন বাংলাদেশের লাইনআপে বাহাতি ব্যাটসম্যানের আধিক্য নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত। ব্রায়ান ভিটোরি সেই গবেষণার ফসল। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ব্যাটসম্যানদের শিখাচ্ছিলেন কিভাবে স্পিনারদের খেলতে হয়। প্রস্তুতিমূলক টূর্নামেন্ট আয়োজন করে খেলছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার এ দলের সাথে। যাদের শক্তি কোনমতেই বাংলাদেশের চাইতে কম নয়।
এরসাথে যুক্ত হলো আরেক উৎকট সমস্যা। দুই কাউন্টি ফেরত অধিনায়ক আর সহ-অধিনায়কের
পায়াভারী আচরণ। মাত্র আসা বিদেশি কোচের সাথে দুজনই বাকবিতন্ডাতে গিয়েছে এরমাঝেই। বেশ কয়েক রকমের গুজব বাতাসে ভাসতে শুরু করেছে। দলে বিকেএসপি বনাম অবিকেএসপি খেলোয়ারদের দ্বন্দ্ব, নবীন বনাম প্রবীণের দ্বন্দ্ব, কাউন্টি ফেরত বিশ্বমানের ক্রিকেটার আর নিয়মিত সাধারণ সদস্যদের দ্বন্দ্ব, বির্বাচকদের সাথে অধিনায়কের দ্বন্দ্ব, প্রাক্তন অধিনায়ক আর বর্তমান অধিনায়কের দ্বন্দ্ব। এরমধ্যে একটি দ্বন্দ্ব-সংঘাতও খেলার কোন বিষয় নিয়ে নয়, দেশের রাজনীতির মতই ক্ষমতা কে পাবে তা নিয়ে চলছে গ্রুপিঙ। নতুন জমানার বাংলাদেশি ক্রিকেটের ঝান্ডাবাহি সাকিব আর তামিমের সাথে নিয়তই সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এই যেমন দুটি ওয়ানডেতে হেরে যাওয়ার পর সাকিব টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে থোড়াই কেয়ার করে একটি দল সাজালো। খেলার রেজাল্টও প্রায় পাল্টে গিয়েছিলো বলে। কিন্তু বাস্তবতা যেন ভিন্ন কিছুর কথা বলে। তৃতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবে দল পেস আর স্পিনের মিশেলেই দল নামিয়েছিলো। বাংলাদেশ দল খেললো একজন স্পেশালিস্ট স্পিনার নিয়ে, ওপেনিঙ স্পেলে পেসাররা তাদের উপর রাখা আস্থার প্রতিদান দিলো ঠিকই, কিন্তু অফ স্পিনার নাসির হোসেনকে দিয়েও যখন স্লো মিডিয়াম পেস করানোর চেষ্টা করা হোল তখন সেখানে কোন ক্রিকেটিয় যুক্তি খাটেনি সেটা বলে দেয়া যায় অনায়াশে। শফিউল উইকেট পেলেও আসল চাপটা তৈরি হয়েছিলো নাজমুলের বোলিঙে, যে নাজমুল সবসময়ই যে ম্যাচ খেলে তাতেই পারফর্ম করলেও কখোনই দলে নিয়মিত হতে পারেনি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলে ফেললেন সাকিবের আস্থাভাজন হিসেবে অথচ জিম্বাবের ফাস্ট বোলারদের স্যুইঙে তার দুর্বলতা ফুটে উঠছিলো প্রতি মুহুর্তে।
ইমরুল কায়েসকে টেস্ট-ওয়ানডে সব দলে রাখা হোল কিছু একটার সম্ভাবনায়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবাই জানে ইমরুল কায়েসের টেস্ট পারফর্ম্যান্স জুনায়েদ সিদ্দিকির চাইতে বেশ খারাপ। শেষ ওয়ানডেতে জুনায়েদকে খেলানো হোল শাহরিয়ার নাফিসের বদলী হিসেবে, যদিও দলের ব্যর্থ তারকা তামিমের চাইতে নাফিসের ব্যাটিঙ তুলনামূলক ভালোই হচ্ছিলো।
বাংলাদেশ ক্রিকেট একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আমরা আশা করবো এই মন্দার সময় খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। যথাসময়ে বিসিবি সব ঝুটঝামেলা নিরসনের উদ্যোগ নেবেন। স্টুয়ার্ট লয়ের কোচিঙ অভিজ্ঞতা কম হতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, অস্ট্রেলিয়া আর ইঙল্যান্ডের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তার খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সঠিক পথটি দেখিয়ে দিতে পারবেন আশা করা যায়। তার নেতৃত্ব গুণের সুখ্যাতি আছে। এবারো লয়ের ধরা হালে আমরা পেরিয়ে যাবো বাধার সাগর-বিপত্তির পাহাড়। আধুনিক বিসিবি'র কার্যকরি পদক্ষেপ তার সুচিন্তিত কৌশলের ভিত গড়ে দেবে শক্ত করে।





যাক কেউ একজন খেলা নিয়া একটা পোস্ট দিল
আমি সবসময় খেলার আগে গলা ফাটানোর বিরোধী। কারণ ৯০ % ক্ষেত্রে যারা বেশি কথা বলে খেলার পরে তাদের মুখ লুকানোর জায়গা থাকে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্রান্তিকাল ছিলনা কবে?
ধন্যবাদ, এমন একটা পোস্ট দেয়ার কথা আমিও ভাবছিলাম। বিশ্লেষণ মোটামুটি ঠিক আছে।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আসলে প্র্যাকটিস করেনা এখন ঠিকমতোন।
এতো বিরাট বিশলেষনেও খেলার যা রেজালট, বিনা বাক্য ব্যয়েও তাই। এতোদিন ধরে খেলে কিনতু এখনো কোন সট্যটাস হলো না। এদের কে এখন পরিত্যাগ করার সময় এসেছে।
বাংলাদেশের অন্য সেকটরে যা অবসথা ক্রিকেটেরও তাই। কোন ভিততি নাই, তলা ছাড়া ঝুড়ি
মন্তব্য করুন