খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে! ৯
নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান
একটা ব্যাপার আমার কাছে খুব লক্ষ্যনীয় মনে হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে, তাহলো কোন দলেই সেই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারটি নেই যে মধ্যমাঠে বল ধরে সারা মাঠ একবার তাকিয়ে দেখে নেবে। তারপর কয়েক পা আগে বেড়ে তৈরী হবে একটি সেটপিস। যেমন গতো খেলাতে নেদারল্যান্ডস কিংবা জাপান কোনো দলেই এমন কাউকে চোখে পড়েনি। ভ্যান পার্সি কিংবা বদলি হিসেবে নামা এলিয়াও স্ট্রাইকিঙে বেশ ভালো। কিন্তু মধ্যমাঠের রোবেন'কে খুঁজে ফেরে চোখ। সেই রোবেন আজকের খেলাতেও অনুপস্থিত। গতোম্যাচে নজর কাড়তে ব্যর্থ স্নেইজার যদি দায়িত্বটা আজকে যথাযথ পালন করে। নেদারল্যান্ডসের প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানের আগের খেলা দেখে মনে হয়েছে তারা পুরোপুরি কাউন্টার এটাক নির্ভর যেকোনো দূর্বল দলের মতোন। কিন্তু প্রথম খেলায় গোল করার সাফল্যে যদি আজকে আক্রমণে চলে যায় তাহলে তাদের পরিণতিও দঃ কোরিয়ার মতোন হবে। তবে জাপানের হোন্ডা এবং তুলিও'র খেলা আসলেই চোখে পড়েছে। খেলায় রেফারী কোন উপলক্ষ্য না হলে কিংবা কোনো দূর্ঘটনা না ঘটলে নেদারল্যান্ডস জিতে যাবে নিশ্চিত। সেটা বেশ কয়েক গোলের ব্যবধানেই হওয়াটা বাঞ্ছনীয়।
ঘানা বনাম অস্ট্রেলিয়া
আগের খেলায় ঘানার মাইকেল এসিয়েনের অভাবটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গেছে। তবু আপিয়াহ দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে, সুলে মুনতারি সারা খেলায় এবং আসামোয়াহ গিয়ান গোল করে তাদের জাত চিনিয়ে দিয়েছে। ঘানা'র খেলায় ইউরোপিয়ান ছোঁয়াটা অনেক বেশি। রক্ষণভাগ জমাট করে মাঠ বড় করে খেলে তারা। উইঙে খেলা সুলে মুনতারি গতো খেলায় সার্বীয়ানদের বেশ যন্ত্রণা দিয়েছে, আশা করি টিম কাহিল ছাড়া অস্ট্রেলিয়া তাদের সাথে সার্বদের মতোন পাল্টা আক্রমণটাও খুব ভালো করতে পারবে না।
আমি ঘানার পক্ষে বাজী রাখছি একটা একচেটিয়া ম্যাচের প্রত্যাশায়।
ক্যামেরুন বনাম ডেনমার্ক
স্যামুয়েল ইতো নিশ্চিত আজকে খানিকটা নেমে খেলবেন। গতোখেলায় জাপানের মার্ক করে খেলার প্রবণতায় ইদ্রিসু কিংবা ইমানা কেউই খুব একটা জায়গা নিয়ে খেলতে পারেনি। ডেনমার্ক এই একই কৌশলে জাপানের চাইতে দক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আর সে কারনেই ইতোকেই নিতে হবে একটা বড়ো দায়িত্ব। তার নাম ভাঙিয়ে হলেও ব্যস্ত রাখতে হবে অন্ততঃ দুজন রক্ষণকর্মীকে। যাতে ডেনমার্কের গোলমুখ একটুখানি খালি হয়। কেবল দূর থেকে জানবাজী রাখা শটে গোল করার প্রয়োজন না পড়ে তাদের। একই কথা বলা যায় ডেনমার্কের ক্ষেত্রে। নেদারল্যান্ডসের চাইতে শরীরি ক্ষমতায় ক্যামেরুন এগিয়ে থাকা দল। উচু বলে ক্যামেরুনকে গোনায় ধরতে হবে। আগের খেলার মতোন ডেনমার্ক বল উড়িয়ে খেলতে গেলে বিপদে পড়তে হবে।
এ খেলাটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ক্যামেরুন আজকে মরনকামড় দিতে চাইলে ফলাফলা ভিন্নও হতে পারে।





প্রথম খেলায় আমাকে অবাক করে দিয়ে জাপান বেশ ভালো খেলেছে। যদিও বল পজেশনের হিসেবটা তাদের খেলাকে যথাযথ মূল্যায়ণ করেনা। জাপানের খেলাতে পরিকল্পনা আর গতির ছোঁয়া ছিলো বেশ। যে বিষয়টার অভাব বোধ করছিলাম তুলিও একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হয়ে সে ভূমিকাটা নিয়ে নিয়েছে প্রায়শই। যার হাতে এই দায়িত্বটি ছিলো সেই নাকাজাওয়াও বেশ কিছু বল ডিস্ট্রিবিউট করেছে মধ্যমাঠ থেকে। এগ্রুপ থেকে জাপান দ্বিতীয় রাউন্ড না যেতে পারাটা তাদের জন্য অবিচারই হবে। নেদারল্যান্ডসের খেলায় তেমন কোন চমক নেই। চিরাচরিত ইউরোপিয়ান ফুটবল খেলেছে তারা। এর চাইতে ভালো ফুটবলের প্রত্যাশা তাদের কাছে দর্শকদের রয়েছে।
দ্বিতীয় খেলায় ঘানা হতাশ করলো। আজকের খেলায় কোনো খেলোয়াড়কেই ডি বক্সের সামনে গিয়ে পাস দিতে দেখা যায়নি। সবাই যেনো ব্যস্ত ছিলো গোলে শট করতেই। গোটা দুয়েক পোস্টের ভেতর ছিলো যার প্রত্যেকটি গ্রিপ্ড হয়েছে গোলকিপারের। সে তুলনায় অস্ট্রেলিয়া টিকে থাকার লড়াইয়ে পাল্টা আক্রমণে এসেছে যার একটি থেকে জাবুলানি এবং গোলরক্ষকের দায়ে গোলও পেয়ে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার হোলম্যান-ব্রেসিয়ানো বেশ ভালো খেলে আক্রমণে গেছে। ঘানার মধ্যমাঠের আসামোয়াহ ভালো খেলে বাজে পাস বাড়িয়েছে নাহলে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়েছে গোলে। খেলায় গতি ছিলো বলে উত্তেজনা ছিলো। কিন্তু গতিময় ফুটবল মানেই যে ভালো ফুটবল নয় সেটা বোঝা গেছে পদে পদে।
বেশ আর কয়টা? দেখি বিষুদবারে কি করে
(
মন্তব্য করুন