খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে! ৮
জার্মানী বনাম সার্বীয়া
প্রথম খেলার খেলার আগের রিভিউতে আমি জোয়াকিম লো'র তত্ত্বাবধানে জার্মানীর পাল্টে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। সেই পুরনো জার্মানী যাদের খেলাটা একজন শক্তসামর্থ্য লিবেরো'র পায়ে শুরু হতো। মাঝমাঠে এসে এগিয়ে যাওয়া উইংব্যাককে পাস, প্রতিপক্ষের প্রান্তীয় ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে একটি উচু ভলিতে মাইনাস। একজন লম্বা এবং একজন সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার তখন অপেক্ষায় আছে গোলপোস্টের সামনে যার ভাগ্যে জোটে গোল করার সুযোগ। কিন্তু নতুন জার্মানী'র মেৎজি কিংবা ম্যূয়েলার ডি বক্সের সামনেও দু'তিনটে পাস অনায়াশে খেলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে এলোমেলো করে দিতে পারে। যে সুযোগে কখনো উইং কখনো সেন্ট্রাল মিডফিল্ড যে কেউ গোলে শট নেয়ার জায়গাটা পেয়ে যায়। প্রথম খেলায় জার্মান আর আর্জেন্টিনা তাদের দ্বিতীয় খেলায় কেবল এই ঘরানার সৃজনশীল ফুটবল খেলেছে। প্রতিপক্ষ হিসাবে অস্ট্রেলিয়া আর সার্বরা অবশ্য একই স্তরে অবস্থান করে না। সার্বদের রক্ষনভাগে ম্যানইউ'র নেমোনিয়া ভিদিচ ও চেলসি'র ইকানোভিচকে কয়েকটা পাসে হয়তো টলানো যাবে না। মধ্যমাঠেও শোয়েইনস্টেগারকে আগের দিনের চাইতে ভালো খেলতে হবে স্ট্যানকোভিচের সাথে লড়াই করে মধ্যমাঠ দখলে নিতে। বালাক বল পায়ে আরো খানিকটা উঠে গিয়ে তার টেরিটরি আরো খানিকটা বড়ো করে নিতো, শোয়েনস্টেগার যেহেতু বালাকের বদলি হিসাবেই দলে এসেছেন তাকে সেই দায়িত্বটাও নিতে হবে। জার্মানী আগের দিনের মতো খেলতে পারলে এ ম্যাচেও হয়তো একটি সহজ জয়ই পাবে, তবে সার্বদের সাথে আগের দিনের মতোন খেলাটা অতো সহজ হবে না।
প্রেডিকশান: জার্মানীরা জিতবে ২ - ০ গোলের ব্যবধানে।
যুক্তরাষ্ট্র বনাম স্লোভেনিয়া
প্রথম খেলায় যূক্তরাষ্ট্রের খেলা আমার ভালো লেগেছে। ইংল্যান্ডের কোন খেলোয়াড় সেদিন কোন জায়গাতেই আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। অধিনায়ক স্টিফেন জেরার্ড খুবই সুন্দর একটি গোল দিয়েছিলেন, কিন্তু তার মূল দায়িত্ব হিসাবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে নি টানা। ডনোভানের সাথে তার লড়াই অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ডনোভানও ঐ খেলায় একটি গোল করেছিলো। যূক্তরাষ্ট্র কাউন্ডার এ্যাটাক নির্ভর খেলে। তবে তাদের গতি এবং বল পজেশন নেয়ার সার্বক্ষণিক চেষ্টা কখনোই প্রতিপক্ষকে স্বস্তিতে থাকতে দেয় না। অন্য দিকে স্লোভেনিয়া একই ধরনের ফুটবল খেললেও তাদের খেলায় গতির অভাব রয়েছে। যূক্তরাষ্ট্রের জযি আল্টিডোরকে থামানো কঠিন হবে তাদের জন্য।
যূক্তরাষ্ট্র মিনিমাম ব্যবধানে হলেও এ খেলায় জয়ী হবে।
ইংল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া
ইংল্যান্ড খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আমরা সবাইই একটু বেশি জানি। বার্ক্লে লীগের প্রতিটি খেলাই টিভি চ্যানেল ইএসপিএন কিংবা স্টার স্পোর্টসের মাধ্যমে আমাদের নিজেদের এলাকার খেলা হয়ে যায়। আর তাই ইংল্যান্ডের সব প্লেয়ার আমাদের চেনা। গতো খেলায় এমিল হেস্কি কিংবা রুনির খেলা দেখে আমার কাছে তাদের অচেনা মনে হয়েছে পুরোপুরি। এমন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাম্ভিক আচরণ লীগের কোন খেলাতে দেখিনি আগে। হতে পারে কোচ ফ্যাভিও ক্যাপেলো'র ফর্মেশনে এটাই নির্ধারিত হয়েছে। মধ্যমাঠে ল্যাম্পার্ড আর জেরার্ডের বোঝাবুঝিতে মনে হয় জড়তা রয়ে গেছে এখনো। এই দলে বেকহ্যামের সুযোগ মিলতো কিনা জানিনা। কিন্তু ইংল্যান্ড দলে একজন বেকহ্যামের প্রয়োজনিয়তা টের পাওযা যায়। লেননের খেলা আমার ভালো লাগেনি, বিশ্বকাপের অনেকদলেই লেফট উইঙ্গার পজিশনে এর চাইতে ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া হেরে গেলেও তাদের খেলা আমার খুব একটা খারাপ লাগেনি। করিম জিয়ানি দলকে মাঝমাঠে বেশ ভালো্ই পরিচালনা করেন। তবে ইয়াহিয়াকে রিও ফার্দিনান্দের অনুপস্থিতিটা কাজে লাগাতে হবে আজকে। জিদানের দেশ আলজেরিয়াকে আজকের খেলায় জয়ী দল হিসাবে ভাবতে একটু কষ্ট হলেও পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনাকে আমি উড়িয়ে দিতে পারছি না।





চমৎকার বিশ্লেষণ ... ইংল্যান;ড দলের যেই দশা, আলজেরিয়ার পাওয়ার ফুটবলের কাছে হেরে বসলেও আমি ওটাকে অঘটন বলবোনা।
The Dog Who Saved the World Cup for England
চমতকার বিশ্লেষন আকজেরটা্ও। পুরোটাই একমত।
একমত উইথ বিশ্লেষক
এই বিশ্লেষক ব্যাডাটা কে???????আমি তার একখান অটোগ্রাফ নিতাম চাই????????
আজকে পুরা একমত.।.।.।.।।।
আজকের খেলার রেজাল্ট এমনেই বলা যায়। তবে ইংল্যাণ্ড দলে বেকহ্যামকে আসলেই মিস করছি...আমার খুব প্রিয় খেলোয়াড়
ভাই, আপনার প্রথম প্রেডিকশন তো বিশাল ফ্লপ হয়া গেল ...
জার্মানী এবং সার্বীয়া'র খেলার বিশ্লেষণে আমি বলেছিলাম সার্বীয়ানদের সাথে খেলাটি জার্মানদের জন্য খুব সহজ হবে না। সার্বীয়ান খেলোয়াড়রা যতোটা না খেলেছে তার চাইতে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মার্ক করে রেখে জার্মানদের খেলাটাকে এলোমেলো করেছে বেশি। যে কারনে শোয়েনস্টেগার কখনোই স্ট্যানকোভিচের সাথে মধ্যমাঠে পেরে উঠেনি। ছয় ফিটোর্দ্ধ সার্বীয়ানরা সবক্ষেত্রেই শরীরের সুবিধা নিয়েছে। মেৎসু ওজিল ড্রিবলের জন্য মার্কার থেকে বের হতেই পারেনি। পোডোলস্কিকে দলে নেয়াটাই প্রশ্নসাপেক্ষ ছিলো কোচ ইয়াকিম লো'র জন্য। গতো খেলায় একটি গোল করলেও আজকের খেলায় সে পেনাল্টি শ্যুট থেকেও গোল করতে পারেনি। গোলরক্ষকের গায়ে মেরে নষ্ট করেছে।
তবে আজকের স্প্যানিস রেফারী খেলার প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই ৬টি হলুদ কার্ড দেখিয়ে খেলার গতিকে নষ্ট করে দিয়েছেন। যেটার সুযোগ নিয়েছে সার্বীয়রা। মিরোস্লাভ ক্লোসার লাল কার্ডের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলোমেলো জার্মানদের ডিফেন্স ভেঙে গোল পেয়ে যায় সার্বীয়া।
জার্মানির সাথে সার্বরা মূলত কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলেছে,বলা যায় ওদের কৌশলেই বাজিমাত করেছে।একটা ব্যাপার,ক্লোসার রেডকার্ডের আগেও কিন্তু মিডফিল্ডে শোয়ান্সটেইগার আর খেদিরাকে খুব স্বচ্ছন্দ মনে হচ্ছিলনা,ওদিকে অবশ্য ক্রাসিচ খেলেছে দুর্দান্ত,তাকে সামলাতে বাডস্টুবারকে বারবার বেগ পেতে হয়েছে।তবে বলতেই হবে,অস্ট্রেলিয়ার সাথেও তারা একই ঘরানায় খেলবে।
দ্বিতীয় ম্যাচটি বিশ্বকাপের সবচ্বে উপভোগ্য ম্যাচ হয়েছে বলা যায়,আক্রমণ প্রতিআক্রমণ পুরো খেলাতেই ছিল,তবে শেষ দিকে একটি গোল বাতিলের কারণে ইয়াঙ্কিরা নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারে।
শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার কাছ থেকে প্রতিরোধ আশা করছি,দেখা যাক ইংল্যাণ্ড ফেভারিটের তকমার প্রতি সুবিচার করতে পারে কিনা।
শোয়েনস্টেগার মূলতঃ বালাকের জায়গাটিতে খেলছেন। ইয়াকিম লো'র মূল পরিকল্পনায় বালাক ছিলেন একটি বড় স্তম্ভ। যদিও মাইকেল বালাকের মতোন খেলোয়াড়কে স্থলাভিষিক্ত করাটা এতো
সহজ নয় এবং শোয়েন্স্টেগার সে দায়িত্ব পালনে বলা যায় ব্যর্থ।
যূক্তরাষ্ট্র এবং স্লোভেনিয়ার ম্যাচে রেফারী আদতেই খুব বাজে পরিচালনা করেছেন। গোলটি কি
কারনে বাতিল করা হোলো তা একেবারেই বোঝা যায়নি।
পরের খেলাটি আকর্ষণীয় হবে এটা নিশ্চিত। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
ম্যারাডোনা, পেলে, ম্যাথিয়াসদের প্রেডিকশানও ভুল প্রমাণিত হয়। নিজেকে নিশ্চিত ঐ পর্যায়ের কেউ ভাবতে পারি না। আমি কেবলি একজন ফুটবলপ্রেমী দর্শক যার খেলার নিয়ম এবং ফর্ম্যাটের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, সাথে আছে যেকোনো পর্যায়ের খেলা দেখার অপরিসীম আগ্রহ। আর তাই আমার প্রেডিকশান নিয়ে ভাবিনা। তবে আমার সাকসেস রেট এখন ৭০+% এটা কিন্তু প্রেডিকশানের ক্ষেত্রে অনেক বড়ো সাফল্য :)।
বিশ্লেষক সাহেব আজকে ধরা
মন্তব্য করুন