খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে! ৩
আজ সরাসরি আলোচনায় চলে যাই।
আলজেরিয়া বনাম স্লোভেনিয়া:
যদিও যুগোস্লাভ ফুটবলের অংশ হিসাবে স্লোভেনিয়ার ফুটবল থেকে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিলো বিশ্ব ফুটবলামোদীদের, কিন্তু স্লোভেনিয়া জাতীয় দলের ফুটবল কখনোই সে প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি। যুগোস্লাভিয়ার ফুটবল ইউরোপীয় শক্তিময় ফুটবলের বাইরে এসে কি করে জানি দৃষ্টি নন্দন হয় গিয়েছিলো। রুমানীয়দের মতোন যে কারনে যুগোস্লাভরাও কোন কাপ না জিতেও ফুটবল পরাশক্তি হিসাবে পরিগণিত হতো। অন্যদিকে স্লোভেনিনরা এখনো খেলে ছয় ফুটের উপর লম্বা স্ট্রাইকার সামনে রেখে। যারা শারিরীক সক্ষমতায় এগিয়ে যেতে পারলেই কেবল দল জিততে পারে। অথচ গতোকালকের খেলার পর নিশ্চিত আপনারাও বুঝে গেছেন শরীর দিয়ে ফুটবল খেলার দিন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আফ্রিকান ফুটবলাররাও তাদের স্কিল সামর্থ্যেই ফুটবল বিশ্বে নাম করছে। শরীর দিয়ে নয়। স্লোভেনিন ফুটবলারদের বিদেশ যাত্রার প্রবণতা দেখলেই বোঝা যায় তাদের ফুটবলের মূল কৌশল। মূলত জার্মান আর ইতালীয় লীগেই তাদের ঠাই মেলে। যেখানে কাউন্টার এটাক নির্ভর শরিরী খেলার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। ডিফেন্সে মিসো ব্রেকো আর বোজান জোকিচ মূল ভরসা। দুজনেই খেলেন জার্মান লীগে। তারা লম্বা পাসে বল হিট করবেন মিলিভোজে নোভাকোভিচের উদ্দেশ্যে। খেলার ধরনে গ্রীসের চাইতেও তারা বেশি ইউরোপীয়। এর কারণ এই কৌশলে গ্রীক খেলোয়াড়দের চাইতে তাদের পারঙ্গমতা খানিকটা বেশি বেশি।
আলব্যেয়ার ক্যামু আলজেরীয় দলের গোলকিপার ছিলেন। এই তথ্য আপনাদের কাছে কি অর্থ বহন করবে জানিনা, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় আলজেরীয়রা সবসময়েই সংগ্রামী জাতি। চিন্তার সৌকর্য্যে তারা বেশ এগিয়ে, সাথে আফ্রিকান শক্তিশালি দেহ সৌষ্ঠবটাও রয়েছে। ৮২'এর বিশ্বকাপে তারা অভিষেক ম্যাচে হারিয়েছিলো জার্মানদের। তাদের দলগত মধ্যমাঠ নির্ভর খেলা অবশ্যই স্লোভেনিনদের চাইতে দেখতে ভালো লাগার কথা। প্রস্তুতি ম্যাচে পরাজয়ের খবরগুলো বাদ দিয়ে বিশ্লেষণ করলে এই খেলায় ডিয়ামেল আবদুন আর করিম জিয়ানির দল আলজেরিয়ার জিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখছি। তবে অনিয়মিত বিশ্বকাপারদের প্রথম খেলা শুধুমাত্র নার্ভাসনেসের জন্যই ড্র হয়ে যায় বলে সে অপশনটাও খোলা রাখতে চাই। আমার বাজী আলজেরিয়ার পক্ষে।
সার্বিয়া বনাম ঘানা:
সার্বিয়রাই অফিসিয়ালি যুগোস্লাভীয় ফুটবলের উত্তরসূরী। স্লোভেনিয়ার মতো যে কারনে সার্ব ফুটবলে কেবল শক্তি কিংবা দৌড়াদৌড়ি দেখবেন না। তারা মধ্যমাঠে দু'তিন পাসের পর থ্রু বাড়ানোতেও মনোযোগী দল। উইং নির্ভরতায়ও পিছিয়ে নেই। যদিও গতো বিশ্বকাপে তাদের ফলাফল খুব একটা ভালো ছিলো না সব ম্যাচ হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই তারা বাদ পড়ে গিয়েছিলো। শক্ত জমাট রক্ষণভাগ তাদের সম্পদ। বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নেমোনিয়া ভিডিচ ভালোভাবেই আগলাবেন ডি বক্স। মধ্যমাঠে লিভারপুলে খেলা জোভানোভিচ আর আক্রমণে অভিজ্ঞ মার্কো প্যানটোলিচ এই হলো তাদের খেলার ভরকেন্দ্র। তবে কৌশল হুটহাট পাল্টে ফেলার বদনাম রয়েছে তাদের।
বর্তমান বিশ্বে আফ্রিকান ফুটবলের যেই সম্ভাবনা, তার পথ তৈরীতে ঘানার নাম আসবে প্রথম দিকে। অলিম্পিক মার্সেইতে খেলা আবেদী পেলের ড্রিবল সারা পৃথিবীকেই নাচিয়েছিলো নব্বইয়ের দশকে। তার নেতৃত্বে ঘানা'র ফুটবলের সৌন্দর্য ছড়িয়েছে সারা বিশ্বময়। যূব ফুটবলে ঘানার অবস্থান এখনো বেশ শক্ত, কিন্তু বড়দের আসরগুলিতে তারা খুব একটি সুবিধা করতে পারেনি কখনো। এবারের আসরে আসার আগে তাদের এমুহুর্তের সবচাইতে খ্যাতিমান খেলোয়াড় বিলাতী ক্লাব চেলসির মাইকেল এসিয়েন ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে দল থেকে বিদায় নিয়েছেন। তবে অধিনায়ক আপিয়াহ্ কিংবা ইন্টার মিলানের সুলে মুনতারিরাও দলের মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ভালোই ধরেন। স্ট্রাইকিংসাফল্যে ঘানা অন্যান্য আফ্রিকান দলের চাইতে এখন ভালো অবস্থানেই আছে। আইভরি কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবার মতোন নির্ভরতা না হলেও ফ্রান্সের রেনেতে খেলা আসামোয়াহ গিয়ান প্রতিপক্ষকে ভালোই ভোগানোর ক্ষমতা রাখে। ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার জাতীয় দলের হয়ে ৩৮ ম্যাচে ইতিমধ্যেই ১৯টি গোল দিয়েছেন।
এই খেলায় আমি বাজী ধরবো ঘানার পক্ষে। তবে ফলাফল ড্র হলেও অখুশী হবো না একেবারেই।
জার্মানি বনাম অস্ট্রেলিয়া
সুনির্দিষ্ট এই খেলা নিয়ে আমি তেমন কিছু বলতে চাই না। জার্মানীরা তাদের খেলার ধরণটাকে পাল্টেছে অনেকখানি। আর অস্ট্রেলিয়ার টিম কাহিল ছাড়া আর কারো খেলা আমার কখনোই চোখে পড়েনি। আমি জার্মানীর পক্ষে বাজী ধরতে চাই এ খেলাতে।
আবার দেখা হবে আগামিদিন। মেতে উঠুন বিশ্বকাপে, মাঠ গরম তাপে ও চাপে।





প্রত্যেক দিন আপনার এই বিশ্লেষণ গুলি একটা চমৎকার পাওয়া। পরিশ্রমী তথ্যপূর্ণ ও অর্থ বহুল (এ পর্যন্ত বেশির ভাগ মিলে যাচ্ছে)।
ঘানাকে সাপোর্ট দিব আজ।
ধন্যবাদ হাসান রায়হান। আজকাল ক্রীড়া বিশ্লেষণ অনেকটাই বিজ্ঞান, যেকারনে অধিকাংশ তথ্য মিলে যায়। জয়তু ফুটবল!
আজকের খেলায় বাজি ধরবো না। তবে চাই ঘানা জিতুক। আর অস্ট্রেলিয়ারে সাপোর্ট করতাছি, দেখি কি হয়
টিম কাহিল মনে হয় নাই, ইনজুরি 
টিম কাহিল খেলেছে গতকাল। যদিও তাকে মেক্সিকান রেফারী যেভাবে লাল কার্ড দেখিয়েছেন সেটা আমার ভালো লাগেনি।
জার্মানি বনাম অস্ট্রেলিয়ার খেলা নিয়া এত্ত কম লিখলেন !!
আলজেরিয়ার মেয়েরা শারিরীক ভাবে বড়সরো , সুন্দরী ও শক্তো মক্তো হলেও আচরনে কেমন জানি কাঠকোট্টা, সেই তুলনায় স্লোভেনিয়ার মেয়েরা মাশাল্লাহ

আমি এই খেলায় নিরেপক্ষ।
সার্বিয়ার মেয়েরা সেইরকম হয়। খুল্লাম খুল্লাম সুন্দরি। এদের ভালো পাই। ঘানার কোনো মেয়েকে সাথে মিল মহব্বত বা পরিচয় হয় নাই বলে জানা হয়নাই কেমন এরা।
এই খেলায় আমি ঘানা।
জার্মানির মেয়েরা
রোবোটাকৃতির বিশালাকায় সুন্দরি। অজিদের কথা আর কি বলবো, চোখের সামনেইতও কত
। আমি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বেট রাখছি। ৫ ডলার 
সুমন ভাইয়ের বিশ্লেষন ও মাশাল্লাহ।
অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছিলো, অনেক কাহিনী মনে পড়ে গেলো কিন্তু চাইপা গেলাম
কিছু বলেন পিলিজ @ তাতা
৫ ডলার ফেলো @ মাসু
আপনে ইনসিস্ট করাতেই বলতেছি, নইলে আমি আবার ঐরকম না
আগে ব্যাডমিন্টন খেলতে যেতাম একটা ক্লাবে। সেখানে কতোগুলো আবিয়াইত্তা ইন্ডিয়ান আইটি ইঞ্জিনিয়ার ছিলো। এরা একবার স্পেন বেড়াতে গেলো। আমি এদেরকে বেড়াইয়া আসার পর ভদ্রতা করে জিজ্ঞেস করলাম, হাউ ওয়াজ ইউর স্পেন ট্যুর? সারাক্ষন উচ্ছসিত গলায় বললো, ইউ নো দি স্প্যানিশ গার্ল ......।।
স্পেন ট্যুর সম্বন্ধে এর বেশি কিছু জানতে পারি নাই
ওকে আংকেল
সব মিল্লা ২০ ডলার হারছি 
আলজেরিয়া এবং স্লোভেনিয়া বাদে বাকী খেলাগুলোর প্রেডিকশান মিলে গেছে গতকালের খেলার। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
মন্তব্য করুন