খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে! ৭
আর্জেন্টিনা বনাম দঃ কোরিয়া
ব্যক্তিগত ভাবে আমি নব্বই দশকের ৩-৫-২ ফর্মেশনের ভক্ত। ঐ আমলে এই ফরম্যাটটাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলো যে কয়টি দল তারাও হয়তো আর ঐ ফরম্যাটে খেলে না। বর্তমান বিশ্বে রক্ষনাত্মক হয়ে ওঠার বদনাম কেবল ব্রাজিলকে নিতে হলেও, বাস্তবতা হলো সব দলই কম বেশি রক্ষণভাগ জমাটবদ্ধ করেই খেলে। তবে উইথড্রয়াল ডিফেন্ডাররা এখন খ্যাতি পান বেশি। একসময় যেটি ছিলো উইংব্যাকদের একচেটিয়া সম্পত্তি এখন তাতে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররাও ভালোমতোই ভাগ বসাচ্ছে। ৩-৫-২ ফরম্যাটটিকে একটু পরিবর্তন করেই আসলে ৪-৩-২-১ বা ৩-১-৩-২-১ এভাবে পরিকল্পনা সাজান যুদ্ধজয়ী কোচেরা। বিশ্বখ্যাত ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা দু'দলই খেলে ৪-৩-২-১ এই ফরমেশনে। একটু নীচ থেকেই শুরু করে তাদের স্ট্রাইকিং ট্রায়োর প্রথম দুজন। মধ্যমাঠের শক্তি বাড়াতেই এটা করা হয়। কিন্তু প্রথম খেলায় আর্জেন্টিনার খেলাতে মেসি'র শিল্পময় ড্রিবল কিংবা তেভেজের পুশ-প্রেস করে খেলার কৌশলে নাইজেরিয়াকে খুব একটা কাঁপানো গেছে বলে আমার মনে হয় নি। মেসি গোল পোস্টে যে কয়টি শট নিয়েছে তার কয়টি গোলকিপার আসুরিক ক্ষমতায় ফিরিয়েছে সেটা বিবেচনা করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন। বেশিরভাগ লাস্ট কিকই হয়েছে আড়াআড়ি গোল রক্ষকের গ্রীপাভিমুখী। এমনকি দু'একটা ব্যতিক্রম ছাড়া ফিস্ট করাতেও আগ্রহী মনে হয়নি এনিয়েমাকে। আজকের খেলাতে যদি একই কৌশলে খেলে আর্জেন্টাইনরা, তাহলে তাদের একই সমস্যায় বা অধিকতর সমস্যায পড়তে হবে। কারণ দঃ কোরিয়ানরা ডিফেন্সটাকে নাইজেরিয়ার চাইতেও জমাট এবং গতিময় রাখে। কেবল জার্মানীর খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণকেই আমার কোরিয়ানদের চাইতে ভালো মনে হয়েছে। মার্শাল আর্টের মতোন শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণটাও কোরিয়ানদেরই বেশি। তবে এতোকিছু আমি আর্জেন্টিনা দলকে খাটো করার জন্য বলছিনা। বরং ভেরন হীন দলটাকে যে আজকে গোল পেতে গতোদিনের চাইতেও কষ্ট পোহাতে হতে পারে তার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি বলে আমি খানিকটা শংকিত। মেসির মার্কার হিসাবে দঃ কোরিয়ান কোচ অলরেডি পার্ক জি সাং'কে ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণা প্রকাশিত না হলেও অনুমেয়ই ছিলো। গতো মৌসুমেই পার্ক ম্যান ইউ'র হয়ে বার্সেলোনার মেসিকে সাফল্যের সাথে বোতল বন্দী করেছিলেন। তবে ক্লাব পর্যায়ের ফুটবলের সাথে বিশ্বকাপের তুলনা করাটা সবসময়েই বোকামী। গতো ম্যাচে প্রথম গোল করা লি চায়ে সুং'এর ওভারল্যাপিং ক্ষমতা মাথায় রেখে বলছি লাতিনদের মতো কোরিয়ানদের খেলাতেও কিন্তু স্কিলের প্রয়োগ দেখা গেছে। এই স্কিলে যারা আজকে এগিয়ে থাকবে ম্যাচের ভাগ্য যাবে তাদের ঘরেই। এতোকিছুর পরেও আমি চাইবো মেসি আরো ভালো খেলুক। পার্ক জি সুং তার মূল দায়িত্ব, দলের অ্যাটাকিং ফার্স্ট হিসাবেই থাকুক। জয় হোক সুন্দর ফুটবলের।গতোদিনের হেইঞ্জের করা গোল নিয়ে বিতর্ক কিন্তু শুরু হয়ে গেছে এটা মাথায় রেখে প্রেডিক্ট করছি আজকের খেলার ফলাফল ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%। আর কেউ জিতলে সেটা আর্জেন্টিনাই হবে।
গ্রীস বনাম নাইজেরিয়া
গ্রীসের গতোদিনের খেলা দেখে যারা ধরে বসে আছেন আজকে নাইজেরিয়াও হেসে খেলে জিতবে তারা ভুলের স্বর্গে আছেন। প্রথম খেলার নার্ভাসনেসকে অবশ্যই কাউন্ট করতে হবে আপনাকে। গ্রীস আজ তার রক্ষনভাগ আগের চাইতে গুছিয়ে খেলবে এটা আমার ধারণা। নাইজেরিয়ার মধ্যমাঠ যদি গতোদিনের মতোন খেলতে পারে তাহলে এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ খেলা হবে। মানে আক্রমণ করবে নাইজেরিয়া প্রতি আক্রমণ করবে গ্রীস।
খেলার ফলাফল হবে ড্র। তবে নাইজেরিয়া কর্ষ্টার্জিত জয় পেতে পারে।
ফ্রান্স বনাম মেক্সিকো
এই খেলার বিশ্লেষণ যদি আমাকে প্রথম খেলা না দেখে করতে হতো তাহলে আজকে চোখ বুজে বলতাম ফ্রান্স ১-০ ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছে। কিন্তু গতোদিনের খেলা দেখার পর আমার মেক্সিকোকে গোনায় ধরতেই হচ্ছে। মেক্সিকো যদিও প্রথম খেলায় গোল পরিশোধ করেই নিজেদের বাঁচিয়েছিলো, কিন্তু তবু তাদের রক্ষনভাগকে আমার খুবেকটা দূর্বল মনে হয়নি। তাদের মধ্যমাঠকে আমার সৃজনশীল মনে হয়েছে। অন্ততঃ আমি রিবেরিকে সৃজনশীলতার নমূনা হিসাবে নিতে চাই না। রিবেরিকে তুলনা করা হচ্ছে জিদানের সাথে, এর মাধ্যমে জিদানকে ছোট করা ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্য আছে কীনা সেটা সময়ই বলে দেবে। অ্যানেলকার স্ট্রাইকিং আমার কখনোই খুব কার্যকরী মনে হয়নি। আর সেটা যদি গতো খেলার মতোন নীচে নেমে এসে হয় তাহলে তাকে অদরকারী ঠেকে পুরোপুরি। এর তুলনায় জিওভান্নি ডস সান্টোসকে আমার অনেক বেশি প্রতিভাবান মনে হয়েছে। আজকের খেলাতে তাই মেক্সিকো জিতে গেলে বিশ্বকাপের রেকর্ডে তাকে অঘটন বলা হলেও আমার এ পাতায় তাকে অঘটন বলবো না।
প্রেডিকশান: এ খেলাটিও ড্র হবে এবারের বিশ্বকাপে কম গোলের প্রবণতা রক্ষা করে।





আর্জেন্টিনা জিতবে। ফ্রান্স হারবে। এই দুইটা শিউর মোটামুটি।
নাইজেরিয়া জিততে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া বাড়িই খাবেনা।
গ্রিস নাইজেরিয়া ড্র।
মেক্সিকোর পক্ষে টাকা রাখলাম।
ব্রাদার রায়হান, আপনার কোরিয়া বাড়ি না খাওয়ার বিষয়টা বুঝলাম না।
আর বুইঝা কাম নাই। আরজেন্টনা ভালো মতই জিতব।
স্পেন হাইরা মন মেজাজ খারাপ। তারপর কারেন্ট থাকেনা। গোল খাওনের খবর পাইছি মাসুম ভাই বদমাইশটা গোল খাওনের পর ফোন দিছে।
আফ্রিকান গো অবসথা তো কেরোসিন । এখন আশায় আছি নেদারল্যান্ডসরে নিয়া।
আজকের খেলায় আর্জেন্টিনা তাদের কেনো বিশ্বকাপের দাবীদার হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তার প্রমাণ রেখেছে। মেসি গতো খেলার চাইতেও এ খেলায় দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। মাসচেরানোর ঠিক সামনে থেকে বল ধরে সে দল পরিচালনা করেছে। যে কারনে তার মার্কার পার্ক জি সুং তাকে হয়তো খুঁজেই পাচ্ছিলো না। অপরপক্ষে কোরিয়া ওভার কনফিডেন্ট হয়ে রক্ষনাত্মক কৌশলে না গিয়ে মধ্যমাঠ নির্ভর খেলা খেলতে গিয়ে আর্জেন্টাইন গতির সাথে তাল মেলাতে পারেনি একেবারেই। আর্জেন্টিনার দুজন খেলোয়াড় এখন দুটি করে হলুদ কার্ডের দায় বহন করছে, তাদের মধ্যে গুতিয়েরেজ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ইতোমধ্যেই চোখে পড়েছে। আজকে যদিও মাসচেরানোকেও দেখা গেছে দু একটি পাস খেলতে কিন্তু তার শ্লথ গতির জন্য ফাউল করতে হয়েছে দু'একবার আর তারই ধারাবাহিকতায় মাসচেরানো্ও এখন দুটি হলুদ কার্ডের মালিক। এরই মধ্যে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যাওয়াতে হয়তো আগামি খেলায় এই দুজনকে নাও দেখা যেতে পারে মাঠে।
তবে ম্যারাডোনার কোচিং কিনা জানি না আর্জেন্টিনা দলের খেলায় সেট পিসের উদাহরণ দেখা গেছে বেশ।
রাতের খেলায় আমার বাজি মেক্সিকোর পক্ষে
মন্তব্য করুন