ইউজার লগইন

আমাদের কথা

অনেকদিন পর লিখছি। মাঝখানে কিছুদিন ব্যস্ততা আর জ্বর থাকায় নেটে তেমন বসা হয় নাই। বিরতি থেকে ফিরে দেখি বিশাল ব্যাপার স্যাপার হয়ে গেছে। আমাকে নিয়ে লেখা, আমাকে উৎসর্গ করে লেখা!! Smile

এবি ব্লগে আমার বয়স খুব বেশী দিন হয় নাই। এত অল্প সময়ে সবার এত্ত এত্ত ভালোবাসা পেয়ে আমি হুক্কা

কথায় আছে-

দিলেই ভালা
না দিলেই শালা। Tongue

সো যারা আমাকে উৎসর্গ করে লেখা দিসেন তাদের ধইন্যা। যারা এখনো দেন নাই, দিয়া ফালান। দিনকাল ভালো না বুঝেনই তো। চাক্কু কাহিনি সবার মনে আছে আশা করি। Wink

এখন আসি আমার কথায়। খুবই কষ্টে আছি খাওয়া-দাওয়া নিয়া। না রান্না করে খেতে হচ্ছে না। খাওয়া লাগে এইটাই বড় কষ্ট।

“টম এন্ড জেরী” র একটা এপিসোড দেখলাম যেখানে সব খাবার পাউডার হিসেবে প্যাকে পাওয়া যায়। পিজার প্যাক খুলে তাতে পানি মিশালে পিজা রেডি। অথবা স্যান্ডউইচের প্যাক খুলে তাতে পানি মেশালে স্যান্ডউইচ রেডি।

কবে নাগাদ এই প্যাক আসবে আমাদের বাজারে কে জানে। আদৌ বাজারে আসবে নাকি কৌশিক ভাইয়ের ব্লগে তাও বুঝতিসিনা। খাওয়া-দাওয়া খুবই ঝামেলার বিষয়। এই প্যাক আসলে খুব আরাম হত আমার জন্য। এক প্যাক পিজা পাউডার খেয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে ফেলতাম। বা এক প্যাক ভাত-তরকারির পাউডার খেয়ে পানি খেয়ে নিতাম। ব্যাস ঝামেলা শেষ।

আমাকে আমার ভাই এখনও মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। আমার প্লেটে ভাত নেয়ার সময় ভাইয়া আমাকে বলে - তুই প্লেটের দিকে তাকাবি না। টিভি দেখ বা আমার সাথে গল্প কর। তারপর বিশাল বিশাল সাইজের এক একটা লোকমা দেন আমার মুখে। আমি মুখ নাড়াতে পারি না। তাও ভাইয়া বলে মুখ নাড়তে পারবি না কেন? এখনও মুখে জায়গা আছে। চাবানো লাগবে না, তুই শুধু গিলে ফেল!!! Stare

আমার ভাইজানের একটা মেয়ে আছে, তাহিয়া। ৫ বছর বয়স। সে আবার তার বাবার হাতে খায় না। আগে তার মা খাইয়ে দিত। কিছুদিন আগে তার একটা ভাইয়া হয়েছে। তাই এখন সে মাকেও পায় না।

যাই হোক। মুরগীর বাচ্চা যেমন মুরগীর পায়ে পায়ে ঘুরে তাহিয়াও তেমন আমার সাথে সাথে ঘুরে। আমার মতো খাওয়া-দাওয়া নিয়ে সেও খুব কষ্টে থাকে। বেচারীর কষ্ট আমি না বুঝলে আর কে বুঝবে! অসীম ধৈর্য নিয়ে আমি তারে নিয়ে খেতে বসি। প্রতিদিন, প্রতিবেলায় খাবার দেখলেই তার চোখ বেয়ে পানি পড়ে। আমি গল্প বলি আর খাওয়াই।

একদিন গল্প বলতে বলতে আমার মনে হলো আমার মাথা ঘুরাচ্ছে।
আমি রেস্ট নেয়ার জন্য তাহিয়াকে বললাম - আমি তো অনেক গল্প বললাম এখন তুমি আমাকে একটা গল্প বলো। উৎসাহের সাথে সে গল্প শুরু করলো-

এক দেশে ছিল এক রাজা। আর ছিল এক রাণী। বুঝছো??

হুম বুঝছি।

রাজাটা ছিল বয়। আর রাণীটা ছিল গার্ল।
রাজা-রাণীর ছিল তিনটা বেবী। একটা বয়, দুইটা গার্ল।
ওদের ছিল একটা রেড কালারের গাড়ী। একদিন রাজা-রাণী গাড়ী করে ওদের বেবীদের নিয়ে বের হলো একটা মেয়ে খুঁজতে।

মেয়ে খুঁজতে কেন?

হুম একটা মেয়ে খুঁজতে বের হলো।

মেয়ে কি জন্য?

রাজার জন্য। Tongue

আর একদিন। কি এক উপলক্ষ্যে বাসায় অনেক মানুষের দাওয়াত। সবাই কাজে ব্যস্ত। বাচ্চাদের পিছনে খাবার নিয়ে ঘুরার কারো সময় নাই।
আমিও কাজ করছি। তাহিয়া আমার পাশেই খেলছে, টিভি দেখছে।
হঠাৎ সে বলল তো’ম্মা!! (ছোট’মা, বেশী আহ্লাদে তো’ম্মা হয়ে গেছে)
আমার পেটটা না ভুর ভুরররররর করছে।
কি যেন দৌড়াচ্ছে আমার পেটের ভেতরে জানো!!

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সন্ধ্যা প্রদীপ's picture


ভাই বোনদের ছেলে মেয়ে গুলো সব ....আদরের পুটলি। আমার একমাত্র ভাইয়ের একমাত্র কন্যা সেবন্তী .. আর আমি তার একমাত্র ফুপু.. । ২ বছর বয়স হতে চল্ল তার..... আমাকে সে নাম ধরে ডাকে ..যখন সেজুঁতি বলে ডাকে.. কি যে ভীষন ভাল .লাগে.। ভীষন মনে হচ্ছিল ওর কথা . আপনার লেখা পড়ে আরও বেশী মনে হল.. । কিছুদিন বাদে সে ঢাকা আসবে .বেশ সময় কাটবে তখন আমার.. Smile
তাহিয়ার জন্য অনেক ভালবাসা... Smile

একজন মায়াবতী's picture


ভাই বোনদের ছেলে মেয়ে গুলো সব ....আদরের পুটলি।

একদম ঠিক কথা। জান এক একটা। Smile

অতিথি's picture


আপনি খুব লাকি। আপনার ভাই এর মেয়ে গল্প শুনতে শুনতে খায়।

আমার কাজিন এর মেয়ের কাহিনি আপনাকে বলি।

তারে খাওয়ানো মানে হইলো বুশ আর লাদেন এর কোলাকুলি করার মতো ঘটনা।

সে যখন ৩/৪ বছর বয়সী ছিল তার ৪ হাত-পা ২/৩ জন ধরত এবং আরেকজন তারে খাওাইতো। তারে একবেলা খাওয়ানো ছিল বড় ব্যাপার। তো তারে একবেলাই খাওয়ানো হতো, মানে একবেলাই যুদ্ধ করা হতো। আর একদিন যারা তাকে নিয়ে তারে যুদ্ধ নামছিল পরেরদিন সে তাদের সাথে কথাও বলত না।

সে তুলনায় আপনার ভাই এর মেয়ে অনেক ভাল।

যাইহোক আমার সেই ভাতিজি এবার ও-লেভেল দিতেছে। দোয়া করবেন তার জন্য।

একজন মায়াবতী's picture


দোয়া রইল। Smile

তানবীরা's picture


এখনো মুখে তুলে খাইয়ে দেয় এটা আপনে প্রকাশ্যে ব্লগে লিখলেন? লইজ্জা করলো না?

তাহিয়ার গল্পটা শুনে আমোদিতবোধ করলাম।।।।, তাহিয়া দেখি ফুপুদের লাইনে ছুটতেছে Tongue

একজন মায়াবতী's picture


না লইজ্জা করবে কেন? Tongue

বাচ্চা পার্টি রক্স Laughing out loud

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


তাহিয়ার গল্প শুনে খুব মজা পেলাম। আর আমার এই মন্তব্যটা আপনাকে উৎসর্গ করলাম-- :হুক্কা:

আমার ভাগ্নী, আমার ফুফাতো বোনের মেয়ে। একদিন ওদের বাসায় গেছি। বাসায় দেখি আরো ছোট ছোট কতগুলো পিচ্চি খেলছে। আমি আমার ভাগ্নীকে খুঁজছি। হঠাৎ দেখি, পেছন থেকে সে ডাকছে- মামা, তুমি এত খারাপ।

আমি হকচকিয়ে বললাম, মানে?
আমার বান্ধবীদের আশেপাশে ঘুরঘুর করছ কেন? ভাগন্তিস

উঃ
উল্লেখ্য,আমার ভাগ্নীর বয়স পাঁচ বছর

সন্ধ্যা প্রদীপ's picture


হাহাপেফা

একজন মায়াবতী's picture


মন্তব্য উৎসর্গ করলেও চলবে। Cool

আপনার ভাগ্নী তো মামারে এখন থেকেই দৌড়ের উপর রাখসে Tongue

১০

নিশ্চুপ প্রকৃতি's picture


হাহাপেফা

১১

মীর's picture


যাই হোক। মুরগীর বাচ্চা যেমন মুরগীর পায়ে পায়ে ঘুরে তাহিয়াও তেমন আমার সাথে সাথে ঘুরে।

লাইনটা বিয়াপুক হৈসে। Smile
আছেন কেমন?

১২

একজন মায়াবতী's picture


Laughing out loud
আছি ভালোই। আপনি কেমন আছেন?

১৩

মীর's picture


আমি ভালো আছি। ধইন্যা পাতা

১৪

রশীদা আফরোজ's picture


হা হা হা। তাহিয়াকে কোলে নিতে ইচ্ছা করছে।

১৫

একজন মায়াবতী's picture



Smile নিয়ে ফেলেন আপু

১৬

নিশ্চুপ প্রকৃতি's picture


সবচেয়ে তাহিয়ার গল্পটা জটিল ছিল...। আমারও একটি ভাগ্নি আছে... ৩ বছর। আমাদের বাসায়ে আসলেই শুধু আমার কাছে সাজুগুজু করবে আর আমাকে অনেক মিষ্টি মিষ্টি ছড়া সুনাবে, ( শুধু সাজুগুজু করার সময়ের জন্য ছড়া বরাদ্ধ, ) Wink

১৭

একজন মায়াবতী's picture


সাজুগুজু করতে পারে তাতা'পুর মেয়ে মেঘলা। অনেক মিস করি ওকে সাজানো। Sad

১৮

জ্যোতি's picture


তাহিয়ার ছবিটা তো ম্রাত্নক!
আমারে বইলেন তো কি করলে আমারো খাইতে কষ্ট লাগবে! আমার তো খাইতে ব্যাপক ভালু লাগে। সবই কত্ত মজা করে খাই আর ৫ পয়সার মতো গোল হওয়ার পথে এইগয়ে যাই। Sad

১৯

একজন মায়াবতী's picture


কি করলে খাইতে কষ্ট লাগবে সেটা পরে বলবো। আগে বলেন কি করলে আমার ভালো লাগবে? Sad

২০

হাসান রায়হান's picture


মজার হইছে লেখাটা।

২১

একজন মায়াবতী's picture


ধন্যবাদ। কোক

২২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


বিয়াপক Big smile Laughing out loud Smile

২৩

একজন মায়াবতী's picture


কোক খান ভাইয়া। তারপর বলেন কেমন আছেন?

২৪

লীনা দিলরুবা's picture


তাহিয়ার আর তাহিয়ার ফুপুর গল্প পইড়া তো ব্যাপক লাগিলো..........ভাইয়া কেম্নে ভাত খাওয়ায় দেয় আর মায়াবতী কিভাবে সেইটা গিলে.... এই দৃশ্যটা দেখতে ইচ্ছা করতেছে Smile

২৫

একজন মায়াবতী's picture


সেই দৃশ্যের ছবি নাই আপু থাকলে দিতাম Smile

২৬

লীনা ফেরদৌস's picture


মায়াবতী সাম্প্রতিক কমেন্টে দেখাচ্ছে যে তুমি আমার ব্লগে একটা কমেন্ট দিছ কিন্তু আমি কেন দেখছি না বলতো!!

২৭

একজন মায়াবতী's picture


Smile

২৮

মেঘের দেশে's picture


খাওয়াইয়া দেয় ভালো কথা তয় হজম কইরা দেয় ক্যাডা ???? বড় হ !!!

২৯

একজন মায়াবতী's picture


প্রাণ হজম ক্যান্ডি আছে না!! Tongue

৩০

একজন মায়াবতী's picture


বড় হবো না দোস্ত। বড় হইলে লস।
এই যে তুই বড় হইসিস, নিজে রান্না করে খাওয়া লাগে। এত কষ্ট করে কে?

৩১

মেঘের দেশে's picture


Shock Shock সত্য সবসময় বলতে নাই

৩২

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


চররম! সহস্র আদর তাহিয়ার জন্য। Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

একজন মায়াবতী's picture

নিজের সম্পর্কে

নিজের সম্পর্কে বলার মতো এখনো কিছু হতে পারি নাই। কখনো হলে আপডেট করবো।