জানালা
ফিডব্যাকের জনপ্রিয় গান -
কেনো খুলেছো তোমার জানালা,
কেনো তাকিয়ে রয়েছো জানি না তো,
মনে যে কি আছে বলো না......
এখনের ফ্ল্যাট বাড়ী যেভাবে একটার ঘাড়ে আর একটা উঠে আসছে তাতে করে মনে গালি ছাড়া কিছু আসার কথা না। আর যদি জানালার সামনে হয় পাশের বাসার বাথরুম বা রান্নাঘর তাহলে তো কথাই নেই।
এই কারণে হয়তো বাথরুম সিঙ্গারের চলও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ বাথরুমে ঢুকে গান ধরলো আর ঠিক সেই মুহুর্তে যদি পাশের বাসার আন্টি রান্নাঘরে এসে কাজের মেয়ের সাথে চেচাঁমেচি শুরু করে, থাকে আর গানের মুড!!!!
মাঝে মাঝে গানের জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে যাওয়া লাগে। আজকে সারাটা দিন পাশের বাসায় বাজালো আরাশ এর ব্রোকেন এঞ্জ্যাল। গানটা সুন্দর। কিন্তু তোমার নাহয় বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া হইসে তাই বলে ভাই আমাদেরও শুনতে হবে চব্বিশটা ঘন্টা একই গান!!!
আবার হঠাৎ একদিন রাতে কোথা থেকে সিগারেটের গন্ধ এসে রুম ভরে গেলো। আমাদের বাসায় তো কেউ সিগারেট খায় না। গন্ধ আসছে কোথা থেকে দেখার জন্য বারান্দায় গিয়ে বুঝলাম পাশের বাসা থেকে আসছে।
কখনো কখনো পাশের বাসার আন্টির উঁকি-ঝুঁকির চোটে জানালা বন্ধ করে যেমন বসে থাকতে হয় আবার পাঁচ ভাই-বোন একসাথে হলে আন্টিকে শায়েস্তা করার জন্য ধুমাইয়া চলে আমাদের "বাকের ভাইয়ের গানের আসর"।
তবে বাসায় একটা জানালা আছে এখনো, যেটা আমার খুব প্রিয়। বাসার ড্রইং রুমে, দখিনের জানালা। জানালার বাইরে নেই পাশের বাসার বাথরুম বা রান্নাঘর। আছে খোলা আকাশ। মাঝে মাঝেই রাতে আমি রুম ছেড়ে ড্রইং রুমে যাই ঘুমাতে। ঠিক ঘুমাতে না, আকাশ দেখতে যাই। অনেক রাত পর্যন্ত গান শুনতে শুনতে আকাশ দেখি। কখনো চাঁদ থাকে আবার কখনো গোমরা মুখে কতো গুলো তারা নিয়ে ঝিম মেরে থাকে আকাশ।
একটু দূরে আছে একটা আম গাছ। ছোটবেলায় আম গাছটাকে বিশাল মনে হতো। এখন গাছের মালিক গাছ কেটে ছোট করে রাখে, নাকি আমি বড় হয়ে গেছি বলে গাছটা ছোট মনে হয় জানি না। এক সময় প্রচন্ড ভয় পেতাম আম গাছটা। ঝড়-বৃষ্টির রাতে কারেন্ট চলে গেলে মনে হতো ঘন কালো গাছটা থেকে একটা হাত বের হয়ে আসছে আমাকে ধরার জন্য।
এখন যতই ঝড়-বৃষ্টি হোক আর কারেন্ট চলে যাক আগের মতো আম গাছটাকে আর ভয় লাগে না। আইপিএস আর জেনারেটারের কল্যাণে ঘন কালো রূপ নিতে পারে না গাছেরা।
জানালার সাথেই আছে আতা, কামরাঙ্গার গাছ। আছে মাধবীলতা, বোগেনভ্যালীয়া, গোলাপ আর হাস্নাহেনাও। মাধবীলতার গাছটা ঠিক জানালার নিচে লাগিয়ে তুলে দেয়া হয়েছে ছাদ বরাবর। এখন দোতালার জানালার পাশে থোকা থোকা মাধবীলতার ফুল। বাতাসের সাথে ফুলের গন্ধ এসে ঘর ভরে দিয়ে যায়। গেলো বারে লাগানো কৃষ্ণচূড়ার গাছটা একবার ফুল ফুটেই কেন যেন মরে গেলো। এবার আবার লাগিয়েছি। আর দুই বছরের মধ্যে দোতালায় চলে আসবে আশা করি। তখন ফুলের গন্ধের সাথে প্রাণ ভরে দেখবো আগুনঝরা কৃষ্ণচূড়ার মাতাল করা রূপ।





আপনে শিউর আপনাদের বাসায় কেউ সিগারেট খায় না?
মাইনষেরে ধরার আগে নিজের বাসা ভালু করে চেক করা উচিত না, বলেন?
আমি শিউর। আপনার সন্দেহ হয় কেউরে?
আপনে অস্বীকার যাচ্ছেন যখন তখন আমি ক্ষ্যামা দিলাম
এইসব ছাইড়া কবিতা লেখা শুরু কর .................
এট্টু ওয়েট করেন।
কবিতা না লেইখা ববিতা নিয়া লেখেন।
ববিতা আন্টিকে নিয়ে কি লিখবো?
আপা আর কত ওয়েট করমু? সেই যে ১০ তারিখে কইলেন আর কি সময় হইলনা?
রাতের জোছনা মাখা আকাশ কেমন?......।
চরম
হু
ভাইজান ভালো আছেন?
হুমমমম। একটা জানালা তো দরকার ই আকাশ দেখার, বৃষ্টি দেখার, জোৎস্না দেখার জন্য। কিরাম আছেন আফামনি?
আরে জয়িতা'পু যে!! আমি তো খুব ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?
খান 
এই গরমে কষ্ট করে আমার লেখা পড়লেন। এখন ঠান্ডা
নাউজিবিল্লাহ জয়িতারে ঠান্ডার বদলে পাগলা পানি খাওয়াছে।


ওহহহহ। এইজন্য আমার মাথা ঝিমঝিম করতাছে! ভালোই লাগে পাগলা পানি! মায়াবতীরে ধইন্যা।
আপনার ভালো লাগলেই হইল।
জানালার এতো কাহিনী??

কাহিনী তো এখনো বাকি আছে
কোক খাইতে মুন্চায়
মন যখন চায় তো খাইয়া ফেলা। ছোটখাট চাওয়া পাওয়া অপূর্ণ রাখতে নাই।
পুরান ঢাকায় আরো নির্মম অবস্থা
পুরান ঢাকায় আমার বড় মামার বাসা। নির্মম অবস্থার সাথে অনেক মজার ঘটনাও হয়।
জানালার যেই কাহিনী এখনো বাকি আছে সেইগুলান শুনতে মন চায়
আচ্ছা শুনাবো।
দুর্দান্ত। কিন্তু আরও বড় হউন উচিত ছিল।
মন্তব্য করুন