এক গ্লাস জোছনা আর এক গ্লাস অন্ধকার হাতে
প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ভাবি, নাহ কালকে থেকে তাড়াতাড়ি ঘুমাবো। পরেরদিন আবারও সেই মধ্যরাত পার করে এই কথাটা মনে হয়। অথচ কোনো কারণ নাই এত রাত জাগার। কোনো কাজ নাই, পড়ালেখা করি না তাও মাঝরাত না হলে ঘুম আসে না।
যথারীতি সকালে ঘুম ভাঙ্গে বেলা করে। বাবা প্রতিদিন একই কথা বলেন - “রাত ১০টায় খাইসিস আর এখন সকাল ১০টা বাজে। পেটে কিছু দেয়া লাগবে?? নাকি ঘুমালেই পেট ভরবে”??
আমি চুপচাপ বকা হজম করতে করতে নাস্তা হজম করার আয়োজন করি। যদিও বাবা একটু রাগ করেই বলেন কথাগুলো। কিন্তু এইটুকু রাগে সিধা হওয়ার পাবলিক তো আর আমি না! তাই রাতজাগা চলতেই থাকে।
কত রকমের হয় রাত জাগা। কখনো হসপিটালে, কখনো বাসায়, পড়ার টেবিলে বা কম্পিউটারে, আড্ডা দিয়ে, ঘুরতে বেরিয়ে, সিনেমা, গান বা রেডিওর প্রোগ্রাম শুনে আবার কখনো শুধুই চুপচাপ বসে থেকে।
জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত জাগা ছিল এস.এস.সি. পরীক্ষার আগে রাত জেগে যখন পড়া-লেখা করতাম সেটা। মোবাইল, ফেসবুক তখন ছিল না। নেট বলতে শুধু বুঝতাম ইয়াহু’তে বাজি’কে মেইল করা।
পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার অভ্যাস সব সময়েই। আর এস.এস.সি. পরীক্ষা যেহেতু একরাতে পড়ে দেয়াটা ঠিক হবে না তাই আগে থেকেই পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে অপেক্ষা করতাম ভোর দেখার জন্য। ভোর হওয়ার ঠিক আগে আগে আকাশটা মনে হতো ঘন কালো হয়ে আসতো। জানালার বাইরের কামরাঙ্গা গাছটাও ঠিক মতো দেখা যেত না। সেসময় পড়তে বসলে এখনের মতো এত ঘুম পেত না। প্রথম যেদিন খেয়াল করলাম ভোর হওয়ার আগের আকাশ, অবাক হয়ে বসে বসে ভোর হওয়া দেখলাম। তারপর থেকে প্রতিদিন। যেন রাত জেগে পড়ার চেয়ে বেশী আগ্রহ ছিল ভোরের আকাশ দেখার জন্য। সূর্য ওঠার সময় পূব আকাশটা কালো থেকে আস্তে আস্তে কমলা তারপর হঠাৎ করেই যেন সাদা হয়ে যেত।
গতবার সেন্টমার্টিন ঘুরতে গিয়ে যখন সবাই ছেড়াদ্বীপ গেলো আর আমি রিসোর্টে থেকে গেলাম বাচ্চা পার্টি নিয়ে সেদিনের ভোরটাও একটা স্মরণীয় ভোর হয়ে থাকবে আমার কাছে। ‘সীমানা পেরিয়ে’র একদম শেষ মাথায় ছিলাম আমরা। বারান্দার সাথে ছিল কেয়ার ঝোপ যার সীমানা পেরিয়েই বিশাল সমুদ্র। সেদিন সকালটা শুরু হয়েছিল আমার বারান্দায় বসে সাগরের হুঙ্কার শুনতে শুনতে ভোর হওয়া দেখে। আর সাথে বোনাস ছিল মেঘলার সাথে গল্প করা।
ভোর হতে দেখাটা সত্যিই সুন্দর। মন ভালো হয়ে যায়।
জীবনে সবাই কম বেশী ভুল করে, ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণত সেই ভুলের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতেই আমরা পছন্দ করি। সেইটাই বরং ভালো। নিজে ভালো থাকা যায়। যখন মন থেকে জানি যে আমার ভুলের জন্য আমিই দায়ী আর কেউ না, তখন আরও বেশী কষ্ট হয়।





এখন থেকে সব দোষ তোর ঘাড়ে চাপায়া দিমু
কোনো কিছু মনে রাখবি না আমার মতো শর্ট মেমোরি সার্ভিস হইয়া যা সব থেকে ভালো থাকবি। কষ্ট হইলে গিল্লা ফেলবি দেখবি এর মতো মজার খাওয়া আর নাই।
দিস।
ভালো থাকিস।
তুই হঠাৎ ভর্তা গিলা বাদ দিয়া কষ্ট গিলতে শুরু করলি কেন? এই কয়দিন কি রাঁধলি, কি খাইলি একটা পোস্ট দে দেখি।
এই কয়দিন দৌড়ানি খাইছি মানে দৌড়ের উপর ছিলাম একটু

দৌড়ানির রেসিপিটাই দিয়া ফেল।
ভুল ত্রুটি সব আল্লাহর ইচ্ছা। মানুষ কোনছার? আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না।
ভোর হওয়া দিয়া শুরু হলো আর ভুল দিয়া শেষ হলো, বুঝলাম না
দুইডাই '' ভ '' দিয়া শুরু .....................
ভোরের কথা ভাবতে ভাবতে ভুল করে ভুলের কথা মনে হয়ে গেলো। তাই ভুল করে ভোরের সাথে ভুল দিয়ে শেষ হলো।
হমমম
হমমম
এক গ্লাস জোছনা আর এক গ্লাস অন্ধকার মিলে হলো আধাকেজি এরপর দেন একমুঠ হতাশা আর একচিমটি ভুল তারপর দেন একটা ঘুঁটা। শেষে একচুমুকে গিলে ফেলেন।দেখবেন সব কিছু পার হয়ে পেয়ে গেছেন আনন্দময় একটা জীবন।

অস্থির রেসিপি

এইটা কি ভর্তা খাওয়ার আগে খাবো না পরে?
ভোরের সৌন্দর্য্য আসলেও বর্ননাতীত সুন্দর, আর সেটা যদি হয় সাগর বা নদীর পাশে....... গতবছর একভোরে ভারত মহাসাগরের কোল থেকে সুর্য ওঠা দেখেছি..। সেরকম সুন্দর...।
বেশি ভারী চিন্তা ভাবনা ভালু না। মাথা ভারী হয়্যা যায়। সাবধান বোনডি।
হক কথা
রাত জাগতে জাগতে রাত টাকে খুব আপন মনে হয়, চারপাশকেও, কিন্তু যখনই ভোরের আলো ফোটে, সবকিছুই অচেনা লাগে, দূরের মনে হয়
:)কেমন আছেন আপু?
আহারে, কত কিছু মনে পড়ে গেলো। আমার কত রাত কত দিন এই সীমানা পেরিয়েতে কেটেছে ...!
সীমানা পেরিয়ে'তে থাকার কারণে যে পরিমাণ হাঁটতে হয়েছিল, এখনও মনে হলে পা ব্যাথা করে
(
কথা সত্য! সেই কষ্ট যায় না সরানো!
লেখা ভাল্লাগছে! সকাল আমার সবচেয়ে পছন্দের।
আপনাকেই তো খুঁজি। দূরে কোথায় গেলে বাচ্চাদের দেখে রাখা একটা বড় ঝামেলা। চাইলেই হঠাৎ কোথাও যাওয়া যায় না। বাচ্চা রাখার একজন মায়াবতী দরকার।
পেথম মনে কইচিচলাম মায়াবতি বুজি স্যালাইনের রেসিপি দেয়, পরে দেখি ওনার মন ব্যাপক খারাপ।
ইয়ে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমালে ভাল হয়, কি বলেন?
মন খারাপ হইবে কেন? মন ভালাই আছে।
মনে হল, আমি নিজেই লিখসি যেন!
অসাধারণ লাগলো পড়তে।সোজা প্রিয়তে।
কি আজব!!! আমার লেখা প্রিয়তে নেয় কেউ
কিন্তু আপনি কই?? কতদিন দেখি না??
এখন আপনে নিজে কই গেছেন শুনি?!
মন্তব্য করুন