ইউজার লগইন

সনৎ'এর ব্লগ

আলস্যের দিনলিপি ৩

আমার সবকিছু প্রচণ্ড অগোছালো হয়ে আছে। কতোটা অগোছালো তা মাপারও কোনো উপায় নেই। পড়াশুনা করি না কত যুগ তারও হিসেব নেই। অনেকদিন হল ক্লাসে যাই না। অনেকদিন হল বেলা দুপুর করে ঘুম থেকে উঠি। হটাৎ করে একদিন শীতকাল চলে এলো। আর আমার আলসেমিও কয়েকগুণ বেড়ে গেল। আমি আসলে করি টা কি? কোথায় আমার মন, জানি না।

অথচ আজ সকালে ঘুম ভেঙেছে। স্নান করে একটা ডিম ঝালফ্রাই দিয়ে ব্রেকফাস্ট করেছি। নজরুলের গান শুনতে শুনতে আরাম করে একটা সিগারেটও টেনেছি- মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর। আহা কি স্নিগ্ধ সকাল। আর ভাবছি কেন ক্লাসে গেলাম না। এই ক্লাসটা খুব বেশি জরুরি নয়।

আলস্যের দিনলিপি ২

আজকে আশ্চর্যজনকভাবে সবকিছুই ঠিক যেমনটা হওয়া দরকার প্রতিদিন তেমন। রাত সাড়ে নয়টা এবং আমার ব্যাগে একটা কম্পিউটার। মাথার ভিতরে ঘুমোতে না দেওয়া ঝোড়ো বাতাস, রনি ভাই এবং তিনটি গীটার। আস্থা হারানো এই মন নিয়ে আমি আজ তোমাদের কাছে এসে দুহাত পেতেছি। ঠিক যেন স্বপ্ন দেখবো বলে, আমি দুহাত পেতেছি।

কিন্তু কীসের স্বপ্ন? চারপাশে দুঃস্বপ্নের মত জীবন। সবাই কি যেন হাতড়ে বেড়াচ্ছে। একজন গাইছে আমায় ধরে রাখ, অন্য কেউ গাইছে কোথাও প্রেম খুঁজে না পাবার যন্ত্রণা। আমিও কি জানি একটা খুঁজে বেড়াচ্ছি। এসব এখন শুধু এলোমেলো কথা হচ্ছে হয়ত, হয়ত এরকমই হবে আরও অনেক দিন।

যে গেছে ছায়া তার বনবিথীতলে

১.
কি জানি কি
সে ভাবে
যখন
চোখে চোখে গ্রহণ হয়
কি জানি কোথায়
সে চলে যাবে।

২.
ব্ল্যাকবোর্ডে
রাশি রাশি ইনফরমেশন
ইউরোপ আফ্রিকা ফ্রান্সের রাজধানী
তখনই সে হয়ত তাকাবে জানালায়
আর একরাশ চুল উড়ে যাবে শিমূলের তুলোর মতন
আমার ক্রিয়া বিশেষ্য সর্বনাম সব এলোমেলো হয়ে যাবে বারবার।

৩.
কতবার একা হয়েছি জানি না
কতবার হারিয়ে যেতে চেয়েছি কত কত চোখে নাকে ঠোঁটে
তবুও যখন তুমি হাত রাখো গালে
আর নরম চুলে ভেসে ভেসে যায় আঙুল
সুস্মিতা
তখন আমি আবার একা হয়ে যাই
আমার রাজরক্তে ঢুঁকে যায় বিষ
চৈত্রের কথা মনে পড়ে
দৃশ্যমান হয় চৌচির হতে থাকা মাঠ

কতবার আমি একা হয়েছি
সুস্মিতা জানে না।

আলস্যের দিনলিপি

বিকেলটা দেখতে দেখতে চলে গেল। চোখের সামনে। ভাবসিলাম ছাদে যাব, জানালা দিয়ে দূরের সবুজ দেখতে পাচ্ছিলাম একটু আগেও। গাছপালার পাতায় সোনালি রোদ পড়লে কেমন দেখতে হয় তাই ভাবছিলাম। কিন্তু ছাদে ওঠা হল না।

এই শহরের এত মানুষ, কতজনার কত চাওয়া। আমার মত অনেকেরি নিশ্চয়ই অনেক কিছু করা হয়ে ওঠে না। চোখের সামনে বিকেলগুলো পার হয়ে কোথায় যায় কে জানে।

আমারও অনেক কিছু করার কথা ছিল। পড়াশুনার হিসেব নিকেশ, আরও অনেক কিছু। সব ফেলে রেখেছি অনেক দিন ধরে। অদ্ভুত এক আলস্য জড়িয়ে আছে আমার মনে। কোথায় যাওয়া যায়? কি করা যায়?

দেয়ালে পোষ্টার সাঁটাতে ইচ্ছে করে না, সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করে না, শেষ রাতে নুডুলস সেদ্ধ করতে ইচ্ছে করে না। লিখতে পড়তে ইচ্ছে করে না, মানুষের সাথে কথা বলতেও ইচ্ছা করে না।

রুমমেটরা ফুল হাতা জামা পরে চুল আঁচড়িয়ে বাইরে বেরচ্ছে। আমি ক্রমশ অন্ধকার হতে থাকা বিকেলের দিকে তাকিয়ে আছি এখনো।

Too much of nothing

There is a moment when it’s time to say goodbye and go home. I know I have it coming. Sometimes I’d think that every night I’d look at the day I passed and see how many things I have done. And sometimes I’d just laugh about me, having spent the day thinking about planning the day. Well, some days, I let the day go by, spending a lot of time, and most of the time I doing nothing. Someone would call me super lazy, I’m the laziest one I seen all my life, always doing things at deadline. So what do I do before the deadlines? Affording leisure someone might say. But that’s hard to figure out.

To know what really matters

I have a friend who's always worried that she lacks a lot of skills, skills like remembering little things in her daily life that make her lose confidence and she often thinks she can't make her life; if not always, sometimes.

And that's what she was telling me in the last phone call. Now I write about that to put some extra importance in it because its something we all should remember. And that is- it should not upset anyone if he or she sometimes fails to manage the things that are supportive of someone's life, like cleaning dishes and preparing food or managing transport or the place where someone lives; as long as someone is alright with what really matters- the speed and smartness of mind.

ভাল থেকো নীলাকাশ

তুমি কি দেখেছিলে ভয় পাওয়া মানুষদের
শুনতে পেয়েছিলে আকাশে বোমার শব্দ
আর বুঝতে পেরেছিলে কি কেন আমরা পালিয়েছিলাম?
যখন নতুন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন জন্ম নিয়েছিল
এই আকাশের নিচে

আগুণ নিভে গেছে অনেক আগে, কিন্তু ব্যথা আছে এখনো।
ভাল থেকো, নীলাকাশ।

মূলঃ রজার ওয়াটার্স, ১৯৭৯ সালে পিঙ্ক ফ্লয়েডের দ্য ওয়াল অ্যালবামে প্রকাশিত।

(লেখাটা ৫০ শব্দের বেশি হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ হচ্ছিলো না। তাই আমি ব্রাকেটের ভিতরে এই লাইনগুলো লিখছি। কিন্তু লেখার আকৃতি সর্বনিম্ন ৫০ শব্দ হতে হবে- এমন বাধ্যবাধকতা থাকার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি? আমার মনে হয় এই বাধ্যবাধকতার কারনে অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন, যে সমসসার সমাধান আমাকে এভাবে করতে হল। ধন্যবাদ। )

এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই চাওয়া

কালকের সন্ধ্যাটা ভালো শোরগোল করেছিলাম আমরা। অবশ্য দিনের শুরু থেকেই বিভিন্ন আয়োজন ছিল। বাচ্চাদের জন্য আনন্দ শোভাযাত্রা, সেই সাথে সামনে পিছনে গাড়ি আর মোটরসাইকেল। কিন্তু রাস্তায় কেউ হর্ন বাজাচ্ছিলো না, যাতে বাচ্চাদের কোলাহল এলাকাবাসী শুনতে পায়। এই ছিল শিশুদের জন্য বড়দের সেদিনকার আয়োজনের শুরুটা।

এদিকে আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। সকাল বেলায় বেরিয়েছিলাম আমার রুম থেকে। কিন্তু পথেই দু’চারজনের সাথে দেখা হয়ে গেল- যারা আমার মত বেরিয়ে পড়েছিলো অযথা। আমরা একসাথে ব্রেকফাস্টে ঢুকলাম। রেস্তোরাঁর পচা পাউরুটি আর ডোবার জলের মত লাল চা ফেলে আমি আর মুন শোভাযাত্রার একটা গাড়ির মাস্তুলে ঝুলে পড়লাম।

It takes a lot to laugh, it takes a train to cry

Desolated, in the beauty of selfness, I travelled a lot last few days, and experienced, when I got all used up on the hills and couldn't find my  legs on the way back. I have the view of those lands in the river, in the moonlight the sandy earth shined and the bushes of kans grass could shade anything. Have those time in me, Can't talk much to people I was with  either. 

Now I come after the movies and can't see why friends here doesn't talk about going to the movies much. As he says he could miss another scene here and don't Answer when asked if he feels the essence of watching them.

They talk about everything and solve riddles and play games. They seem alright, only I can't get into them. Maybe I am not of much help to them.

ঘুম চোখ খুলে দেখি ভোঁর আর নেই

ঘুম ভাঙার বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন মস্তিষ্কটাকে কোনও রকম চাপ দেওয়া উচিত না। ঘুম ভাঙার পরও চোখ অনেকক্ষণ বন্ধ থাকতে চায়। অনেকসময়ে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গে, তাই চোখ বন্ধ করে রেখে স্বপ্নের দৃশ্যে ফিরে যেতে মন চায়; ঘড়ীর দিকে তাকিয়ে সময় দেখতে ইচ্ছা করে না। পেপার পত্রিকায় গুম খুনের হেডলাইন বা সন্তান হারানো মায়ের ছবির দিকে চোখ রাখতে ইচ্ছা করে না। এ রকম সময়ে চোখ বন্ধ করে রেখে সুন্দর ভাবনায় মাথাটাকে আপ্লূত করে রাখা উচিত। সেই সাথে সুরেলা সঙ্গীত শুনতে পারলে আরও ভালো লাগে।

I Like Trains

Close to life once again. I had to think every night-why these lights are on everywhere, because I don't like electric lights unless when its needed. But tonight it's a big moon on the sky and I can see everything in that light. I'm lying on a train, along with others. The train will take us to Islampur, a place up in the north. Now I think I did the right thing this weekend.

Me and Autonu just learned that its quite a thing to lay on the rooftop of the train, its bumpy. The train leans left and right and we have to be careful with ourselves. I can hear the jhik jhik and feel the body of the train. Its like riding on a big eel fish that flys in the sky. Thats how we can find the moon and the stars close to our bodies.

অলস চেতনার আস্ফালন

কষ্ট হচ্ছে
মাথায়, বুকে, পায়, ভাবনায়
ইচ্ছে করছে না
লিখতে, পড়তে, বলতে, ভাবতে।
নষ্ট হচ্ছে
আমার ঘর, বিছানা, বালিশ, সময়
জামা কাপড়, স্যান্ডেল।
ভেঙে পড়ছে
আমার শরীর, মন, পথ ঘাট
বই, খাতা, কী বোর্ড, সিগারেটের আগুন, স্পাইনাল কর্ড।
নিঃশ্বাস ছাড়া আজ আমি পারব না কিছু দিতে কিংবা নিতে
এক জোড়া লাল চোখ ছাড়া আর কিছুই এখন নেই আমার।

যদি গাছেরা কথা বলতে পারতো

প্রিয় উর্বশী

তুমি আমার ওপর রাগ করে আছো। তাই আমি তোমাকে সবকিছু বুঝিয়ে বলার জন্য লিখতে বসেছি।

আমি তোমাকে শুরু থেকেই বলেছি যে তোমার শুধু আমার কথাগুলো শুনতে হবে, আরও আগে বলেছি স্বাধীনতার কথা, আর নিজের ভালো লাগাকে সম্বল করে বেঁচে থাকার আমার ইচ্ছার কথা- যে ইচ্ছা তোমার ভিতরেও ঢুকিয়ে দেবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তুমি কথাগুলোতে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু তোমার আবেগকেই অনুসরণ করেছ। এবং আমার কথা শোনো নি। এখনো শুনছো না।

আমি আবার বলছি- তুমি যে সব চিন্তা ভাবনা নিয়ে আছো সেসব অনেক আগে আমিও করতাম। কিন্তু আমার চিন্তা ভাবনা পরিবর্তন হয়েছে। সময় হলে তোমারও হবে। তোমার পড়াশোনার ব্যাপারে যেসব আমি বলেছি সেসব না শুনলে তুমি আগামি কয়েক বছর পর বুঝতে পারবে যে শুনলে ভালোই হত।

প্রিয় বন্ধুকে লেখা চিঠি

প্রিয় বন্ধু

কথাগুলো তোমাকে বলতেই হত, তারপরও অনেকক্ষণ বইয়ের কালো লাইনগুলোর নীচে কলম চালিয়েছি। আমি কিছুতেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারছিলাম না। জীবনের সব মারাত্মক ভুলগুলো বারবার মনে উঁকি দিয়ে যাচ্ছিলো আর আমি ওদের কাছে ধরা দিচ্ছিলাম। অভাবগুলোও বেয়াড়াপনা শুরু করতে লাগলো। প্রিয় দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলছে, একটু আগেই ওরা জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে মাঠে নেমেছে। রুমের জানালা দিয়ে ফুটবলের আবেগ আর উচ্ছ্বাসময় শব্দগুলো কানে আসছে। কিন্তু আমি বইয়ের কালো লাইনগুলোর নীচে কলম চালিয়ে চলেছি। পরশু ফাইনাল পরীক্ষা।

অনার্স জীবনের প্রতিটি পরীক্ষার সময়েই এরকম হয়েছে। প্রচণ্ড বিষাদগ্রস্ত হয়েছি যখন পরশু পরীক্ষা। শেষ বছরটায় আমি এই বিষয়ে তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছি- কেননা, কথাগুলো বলা না হওয়া পর্যন্ত আমি পড়ায় মন দিতে পারছি না।

আমাকে নিয়ে লেখা

আমাকে নিয়ে লেখা শুরু করতে আমার বেশ কিছু চিন্তা জোগাড় করতে হয়েছে। আমি দেখতে পেয়েছি যে আমি বাক্য গঠন করতে পারছি। এবং আমি এই মুহূর্তে তেমন কোনো বিষয়বস্তু পাচ্ছি না যা নিয়ে লেখা যেতে পারে। তাছাড়া আমার বিষয়গুলো গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমাকে ভাবাচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে আমাকে নিয়ে লেখাটাই সবচেয়ে জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাত চারটার দিকে অবশেষে চোখ বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সবগুলো মসজিদ থেকে একযোগে আযান দেওয়া শুরু করল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকার মসজিদগুলোর আযান শেষ হতে হতে একটা সময়ে আলো ফুটতে শুরু করল।