ইউজার লগইন

নিয়োনেট'এর ব্লগ

সোনাকাঠির পাশে রুপোকাঠি, পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

মানুষের জীবনের এই যে সীমিত সময়- যদ্দিন বাঁচি খেয়ে পরে আয়েশে কাটাতে হবে। কিন্তু কি করে তা সম্ভব হবে? কয়েক বছর আগেও উত্তরটা সিরিয়াসলি খুজিনি। কয়েক বছর আগে একটা পরিকল্পনা ছিলো। ইন্টার পাশ করে বরফ পড়া কোনও এক দেশে পড়াশোনা করতে যাবো। রাস্তার নির্জনতা মাড়িয়ে ঘরে ফিরবো। ভেবেছিলাম দারুণ হবে ব্যাপারটা।

কিন্তু দেখা গেলো ক্লাসমেটদের ভিতরে যাদের মুখে কখনো বিদেশ যাবার কথা শুনিনি তাদের কেউ কেউ চলে গেছে চীন কিংবা ইন্ডিয়া। আর এদিকে আমি মিশে যাচ্ছি এই শহরের হাহাকারে।

কলেজের দিনগুলো ছিলো নিশ্চিন্তে পথচলার মত। প্রতি রাতে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাদের বুকে আগলে রেখে আমি ঘুমাতাম। সেই ঘুম ছিলো সত্যিকারের শান্তির ঘুম। দিনগুলো কিভাবে যে শেষ হয়ে গেছে তা আমি জানি না। সেই সব দিনে কখনোই ভাবি নি পরের বছরগুলো কেমন হবে।

বিষণ্ণতা যে দিন তারা হয়ে জ্বলবে

কি জানি হচ্ছে ইদানিং। জমে থাকা কাজগুলো করাই হয়ে উঠছে না। টেবিলটা খুব অগোছালো হয়ে আছে। অজস্র ধুলো জমেছে কম্পিউটারের মনিটর আর বইগুলোতে। কয়েকটা ফোন কল আর ইমেইল করার কথা সময়মত মনে থাকছে না।
এরই মধ্যে গরম পড়ে গেলো। কয়েকটা টি শার্ট কেনা দরকার। একটা রোদ চশমাও ভীষণ জরুরী। তার চেয়েও জরুরী আগামি মাসে পাহাড়ে বেড়াতে যাবার জন্য অগ্রিম টিকেট কেটে রাখা। কে কে যাবে, কোথায় কোথায় যাবো সেসবও কিচ্ছু জানি না।
অথচ দিনগুলো একটা একটা করে ফুরিয়ে যাচ্ছে। কাল রাতে সবুজ ঘাসের চাদরে বসে অবকাশ যাপনে রত ছিলাম, আকাশে ছিলো বিশাল আকৃতির চাঁদটা। আধ শোয়া হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে শাহিন ভাই বললেন, চাঁদতো দেখা যাচ্ছে। তখনই আমাদের মনে হল যে ফাল্গুন মাসটা চলে গেলো।

চৈত্রঃ ঝিঁঝিঁর গুঞ্জনে ডুবে যাওয়া বিষন্ন দুপুর

কাল রাতেও ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাবো। কিন্তু রাত দশটার দিকে প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রাখতেই ফোন বেজে উঠলো- দ্রুত চলে এসো, সোনালি শিশির ফুরিয়ে যাচ্ছে।

শাহবাগ থেকে জোর কদমে হাঁটা দিলাম। গিয়ে দেখি এখানে ওখানে আসর জমেছে। দূর থেকে শুনতে পেলাম রনি ভাইয়ের গলা- আমার ভালবাসা পিরামিড, আমার দুঃখগুলো নীলনদ। লাইনগুলো সেই যে ঢুকেছে মাথায় আর বের হবার নাম নেই।

পাশেই আর এক দল পাহাড়ে স্থায়ী নিবাস করা সংক্রান্ত এক তুমুল আলোচনায় মগ্ন ছিলো। আমি কিছুক্ষণ ওদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আর মনে মনে ঠিক করে ফেললাম, এবারের বিজুতে ওদের সাথে আমিও যাচ্ছি।

হৈ হল্লা করতে করতে কালো রাস্তা ধরে ভাত খেতে গেলাম। রুমে ফিরতে ফিরতে রাত ২ টা। কম্পিউটারটার কি যে হয়েছে। প্ল্যানেট আর্থ এর জঙ্গল পর্বটা দেখতে দেখতে তিন বার বন্ধ হয়ে গেলো কোনও কারন ছাড়াই। ৩ টার সময় ধরা দিলাম বিছানার কাছে।

শুধু ফুরিয়ে যাবার এই ভয়

হাত পা ধুয়ে ব্যালকনিতে বসে একটা সিগারেট জ্বালানোর পর দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার দৃশ্যগুলো ফিরে আসে।

ঘুম ভেঙ্গেছিলো দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। অথচ সেই সকাল ৮ টায় লিজা নামের বান্ধবী ফোন করে ডেকে দিয়েছে, আমি বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে ওর সাথে ৫ মিনিট কথা বলেছি। দুপুর দুটোয় পরীক্ষা। বিনিয়োগের কঠিন দুটো চ্যাপ্টার পড়তে হবে। তবুও হেরে গেলাম আলসেমির কাছে।

পরীক্ষাটা খারাপ হল যথারীতি। আরেকজনের খাতার দিকে তাকিয়ে একটা অংক দেখার চেষ্টা করার সময় ম্যাডাম চীৎকার করে উঠলেন- এই যে ঝাঁকড়া চুল, আপনাকে কিন্তু পরীক্ষা দিতে দেবো না।

এই দিন আর রাত একটা ফাঁকা রাস্তার মত

বেশ কিছুদিন ধরে মনের ভিতরে ভাবনা জমে আছে। সেগুলোতে ধুলোও জমেছে বিস্তর। কাজে-অকাজে দিনটা কেটে যাবার পর রাত হলে হটাৎ করে ঠাণ্ডাটা যখন জেঁকে বসে তখন অলসতা আমাকে মেরে ফেলার উপক্রম করে। তার মধ্যে ইদানিং শৈত্যপ্রবাহ নামক শীতকালীন বাতাসটা রাতে-বিকেলে গায়ে লেগে হিম শিহরণ জাগাচ্ছে প্রায়ই।
সেই বাতাসে হেঁটে হেঁটে হলে ফিরি। পাশ দিয়ে রিক্সা চলে যায়, জামাকাপড়ে প্যাকেট হওয়া মানুষগুলো আমার গতিবিধি দেখে উদ্দেশ্যহীন মনে করে হয়ত। মাঝে মাঝে তাদের সাথে আমার দৃষ্টিবিনিময় হয়। তুষারের দেশে পথ পাড়ি দেবার সময় এক পথিক আরেক পথিকের সাথে হয়ত এভাবেই দৃষ্টিবিনিময় করে হয়ত।

চাঁদ, ঝরাপাতা আর বিকেলের পাখিদের সাথে পথচলা

রাতে হলে ফেরার সময় যখন আমি হারিয়ে যেতে থাকি তখন একটা চাঁদ প্রায়ই আমাকে সঙ্গ দেয়। তারপর ঘুমানোর জায়গাটা অ্যাভেইলেভল হলে মেঘ, রাতের চাঁদ আর মাথা জুড়ে থাকা ভাবনাগুলোকে বিদায় জানাতে হয়। ততক্ষণে চোখ মুখ বন্ধ। তখন আমার শরীর মনে অতীতের কোন আচ্ছন্নতা থাকে না। ঘুমের সময় নাকি মানুষ পুরোপুরি নাই হয়ে যায়। এটা সেটা পরিকল্পনা জড়ো করতে করতে ঘুম চলে আসে আমাকে নাই করে দেবার জন্য।