ইউজার লগইন

সনৎ'এর ব্লগ

সিগারেট খাওয়া এবং না খাওয়া

পুরনো আলাপ। নিচে নেমে ভাত খেয়ে একটি বেনসন নিয়ে উপরে উঠলাম। একজন ধূমপায়ীর জন্য মাত্র একটা সিগারেট একটা যাচ্ছেতাই ব্যাপার- তাও যদি হয় সারারাতের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি শলাকা- তাহলে ব্যাপারটা হাস্যকর পর্যায়ে চলে যায়- এক গেলাস জল দিয়ে ঘরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করা যেমন হাস্যকর ঠিক তেমন। একজন ধূমপায়ী-যে মিথ্যে আবেগে রাত জাগে- তার ঘরে অন্তত কয়েক প্যাকেট সিগারেটের মজুদ থাকা দরকার।

ধুমপান ছাড়তে চাই কি চাই না সে ব্যাপারে আমি নিজেই নিশ্চিত নই- আজ পর্যন্ত হতে পারিনি। প্রথমে ভাবলাম ছেড়ে দেব- দিনে দুই একটি এবং রাতে মাত্র একটি শলাকা বরাদ্দ করলাম। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সিগারেটের বদলে বরাদ্দ একটা কলা। আমি প্রতিরাতে একটি কলা নিয়ে ঘরে ফিরতে লাগলাম। এসবের পেছনে অবশ্য একজন মানুষের অবদান ছিল। মেয়েটির ব্যাপারে আমি প্রায় পাগল ছিলাম। ঠিক করে ফেললাম ছাইপাঁশ ছেড়ে দিয়ে প্রেমের নাও বাইবো।

আরও কবিতা

Madrigales

I
Como las ondas concéntricas
sobre el agua,
así en mi corazón
tus palabras.

Como un pájaro que choca
con el viento,
así sobre mis labios
tus besos.

Como fuentes abiertas
frente a la tarde,
así mis ojos negros
sobre tu carne.

II
Estoy preso
en tus círculos
concéntricos.

¡Como Saturno
llevo
los anillos
de mi sueño!
Y no acabo de hundirme
ni me elevo.
¡Amor mío!

Mi cuerpo
flota sobre el remanso
de los besos.

(Federico García Lorca)

Madrigals

1
Like concentric ripples
over the water,
so in my heart
your words.

Like a bird that strikes
against the wind,
so on my lips
your kisses.

Like exposed fountains
opposing the evening,
so my dark eyes
over your flesh.

2

বোঝাপড়া

মহাকালের সময়ের ভাণ্ডার থেকে
পুড়ে পুড়ে ছাই হচ্ছে প্রতি ক্ষণ-
পৃথিবী আজও অভেদ্য রহস্য
তাই অপদার্থের বাক্স খুলে বসলাম আবার
নেড়ে চেড়ে দেখতে গেলাম মধ্যরাতের হরমোন;

ক্ষয় হতে থাকুক দুর্বল রক্ত কণা
মন্ত্র বিফলে গেছে
অবধারিতভাবে শরীরের পতনের দিকে হেঁটে যাচ্ছি
মিছেমিছি ভুল জীবন যাপন করে কাজ নেই অন্তত আমার

আরও অন্ধকার

অফুরন্ত কলম আর কাগজ আমার ঘরে -
তবু ভালো কিছু লেখাটা দুঃসাধ্য কাজ

লিখতে চাইলে
মুহুর্তেই অমাবস্যার মত হতাশায়
নুয়ে পড়ে বলপেন
স্থবির হয়ে যায় আঙুল

শুধু তা-ই নয়
এ এক চতুর চক্রান্ত;
ওরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
ডেকে আনছে আরও অন্তহীন অন্ধকার

এখানে নদী নয়, প্রেম নয়, সুখ নয় ;
চোখে মুখে মগজের ড্রেনে
জীবনের অজান্তে
বয়ে বেড়াচ্ছে অসুখের কালো
স্নিগ্ধ-সুন্দরের সবটা মেখে গুলে খেয়েছে ওরা

ওদের মাই পাছার সমারোহে
নিঃশ্বাস ফেলে নিশ্চয়ই বুঝেছিলাম -
পৃথিবীর বিষণ্ণ গরীব মানুষেরা সবচেয়ে ভালো।

দুঃসংবাদ

সুখকর কোনও খবর নেই আপাতত
হতাশাগ্রস্ত তরুন-তরুণীরা বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই
বুড়ো সিগারেটওয়ালাটাও নিকোটিনের ভাণ্ডার উজাড় করে দিয়ে
চলে গেছে
রাস্তাগুলো আমাকে বিদায় জানিয়েছে তারও আগে
দিন শেষে আমি ফিরে গেছি আমার বিষণ্ণ কামরায়
আমাকে গিলে খেয়েছে বদ অভ্যাসেরা
আক্রান্ত করেছে আলস্য
দংশন করেছে দুশ্চিন্তা
শীর্ণ হয়েছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আর বেশভূষা
মনে হচ্ছে আমিও আর মানুষ নই এখন

এ সংবাদ যথেষ্ট আনন্দের নয়
তবে এইমাত্র আবার বৃষ্টি নেমেছে
তোমরা ইতোমধ্যে উপভোগের আসর সাজিয়ে নিয়েছ
গান অথবা কবিতায়
সে আসরে সমাদৃত হবে-এমন খবর নেই এখানে।

সবকিছু বরং অসাড় করে রাখি

বোঝার চেষ্টা ছেঁড়ে দিয়েছি বছর কয়েক আগে
শিশুসুলভ কৌতূহল আমার
দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঘাতকের নীরব আক্রমণে;
আজকাল তাই আর বোঝার চেষ্টা করি না কিছু-
সম্পদের অপচয়,
অপরাধী, প্রধানমন্ত্রী কিংবা নিছক বুদ্ধিজীবীদের মনস্তত্ত্ব।
একটা ধর্ষণ অথবা খুন,
অ্যামেচার ক্রাইম, আমার দুর্বিনীত আলসেমি, বেয়াদবি
বোঝার চেষ্টা করি না কোন আগামী অপেক্ষা করছে সাদা জামায়
কলেজের কিশোর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবুঝ তরুণীটির জন্য ;
বুঝতে চাই না, খুঁজতে যাই না আমার ও আমাদের জ্ঞান, শক্তি
আমার কালো ফুসফুস-হৃদযন্ত্র, স্বদেশী বাজার, খাবারের স্বাদ;
কাঁঠালচাঁপার রঙ, রহস্য, প্রেম-
এ সমাজে সবকিছু বোঝার সামর্থ্য হারিয়েছি

প্রেম আর স্বপ্নের পোস্টমর্টেম
করতে গেলে আঙুলের নখে জমা হয় কালের আবর্জনা
দাপাদাপি করে হতাশ হরমোন
ওরা আমার দেহমন বিষাক্ত করে রাখে
শুকিয়ে শুন্য হয়ে আসে মস্তিস্ক,

অসুখের রাত

এরকম রাত অসহ্য লাগে
বন বন ঘোরে বিদ্যুতের পাখা
কানে বিরক্তি ঢালে হিন্দি চ্যানেলের সুর
বাতাসে উড়ে যায়
সস্তা বিড়ির ছাই
উড়ে আসে চোখের পাতার নীচে
যন্ত্রণা দেয় ভীষণ
কষ্ট দেয় তোমার অবিশ্বাস,
সঙ্কোচ আর অনর্থক ভয়-
আমাদের বন্ধুত্ব-ভালোলাগার নিবিড় পরিচয়
এ সব কিছু নিশ্চয়ই নিষ্ফল হবার নয়।

এরকম রাত অপার্থিব মনে হয়
মানবিক সন্দেহ আর দৈব ষড়যন্ত্র
ভারী করে দেয় বাতাস
হারিয়ে দেয় মানুষদের
বিষে ভরিয়ে দেয় নিঃশ্বাস
বালিশে, পেন্সিলে, টাইপ-রাইটারে
স্বস্তি খুঁজতে থাকি
শেষ কবে ঘুমিয়েছিলাম পেট পুরে খেয়ে -
মনে পড়ে না, এ অস্বস্তি পিছু ছাড়ে না
বাতাস বয় না, গাছের ডাল আর পাতারা নড়ে না
দীর্ঘশ্বাস অনুভবে; আবদ্ধ অন্ধকারে চেয়ে।

এরকম রাত নিঃস্ব করে দেয়
আমাদের যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা
সম্পদ আর সুযোগের অভাব
আরও কয়েকগুণ বাড়ায় অস্থিরতা
শব্দে শব্দে মুহূর্তরা বলে শুধু- নাই

বুকের ভেতর আজো কাঁদে একলা সমুদ্দুর!

একলা সমুদ্দুর
আহসান কবির

নদী হয়ে ভাঙ্গবি যদি
নদী হয়েই থাক
আমার জন্য হাতের মুঠোয়
মোহনাটা রাখ
জল ফুরোলেও আসিস
পারলে ভালোবাসিস
জীবন থেকে যাক না চলে ভাঙ্গনেরই সুর
বুকের ভেতর আজো কাঁদে একলা সমুদ্দুর!

আকাশ হয়ে ডাকবি যদি
আকাশ হয়েই থাক
আমার জন্য মুঠোর ভেতর
সন্ধ্যাতারা রাখ
বৃষ্টি হলেও আসিস
জলের খেলায় মাতিস
তোরে ছাড়া জীবন আমার বিরহেরই সুর
বুকের ভেতর আজো কাঁদে একলা সমুদ্দুর!

আর না হলে পাগলিরে তুই
তোর মতোই থাক
আমার জন্য হাতের মুঠোয়
জীয়নকাঠি রাখ
দুঃখ পেলেও আসিস
জীবন ভালোবাসিস
দেখতে কী পাস হাতছানি দেয় মুগ্ধ অচিনপুর?
বুকের ভেতর আজো কাঁদে একলা সমুদ্দুর!

পহেলা ফেব্রুয়ারি,২০০৫
সোনারগা প্লাজা,পান্থপথ

অল দা বেস্ট ফর ইউ

দেখ তুমি কতদুর এগিয়েছো-
পাওয়া হয়নি নিশ্চয়ই অনেক কিছু-
খুঁজতে থাকো
জীবনের হীরে মুক্ত।

আমি বহু দিন ধরে ওসব খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়েছি;
জেনে গেছি- সব বিলুপ্ত হয়ে গেছে কচ্ছপের মত নিঃশব্দে
তবু আমি কিছুই বলতে যাবো না-
বলতে যাবো না যে তুমি বহু আগেই পথ হারিয়েছ
পথ হারিয়েছে তোমার সাথীরাও
পথ হারিয়েছে তোমার সাজসজ্জা
বেশভূষা, অঙ্গভঙ্গি, মস্তিস্ক।

সহস্র দালানের ইট আর প্রেমিকার হাত
উল্টে পাল্টে সর্বস্বান্ত হয়েছি-
খুঁজে পাইনি এক ফোঁটা শীতল শান্তি;
তবু তোমাকে কিছুই বলার নেই- খুঁজতে থাকো
যা যা এখনো মহামূল্যবান-
জৌলুশ, আয়েশ, সুসন্তান
আমি বলতে আসবো না যে বহু আগে তোমার রক্ত নষ্ট হয়েছে
তাই ভ্রষ্ট হয়েছে তোমার সন্তান।

বলতে আসবো না যে এই অন্ধকারে
অর্থহীন তোমার জ্ঞান ও গনতন্ত্রচর্চা,
পেপার পড়া, টিভি দেখা, বেড়াতে যাওয়া এবং ছবি তোলা;
তুমি বরং এগিয়ে যাও-

দু'টো কথা

কি নিয়ে দাঁড়াবো এসে তোমার সামনে
শক্তি-ইচ্ছে সবইতো হারিয়ে ফেলেছি

নির্বুদ্ধিতার চাষাবাদ করে করে
অপচয় করেছি
ক্ষয় করেছি সবটুকু উর্বরতা

এখানে এখন আর একটা বীজও জন্মাবে না
কোন স্পর্ধায় তোমাকে ডাকবো
এরকম প্রাণহীন পৃথিবীতে?


এই দেখ- যে ভালোবাসা প্রয়োজন তোমার
তার সবটা এখানেই আছে
এই যে এই চোখের কোনায়- নাকের ডগায়-
চুলের প্রান্ত থেকে ঝরে যাচ্ছে সব
তুমিই তো বলেছিলে
এসব তোমার চাই
এই দেখ- সব এখানে
এই দেখ সবুজ বন- সমুদ্র- ঢেউ
তুমিই তো চেয়েছিলে
এই নাও- কুয়াশা- শালিখ- রোদের পরশ।

রুপান্তর

ঠিক কি কারণে এতোটা বিষাদগ্রস্ত হলাম আমি-
এতোটা পথ হেঁটেও বঞ্চিত হলাম কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য থেকে-
আগামীকে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হলাম জরুরী বার্তা-
ঠিক কোন কারণে?
রিকশাওয়ালার সাথে দুর্ব্যবহার করে
শিক্ষকদের অমানবিক আচরণ করতে দেখে?
প্রেমিকার জন্য নিরাপদ আবাস খুঁজে না পেয়ে?
রাস্তায় নগ্ন শিশুদের অনাদরে ঘুমাতে দেখে?
হয়তোবা আমাকে ঘিরে বাবার অশেষ স্বপ্ন শুনতে শুনতে-
হয়তোবা মানুষদের অমানুষে রূপান্তরিত হতে দেখে-
হয়তোবা-
জীবনের অসীম অভাবের তাড়নায় বার বার লজ্জিত হয়ে-
কে জানে?
হয়তোবা এমন আরও অনেক কিছুর কারণে-
আমি ক্ষয়ে যাচ্ছি বুড়ো হাড় হয়ে
বয়ে যাচ্ছি নর্দমায় যুবকের প্রস্রাব হয়ে
পুড়ে যাচ্ছি মাদক হয়ে
বিষে ভরা বায়ুমণ্ডলে মিশে যাচ্ছি
কুকুরের দীর্ঘশ্বাস হয়ে;
মরে যাচ্ছি প্রেমিকার অসহায়ত্ব হয়ে
রাজনীতিবিদ আর সমাজকর্মীদের মিথ্যা হয়ে
ভেঙে যাচ্ছি সন্ত্রাসীর সাবাড় করা মদের বোতল হয়ে

তোমাদের সাথী হতে চেয়েছিলাম বলে

গুলিবিদ্ধ পাখির মতন
নিশ্চল ডানা আর রক্তাক্ত পাঁজর নিয়ে
আমি ফিরে আসছি মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বুকে-
ওরা রাইফেল আর দূরবীন নিয়ে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
তিন ভাগ জল আর এক ভাগ মাটি।

ওদের উদযাপন অপেক্ষা করছে আমার মৃত মাংসের জন্য-
আমি হারিয়ে যাচ্ছি- হারিয়ে যাচ্ছি-

(সড সড স ডর ফে হ হ ক জক ল ফ ড ড)

সেক্সের বিষয়টা

''তা মশাই, কি হচ্ছে এসব?
কি যে হচ্ছে তা ওরাই ভাল জানে। আমি আম গাছ। আমগুলো বতী হচ্ছে আমার- এর বেশি কিছু জানি নে।''

আমরা ছয়জন আমগাছের সাথে কথা বলছিলাম। শাহবাগের এটিএম বুথটার সামনে দাড়িয়ে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে হলদে রঙ ধরা আমগুলোর দিকে। আমরা টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে কয়েকটা জায়গায় দাড়িয়ে বসে রাত পৌনে বারোটার দিকে শাহবাগের গাছের আমের নিচে দাড়িয়ে আছি।

যখন তোমারে চাইতাম

তোমারে পাইতে চাইছিলাম আমি
পাশ ঘেঁষে হাঁটার সময়-
তোমার গায়ের ঘ্রান খুব মোহন করতো আমারে।

আরও অনেক নিভৃতে তোমারে পাইতে চাইছিলাম
ভেজা ভেজা সবুজের মত।
পাইতে চাইছিলাম ফাল্গুনের রাঙ্গা ফুলের মত;
সেই রঙের জোয়ারের মত তোমারে রাঙাইতে চাইছিলাম।

হয়তো বিপ্লবের চেয়েও বেশি রকম তোমারে পাইতে চাইছিলাম।
শুকনো শীতে একটা দেশলাইয়ের মত-

সেই সময় আজো ভোলে নাই-
কি রকম ব্যাকুল আমি- চাইতাম তোমার গায়ের ঘ্রাণ।

২.
ভাবনাতে ঘুম আশুক-
ছোপ ছোপ অন্ধকারের মত।

ভাবনার রেশ ধরে যেতে যেতে

আজ রাত্তিরেও খাওয়া দাওয়া সেরে যেই না সুনীল'দার মিষ্টির দোকানের পাশটাতে দাঁড়িয়েছি অমনি সেই পাগলা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ভরপেট খেয়েদেয়ে একটা মিষ্টি গালে দিয়ে এরকম ঝিরি ঝিরি বাতাসে দাড়িয়ে; ঠিক কি কারণে জানি না- একটা ধোঁয়ার কাঠিতে আয়েশ করে আগুন জালিয়েই মনে হল- বিড়িটিড়ি এবার ছেঁড়ে দিলেই হয়- কেন যে আজ অব্দি অনর্থক বিষ খেয়ে যাচ্ছি - এ বস্তুটির কাছ থেকে নিস্তার পেলেই বাঁচা যায়- চাইলেই ছেঁড়ে দেওয়া যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। পাশের পাড়ার দাদাও ফুস করে ধোঁয়া ছেঁড়ে সায় দিলেন- হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক কথা।