ইউজার লগইন

আমাদের সাম্প্রতিক ব্লগিং, আর তারপর

১.
সাম্প্রতিক ব্লগিং সিনারিও দেখে মনে হলো একটা পোস্ট লিখা যেতেই পারে, যদিওবা এতে করে ''সুশীল'' আখ্যায়িত হওয়ার আশংকা থেকেই যায়। তবুও এই আশংকাকে গুরুত্ব না দিয়ে, বরং ''সুশীল'' শব্দের অর্থ বদলে গিয়ে এর রুঢ় (নাকি যোগরুঢ়?) টাইপ শব্দ হওয়ার প্রসেসের সাথে নিজের যুক্ত হবার সম্ভাবনাটাকেই বড় করে দেখছি।

বাংলা ব্লগিংয়ে নিজেকে প্রবীণ দাবি করা যাবেনা কোনভাবেই যেহেতু আমার ব্লগিং এর বয়েস মাত্র সাড়ে তিন বছর, তবে এর সম্পর্কে হালকা ধারণা পাওয়ার জন্য এই সময়টুকু যথেষ্ট বলেই মনে হয়। শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত যদ্দুর দেখেছি তাতে করে জানি বাংলা ব্লগে যত আলাপ-আলোচনা-সমালোচনা তার সিংহভাগ জুড়ে আছে মুক্তিযুদ্ব, এবং ধর্ম; কখনোবা ব্লগীয় ইন্ট্যার‌্যকশানের ফর্মে, কখনোবা ব্লগীয় অস্হিরতা বাকবিতন্ডার বেশ ধরে।

২.
এই আলাপ-আলোচনার সর্বশেষ সংযোজন মেহেরজান অধ্যায়। আগেই জানিয়ে দিচ্ছি মেহেরজান সিনেমা ভালো কি খারাপ সিনেমা সেই আলাপে আমি যাচ্ছিনা (রিভিউ পড়ে মনে হয়েছে অখাদ্য, সেটুকু বলতে পারি এখনো পর্যন্ত)। তো ব্লগীয় এই মেহেরজান অধ্যায় দেখে মনে হলো আমরা সম্ভবত ভুলে গেছি এটা একটা সিনেমা। আমরা সম্ভবত সিনেমা দেখতে গিয়ে নিউঝ রিপোর্ট পেতে আগ্রহী, কিংবা আমরা ডকুড্রামা দেখতে চাই বিশেষত যদি সিনেমাটা বানানো হয় মুক্তিযুদ্বের পটভূমিকায় বা মুক্তিযুদ্ব কেন্দ্রিক!!

আমি সিনেমাটা দেখে (বা না দেখেই) একে খাদ্য বা অখাদ্য ঘোষণা করতে পারি, কিন্তু এই সিনেমা ''এভাবে বানানো যাবেনা'' তা কিভবাে দাবি করতে পারি?!

সিনেমা দেখে (বা না দেখেই) আমি আলাপ করতে পারি/প্রশ্ন তুলতে পারি ''এই সিনেমা এভাবে কেন বানানো হলো?''। কিন্তু আমার বক্তব্যের মূলসুর যদি ''এভাবে বানাইলি ক্যান? ক?'' কিংবা ''আর বানাইবি?'' এই ধরণের হয় তখন তা আসলেই দুঃখজনক।

হয় আমাদেরকে মেনে নিতে হবে যে সিনেমা'র স্ক্রিপ্ট হিসেবে নিউঝ রিপোর্টকে ব্য়বহার করা হয়না, কিংবা আইন পাশ করাতে হবে যে মুক্তিযুদ্ব বিষয়ক ডকুমেন্টারি বা ডকু-ড্রামাই তৈরী করা যাবে শুধু, সিনেমা নয়। তবে আদতে সিনেমা কে সিনেমা হিসেবে নেয়াটাই মনে হয় সুস্হতার পরিচয় হবে।

আমাদের মনে হয় সময় এসেছে দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবোধ কে ট্যাবলেট হিসেবে দৈনিক গ্রহণ না করে বরং একে 'অনুভবে'র পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার।

৩.
ব্লগের অন্য চালিকাশ্তির কথায় আসি- ধর্ম। মুহম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কার্টুন এর কথা কেউই ভুলিনি। এই কার্টুন নিয়ে আরিফের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় টাকেও ছোট করে দেখার উপায় নেই। কার্টুন আকার পরপরই আরিফের উপর যেই আযাব নাঝিল হয় সেইটার কারণ ও কিন্তু ঐ একই ''বানাইলি ক্যান? ক?'' কিংবা ''আর বানাইবি?'' টাইপ মনোভাব।

আরিফের কার্টুনকে কার্টুন হিসেবে দেখা হয়নি কখনোই! কার্টুন হিসেবে এইটা কি সফল? কিংবা ফান করার জন্য তৈরী কার্টুন টা কি আসলেই ফানি নাকি রদ্দি সে বিবেচনায় যাওয়ার সুযোগ ছিলনা অনেকেরই; তারা ক্যান বানাইলি'তে ব্যাস্ত। তারা আরিফের কাছ থেকে স্রেফ কার্টুন আশা করছিলেন না, বরং আশা করছিলেন মুহম্মদ (সাঃ) বিষয়ক এমন কার্টুন যা পরবর্তীতে স্কুল-মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভূক্ত করা যায়!! তাহলে যে পাঠ্য-পুস্তক বোর্ড বা বায়তুল মুকররমের কারো কাছে যাওয়াই শ্রেয়, আরিফের কাছে নয়।

আামদেরকে ঠিক করে নিতে হবে আমরা যেকোন ধর্মের (কিংবা নাস্তিকতার) অনুসারী কি ধর্মপালন করার জন্য, নাকি আমরা ঐ ধর্মের (কিংবা নাস্তিকতার) রোবোটিক সোলজার হিসেবে আচরণ করব।

৪.
তবে আমাকে যদি জিগ্যেস করা হয় তবে বলতে পারি প্রথমদল যারা আরিফের উপর ক্ষুব্দ এমন কার্টুন বানানোয় (যেইখানে কার্টুনের ভালো খারাপের বিবেচনা বড় নয়, বরং কার্টুন টা এভাবে বানানো অপরাধ), আর দ্বিতীয়দল যারা রুবাইয়াত এর উপর ক্ষিপ্ত এমন ছবি বানানোয় (যেইখানে ছবির ভালো খারাপের বিবেচনা মুখ্য নয়, বরং এরকম ছবি কেন বানানো হবে তা মুখ্য) এই দুইদলের মধ্যে আমি তেমন কোন তফাত দেখতে পাইনা!!

৫.
অন আ সেপারেট নোট-

ব্লগার রাসেলের পোস্ট ''মেহেরজান বিষয়ে আবর্জনামার্কা নির্বোধ দেশপ্রেমিকের সকাতর প্রকাশ- ওটাকে নিষিদ্ব করে দাও'' পড়ছিলাম। সেই পোস্টে শালীনতা-অশালীনতা নিয়ে খানিক আলাপ হয়ে গেলো। কেউ কেউ রাসেলকে অনুরোধ করলেন শালীনতার খাতিরে ভাষা টা খানিক বদলানোর, কিংবা কিছু জিনিস বাদ দেয়ার, আবার কেউ কেউ রাসেলের পোস্টে অশালীন কিছু খুজে পেলেন না।

রাসেলের পোস্টের ভাষা শালীন কি অশালীন ছিল তা বিশ্লেষণে যাচ্ছি না কারণ সে গভীরতম গ্যানের কথা, আর গভীরতার সাথে তার বিস্তারও কম নয়। আর তাছাড়া শালীনতা অশালীনতার নির্ধারণ রাসেল আর তার পাঠকরাই করুক। আমি শুধু লক্ষ করেছি রাসেলকে তার নিজের মত করে কথা বলতে না দেয়ার প্রয়াস টা!!

রাসেলের পোস্ট পড়ে আমার মনে হয়েছে ভাষা টা পছন্দনীয় না, আর আমি সেটা ততক্ষনাত জাহির করে ফেললাম; আমাকে জানিয়ে দিতে হবে যে রাসেল ভাষাটা বদলাও- সেই জানানোটা ফ্রেন্ডলি বা আনফ্রেন্ডলি যেই ফর্মেই আসুক না কেন!!

হ্যা, অবশ্যই রাসেলের ভাষা পড়ে আমি অফেন্ডেড হতে পারি, আমি চাইতে পারি এভাবে যেন আমাকে অফেন্ডেড না হতে হয়, আমার মনে হতেই পারে এইখানে এভাবে কথা বলা উচিত নয়, কিন্তু সাথে সাথে এইটাও আমার ভাবার প্রয়োজন যে রাসেলের ''এইভাবে'' বলার সুযোগ/অধিকার সংরক্ষন করা যায় কি না। তা না করে রাসেলকে ভাষা টা শালীন করতে বলা অনেকটা রাসেল ''ঐভাবে'' লিখ বলার মত হয়ে যায়।

প্রথম সুযোগেই ''আমি ওভাবে চাই, এভাবে নয়'' না বলে আমার কি উচিত না এমন পথ খুজে বের করার চেষ্টা করা যেখানে আমারো অফেন্ডেড হতে হবে না, আর রাসেলকেও তার ভাষায় তার মত কথা বলতে দেয়া যাবে? কিন্তু এত সব প্যাচে না গিয়ে শুরুতেই পাঠকের জানিয়ে দেয়া ''আমি ওভাবে চাই, এভাবে নয়''। সো মাচ ফর ব্যক্তিস্বাধীনতা। আমরা কেউই রাসেলকে সাজেস্ট করিনি পোস্টের ট্যাগে ১৮+ জুড়ে দিতে।

আমরা প্রায়ই বলি রাষ্ট্রযন্ত্র বা রাজনৈতিক সরকার ফ্রী-লি কথা বলতে দেয়না। হ্যা, রাসেলকে তার মত করে কথা বলার ''সর্বোচ্চ-সম্ভব'' সুযোগ টা না দিয়ে শুরুতেই ভাষা বা কন্টেন্ট বদলানোর বুদ্বি দেয়া ''আমরা'' নাগরিকদের রাষ্ট্রযন্ত্র বা রাজনৈতিক সরকারের কাছে ফ্রীলি কথা বলার সুযোগ চাওয়াটা হাস্যকর বৈকি। তুমি ব্যাক্তিজীবনে যা করতে পারছোনা, তা রাস্ট্রের কাছে চাও কি ভেবে? তোমার চলাফেরা, তোমার ভাবনা-চিন্তা অ্যাকুমুলেইট করেই তো রাস্ট্র তার আচরন নির্ধারণ করে!!

পোস্টটি ২০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

গ্রিফিন's picture


আপনার মনের ভাবটা সহজ সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

বাফড়া's picture


থ্যংস, গ্রিফিন

নাজমুল হুদা's picture


এত সাবলীলভাবে কঠিন কথাগুলোকে সহজে বলেন কী করে ?
বাফড়ার চিন্তাধারা ও তার প্রকাশ দুটোই অসাধারণ !

বাফড়া's picture


থ্যংকিউ, নাজমুল হুদা

মাহবুব সুমন's picture


মৌলবাদী আচরন আমরা করছি। নিজের মতের সাথে মিল্লেই হব, নচেৎ তুমি পাকপ্রেমী রেজাকার। এররকম অবস্থাই এখন চলছে।
স্ববিরোধী আচরনে ভরপুর।

( উপরক্তো আচরনে আমিও দোষযুক্ত )

বাফড়া's picture


@মাহবুব ভাই- স্ববিরোধী আচরণ আমার মাঝে খুজলে হাজারে হাজার পাই Sad

মীর's picture


সাম্প্রতিক ব্লগিংএর বর্ণনা পড়ে ভালো লাগলো। বিশেষত আপ্নার নিজস্ব স্টাইলের কারণে।

বাফড়া's picture


থ্যংস মীর

তানবীরা's picture


চার নম্বর পয়েন্টে পুরাই একমত।

আর ব্যাক্তি স্বাধীনতা, পরমত সহিষ্ণুতা এগুলো বলে চিল্লাই বটে কিন্তু আসলে নিজের মধ্যে এগুলোর চর্চা করা সোজা নয়।

ধন্যবাদ বাফড়া

১০

বাফড়া's picture


থ্যংকিউ তানবীরা

১১

মানুষ's picture


পোষ্টের সাথে একমত না। সিনেমা এইভাবে বানানো যাবে না ঐভাবে বানাইতে হবে এই কথা বলার অধিকার দর্শক রাখে। সিনেমা নিয়ম মতো বানানো হয়েছে কিনা সেটা দেখার জন্য সেন্সর বোর্ডও রাখা হইছে এবং সেন্সর বোর্ডের উচিৎ ছিল এই ছবিটাকে আটকানোর। খুব সম্ভবত পিতৃ পরিচয়ের সুবাদে সিনেমাটা ছাড় পাইছে।

ধরেন এইটা যদি একাত্তুর হইত আর আপনি যদি দেখতেন আপনার পরিচিত কোন রমনী পাকি সৈনিকের প্রেমে মশগুল আপনার তখন কি প্রতিক্রিয়া হইত? বাঙালী বালিকা যখন হাতে "আফ্রিদি প্লিজ ম্যারি মি" প্লাকার্ড হাতে নর্তন-কুর্দন করতেছিল তখন আপনার কি প্রতিক্রিয়া হইছিল? অনলাইন বা অফলাইনে মানুষ জনের এখন যে প্রতিক্রিয়া দেখতেছেন সেটা ঐ ধরনেরই একটা প্রতিক্রয়া।

১২

বাফড়া's picture


@মানুষ- ''সিনেমা এইভাবে বানানো যাবে না ঐভাবে বানাইতে হবে এই কথা বলার অধিকার দর্শক রাখে'' - এই অংশটুকু নিয়ে আর আলাপ করলাম না... এটাকে আপনার দৃষ্টিভংগী ধরে নিলাম, আর এ ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভংগী পোস্টেই উল্লেখ আছে।

সেন্সর বোর্ডের প্রসংগ আসলে বলতে পারি যে ''মোটা দাগে'' সেন্সর বোর্ড নামক আইডিয়া টা ফালতু ও অপ্রয়োজনীয়।

এইটা যদি ৭১ হত আর বাংগালী রমণী কোন পাকি সৈনিক এর প্রেমে পড়ত তবে আমার ক্ষিপ্ত হবার সম্ভাবনাই প্রবল .. তবে ঐ তরুণী আফ্রিদি রে ম্যারি মিক প্ল্যকার্ড নিয়া নমর্তন কুর্দনের সময় প্রতিক্রিয়া দেখাইনি, বরং প্রতিক্রিয়া দেখে অবাক হয়েছি। কার কোথায় কারে দেখে ভাল্লাগলো তাতে আমার কি?!!!

অনলাইন অফলাইনে মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমার সমস্যা নেই, তবে এর ধরণ দেখে, কারণ দেখে আমার এই প্রতিক্রিয়া পোস্ট। মানুষের অনলাইন অফলাইন প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র এইটুকুই প্রমাণ করেছে যে নিউটনের ৩য় সূত্র শুধু ফিঝিক্সে নয়, বরং মনের জগতেও কার্যকরী; এর বাইরে মানুষের প্রতিক্রিয়া গুলো তেমন ভ্যালু অ্যড করেছে বলে মনে হয়নি।

১৩

সোহেল কাজী's picture


ওয়েল, একজন পাঠক হিসেবে আমি লেখকের ভাষাটাকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না! প্রত্যেক লেখকেরই স্বতন্ত্র প্রকাশ ভঙ্গি থাকতে-ই পারে। যেমন আপনার পোষ্টে প্রায়ই মন্তব্য দেখতে পাওয়া যায় "পুড়া বাফড়িয় পোষ্ট হইছে"। আর সেই জন্যই লেখকের প্রকাশভঙ্গি একজন লেখককে হয়তো চিহ্নিত করতে পারে কিন্তু লেখার বিষয়বস্তুকে নয়।
কোন লেখা পড়তে গেলে প্রথমেই বিবেচ্য মনে করি, লেখক কি মেসেজ সার্ভ করছেন।
প্রকাশ ভঙ্গি যেমনই হোক না কেন লেখক যদি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কোন মেসেজ সার্ভ করে তখন দায়টাও লেখকের কাঁধেই বর্তায়! সেক্ষেত্রে ব্যাক্তি স্বাধীনতা বিষয়টা নিছকই অর্থহীন ব্যাপার বলে মনে করি!

রাসেলকে ভাষা টা শালীন করতে বলা অনেকটা রাসেল ''ঐভাবে'' লিখ বলার মত হয়ে যায়।

সহমত পোষন করছি!

১৪

বাফড়া's picture


@ কাজী- ''একজন পাঠক হিসেবে আমি লেখকের ভাষাটাকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না! ... .. কোন লেখা পড়তে গেলে প্রথমেই বিবেচ্য মনে করি, লেখক কি মেসেজ সার্ভ করছেন।''

আমি ব্যাক্তিগতভাবে লেখকের ভাষাটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি... লেখকের অনেক ইন্টেনশান, অনেক আবেগ অজান্তেই ভাষার মধ্য দিয়ে ধরা দেয়... সার্ভ করতে চাওয়া মেসেজটাকে আমার মনে হয় আরো ভালো ভাবে ধরা যায় তার ভাষা দেখে। যাহোক ভাবনা ভিন্ন হলেও আপনার আমার সিদ্বান্ত একই- মেসেজ টা কে আমরা দুইজনই ঠিকমত বুঝতে চাইছি।

লেখক কে তার যেকোন সাধারণ কথারও দায় নিতে হবে, তবে তাকে কথাটা বলতে দিতে হবে

১৫

উলটচন্ডাল's picture


আপনার বিশ্লেষণ পড়ে ভাল লাগল।

মুশকিল হল যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টি বড় বেশি আপেক্ষিক। লেখক হিসেবে আপনি যদি স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারেন - পাঠক হিসেবে আমি আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারব না ???

যে পোস্ট ধরে আলোচনার অবতারণা - সেই পোস্টটি আমার কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। অন্য ব্লগের পোস্টের যুক্তিখন্ডন করা হয়েছে এবং তর্ক করতে গিয়ে অশালীন কথাগুলো ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে সহব্লগারদের প্রতি। এইখানেই আপত্তি। সরাসরি বলছি - মত প্রকাশের যথেচ্ছ ব্যবহার আমার ব্লগ ও somewherein blog এর অধ:পতনের পিছনে দায়ী। randomly একটা sample নিয়ে দেখেন - আমার ব্লগের পোস্টের গড় মান অনেক উন্নত। ক্যাচাল ধরনের পোস্ট কম। এখানের মিথস্ক্রিয়ার ধরনও ভিন্ন।

আর ১৮+ ট্যাগ ঝুলানো এক্ষেত্রে ফলপ্রসূ নয়। কারণ পোস্টের বিষয়বস্তু অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সমস্যা নয়। সমস্যা হল ভাষাভঙ্গি। এই সহজ একটা ব্যাপার কেন ধরতে পারছেন না ??

ব্লগে/ দৈনিক পত্রিকায় ধর্ষণের খবর থাকে। ধর্ষিতার প্রতি সমবেদনা থাকে। ধর্ষকের বিচারের দাবী থাকে- একে আপনি কী ট্যাগ দিবেন? ১৫/১৬/১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীরা কি এই খবর পড়বে?

এইবার দেখেন - একই খবর দুই পত্রিকা কিভাবে ছাপে।
সাধারণ দৈনিক পত্রিকায় থাকে - কে কিভাবে কখন ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষক ধরা পড়েছে কী পড়েনি।

ট্যাবলয়েড পত্রিকায় তা-ই থাকে, স্রেফ বর্ণনাটা আরো মশলাদার হয় - মানবজমিন, আমাদের সময় - এইসব দৈনিকে খবরটা ছাপবে বিকৃত রুচির মানুষদের টেক্সটুয়াল / সেক্সুয়াল আনন্দের জন্য।

জুড়ে দিবে- “রাতভর পালা করে ধর্ষণ” , “অত:পর যুবতীর আর্তচিৎকারে” , “ নগ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার” ইত্যাদি। খবর প্রকাশে এমন গ্রাফিক ভাষাভঙ্গি কতটুকু যৌক্তিক? এইখানে ১৮+ ঝুলায় কী লাভ? ১৮ কেন যে কোন সুস্থ বয়স্ক মানুষেরই তো ঘেন্নায় বমি চলে আসবে।

যারা ভাষা প্রকাশকে উড়িয়ে দিচ্ছেন - তাদের বলছি:

নানা পর্নো সাইটে গল্পে গল্পে নিজের মামীর সাথে সঙ্গম বর্ণনা থাকে। মামীর স্তনের আকার ও দেহের বিভিন্ন অংশ নিয়ে রসালো কথার বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন। কেমন লাগবে সেগুলো পড়তে?

একই কথা লেখা আছে বৈষ্ণব পদাবলীতে। তফাৎ কেবল ভাষাভঙ্গিতে। রাধা ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের মামী।

১৬

বাফড়া's picture


@উলটচন্ডাল- প্রচন্ড রকমের বড় কমেন্ট, অনর্থক টেনে বড় করেছেন কমেন্ট টাকে; পড়তে কষ্ট কম হয়েছে, তবে উত্তর দেয়ার কষ্ট সেই ঘাটতিটুকু পূরণ করে দিবে বলেই মনে হচ্ছ ।

===

''মুশকিল হল যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টি বড় বেশি আপেক্ষিক। লেখক হিসেবে আপনি যদি স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারেন - পাঠক হিসেবে আমি আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারব না ???''

-পাঠক হিসেবে অনুভূতি প্রকাশে বাধা আছে সে দাবি তো করিনি কখনো; তবে যদি ধরে নেয়া হয় যে সেই অনুভূতির সাপেক্ষে পাঠক লেখার মধ্যে পরিবর্তন দাবি করবেন তবে তা নেহায়েত ''আবদার'' বলে আখ্যায়িত করব আমি।

===

''আর ১৮+ ট্যাগ ঝুলানো এক্ষেত্রে ফলপ্রসূ নয়। কারণ পোস্টের বিষয়বস্তু অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সমস্যা নয়। সমস্যা হল ভাষাভঙ্গি। এই সহজ একটা ব্যাপার কেন ধরতে পারছেন না ??''

- ভাষাভংগী নিয়েই আমি কথা বলছিলাম। সম্ভবত, ১৮+ মানে হচ্ছে এখানে বিষয়বস্তু, বা তার প্রকাশ, বা ভাষা আপনাকে বিপর্যস্ত করতে পারে, কিংবা এর বিষয়বস্তু ভাষা এডাল্ট দের জন্য... সে অনুযায়ী সিদ্বান্ত নিন পড়বেন কি না। সুতরাং পড়তে বসলে সেইরকমের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে বসুন, এবং আপনি ১৮+ না হলে লেখাটি আপনার উপযোগী নয়।
====
''ব্লগে/ দৈনিক পত্রিকায় ধর্ষণের খবর থাকে। ধর্ষিতার প্রতি সমবেদনা থাকে। ধর্ষকের বিচারের দাবী থাকে- একে আপনি কী ট্যাগ দিবেন? ১৫/১৬/১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীরা কি এই খবর পড়বে?''

-এই প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা মনে হয় বোকামি হবে!!! হোয়াট আ ক্রেঝি-অ্যাস কোয়েশ্চেন
===

''এইবার দেখেন - একই খবর দুই পত্রিকা কিভাবে ছাপে।
সাধারণ দৈনিক পত্রিকায় থাকে - কে কিভাবে কখন ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষক ধরা পড়েছে কী পড়েনি।

ট্যাবলয়েড পত্রিকায় তা-ই থাকে, স্রেফ বর্ণনাটা আরো মশলাদার হয় - মানবজমিন, আমাদের সময় - এইসব দৈনিকে খবরটা ছাপবে বিকৃত রুচির মানুষদের টেক্সটুয়াল / সেক্সুয়াল আনন্দের জন্য।

জুড়ে দিবে- “রাতভর পালা করে ধর্ষণ” , “অত:পর যুবতীর আর্তচিৎকারে” , “ নগ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার” ইত্যাদি। খবর প্রকাশে এমন গ্রাফিক ভাষাভঙ্গি কতটুকু যৌক্তিক? এইখানে ১৮+ ঝুলায় কী লাভ? ১৮ কেন যে কোন সুস্থ বয়স্ক মানুষেরই তো ঘেন্নায় বমি চলে আসবে।''

-ধর্ষণের মশলাদার বর্ণনা কোনভাবেই কারো কাছে আকাংখিত নয়। সেক্ষেত্রে না চাইলে ঐসব পত্রকা বাসায় না রাখাই উচিত। আর সাংবাদিক/সংবাদপত্রের নামে কেউ যদি ধর্ষণের মশলাদার বর্ণনা ছাপার মত আন-এথিকাল তবে তা বন্ধ করার দায় সম্ভবত সমাজ ও ঐ প্রফেশানের লোকেদের।

তবে নিউঝ আর ব্লগিং কে এক ভাবলে সেইটা হবে আরেক ভুল ( এই কথার মানে এই নয় যে ব্লগে মশলাদার বর্ণনা জায়েঝ)

==

''যারা ভাষা প্রকাশকে উড়িয়ে দিচ্ছেন - তাদের বলছি:

নানা পর্নো সাইটে গল্পে গল্পে নিজের মামীর সাথে সঙ্গম বর্ণনা থাকে। মামীর স্তনের আকার ও দেহের বিভিন্ন অংশ নিয়ে রসালো কথার বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন। কেমন লাগবে সেগুলো পড়তে?

একই কথা লেখা আছে বৈষ্ণব পদাবলীতে। তফাৎ কেবল ভাষাভঙ্গিতে। রাধা ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের মামী।''

-এইখানে আপনি মনে হয় একটু ভুল করছেন। পর্ণো সাইটে গিয়ে মামীর স্তনের আকারের বর্ণনা না থকলেই বরং আপসেট হব; ঐখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য-ই হচ্ছে ''বিস্তারিত বর্ণনা'' পড়া। তবে সেটা এবি'তে পড়তে ভালো লাগবে না নিশ্চিত।

কেউ যদি এবি'তে এইরকম কিছু লিখে তবে সেটা লেখক (কিংবা চটি-লেখক) হিসেবে তার বেকুবি'র প্রমাণ। আমার ১৮+ ঝুলানোর কথা শুনে যদি মনে করেন এটা ১৮+ ট্যাগ দিয়ে চটি লিখা যেতে পারে এই ভাবনার প্রকাশ করেছি তাহলে অবশ্য কিছু বলার নেই।

১৭

সামী মিয়াদাদ's picture


মন্তব্য পরে দিমুনে। এখন দৌড়ের উপ্রে আছি।

১৮

বাফড়া's picture


ওকিঝ, বন্ধু

১৯

বোহেমিয়ান's picture


আপনার প্রকাশভজ্ঞি ভালা পাইছি।
#২ এর সাথে কোনভাবেই একমত না

সময় নাই তাই ব্যখ্যায় যেতে পারলাম না।
#৫ এর সাথে কিছুটা একমত Smile

আপনার কলম চলতে থাকুক। ভিন্নমতেরও দরকার আছে!

২০

বাফড়া's picture


ঠিক আছে Smile

২১

চাঁদবেনে's picture


বাঙ্গালীর দুই প্রবলেম:
১। লাফ
২। আকাশ থেকে পড়া

বলা ভাল, ক্ষেত্রবিশেষে দুই ই অস্বস্হ্যকর।

কার্টুনের প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল, এ ব্যাপারে আমাদের তত্বাবধায়ক সরকার যে দর্শনীয় লাফটি দিয়েছিলেন এটা যদি খেলোয়াড়দের কেউ দিতেন, আমাদের অলিম্পিকের গোল্ড কেউ আটকাতে পারত না।

শ্লীল ও অশ্লীলকে বিভেদকারি যে চিকন সুতাটি বিদ্যমান, তা দেখতে কেমন, আমাকে কেউ বলতে পারেন?

রবীবাবু বলেছিলেন, কথা তীরের মত, বড়জোর ব্যার্থ হয়, কিন্তু হাতে ফিরে আসেনা।
প্রয়োজনও নেই। যেকোন শিল্পই কি তাই নয়?

২২

বাফড়া's picture


''প্রয়োজন ও নেই'' ... সেইরকম

২৩

নরাধম's picture


মেহেরজান ছবি আমি দেখিনি কিন্তু ছবিতে উপস্থাপনা কিরকম হয়েছে সেটা পড়ে আর শুনে মনে হয়েছে ফালতু মুভি। কিন্তু ফালতু মুভিকে ব্যান করা যায়না বা সেন্সর করা যায়না। যদি মুভিতে কোন বররকমের ফ্যাকচুয়াল ভুল না থাকে বা ইতিহাস বিকৃতি না থাকে তাকে ব্যান করার কোন যুক্তিসংগত কারন নেই এবং ব্যান বা সেন্সর করার জন্য অনুযোগ করা বা দাবি করা নিতান্তই শিশুসুলভ আচরন। কোন মুভি দেখে আমার অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে কিন্তু অনুভূতিতে আঘাত লাগাটা মুভি ব্যান করার জন্য যথেষ্ঠ না। ফালতু মুভি লোকজন দেখবেনা, তাছাড়া মুভিটা কেন ফালতু সেটা নিয়ে আলোচনা করলে বা ব্লগপোস্ট লিখলে বা কলাম লিখলেই হয়ে যায়। মৌলবাদি আবেগের বশবর্তী হয়ে মুভি ব্যান করাটা কোনমতেই সমর্থযোগ্য না। শুধু অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এটা যদি মুভি বা বই ব্যান করার কারন ধরা হয় তাহলে মনে হয় শত শত মুভি বা বই ব্যান করতে হবে কারন প্রত্যেক মুভি বা বই কারো না কারো অনুভূতিতে আঘাত করে। যদি সে মুভিতে দেখাত যে পাকিরা যাস্টলি বাঙালিদের হত্যা করেছে বা অন্যকোন গ্রস মিসরিপ্রেজেন্টাশান হত তাহলে মুভিটা সেন্সর বা ব্যান করা যায়, িকন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন বাঙালি মেয়ে পাকিসৈন্যর সাথে প্রেম করেছে সেটা দেখানোতে মুভি ব্যান করার দাবি বালখিল্যতা ছাড়া কিছুই নয়। সত্যি বলতে কি এখন পর্যন্ত এ প্রসংগে যত আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে শুধু ফাহমিদুল হকের লেখায় পরিপক্ক মনে হয়েছে। যারা মুভি ব্যান করার দাবি করছে, করেছে তাদের কোন পরিপক্ক যুক্তি আমার চোখে পড়েনি, পুরাটাই মৌলবাদী আবেগের দাবি। মুভিটা ফালতু হয়েছে সে বিষয়ে লেখা বা কেন ফালতু হয়েছে ডিসকাস করার অধিকার সবার রয়েছে কিন্তু ব্যান করা বা করার দাবি করা কোনমতেই গ্রহণযোঘ্য নয়।

২৪

বাফড়া's picture


''মুভিটা ফালতু হয়েছে সে বিষয়ে লেখা বা কেন ফালতু হয়েছে ডিসকাস করার অধিকার সবার রয়েছে কিন্তু ব্যান করা বা করার দাবি করা কোনমতেই গ্রহণযোঘ্য নয়''.... একমত

মেহেরজান ব্যান করার দাবি পোস্ট লেখা পর্যন্ত কেউ জানিয়েছিলো কি না জানিনা, তবে সমালোচনা গুলো ছিল দেখার মত ....

২৫

আহমেদ মারজুক's picture


সুন্দর কমেন্ট নরাধম ভাই । আসলে মেহেরজান' নামের একটা সিনেমা নিয়ে তর্ক,আলোচনা এবং বর্জনের আন্দোলনের ব্যাপারটা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে । আমরা আমাদের নিজেদের সামাজিক জীবনে এক একটা হিপোক্রেট বানিয়ে বেঁচে আছি দিব্যি । অস্তিত্বকে অস্বীকার করে ,ইতিহাসকে বিকৃত করে যেগুলো হচ্ছে তাতে কি মেহেরজানই প্রথম না একমাত্র । ছাত্রশিবির বা মুতা নিজামিদের কি কোন জন প্রিয়তা নেই দেশে ? আমরা তাদের কতো শক্ত করে বাধা দিতে পেরাছি ? ভয় হয় ওদের নিয়ে রাজনীতি আর সংবিধাণের কতবার ময়না তদন্ত অপেক্ষা করছে কে জানে । মেহের জানের মতো একটা সামান্য সিনেমা থেকে আমরা প্রতিবাদকারীরা সামনে কি আরো বড় করে প্রতিবাদ করতে পারি না। তবে আমি বিশ্বাস করি মেহের জানের মতো মুভি বানানোর জন্য স্বাধীনতা থাকা দরকার আর পরিবেশনেরও স্বাধীনতা দেয়া দরকার । সব কিছুর মধ্যে আসলটা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এমনিতেই যাবে

২৬

সাহাদাত উদরাজী's picture


পোষ্ট ভাল লেগেছে। কমেন্ট গুলোও চরম।
আমি ভাষাহীন।

২৭

বাফড়া's picture


ধন্যবাদ, উদরাজী।

২৮

আরাফাত শান্ত's picture


পড়লাম ভালো লাগলো তবে কিছু কথা থাকলো তারপর কি হবে জানা নাই!

২৯

বাফড়া's picture


থ্যংকিউ, শান্ত। পড়ার জন্য থ্যংস

৩০

বাফড়া's picture


@ সবাই- থ্যংস কমেন্টগ করার জন্য। সবাই কে আলাদা করে আর রিপ্লু দিলাম না। তিতা তিতা লাগছে আলাপ করতে করতে :)।

বাই দ্য ওয়ে, এই পোস্ট নতুন কাউকে কমেন্ট না করার অনুরোধ করছি।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

বাফড়া's picture

নিজের সম্পর্কে

অবৈধ সংগম ছাড়া সুখ, আর অপরের মুখ ম্লান করে দেয়া ছাড়া কোন প্রিয় অনুভূতি নেই ...

...টাং ইন চিক ব্লগ...

থ্যাংকিউ ফর ফলোয়িং মাই স্টুপিড ব্লগ Smile.। ফীল ফ্রী টু কমেন্ট, অলদো দ্যর ওন্ট বি আ রিপ্লাই... 27.02.2011