আমাদের ভারতপ্রেম, বি.পি.এল ও কিছু প্রশ্ন..
একটা কিছু দেখলেই তা নিয়ে প্রশ্ন করে বসার সেই বয়স পার হয়ে এসেছি অনেক অনেক দিন আগে।
তবু-ও আজকাল মাঝে মাঝেই মাথায় নানান প্রশ্ন জাগে, কার্যকারণ খুঁজে পাইনা। তাই, শেষমেশ বন্ধুদের-ই সরন নিলাম।
ছোট থাকতে বড়দের সাথে কোন খেলায় অংশ নিলে 'দুধভাত' হয়ে খেলতে হত, অর্থাৎ সবকিছুতে অংশ নিলেও তার কিছুই গোণার মধ্যে পড়তো না।
বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতীয় সহিংসতা বোধহয় আজকাল সবার কাছে 'দুধভাত' হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন পরপর-ই একটা কিছু হবে, সব পত্র-পত্রিকায় একটুআধটু লেখালেখি হবে। দুই তিন দিন হয়ত ফলোআপ পাওয়া যাবে, তারপর-ই আবার যে-ই কে সে-ই।
আগে তাও রাষ্ট্রপর্যায়ে কিছু আলোচনা হতো, এখন আর সে বালাই-ও নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধি নির্দ্বিধায় জানিয়ে দেন যে, এত 'তুচ্ছ' বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করার মত 'সময়' রাষ্ট্রের হাতে নেই!
কিছু-ই 'কিছু না', এই 'ব্যাপার না' জেনারেশনের ব্যাপকতা এত কম সময়ে এতটা বেড়ে যাওয়া আসলেই অবাক করার মত বিষয়।
'প্রতিবেশি দেশ, সাইজে অনেক বড়, পাওয়ার বেশি। ভাল সম্পর্ক না রেখে উপায় নেই।' এমন অনেক কথাই শোনা যায়।
ভারতীয় সংস্কৃতি ক্রমশ আমাদের দেশজ সংস্কৃতি কে গ্রাস করে নিচ্ছে, এটা বললেই হয়ে যেতে হবে রাজাকার অথবা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি।
ভারতের সাথে আমাদের আন্তঃদেশীয় সম্পর্কের যতগুলো ক্ষেত্র রয়েছে তার একটাও কি সত্যিকার অর্থে 'আমাদের' লাভবান করছে? পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবিচারের শিকার হয়ে থাকা আর কতদিন? ক্ষুদ্র স্বার্থের খাতিরে বৃহত্তর স্বার্থ বিসর্জন আর কতদিন? ওঁদের অর্থনীতিতে অবদান রেখে আমাদের লাভটা কি, যদি তা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোন কাজেই না আসে? ভারতীয় 'পণ্যে'র 'বাজার' হয়ে থাকাই কি আমাদের 'স্বাধীনতা'?!
নিজের স্বার্থ যদি আমরা নিজেরাই না বুঝি, কার দায় পড়েছে যেচে এসে আমাদের বোঝানোর? দেয়ালে পিঠ না ঠেকে যাওয়ার আগে কি কিছুই করার নেই? ভেবে দেখুন আর একটিবার, মন ও মননের চোখ মেলে তাকান। কে জানে, হয়তো 'এখনি সময়'।
সময় হয়েছে, আমাদের ভালবাসার দেশটাকে ভালবাসতে শেখার। তাকে স্বনির্ভর করতে অন্য যুদ্ধের ডাক এসেছে, আসুন 'পথে নামি'।
এখন একটু অন্য প্রসঙ্গ। বিষয় 'বি পি এল'।
হালের সেনসেশন, ভারতে হয় তাই এখন আমাদেরও করতে হবে।
মার্চ মাসেই দেশের মাটিতে 'এশিয়া কাপ', আমাদের জন্য বিশ্বকাপের পরেই সর্বোচ্চ সম্মানের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।
মানলাম, অনেক তারকা খেলবে আর টাকার-ও অভাব নেই। কিন্তু, শেষমেশ এটি একটি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট লিগ ছাড়া তো কিছু নয়। তাহলে এশিয়া কাপের মত গুরুত্বপূর্ণ ওডিআই টুর্নামেন্টের আগমুহূর্তে এটা আয়োজনের যৌক্তিকতা টা কোথায়?!
আর এই বি পি এল-এ যে বিপুল পরিমান টাকা বিনিয়োজিত হচ্ছে তার ১০ ভাগ অংশ ও কি আমাদের ক্রিকেটের অবকাঠামোর উন্নয়নে কাজে লাগানো যেত না?
আচ্ছা, যাই হোক। আজ বি পি এল এর ম্যাচ টিকেটের সম্ভাব্য মূল্য প্রকাশিত হয়েছে। নিচে দেয়া হল।
- গ্যালারী : ৫০০ টাকা,
- উত্তর ও দক্ষিন গ্যালারী : ১,০০০ টাকা,
- শহীদ মোশতাক ও জুয়েল গ্যালারী : ৩,৫০০ টাকা,
- আন্তর্জাতিক গ্যালারী : ৫,০০০ টাকা,
- আন্তর্জাতিক হসপিটালিটি বক্স: ৮,০০০ টাকা,
- ভি আই পি গ্যালারী : ৫,০০০ টাকা,
- কর্পোরেট বক্স : ১২,০০০ টাকা (প্রতি চেয়ার)।
নিয়মিত যারা মাঠে যায় খেলা দেখতে, এই দামে তার কয়জন যেতে পারে সন্দেহ থাকবেই।
টিকেটের মূল্য কতটা অযৌক্তিক রকম বেশি টা বোঝাতে একটা তথ্যই যথেষ্ট,
গত বছর হয়ে যাওয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ম্যাচ টিকেটের মূল্য এর চাইতে কয়েক গুন কম ছিল!!
যাই হোক, দিনে দুইটা খেলা হবে এবং 'এক টিকেটে দুই ছবি'-র মত এক টিকিটেই দুইটা খেলা দেখা যাবে। এবং দর্শকদের বিনোদনে দুই খেলার মাঝখানের সময়টায় নাচ-গানা করবেন আমাদের দেশের আর ভারতের কিছু শিল্পী।
এখানেই, আবার মূল সমস্যায় ফিরে আসা।
যেখানে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বি পি এল-এ কোন ভারতীয় ক্রিকেটারকে খেলার-ই অনুমতি দেয়নি।
সেখানে, এই বি পি এল-এ ভারতীয় শিল্পীদের পারফর্ম করার জন্য আনার কথা ভাবতে একটু-ও লজ্জা করলো না আমাদের ক্রিকেটের হর্তাকর্তাদের?! এতটা আত্মমর্যাদা-ও কি আমাদের নেই?!
সকালে এই খবর টা জানার পর থেকে মেজাজ খারাপ হয়ে আছে, আমাদের দেশে কি শিল্পীর অভাব পড়ছে যে এটাও ওপার থেকে আমদানি করতে হবে?! আর কিছু লিখতে ভাল লাগছে না।
আচ্ছা, একটা ধাঁধা বলি। দেখেন তো, কেউ উত্তর দিতে পারেন কি না?
বছর খানেক আগে আমেরিকান ডলারের বিপরীতে টাকার মুল্যমান ছিল ৭০-৭২।
এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে টা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪-৮৬ তে!
এই ধারা বজায় থাকলে,
'উন্নয়নশীল' থেকে 'উন্নত' দেশে পরিণত হতে আমাদের আর কত বছর লাগতে পারে?!
অনেক হল।
আমার একটি প্রিয় উদ্ধৃতি দিয়ে আজকের প্যাচাল শেষ করছি।
'' তুমি ঠিক ঠিক যেন যে তুমি
তোমার, তোমার নিজ পরিবারের,
দশের এবং দেশের বর্তমান ও
ভবিষ্যতের জন্য দায়ী। ''
ভাল থাকুন। অনেক ভাল। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ।





গেলাম না বিপিএল দেখতে ।
হ..
কপাল ভালো ক্রিকেট খেলাটা ঐভাবে পছন্দ করি না।
কন কি?!কোন দেশে থাকেন ভাই?!
ক্রিকেট ছাড়া আর কি আছে এখন আমাদের?!!
অনেক অনেক অনেক ভালো লেগেছে আজকের লেখাটা
অসংখ্য ধন্যবাদ ..
ভারতের সাথে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে আমরা সারাজীবন ঘাটতিতে রয়ে গেলাম।
সেটাই..
শেষ জমানাতো। আমাদের লজ্জা শরম কমে গেছে...
তাই বলে, এতটাই..?!
এই সবের নীতিনির্ধারক তাদের কি চক্ষুলজ্জা নিদেন পক্ষে আধছটাক বুদ্ধিও নাই? উপলক্ষ লাগে না, সবকিছুতেই ওইখান থকে নাচুনিদের আনা লাগে!
মনে হয় না..
কয়েকদিন পর দেখা যাবে,
কেউ মারা গেলেও হিন্দি গান এনে ছেড়ে দিছে..!
আমরা এত লজ্জাহীন কেন?
খেলার সাথে নাচানাচি'র সম্পর্ক আজো বুঝলাম না...
আমি-ও..

*****
*****
মন্তব্য করুন