'সহজ কথা যায় না লেখা সহজে..' [আবোল তাবোল - ১৭]
কেমন আছো?
- এইতো, মোটামুটি। অথবা, ভালো নেই।
ভালো আছি, সে মিথ্যে হলেও মানুষ সহজেই মেনে নেয়।
অথচ, ভালো নেই বললেই অন্যদের ভালো থাকাতেও সমস্যা দেখা দেয়।
ভালো লাগে না।
লেখো না কেন?
- মন ভালো নাই, মন ভালো থাকে না।
মাঝে মাঝে ভুলে ভালো হয়ে গেলেও,
নিজের মাঝেই ভুল বোঝাবুঝিতে তা ভুলে যেতে সময় লাগে না।
অথবা, ভালো থাকার মত তেমন কিছু হয় না আর।
হলেও, তা শুরু হতে হতেই শেষ।
দিনকাল বড্ড বেশি স্লো হয়ে গেছে আজকাল। বলতে গেলে থেমেই আছে সে-ই কবে থেকে, মনে নেই। রিস্টার্ট দেওয়ার চেষ্টায় আছি অনেকদিন ধরেই, হচ্ছে না কিছুতেই।
ছুটি দরকার একটা, নিজের কাছ থেকেই – অথবা, এই বৃত্তবন্দি সময় থেকে। তাও হচ্ছে না। যার কাজ নেই, তার হাতের কাজ কখনই শেষ হয় না।
নিজের মত করে থাকতে পারাটাও ভালো থাকা। তাও হয় না সবসময়।
অসময়ে কথা শোনানোর সুযোগ হাতছাড়া করার ভুল করে না বলতে গেলে কেউই।
এই কথাগুলো মনে থাকে না, মনের ভুলে বারে বার ভুলে যাই।
নিজের মনে করা সবাইকে ভালো রাখার সবটুকু চেষ্টাও মাঝে মাঝে কম হয়ে ধরা দেয়, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় কেবল নিজের না পারার যত ব্যার্থতা।
টাকার ভ্যালুর চাইতে মুল্য বেশির সময়ে স্বার্থপরতাই হয়ত সর্বত্তম পন্থা।
সবকিছু মিলিয়ে,
আজকালকার জমানায় খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাটাই হয়তো ভালো থাকা।
কেমন আছো? ভালো তো?
- হুম, ভালোই আছি।
# # #
আজকাল বই পড়ার অভ্যাস বলতে গেলে ভুলেই গেছি,
অবশ্য একবার হাতে নিয়ে আর না রাখতে পারার মত ভালো বইও
হাতের নাগালে আসে না খুব বেশি।
কিছু বই জমে আছে, টু ডু লিস্টে ঘুমন্ত অবস্থায়।
পড়ার মুডটাও পাই না সবসময়।
আর মুড ছাড়া পড়তে বসে পড়ার মজা নষ্ট করার কোন মানে পাই না।
পিচ্চিবেলা মিস করি খুব মাঝে মাঝেই,
একটু ছুটি পেলেই কোন একটা বইএর ভেতর টেনশনবিহীন ডুব –
রূপকথা মনে হয় আজকাল।
গত কয়েকদিনে একটু একটু করে পড়ে শেষ করলাম সঞ্জীবের গল্পসমগ্র ১, ২ আর ৩। টানা পড়ার মতন ভালো, বেশিরভাগ গল্পই মনে একটা দুটা দাগ রেখে যায়।
অনেকেই দেখি দিব্যি গড়গড় করে প্রিয় ছোটগল্পের লিস্টি বানিয়ে ফেলে।
আমি পারি না। পড়ার চাইতে না পড়া গল্পের লিস্টিটাই বড় বলে হয়তো।
তবুও কিছু গল্প একটু বেশিই ভালো লেগে যায়। রমানাথ রায়ের ‘কমলালেবুর গাছ’, বিমল করের ‘সুখ’।
চলার পথে হারাতে হারাতেই নিজেকে আরেকটু ফিরে পেতে মন চায়।
# # #
তিন চার দিনের ‘হে সাহিত্য উৎসব’ হয়ে গেলো বাংলা একাডেমীতে। মাঝের একদিন গিয়েছিলাম। স্টিফেন হকিং এর মেয়ে লুসি হকিং এর সাই-ফাই শিশুতোষ বই নিয়ে কথকতা ভালো লেগেছে, কিছু স্লাইডশো আর ভিডিও ক্লিপও। জয় গোস্বামীর আবৃতি খারাপ লাগেনি। ওখানে শুধু ইংলিশ বই এর ভীর বেশ হতাশ করেছে। মেলা প্রাঙ্গণ অথবা ডেটিং স্পট হিসেবে বেশ ভালোই ছিল বলা চলে। লাইভ সিসিমপুর দেখার ইচ্ছা ছিল, সময় সুযোগ হয়ে উঠেনি।
দিনের শেষে বোধোদয়,
বাংলাদেশি পোলাপাইনের ইংরেজি হাসাহাসির প্রতি এলার্জি আমার জীবনেও যাবে না।
২৭ তারিখ শুরু হইতেছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব, আর্মি স্টেডিয়ামে টানা পাঁচ রাত। প্রথম আর শেষ দিনের মাঝে একদিন যেতে হবে, সমস্বরে বাংলা গান শোনার আনন্দটা তুলনাহীন। আর ভাবতেছি এবার ডিসেম্বর বরন করা যাবে কৌষিকী চক্রবর্তীর অসাধারন গায়কী আর চৌরাশীয়ার বাঁশির সুরে।
মাঝে মাঝেই মন ভালো হইয়া যাইতাছে।
# # #
ইদানিং বেশ কিছু মুভি দেখা হইছে, মনে লেগে আছে দুইটা।
এক, ‘ইফ আই স্টে’।
প্রায় পুরো মুভিটাই একটু সাররিয়াল। একটা দুর্ঘটনায় কোমায় চলে যাওয়া একটা মেয়ের পূর্ববর্তী জীবন
আর ঘটনার ঘনঘটায় বেঁচে ফিরে আসতে চাওয়া বা না চাওয়ার মাঝে দোটানার গল্প।
মিউজিক আর গল্প বলার প্লট, আমার ভালো লেগেছে খুব।
মুভিটার একটা কথা অসাধারন,
‘সামটাইমস ইউ মেক চয়েসেজ ইন লাইফ এন্ড সামটাইমস চয়েসেজ মেক ইউ’।
দুই, ‘বিগিন এগেইন’।
এক মিউজিক বিজনেস এক্সিকিউটিভ আর চমৎকার লেখা-গলার এক শিল্পীর চমৎকার একটা এডভেঞ্চার ।
সাচ এ বিউটিফুল হার্টওয়ার্মিং মিউজিকাল জার্নি টু ক্রিয়েট এ গরজিয়াস এ্যালবাম।
আর, মুভির নায়িকা কেইরা নেইটলির নিজের গলায় সারপ্রাইজিংলি বিউটিফুল একেকটা গান এক্সট্রা বোনাস। ওর গানগুলা মাঝে মাঝেই টানা শোনা হইতেছে ‘রিপিট অল’ দিয়ে।
মুভির মেইন থিম-ই হলো,
‘ক্যান এ সং সেভ ইউর সোউল?’
ভালো না লাগার তেমন কোন কারন পাইনাই আমি, মাস্ট মাস্ট ওয়াচ।
# # #
এবার গানে আসি। ইদানিংকালে লুপে পড়ার মতন ভালো বাংলা গান পাইনাই খুব একটা।
তাই আপাতত কিছু নতুন পুরাতন ইংরেজি গানেই চলতেছে দিনকাল। এদের মাঝে আছে
উইলিয়ামেট স্টোনের গাওয়া ‘হার্ট লাইক ইউরস’, ট্ম অডেল এর ‘হীল’, জিম ক্রসের ‘টাইম ইন এ বোটল’, ফিলিপ ফিলিপস এর ‘গোন গোন গোন’, এ গ্রেট বিগ ওয়ার্ল্ড আর ক্রিস্টিনা এগুইলেরার গাওয়া ‘সে সামথিং’, পিংক এর তার বাবার গাওয়া ‘আই হ্যাভ সিন দ্য রেইন’ আর ‘ফান.’ ব্যান্ডের স্পিরিটেড ভোকাল নেট রিউস এর সাথে গাওয়া ‘জাস্ট গিভ মি এ রিজন’। আর শেষে একটা ক্লাসিক, অ্যাবা’র ‘উইনার টেকস ইট অল’।
আজ আর না, এখানেই ইতি টানি। এই জগাখিচুড়ি উৎসর্গ করলাম আমরা বন্ধু’র ‘মাশরাফি মোর্তজা’ শান্ত ভাই কে। এই শান্তশিষ্ট ধিরস্থির ভালবাসার ব্লগ সবসময় শান্ত ভাইএর পদচারনায় মুখর থাকুক।
ভালো থাকুক সকল প্রাণ। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ। হ্যাপ্পি ব্লগিং। আনন্দম!





লেখার আইডিয়া ভাল লেগেছে। এক লেখাতেই বই, গল্প, মুভি, গান সব কিছু আছে। ফাইভ ইন ওয়ান টাইপ। এক কথায় দারুন। আর্মি স্টেডিয়ামে টানা পাঁচ রাত গান শুনতে পারবোনা। রুটি রুজির বিষয় থাকে। তবে এক রাত শুনার ইচ্ছা আছে। হাতে- পায়ে ধইরা কয়টা মানুষও জোগাড় করসি যারা আমার সাথে এক রাত স্পেন্ড করতে রাজি হইসে ফর লিসেনিং বাংলা গান। সারা রাত গান শুনে ভোরে সবাই মিলে বেড়াতে বের হবো। আমার প্রিয় ঘিঞ্জি ঢাকায়।
কোনদিন যাবা? বাংলা গান কিন্তু শুধু প্রথম আর শেষ দিন, মোটমাট ছয়টা গান।
২৭ তারিখ যাবো। ওপেনিং নাইট।
জগাখিচুড়ী ভাল পাইলাম।
"কেমন আছো" থেকে লেইম কোন কথা হয় না, অনতত আমার কাছে
(
থ্যাঙ্কুস।
আরেকটা আছে।
কি খবর?
- এই তো, চলতেছে! পেইন!
হে তে গেছিলেন? আমি কোন সেশন এটেন্ড করি নাই এইবার ... লোকজনের সাথে গল্প করতেই ভাল লাগে
আমি একদিনই গেছিলাম, ৩/৪ টা সেশন এটেন্ড করে এসে পড়ছি। চেনাজানা মানুষজন ছিল না খুব একটা।
অনেক দিন পর আসলেন, দেখে ভালো লাগতেছে। আর ডুব দিয়েন না, ভালো থাকেন।
জগাখিচুড়ী বেশ ভালো লেগেছে।

এক লেখাতেই বই,হে উৎসব,মুভি,গান সব ই আছে।অনেকদিন পর বাউন্ডুলের লেখা পড়লাম মনে হচ্ছে।
মন ,প্রাণ সবই ভালো থাকুক।
আপনাকেও অনেকদিন পর দেখলাম,
পড়া ও মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখাটা পরে মনে হলো এক অজানা শহর ঘুরতে বেরোলাম যে শহরের অলি গলিতে কোথাও লুকিয়ে আছে চলমান চিত্র অথবা বৈষ্ঞ্চবী সুর অথবা নস্টালজিক তান।
অসম্ভব সুন্দর ক্রিয়েটিভিটি!
সকাল সকাল মন ভালো করে দিলেন..থ্যাঙ্কস এ লট!
আমি ছিলাম না ঢাকায় আর মোবাইলটাও ঠিক ছিল না তাই এই পোষ্ট না পড়েই লাইক দিয়েছি হয়তো ফেসবুকে।
ভালোবাসায় আপ্লুত হই বারবার। থ্যাঙ্কস এ লট বর্ণ। দেখা হলে চা খাওয়ার আগে, তোমাকে ভালো মন্দ খাওয়াবো কথা দিচ্ছি
ইস! সারা রাত জেগে গান শোনার কথাটা শুনেই মন খারাপ লাগছে। আমি যদি যেতে পারতাম
আজকেই চেষ্টা করেন ম্যানেজ করার। কৌশিকীর গান আর চৌরাশিয়ার বাঁশি, আহ!
মন্তব্য করুন