ইউজার লগইন
ব্লগ
সেই কথাটা পুরোপুরি বলা যায় না
সেই কথাটা পুরোপুরি বলা যায়না ।
তারচে বরং পুড়তে বল,
চোখের কিছু ঝিলিক দিয়ে ধরিয়ে দাও
দেহমনে দাহ্য হয়ে কৃষ্ণচূড়ার ফুল হয়ে যাই।
দুধকলার বাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া বীণের ভীতি
ফণা ধরতে শেখার আগেই গুড়িয়েদিলাম
যেমন তেমন কালসাপ আমি?
ভিষণ নীলে রাঙিয়ে দিব সেই কথাটা,
কিন্তু তখন বিষ উড়ে যায়!
আমার কুয়োর জলে মেঘ হয়,
ধানের বুকে দুধ হয়,
রাজার ছেলেই রাজা হয়।
শুধু বলা হয় না ।
সেই কথাটা পুরোপুরি বলা যায়না ।
পাগলের দিনলিপি (চব্বিশ)
..............................................................................
................................................................................
..............................................................................
..........................................................................
..........................................................................
তোমার কালির রঙ নীল ছিলো
তুমি তাড়াহুড়ো করে এলে তারপর কীসব
লিখে রেখে গেলে আমার ভূগোলে।
দিক হারা আমি তখন স্বদেশ চিনি নাই...
আমার কেবলি মনে পড়ছিলো তখন ক্ষণে ক্ষণে
কোনো এক পাহাড় পুড়েছে খ্রীষ্টেরো আগে
সেই পাহাড়ের ধার ঘেষে এখন দাঁড়িয়ে থাকে ব্যবসায়িরা
আর নারীরা অপেক্ষা মেলে দিয়ে তাকিয়ে রয়েছে
সুরমায় রাঙাবে তাদের জলের ছোঁয়া মাখা চোখ...
আমার তখন ইচ্ছে করছিলো সুরমার অঙ্গারে তোমাকে,
নাম বিভ্রাট
আমাদের বাসায় এক বুয়া কাজ করত, আমরা ডাকতাম বুবু, মা ডাকত জানেহারের মা বা সুলতানের মা। বিশ বছরেরও বেশি সে কাজ করেছে আমাদের বাসায় (গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে নাম ওঠার কথা!)। আমাদের ওপর সমানে খবরদারি করত, আমরা বলতাম মায়ের পিএস। এখন অনেক বয়স তার, তবে মাঝে মধ্যেই বাসায় আসে, আমাদের খোঁজ নেয়, সারাদিন থেকে মায়ের সাথে গল্প করে চলে যায়। এটা ২০০৪ সালের কথা। তখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার বল স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। খবর পেয়ে সে এসেছে দেখা করতে। আমি বাসায় নেই। মাকে জিজ্ঞেস করছে,
......
আম্মা, ভাই নাকি বিদেশ যাছে? কতি?
আমেরিকা
আমেরিকায় কতি? বুশের বাড়ির কাছে নাখি? বুশকে মাইরতে পাইরবে না? (তার নাতির নাম আবার সাদ্দাম)
এবার আমার ছোট বোন লুম্বিনী বলছে যে,
না, দাদা যাবে ইন্ডিয়ানা, বুশের বাড়ির থেকে অনেক দূরে।
প্রণয়প্রপাত / মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ
শব্দের জরায়ু ছিড়ে মিশে যায় রাত,
নদীর দু’তীর ভাঙ্গে নায়েগ্রা প্রপাত।
ত্রিভুজ বিদীর্ণ করে লাঙ্গলের ফণা-
অধীর আদম বুনে আনাজের কণা।
সমুদ্র ভেলায় ভাসে লখিন্দর ; ভাঙ্গে ঢেউ উপকূল মহুয়ার বন,
ধুশর মাঘের রাত- প্রণয় শিখায় পুড়ে কামরাঙ্গা বেহুলার মন।
১৩.০৩.২০১২ইং
চট্টগ্রাম।
সেই পাহাড় আর নদীর গল্পটি
টিক টিক টিক টিক শব্দ ছাড়া ঘরে আর কোন শব্দ নেই এই মুর্হূতে। সারা বাড়িটাকে একটা মৃত্যু শীতল নীরবতা ছুঁয়ে আছে। এ বাড়িতে এখনো কিছু বেঁচে আছে, প্রাণপনে সেটা জানান দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে হাবা কালা এই ঘড়িটি। কোথায় কি হচ্ছে, বাড়িতে কার মনের কি অবস্থা, কিছুই বুঝতে পারে না, বোকার মতো কাটা ঘুরিয়েই যায় সারাবেলা। ভর দুপুর হলেও এঘরটাতে এখন সন্ধ্যা নেমে আছে যেনো,আলোছায়ার খেলায়। এই বসার ঘরটার সামনের জানালায় বসলে বাইরের রাস্তাটা সরাসরি দেখা যায়। আর জানালাটার ঠিক পাশেই গোলাপী বোগেনভিলার ঝাড়। ঝাড়টা বড় হয়ে গেলেই ঝুঁকে এসে জানালাটার অনেকটা ঢেকে দেয়। তখন বসার ঘরটা অনেকটা অন্ধকার দেখায়। এতে একটা সুবিধে হয় রাস্তা থেকে ঘরটাকে আর সরাসরি দেখা যায় না যদিও ঘর থেকে রাস্তাটাকে ভালোই দেখা যায়। জানালার উপর আছে গাঢ়ো মেরুন রঙের ভেলভেটের পর্দা। সকালটা যখন পেকে উঠেছিলো, তখন চোখে অনেক আলো লাগছিলো বলে পর
আবোল তাবোল - ৮
#
যে কোন লেখা, বিশেষত ব্লগরব্লগরের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় সমস্যা বোধহয় একটাই - তা শুরু করা!
মাথার ভেতর রাজ্যের যত চিন্তাভাবনার দৌড়াদৌড়ি কিন্তু লিখতে নিলেই সব উধাও। সবাই যেন বাইরে যাবে বলে এক্কেবারে ফুলবাবুটি সেজে রেডি কিন্তু সময় হলে কাউকেই পাওয়া যায় না। এ ঠেলে ওকে, ও ঠেলে তাকে। এই চলতে থাকে, আর লেখা হয় না। আজ তাই আর এত চিন্তা ভাবনার দিকে না যাই, আজ ডাইরেক্ট একশন। যা যা মাথায় আছে থাকুক, টাইপিং শুরু করলাম যা লেখা হবার হোক!
#
অনেক দিন হল আবোল তাবোল কিছু লিখিনা। ভাল লাগতেছে না ব্যাপার টা।
আসলে, কাহিনী হইল কিস্যু ভাল্লাগেনা! দিনে দিনে দিনকাল এমন হইছে যে একটা কিছু মনোমত হয়না। সবার সাথে খালি ঝামেলা হয়, তাই এখন সবার কাছ থেকেই একটু দুরে দুরে থাকার চেষ্টায় আছি। এইসব প্যানপ্যানানি কথাবার্তা লিখতেও ভাল্লাগেনা। এই মন নিয়া ভাল কিছু লেখার উপায় আছে!
ভাবনার ডানায় ভেসে
নীলচে ভাবনা গুলো ভাসে এলোমেলো বাতাসে
ধোঁয়াশা সীমানায়।
জানবেনা কেউ কোনোদিন, ধুসর মেঘের উড়ুক্কপনার কারণ
হলদে ঘাসের বিরহ সংবাদে গড়িয়ে যাওয়া অশ্রু উপহার।
উড়তে থাকা পুরোনো খবরের কাগজে
সংবাদের দায় একান্ত নিজস্ব সুখানুভুতির বিশ্লেষ।
ছিন্ন করতে করতেও, আবার গড়বার প্রচেষ্টায় সম্মোহনী ভাবনার অনুবাদে
তোমার অতৃপ্তি থাকতেই পারে;
তবুও, চিলতে বারান্দায়
ঘর বোনা চড়ুইয়ের গানে যেটুকু মাধুর্য্য থাকে,
তাতে ভর করেই ছুড়ে দেই তীব্র মন্ত্রপুত তীর।
লক্ষ্যভেদের আশঙ্কা কিংবা ইচ্ছা ছাড়াই...
আত্মমগ্ন কথামালা- ৭
সবকিছুতেই কেমন জানি অস্থিরতার ছাপ পইড়া গেছে। কিছুই ঠিকঠাক মতো হইতেছে না।
পাগলের দিনলিপি (তেইশ)
শুভ্র শ্বেত বরফের গা'য়ে টুপ করে পড়লো এক ফোটা টকটকে লাল রক্ত
তারপর সাদার মাঝে লাল রক্ত ছড়াতে ছড়াতে গোলাপের ঘ্রাণ পেলো
আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেলো স্নো হোয়াইট নামের কুমারী মেয়েটার কথা।
সাত বামন দাঁড়ালো বিছানার পাশে, নীরব নিথর বৃদ্ধ বামনেরা চুপ করে
আমার ঘুমহীন রাত দেখেই পার করে দিলো ফিরে যাওয়ার সময় সীমানা
ভোর হতে দেখি একে একে তারা হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে থাকে।
আমার তখনি মনে পড়েছে স্নো হোয়াইট জগতের সুন্দরীতমা প্রেয়সী...
আয়নার জগতে তার এভাবেই পরিচিতি,
"আয়না আমার দেয়াল ঝোলা আয়না
সবচেয়ে রূপবতী কে, শুনতে প্রাণ সয়না"
"আপনার রূপে চোখ ধাধায় তবে
সুন্দরীতমা হলো স্নো হোয়াইট এই ভবে..."
স্নো হোয়াইট একলা একলা বনের শনের ঘরে মন দুলিয়ে প্রাণ দুলিয়ে নাচে...
আমার কেবল ইচ্ছে করে ডেকে নিয়ে যাই সেই রাজকুমার, আরবী ঘোড়ার সওয়ারী
যে একহাতে শুভ্র বরফের কন্যারে ঘোড়ায় তুলে নিয়ে ছুটে যাবে নিশ্চিত শহরে।
অবিলম্বে স্বাস্থ্যনীতি চাই
চতুর্মাত্রিক ব্লগে একজনের একটা পোস্ট দেখলাম
কোথায় আছি? কেন আছি? লিখেছেনঃ নিশুতিরাতের চিঠি (তারিখঃ ১২ মার্চ ২০১২, ৩:০৬ পূর্বাহ্ন)
সে রাত
সে রাতে চন্দ্রমল্লিকায় কোন গন্ধ ছিল না
যেন লাশ কাটা ঘরে সাদা চাদরে মোড়া নিস্তব্ধতা
জোছনার কাফনে ঢাকা চাঁদ -
লোকালয়ে লোকালয়ে লোবানের মহোৎসব
মৃত ফুলেদের সাথে ছিল ফুলশয্যা।
সে রাতে বৃষ্টির উচ্ছাসে ছিল প্রিয় গান
পেখম ছড়ানো অতীত
মেথীর মাদকতায় আতরের ঘ্রাণ
করতলে মেহেদীর ঘা
হাজারো ফাটল ধরা জীবন সিড়ি।
সে রাতে অতন্দ্র প্রহরী চোখ রেখেছিল বাঁধি
জলে ভিজে স্বপ্নেরা চুড়াচুড়
আগুনে লেলিহান দেহমন
স্মৃতি পারাপার নদী ভাটার টানে
বয়ে চলে প্রতিমা বিসর্জনে ।
সে রাতে চাঁদ ছিল, ফুল ছিল
স্বপ্ন ছিল, অশ্রু ছিল
বৃষ্টি ছিল, আগুন ছিল
লাল বেনারসির কফিনে ছিল নিথর দেহ।
বছরে ২৫ হাজার টাকার সিগারেট...
সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলাম ৮৪ সালের শেষের দিকে। সবেমাত্র কলেজে উঠেছি। নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ। নাবালক থেকে বালক হয়েছি। বই- খাতা নিয়ে কলেজে যেতে হয়না। পোষাকের ব্যাপারে তেমন কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম ছিল না। ৩২ ইঞ্চি ঢোলা প্যান্টের সাথে প্রায় ৩ ইঞ্চি উঁচু হিল। টাইট শার্ট। সে শার্টের আবার কলার বেশ বড়। এই ছিল সে আমলের ফ্যাশন। কলেজে যাবার সময় মা ৫/১০ টাকা দিতেন। আমরা তখন নারায়ণগঞ্জে। কিল্লারপুলের ড্রেজার কলোনীতে থাকি। কলেজে যেতে রিকশা ভাড়া ছিল ২ টাকা। কলোনীর আরেক বন্ধুর সাথে যেতাম শেয়ারে। যাওয়ার ভাড়া আমি দিলে আসার ভাড়া ও দিত। ওর নাম ছিল বাবু। বাবু এখন আর্মিতে। ১৫ লং কোর্চে পরীক্ষা দিয়ে আমি মারলাম ফেল। পরেরবার ১৬ তে পরীক্ষা দিয়ে বাবু পাশ করল। ও এখন কর্ণেল।
চড়ুইভাতির লালটিপ / মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ
আম্মু, তোমার নাম কী ?
- আব্বুর পাশের চাচুটি আমার নাম জানতে চায় ।
আমি আমার নামটি বলি-অপূর্বা শৈলী।
ভারি সুন্দর নাম বলে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন, আদর করেন। আমার বেশ ভাল লাগে। চাচুটি বেশ মজার-ক্লিক, ক্লিক করে তিনি আমার ছবি তুলেন, আম্মুর ছবি তুলেন, আমাদের ছবি তুলেন। এটি আমাদের অন্যরকম দিন।
আব্বুরা কেউ আজ অফিসে যায়নি। এমনকি আমাকেও খুব ভোরে ওঠে স্কুলের জন্য ছুটতে হয়নি। অন্যরকম দিন বার বার আসেনা। অনেকদিন পর অনেকদিন পর একবার আসে।
বইমেলা কড়চা – (তিন) মাঠার স্বাদ মালাইয়ে
বইমেলা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের মাসুম ভাইয়ের ভাষায় “বইমেলা আর নেই”। বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে এই উল্লেখযোগ্য ইভেন্টটি শেষ হয়েছে। দাদাভাই মাঝপথে অভিমান করে কড়চা বন্ধ করে দিলেন, কেউ কেউ “মুরগা” হবার কথা দিয়ে কথা রাখলেন না। কিন্তু এখনের পর্ব হলো শেষ হয়েও হইলো না শেষ পর্ব। জনপ্রিয় কথাসাহ্যিতিকদের লেখার ধরন নিয়ে ছিল আমার এই নাদান কড়চা। হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলনের পর এবার আর একজন এযুগের জনপ্রিয় লেখক আনিসুল হকের উপন্যাসের প্যটার্ন নিয়ে আজকের কড়চা। প্রথমে অনেক লেখকের লেখার মধ্যেই ভার্সেলাইটি থাকলেও, যে মাত্র তারা জনপ্রিয় হয়ে যান, যে লেখাটির কারণে জনপ্রিয় হয়ে যান, পরে সেই স্টাইলটিকেই আকড়ে ধরে বেশির ভাগ লেখা লিখেন। আনিসুল হকের এ উপন্যাসটির নাম ধরা যাক সাড়ে তিপান্ন।
টুকটুক গল্প-৯
১। গতবছর সংসদে বাজেট যখন পাশ হলো দেখলাম গরীবের সবকিছুরই দাম বাড়ছে, শুধু এলপি গ্যাসের দাম কমেছে। বাড়িতেই ছিলাম তখন। খুশী হয়ে আম্মাকে বললাম যে, আপনার গ্যাসের দাম কমবে। আম্মা তেমন গা করলো না, পরদিনই পত্রিকায় দেখলাম যে এখনই কমবে না গ্যাসের দাম, পরে কমবে। আম্মা বললো, -আর কমছে! ৭০০ টাকার গ্যাস ১৪০০ টাকা হইছে। সরকার ভালোই খাওয়াইতাছে। ভোটই দিমু না কাউরে।