ইউজার লগইন
ব্লগ
সিঙ্গারা, বেলা বিস্কুট আর ভূনা কালো গোশতের গপ্পো
কোনো একটা সময় চট্টগ্রাম শহরের পাশাপাশি দুটি পার্বত্য জেলায় কাজ করতাম। হাটহাজারি, নাজির হাট, দিঘি নালা, মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি, লিচু বাগান, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গামাটি... এসব এলাকায় ছিলো আমার কাজ। সে এক সময় ছিলো। পাহাড়ে তখন শান্তিবাহিনীর রাজত্ব। তাদেরকে দমানোর জন্য ছিলো সেনাবাহিনী। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ছিলো না। তারপরও চাকরীর প্রয়োজনে আমাকে সপ্তাহে একবার পাহাড়ে রাত্রিযাপন করতে হতো। সারা রাত ভয়ে থাকতাম। ঠিকমত ঘুম হতো না। তবু যেতে হতো সে এলাকায়। চাকর বলে কথা।
বোঝাপড়া
মহাকালের সময়ের ভাণ্ডার থেকে
পুড়ে পুড়ে ছাই হচ্ছে প্রতি ক্ষণ-
পৃথিবী আজও অভেদ্য রহস্য
তাই অপদার্থের বাক্স খুলে বসলাম আবার
নেড়ে চেড়ে দেখতে গেলাম মধ্যরাতের হরমোন;
ক্ষয় হতে থাকুক দুর্বল রক্ত কণা
মন্ত্র বিফলে গেছে
অবধারিতভাবে শরীরের পতনের দিকে হেঁটে যাচ্ছি
মিছেমিছি ভুল জীবন যাপন করে কাজ নেই অন্তত আমার
ইগনোরেন্স–দ্যাই নেম ইজ বাংলাদেশ
বাংলাদেশিদের ফেসবু্কিং করতে সবসময় একটা হুজুগের দরকার হয়। কখনো ক্রিকেট, কখনো ব্লগার নাস্তিক, কখনো ভারত কিংবা কখনো পাকিস্তান নইলে রমজান উপলক্ষ্যে ইমানদার প্রোফাইল ফটো। কিছু না কিছু চাই মাঠ গরম রাখতে। এখন হিট যাচ্ছে, ‘সমকামিতা’। এ্যামেরিকায় সমলিঙ্গের মানুষদের একসাথে বসবাসের অধিকার আইনত বৈধ বলে আদালত রায় দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশের অনুভূতিপ্রবণ মানুষদের কোমল মনে আবার হেঁচকি উঠে গেছে। ফেসবুকে প্রায় স্ট্যাটাস আর পোস্ট দেখছি, “সমকামিতা, মানি না, মানবো না”। জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, ভাই আপনারে জিঙ্গাইসে কে? আপনার মতামত চাইছে কে? আপনে মানার কে? আপনে এ্যামেরিকার আদালতের থেইক্ক্যা বেশি বুঝেন? আপনাকে মানতে হবেই তাই কে বলছে?
একটা সাধারণ, কোনো কিছুতে মন না বসা দিনের গল্প
তাতানো গরম পড়েছে ইউরোপে এবার। তাপমাত্রার কাঁটা সেই যে একবার ৩০ এর উপরে উঠে গেল, তারপর থেকে আর নামার কোনো আগ্রহই যেন ওটার নেই। সিটি সেন্টারে একটা বিশাল থার্মোমিটার আছে। রাস্তার পাশে ভাস্কর্যের বদলে এ শহরে দেখা যায় আতিকায় থার্মোমিটার! সেদিন ব্যাংকে যাওয়ার পথে খানিকক্ষণ আলাপ-চারিতা চালানোর চেষ্টা করেছিলাম ওটার সাথে।
-হেই মিস্টার পারদভর্তি শিশি, খবর কি তোমার? ৩০-এর ঘর থেকে নিচে নামবা কবে?
-সেটার আমি কি জানি? মানুষ-জন গাছপালা সব কেটে সাফ করে ফেলছে, আমি চাইলেই কি আর ৩০-এর ঘর থেকে নেমে আসতে পারি?
-হুম, সেটাও ঠিক। আমার অবশ্য ৩০-এর ঘরের তাপমাত্রায় সমস্যা ছিল না কিন্তু এই শীতের দেশে কোথাও কোনো সিলিং ফ্যান বা এয়ারকুলার নাই, সেইটাই যতো সমস্যা।
-ছোট দেখে একটা টেবিল ফ্যান কিনে নাও।
ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু
ঘুমাতে আমি বেশ পছন্দ করি। যখন-তখন যেখানে- সেখানে চাইলেই ঘুমিয়ে পড়তে পারি। সে ঘুমের স্থায়িত্ব ৫ মিনিট থেকে শুরু করে ৫ ঘন্টাও হতে পারে। এ নিয়ে ঘর থেকে বাইরে আমি হলাম গিয়ে সবার ঈর্ষার পাত্র। তবে যতউ ঘুমাই না কেনো, আমার ঘুম অনেক পাতলা। একবার আস্তে করে ডাকলেই ঘুম থেকে উঠে যেতে পারি। কেবলমাত্র ঘুমের কারণে কোনোদিন আমি বাস-ট্রেন বা প্লেন মিস করিনি। সেটা যতই সকাল বা মধ্যরাতে হোক না কেনো।
সমস্যাটা শুরু হলো মাস দুয়েক ধরে। সকাল ১০/১১ টায় বাসা থেকে বের হই। জীবিকার প্রয়োজনে। কখনো দুপুরে ফিরি। কখনো ফিরি না। রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে ৯/১০ টা বেজে যায়। ১১ টা নাগাদ খাওয়া-দাওয়া সেরে আড্ডা দেয়া বা টিভি দেখা চলে। শেষ হয় ১ টা দেড় টায়। তারপর শুয়ে পড়ি। ঘুম আর কাছে ঘেঁষে না। এপাশ ওপাশ করি। একসময় ক্লান্ত হয়েই বোধ করি ঘুমিয়ে পড়ি।
আরও অন্ধকার
অফুরন্ত কলম আর কাগজ আমার ঘরে -
তবু ভালো কিছু লেখাটা দুঃসাধ্য কাজ
লিখতে চাইলে
মুহুর্তেই অমাবস্যার মত হতাশায়
নুয়ে পড়ে বলপেন
স্থবির হয়ে যায় আঙুল
শুধু তা-ই নয়
এ এক চতুর চক্রান্ত;
ওরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
ডেকে আনছে আরও অন্তহীন অন্ধকার
এখানে নদী নয়, প্রেম নয়, সুখ নয় ;
চোখে মুখে মগজের ড্রেনে
জীবনের অজান্তে
বয়ে বেড়াচ্ছে অসুখের কালো
স্নিগ্ধ-সুন্দরের সবটা মেখে গুলে খেয়েছে ওরা
ওদের মাই পাছার সমারোহে
নিঃশ্বাস ফেলে নিশ্চয়ই বুঝেছিলাম -
পৃথিবীর বিষণ্ণ গরীব মানুষেরা সবচেয়ে ভালো।
প্রিয় বাংলাদেশ
তুমি ভালো নেই, তাই না?
যদিও আমি নারীবাদী নই
আমার বন্ধুর মা, পাগল । পাগল মা, তিন ভাই এবং আমার বন্ধুর বাবা, আমরা এক ই মহল্লায় থাকি। খালাম্মা আমাদের সমানে ই পাগল হলেন। তখন আমরা মাত্র মাধ্যমিক স্কুলে ঢুকেছি। খালাম্মা খুব চুপচাপ মানুষ। বেশ বই টই পড়তেন। খুব সাধারন জীবন যাপন করতেন। নিজের একটা জগত ছিল তার। মহল্লার মহিলা গসিপিঙ্গ বা শাড়ি গয়না গ্রুপের একটু বাইরে ই ছিলেন। ছেলেদের পড়া শুনা নিয়ে বেশ যত্নবান ছিলেন। নিজে ই পড়াতেন। আমার বন্ধু তার বড় ছেলে যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে এবং ছোট ছেলে যখন আমার ভাইয়ের সাথে চতুর্থ শ্রেণীতে, তখন ওনি সন্তান সম্ভবা। চাচা তখনকার সময়ের সরকারী চাকুরীজীবীরা যেমন ফিট ফাট গোছানো, তেমন ই ছিলেন। শান্ত- শিষ্ট, পরোপকারী, সাধারন মানুষ। বেশ অসুস্থ ছিলেন খালাম্মা সেই সময়টায়। কিছুদিন পর আরেকটি ছেলের মা হলেন। এবং পর পর ই জানতে পারলাম যে খালাম্মা পাগল হয়ে গিয়েছেন। চাচার ওনাকে বন্দি করে রাখতে হচ্ছে। এলাকায় সবাই কানাঘুসা………ঘটনা কি?
চোখ বুঁজিলেই দুনিয়া আঁধার
পথিক, তুমি কি পথ হারাইছো ?
না, আমি হারাইছি দিশা।
তাবৎ সমস্যার মাঝে বসতি আমার।
কোনোভাবেই টিউনিং হচ্ছে না। চেষ্টার কোনো কমতি নেই।
যে, যার মতো করে চলছে। যা খুশি করছে। কেউ কোনো সিস্টেমের মধ্যে থাকতে চাচ্ছে না। শুধু বিদ্যুৎ বা গ্যাস খাতে নয়। জীবনের পরতে পরতে সিস্টেম লস।
এই জীবনের যা কিছু অর্জণ, সবই কি তাহলে ভুল ?
চাওয়া আর সাধ্যের মাঝে কেনো এত্ত ফারাক।
কেনো এই মিছে ভুল বোঝাবুঝি।
চোখ মুদলেইতো জাগতিক সব কিছুর পরিসমাপ্তি।
আর একদিনতো চোখ মুদতেই হবে। সবাইকে।
এ থেকে কারো নিস্তার নেই।
ছুঁয়ে দেখবার মন মরা আশ ভালবাসে জল হয়ে ঝরতে
১.
সেদিন কাউফল্যান্ড থেকে এক জোড়া জুতা কিনছি। ফিলা ব্র্যান্ডের। সাধারণত ওদের জুতা ৪০ ইউরোর নিচে পাওয়া যায় না। অ্যাডিডাসের শুরু ৫০ থেকে। রিবুক ৫৫। দাম দেখলেই ইচ্ছারা চুপসে যায়। তবে সেদিন এক জোড়া পেয়ে গেলাম নাগালের মধ্যে। বিশেষ অফার চলছিল। সাইজমতো পেয়ে আর দেরি করলাম না। বাডা বিম, বাডা বুম।
রবার্টকে বলে রেখেছিলাম শপিং-এ যাবো। পরে একা একাই জুতা কিনে ফেলেছি শুনে রাগের চোটে একটা বিয়ার একাই টেনে ফেললো। তারপর আরেকটা খুলে খুব হম্বিতম্বি শুরু করলো। প্রিসকা ঘটনা শুনে আমাকে ফোন করে দিলো একটা রামধমক। কেন আমি ওকে নিয়ে শপিং-এ যাবার কথা বলেও একা একা জুতা কিনে ফেলেছি? এখন হ্যাপা সামলাবে কে?
মা আর প্রেয়সী
মা আর প্রেয়সীর ভালবাসার পার্থক্য
গত কালই বুঝতে পারলাম, গুমের ওউষদ
খেয়ে যখন অচেতন, চেতন ফিরে দেখি
মা কাঁদছে আর প্রিয়া ফেইসবুকে চ্যাট
করছে। এই হল ভালবাসা। সেই গানটির
কথা খুব মনে পরছে, মায়ের কান্দন যাবত
জীবন
কয়েক মাস যায় বইনের কান্দন গো,
ঘরের পরিবারের কান্দন
কয়েক দিন পর থাকে না,
গর্বধারিণী মা ,জনমদঃখিনী মা,
দঃখের দরদী আমার জনম
দুঃখী মা।
অথচ দেখুন মায়ের কথা সারাদিন যত বার না ভেবেছি, তার চেয়ে বেশি ভেবেছি প্রেয়সীর কথা।।।।
দুঃসংবাদ
সুখকর কোনও খবর নেই আপাতত
হতাশাগ্রস্ত তরুন-তরুণীরা বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই
বুড়ো সিগারেটওয়ালাটাও নিকোটিনের ভাণ্ডার উজাড় করে দিয়ে
চলে গেছে
রাস্তাগুলো আমাকে বিদায় জানিয়েছে তারও আগে
দিন শেষে আমি ফিরে গেছি আমার বিষণ্ণ কামরায়
আমাকে গিলে খেয়েছে বদ অভ্যাসেরা
আক্রান্ত করেছে আলস্য
দংশন করেছে দুশ্চিন্তা
শীর্ণ হয়েছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আর বেশভূষা
মনে হচ্ছে আমিও আর মানুষ নই এখন
এ সংবাদ যথেষ্ট আনন্দের নয়
তবে এইমাত্র আবার বৃষ্টি নেমেছে
তোমরা ইতোমধ্যে উপভোগের আসর সাজিয়ে নিয়েছ
গান অথবা কবিতায়
সে আসরে সমাদৃত হবে-এমন খবর নেই এখানে।
বাংলাদেশের দর্শককুল...
একটা সময় ছিল যখন ঢাকা স্টেডিয়ামে মোহামেডান আবাহনীর জাম্পেস খেলা হইতো... গ্যালারী টিকেট পাওয়া যেত না। খেলার দিন মাঠের কাউন্টারে বিশাল লাইনে টিকেট কেনা... সদলবলে খেলা দেখা... প্রতিটা মহল্লায় দুই দলের সমর্থকদের পতাকা টাঙ্গানোর প্রতিযোগীতা... আসলে সে এক উত্তাল সময় ছিল।
মোহামেডানের বিশাল একটা সমর্থকগোষ্টি ছিল ঠাটারী বাজার টু নয়াবাজারের কসাই সম্প্রদায়। শোনা যেত সেই সময় মোহামেডান বিজয়ীর দিন মাংসের দাম কমাইয়া দেয়া হইতো।
ঢাকা স্টেডিয়ামের শেষের দিনগুলোতে মাঠের দর্শকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালির সাথে তখন থেকেই পরিচিত। মাঝে মাঝে মনে হইতো কানে তুলা দিয়া খেলা দেখতে যাই। খেলা চলাকালীন সময়ে ঢাকা স্টেডিয়ামের নিচ দিয়ে হেটে যাওয়া পথচারীদের বৃষ্টিছাড়াই ভিজে যাওয়ার কথা নাই বা বলি 
পৈশাচিকানন্দে উইকেন্ড উদযাপন
টানা দুই ওয়ানডে জিতে ভারতের বিপক্ষে যেভাবে সিরিজ নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ, তা দেখে যারপরনাই সুখ আর শান্তি অনুভূত হয়েছে। এ দুই জয়ে হৃদয়ে সৃষ্ট অনেকগুলো ক্ষত পুরোপুরি সেরে উঠলো। বিশ্বকাপের সময় বানানো মওকা মওকা বিজ্ঞাপনটা ছিল ক্ষতগুলোর মধ্যে গভীরতম। বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাই বিজ্ঞাপনের সেই মুহূর্তটির কথা, যেখানে আমাদের প্রাণের মুক্তিযুদ্ধকেও হেয় করা হয়েছিল। যদিও আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, অপরকে ছোট করার মধ্যে কোনো মাহাত্ম্য নেই। সেটা বরং নিজের দেউলিয়াত্ব খুব খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করে দেয়। তারপরও আশা করে ছিলাম বিশ্বকাপেই ভারতকে হারিয়ে ওই বিজ্ঞাপনের একটা দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। হয়তো সেটা হতোও। কিন্তু বাঁধ সাধল পাকিস্তানি আম্পায়ার আলীম দার।
আমাদের সমাজ
সমাজ বলতে আলাদা কোন বস্তু নয় বরং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে মানুষের জীবনধারা, আচারণ-আচরণ ও জীবন ধারার একটা ছককেই বুঝি মশাই। আমি যে সমাজে বড় হয়েছি সেটি খুব উন্নত নৈতিক সমাজ না হলেও যে বর্বর তা বলা যাবে না। ছোট বেলায় যখন স্কুলে যাই তখন মালাউন, মুসলিম এই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হই। ছোট বেলায় বুঝতে পারি; মালাউন একটি নেতিবাচক শব্দ। পিতার কাছে জিজ্ঞেস করলাম মালাউন অর্থ কী? পিতা বলল-যারা বলে তারা না বুঝে বলে এর অর্থ জানার দরকার নেই। কেউ এই নামে ডাকলে উত্তর দেবারও প্রয়োজন নেই। আমার এখনো মনে আছে আমি আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম বাবা মুসলিম কী? বাবা বলেছিল এটা একটা নাম। আমরা সবাই মানুষ এটাই আমাদের পরিচয়। কর্মই ধর্ম এটাই হল আমার বাবার দর্শন। তাই হয়তো কখনো ধর্ম বা হিন্দু-মুসলিম নিয়ে মাথা ঘামানোর ব্যগ্রতা জাগেনি মনে। তাই মানুষের সাথে মেশার ক্ষেত্রে ধর্মীয় চিন্তা ও আঞ্চলিকতপ্রীতি ছিল বিচারহীন ভাবে।