কাহার বোনের রক্তে রাঙানো ২০ শে ফেব্রুয়ারি?
আমাদের আজ শোকের দিন, আবার সঙ্গে আনন্দেরও দিন, আমাদের মাতৃভাষাকে আমরা রক্ত দিয়ে হলেও রক্ষা করতে পেরেছি। আজ আমাদের ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...
বইমেলা জুড়ে আমাদের আনন্দ। বই কিনি, পড়ি, হাসি, খেলি, আড্ডা দেই। আমাদের বসন্তকাল এখন। ফুলে ফুলে ভ্রমর ওড়ে, আমাদের মনে ফাগুন। ভালোবাসার আগুন।
পাহাড়েও আজ আগুন। আগুন আজ পাহাড়ীদের মনে, বনে গৃহে সর্বত্র। কী ঘটছে বাঘাইছড়িতে? কতগুলো লাশ গুম করা হলো ইতোমধ্যে? কেউ জানে না, জানবে না। পাহাড়ীরা এমনিভাবে মার খেতে খেতে একসময় হয়তো হারিয়ে যাবে। অথবা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ভুলে বাঙ্গালী হয়ে যেতে বাধ্য হবে।
আমাদের লোভ পাহাড় ছুঁয়েছে অনেক আগেই। বহু বছর আগে থেকেই সরকারী মদদে আমরা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোকে তাড়িয়ে পাহাড় দখল করতে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছি। তুলে নিয়েছি আগুন। হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ আর ধর্ষণকে পুঁজি করে আমাদের লক্ষ্যও অনেকটাই পূরণ করে ফেলেছি। কলঙ্ক হিসেবে এখনো কিছু আছে, সেটুকুও এখন পুড়িয়ে দিতে চাইছি আগুনে। ২০০ ঘর পুড়েছি, পুড়েছি মন্দির, পাথরের বুদ্ধকে। আরো পুড়বো, এদেশকে পাহাড়ীমুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। আমাদের রুখবে কে? আমাদের সঙ্গে আছে সেনাবাহিনী, আছে পুলিশ, প্রশাসন। পাহাড়ীদের তোয়াক্কা করার হিনমন্যতা কেন থাকবে আমাদের? আমরা তো বীর!
এই আগুন আজকের নয়। আজকের যে বাঘাইছড়ি, তার পাশেই সাজেক। সাজেকের মর্মান্তিক ধ্বংশযজ্ঞের কথা হয়তো আমরা ভুলে যেতে পারি, কিন্তু পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর হৃদয়ে তা দগদগে ঘা হয়েই থাকবে আজীবন।
আমরা এমন এক জাতি, যারা নিজেরা হানাদারদের তাড়িয়ে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করে নিজেরাই অন্য জাতির [হোক সে ক্ষুদ্রজনগোষ্ঠীর] কাছে পরিচিত হই হানাদার হিসেবে!
প্রতিবাদ জানাই বাঘাইছড়িতে হামলার। প্রতিবাদ জানাই এই হত্যা আর অগ্নিকাণ্ডের। প্রতিবাদ জানাই সরকার এবং সেনা হস্তক্ষেপে এই দখলী নীতির। শুধু প্রতিবাদ না, ধিক্কারও জানাই...
ছবি কৃতজ্ঞতা: কালের কণ্ঠ





ধন্যবাদ লোকেন বোস। সঠিক সময়ে সঠিক পোস্ট দেওয়ার জন্য। আন্দোলনের ধ্বজাধারী বাঙালী জাতীয়তাবাদ আমাদের যেইরম গর্বের বিষয় হয়, সেই জাতীয়তাবাদের উগ্রতায় আবার আমাগো মুখ লুকানেরো সময় আসছে। এক পাহাড়ি বন্ধুর ফেসবুক স্টেটাস দেইখা আমি লজ্জায় ফেইসবুক উইন্ডো বন্ধ কইরা রাখছিলাম অনেক্ষণ...তার উগ্রতা হিসাবে না দেইখা এই স্টেটাসরে ক্ষোভের প্রকাশ হিসাবেই দেখি আমি,
Tora hoili
shuor er jaat.... nijer jaat er keo paad marleo hoi hoi korbi.....r
etogula nijer desher onno jaat er manush maira felaise, keo kisu koitaso
na.....উগ্র জাতীয়তাবাদ যে কোন দিকে যায় সেইটা আমরা সকলেই কম বেশী ভালো বুঝি।
ভাস্করদা, এই স্ট্যাটাস পড়ে নিজেরে পশুরও অধম মনে হইতেছে। ভাবতেই অসহ্য লাগতেছে- আমরা পাকিস্তানী হানাদারদের যেভাবে দেখি, আমাদেরকেও কেউ সেভাবে ঘৃণা করবে...
মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেলো
লজ্জায় মাথাটা নত হয়ে গেলো। ধন্যবাদ ভাস্কর।
অবশ্যই প্রতিবাদ জানাই জাতিস্বত্তার অবমাননায়......
ধিক্কার জানাই, প্রতিবাদ জানাই। সরকার এবং সেনাবাহিনীর কোনো অধিকার নাই আমাদেরকে ঘৃণার পাত্রে পরিণত করার।
Sorry... Mobile theke likhsi tai english'a likh....
Aapnar ei post ta ki facebook'a share kora jabe?
Feel free to say 'no'
আমার যে কোনো লেখাই ফেইসবুকে শেয়ার করা যাবে। কোনো অনুমতি ছাড়াই।
ধন্যবাদ
২১শে ফেব্রুয়ারী যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, তা আমাদের মনে থাকে না। গর্বটা বলে বেড়াই, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কথাটার ওজন মাথায় থাকে না। পাহাড়িদের উপর বাংলা মাতৃভাষা(!) হিসাবে চাপিয়ে দেই।
আমরা সংখ্যাগুরু দেখে ইচ্ছেমতো শোষণ-উৎখাত করি তাদের। আর অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়ালে প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্র!
আমাদের কণ্ঠ কেমন যেন ৭১ এর পাকি হারামিদের মতো শোনায়!
ধিক্কার জানাই, প্রতিবাদ জানাই। সরকার এবং সেনাবাহিনীর কোনো অধিকার নাই আমাদেরকে ঘৃণার পাত্রে পরিণত করার
পাহাড়ে যেদিন বাঙালী বসত শুরু হল , সেদিন থেকেই শুরু হল এই উগ্র জাতীয়তার মরন খেলা।
শুধু ধীক্কার না আমাদের আসলে বুঝাতে হবে - এই সেনা অভিযানে আমাদের সমর্থন নাই, আমরাও এটা বন্ধ করতে চাই।
আপনার লিখাটা ভালো লাগলো; যে কারনে পাকিস্থানকে আমরা ঘৃনা করি সেই কাজ গুলোই আমরা নিজেরাই করছি। ছিহ
লজ্জাকর, বীভৎস.........
কীসব যে হচ্ছে.....। নিন্দাজনক। ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চাই।
কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে গেল
পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অপরিহার্যতা প্রমানের জন্য এরকম ঘটনা ঘটতে পারে কিনা?
নীড়দা,
এই আগ্রাসণের পেছনে বিএনপি জামাতী মৌলবাদী হাত খোঁজা হবে হচ্ছে, এটাই স্বাভাবিক। হয়তো বিএনপি পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীকে রেখে দিতে চায় বলে এই অপকর্মে গুটি চালছে। নয়তো জামাতীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থামাতে এই তাণ্ডব চালাচ্ছে সরকারকে বিব্রত করার জন্য। হতেই পারে।
কিন্তু এটাও সত্য যে পাহাড়ে সেনামদদে স্যাটেলারদের আগ্রাসন নতুন কিছু না। বাঘাইছড়িতে এই অশান্তি কিন্তু গত তিনদিনের না। নব্বইয়ের শুরু থেকেই এই অশান্তি চলছে। এটাই প্রথম হামলা না। এর আগেও অনেক হামলা হইছে। বহু পাহাড়ি মৃত্যুবরণ করেছেন, বহু পাহাড়ি গৃহতাড়িত হইছেন, বহু পাহাড়ি নারী ধর্ষিত ও নির্যাতিত হইছেন।
আজকের ঘটনা তারই একটা ধারাবাহিক নাটকের পরবর্তী পর্ব। এর একটা স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কদিন পর পর এটা চলবেই। পাহাড়িদের ভূমির অধিকার ফিরায়ে দিতে হবে। কোনো রং তামাশা ছাড়াই।
এর পেছনে বিএনপি জামাত যেই থাকুক, সবার বিচার চাই।
এই ঘটনার ট্রোজান হর্সকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা উচিত। জামাতীরা রিভার্স খেলতে ওস্তাদ।
ভুমি বিরোধ সবসময়ই ছিল। কিন্তু এবারের ঘটনার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছুর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেবার ঘটনা এবারই প্রথম এই শতকে এসে।
দোষী যেই হউক, জামাত হোক বা আমার জ্ঞাতী ভাইরা হউক... দাবী একটাই- বিচার চাই।
হানাদার জাতির কলঙ্ক আমি মাথায় নিতে রাজী না।
...একটা জাতরে কত ঘৃনা করলাম, এখন একই কাজ করতাছি...একটা পুরা জাতি হিসেবে ঘৃনা কামাইতাছি....
অসাধারন পোষ্ট ভাই...
.. হত্যাকান্ড এখনো চলছে
শুধু প্রতিবাদ না, ধিক্কারও জানাই...
মন্তব্য করুন