ইউজার লগইন

শহীদ মিনারে কর্পোরেট তাণ্ডব, ৭টি বকুল বৃক্ষ ও ৭ দফা দাবী

২১ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রচারিত এবং গ্রামীণ ফোন ও প্রথম আলোর যৌথ পরিবেশনায় 'দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট' এর ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে হলো আমাদের। এতোটা বীভৎস! এতোটা নারকীয়! এও সম্ভব!
জানি না মানসিকভাবে অসুস্থ কারও পক্ষেও একাজ করা সম্ভব কী না? লজ্জা আর ঘৃণার সর্বোচ্চ প্রকাশও এর পক্ষে যথেষ্ঠ নয়।

ইটিভি ছাড়া আর কোথাও এই সংবাদ প্রচার হলো না। অথচ এই নারকীয় তাণ্ডব গোপনে হয়নি। হাজার হাজার মানুষ এবং সাংবাদিকের সামনেই হয়েছে। কিন্তু আমাদের ভীষণ ক্ষমতাধর মিডিয়া এখানে বেড়ালের চেয়েও অধমস্তক। গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপন হারানোর ভয়ে সবাই মুখে কুলুপ এঁটেছে। কর্পোরেটের কাছে নতজানু এই সংবাদ মাধ্যমকে প্রবল ধিক্কার জানাই। এরপর কোন সাহসে তারা এই জাতির কাছে বলবে তারা সত্য প্রকাশে নির্ভীক? মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি তড়পানো প্রথম আলো নিজেই এর অন্যতম আয়োজক। মতিউর রহমান নিজেই এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছসিত ছিলেন নিজের মন্তব্য প্রতিবেদনে। কী জবাব দেবেন তিনি? কী জবাব দেবে প্রথম আলো? এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার আরো ছিলো চ্যানেল আই, এনটিভি, আরটিভি, দেশটিভি, রেডিওটুডে এবং এবিসির রেডিও। কী জবাব দেওয়ার আছে তাদের?

দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট-এর এই আয়োজনটা প্রথম থেকেই প্রবলভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। গ্রামীণ ফোনের বাণিজ্য প্রসারে বিকিয়ে দেওয়া হলো ভাষা আন্দোলনের গৌরবকে। বছরের পর বছর ধরে যে সংগ্রাম আন্দোলন, তাকে মাত্র ৩০ মিনিটের খাঁচায় বন্দী করাটা রীতিমতো ইতিহাস বিকৃতি। সেই বিকৃতিতে শামিল হয়েছেন প্রথম আলোর বাঁধা বুদ্ধিদাসেরা। আর কর্পোরেট শক্তি কিনে নিয়েছে ভাষা আন্দোলনের বীরদের। হাস্যকর হলেও এখন আর হাসি পাচ্ছে না। ক্রোধ কেড়ে নিয়েছে হাসিকে। ঘৃণা ছড়িয়ে গেছে অন্তরে।

একটা কথা বলা হচ্ছে যে এই মিছিলে আমজনতা ছিলো, প্ল্যাকার্ড বিলানো হয়েছে র‌্যান্ডমলি এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণ জিপি এবং প্রথম আলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এ কাজ করেছে।

তাতে মোটেও দায় এড়ানো যায় না। এরকম একটা আয়োজন করলে তা দায়িত্ব নিয়েই করা উচিত। দেশের সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিষ্ঠান যখন আয়োজক, তখন এই বালখিল্য ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রশাসন কী করছিলো? নিরাপত্তার জন্য এতো এতো পুলিশ র‌্যাব সেখানে মোতায়েন ছিলো, তারা এই কয়েকজন তরুণকে থামাতে পারলো না! কেন?

এরকম একটা কাণ্ড ঘটতে পেরেছে তার মানে শহীদ মিনার সম্পূর্ণই অরক্ষিত ছিলো।

আমরা জানি সারাদেশে মৌলবাদী শক্তি বসে আছে চোরাগুপ্তা হামলার প্রস্তুতি নিয়ে। রমণা বটমূলের বৈশাখী প্রভাতে বোমা হামলার কথা আমরা ভুলে যাইনি। ভুলে যাইনি সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার কথা। এখন যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন অপশক্তি নানাভাবে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। সরকার তবে এরকম একটা দিনে শহীদ মিনারকে এতোটা অরক্ষিত রাখলো কী করে?
এতো এতো পুলিশ, র‌্যাব, পিটিজেড ক্যামেরা দিয়ে তাহলে কী হলো?
মৌলবাদীরা কি এই তথ্যই জেনে গেলো না যে সরকারের এসব নিরাপত্তা বলয় ঠুনকো? সাধারণ কিছু তরুণই তা ভেদ করে ফেলতে পারে?

নিরাপত্তার খাতিরে আগেরদিন কাটা হলো সাতটা পলাশ ফুলের গাছ। অথচ নিরাপত্তার কোনো চিহ্নই দেখা গেলো না। এই পুতুল নিরাপত্তার জন্য সাত সাতটি পলাশ ফুলের গাছ বিসর্জনকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

সব মিডিয়া চুপ, চুপ প্রশাসন। কেউ কোনো ব্যাখ্যা নেই। যেহেতু মিডিয়া নিজে চুপ, তাই জানতে পারছি না সরকার কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কী না।

স্পষ্টভাবে বলতে চাই-
১. এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
২. দোষী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৩. সামনে স্বাধীনতা দিবস, সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে নিরাপত্তা।
৪. প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
৫. আয়োজকদের পত্রিকা এবং টেলিভিশন মারফত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে দেশের জনগনের কাছে।
৬. দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং দণ্ড দিতে হবে।
৭. দেশের ইতিহাস সংস্কৃতিকে নিয়ে কর্পোরেট বাণিজ্য আইন করে বন্ধ করতে হবে।

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লোকেন বোস's picture


মন্তব্যের ঘরে তবু দুটো লিঙ্ক দিয়ে দিলাম

ব্লগ: http://www.somewhereinblog.net/blog/tinkutravelar/29102764

ভিডিও: http://www.facebook.com/video/video.php?v=1334659159495&ref=mf

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


একুশে কে এইসূত্রে একটা ধন্যবাদ দেয়া যায়। যদিও খুব বেশি দর্শক তারা পায় বলে মনে হয় না। প্রথম আলোর হামবড়া খবরের নিচে পাঠকদের মন্তব্যে দ্রষ্টব্য... ... যেন কিছুই হয়নি!

টুটুল's picture


কমেন্ট তো মডারেটেড থাকে। তারা তাদের মত কমেন্টসগুলা প্রকাশ করে

লোকেন বোস's picture


সবই সাজানো নাটক

অদিতি's picture


আমি সামুতে ফটোগুলি দেখছি। দেখে মাথায় রক্ত উঠে গেছিল।

লোকেন বোস's picture


যে কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষেরই মাথায় রক্ত উঠে যাওয়াটা স্বাভাবিক

কাঁকন's picture


এর দায় আসলে অনেকটা আমাদের ওপরো বর্তায়

লোকেন বোস's picture


আমাদের ব্যর্থতা আমরা এদেরকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হিসেবে তৈরি বেড়ে উঠতে দিয়েছি

নুশেরা's picture


নিন্দা, নিন্দা, নিন্দা...............

"স্পষ্টভাবে বলতে চাই-
১. এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
২. দোষী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৩. সামনে স্বাধীনতা দিবস, সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে নিরাপত্তা।
৪. প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
৫. আয়োজকদের পত্রিকা এবং টেলিভিশন মারফত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে দেশের জনগনের কাছে।
৬. দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং দণ্ড দিতে হবে।
৭. দেশের ইতিহাস সংস্কৃতিকে নিয়ে কর্পোরেট বাণিজ্য আইন করে বন্ধ করতে হবে।"

একমত। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আশা করি।

১০

লোকেন বোস's picture


গণমাধ্যম এখন পূঁজির তল্পিবাহক। সেখান থেকে কিছু আশা না করাই ভালো।

১১

নীড় সন্ধানী's picture


আমি ঘটনাটা জানার জন্য সবগুলো চ্যানেলের খবর তন্নতন্ন করে খুঁজেছি। বুঝলাম না আমার চোখ এড়িয়ে গেল খবরটা, নাকি তেমন ঘটনা ঘটেইনি। সবগুলো মিডিয়াতে ব্ল্যাকআউট হয় কি করে? এত বড় বড় ফোকাস, সবগুলো কানা হয়ে গেল হঠাৎ? ব্লগ ছাড়া কোথাও খবর নেই দুনিয়া কাপানো ৩০ মিনিটের!!

১২

শাওন৩৫০৪'s picture


...মিডিয়ার স্বাধীনতা মানে যে স্বেচ্ছাচারিতা না, সেইটা মনে হয় আমাদের জানাই নাই....

মিডিয়া  সরকার আর বানিজ্যলক্ষীর মদৎপুষ্ট হৈয়া যদি নিজেই ডামি-সরকার হৈয়া জনগনের মানসিকতার মেনিপুলেশনের ট্রাই করে, তাইলে তো জনগনের স্পিরিচুয়াল শত্রু সংখ্যা আরো বাইরা গেলো...

 

আমরা  আছি ভালোই, সবাই আমাদের নিয়া খেলেই শুধু....

১৩

রোহান's picture


কিছু বলারই নাই... পুরা মিডিয়া তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কিছু পেলাম না... কি ভয়ংকর কথা, আমাদের হৃদয়ের একটা অংশ এই শহীদ মিনার আর এর নিরাপত্তার কি বেহাল দশা... প্রথমে যখন শুনলাম ভাবছিলাম চারপাশের লোক গুলো কি করছিলো... টেনে ছিঁড়ে ফেললো না কেনো ঐ লোকগুলোকে... পরে দেখি সবাই ছিলো চারপাশে, নিরাপত্তাও ছিলো, কর্পোরেট হাউজ, টিভির ক্যামেরা, সাংবাদিক... আমাদের সবার মাঝ থেকে দেশপ্রেম, ভক্তি, শহীদ দের প্রতি শ্রদ্ধা সব উবে গেছে...

 

মিডিয়া ব্লাকআউট এর কথা পড়ে তত্বাবধায়ক আমলের দেখা একটা ঘটনা বলি... দুদকরে ঘুষের টাকা খাওয়ানো নিয়ে ক্যাচালে রোডস এর পরবর্তী চিফ ইন্জিনিয়ার সহ সর্বোচ্চ সারির সাতজন কর্মকর্তাকে সাজানো নাটকের মাধ্যমে ধানমন্ডির একটা নামকরা কফি শপ থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। মাত্র এক ঘন্টার জন্য চ্যানেল আই তে ব্রেকিং নিউজ এর টেলপ আসা শুরু করে। এরপর সব বন্ধ। খুব কাছ থেকে দেখা। সেই সময়ের উপরের মহল থেকে কয়েকটি বকা দেওয়া আর সব মিডিয়ার মুখ বন্ধ... মিডিয়া জিনিসটাই নষ্ত হয়ে গেছে আজকাল... বিত্তশালী আর কর্পোরেট হাউজগুলোর হাতে বন্দী..

 

আপনার সাতটা দাবীর একটাও কার্যকর হবে না। মতিউর রহমান বায়ূল মোকাররমে গিয়ে যেটা অপরাধ নয় সেটার জন্যও মোল্লাসমাজের হাত পা ধরে ক্ষমা চাইতে পারে... তবে দেশের ইতিহাসের সাথে, দেশের সবার একটা অনুভূতির সাথে করা এতোবড় অপরাধ এমনকি স্বীকারও করবে না। এইটাই বাস্তবতা।

১৪

তানবীরা's picture


তাতে মোটেও দায় এড়ানো যায় না। এরকম একটা আয়োজন করলে তা দায়িত্ব নিয়েই করা
উচিত। দেশের সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিষ্ঠান যখন আয়োজক, তখন এই বালখিল্য
ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

দাবীর সাথে সহমত।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

সাম্প্রতিক মন্তব্য