ক্রসফায়ার বন্ধ করে দিলো পুলিশ
আমাদের মহা করিত্কর্মা পুলিশ বাহিনী নিজ উদ্যোগে গিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে শহিদুল আলম-এর চিত্র প্রদর্শনী 'ক্রসফায়ার'।
পুলিশ বলছে যথাযোগ্য জায়গা থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি। দৃকে বহুবছর ধরেই চিত্র প্রদর্শনী হয়, ধরে নিচ্ছি তার কোনোটির আগেই 'যথাযোগ্য' জায়গা থেকে অনুমোদন নেওয়া হয় না, তাহলে এতদিন পুলিশ চুপ থাকলো কোন আইনে?
বাংলাদেশ পুলিশের টনক কখন নড়ে আর কখন নড়ে না তা সবাই জানে। যেমন সবাই জানে এই প্রদর্শনী কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো অনুমোদনের ছুতো ধরে।
পুলিশ আর র্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ক্রসফায়ার। পত্রিকায় ছাপা হওয়া প্রেসনোটগুলো পড়লে যে কোনো শিশুও বুঝতে পারবে সাজানো নাটক কী না। বছরের পর বছর ধরে চলছে হত্যাকাণ্ড। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। মগের মুল্লুকেও বোধকরি এরকম হতো না।
এই ক্রসফায়ার নিয়ে দেশে বিদেশে কম কথা হয়নি। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এই হত্যাকাণ্ড সমর্থন করতে পারে না, কেবল পারে আমাদের মন্ত্রীরা।
সেই ক্রসফায়ার নিয়ে চিত্রপ্রদর্শনী বন্ধ করে পুলিশ কী ঠেকাতে চাইলো? দ্বার বন্ধ করে ভ্রম আটকাতে পারলে সত্যও তো আটকেই থাকে। অবশ্য সত্য প্রকাশের ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্রের আগ্রহ কোনো কালেই দেখা যায়নি।
যাহোক, প্রদর্শনী বন্ধ। পুলিশ আসলে খুব প্রসংশনীয় একটি কাজই করেছে। শহিদুল আলম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার। সারাবিশ্বেই তাঁর অধিষ্ঠান। প্রদর্শনী করার জন্য তাঁর ভেনুর অভাব নাই। দৃকের প্রদর্শনী বন্ধ করে পুলিশ বরঞ্চ খুলে দিলো গ্লোবাল দ্বার। নিজেদের কলঙ্ক নিজেরা ঢাকায় বসে দেখতাম, এখন দেখবে সারাবিশ্ব। আর ধিক্কার জানাবে। ইন্টারনেট তো আছেই। উল্লেখ্য, এরশাদের স্বৈরাচারীত্বের ছবি বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজনে এই শহিদুল আলমই একদা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট ব্যাবহার করেছিলেন।
এই অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে প্রদর্শনী বন্ধ করে ছবিকে লোকচক্ষুর বাইরে রাখা সম্ভব না। এটা বুঝতে পারার মতো মাথা পুলিশ বাহিনীতে আশা করা বৃথা। বন্দুকের নল আর ঘিলু এক পাত্রে থাকে না সাধারণত।





জটিল বলছেন!
গণতন্ত্রের যুগেও যদি গলাটিপে মুখ বন্ধ করা হয় তাইলে স্বৈরতন্ত্রই ভাল।
শহিদুল আলম যে মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো তার বাপের সম্পত্তি করে নিল তার কি হবে? আর এই বুড়ি মহাশ্বেতা এই ব্যবসায়ী শহিদুল আলমের লগে কি করেন?
মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো দৃকের সম্পত্তি হয়ে গেছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না, তাই এসম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না। আপনার প্রতি অনুরোধ রইলো এব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে।
অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো দৃকের সম্পত্তি হতে পারে না। যদি তাই হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তবে বুড়ি মহাশ্বেতা ব্যবসায়ী শহিদুল আলমের লগে কি করেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। আবার এটাও বুঝতে পারছি না ব্যবসায়ীর লগে কিছু করাটা বুড়ির অন্যায় নাকি ব্যবসায়ীর?
কুলদা দা, আমি আপনের কথাগুলি এই পোস্টের জবাবে কিভাবে প্রাসঙ্গিক হয় তা বুঝতে পারলাম না। শহিদুল আলম মুক্তিযুদ্ধের সব ছবি কিনা নেওয়ার সাথে তার ক্রসফায়ার প্রদর্শনী বন্ধ কইরা দেওয়াটা যদি সম্পর্কীত হয় তাইলে কিন্তু বিষয়টা আরো ঝামেলার হয়...পুলিশ কি তাইলে কার স্বাথর্সিদ্ধিতে নাজেল হইলে প্রদর্শণীর দ্বিতীয় দিনে?
আপনে একটা অপরাধের দিকে ইঙ্গিত কইরা যদি আরেকটা অপরাধরে জায়েজ করতে চান তাইলে বিষয়টা কিন্তু মাইনা নেওয়া যায় না...
যে কোন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতিবাদ হওয়াটা জরুরী বইলাই আমি মনে করি।
একমত
একমত ।
আমি ক্রসফায়ারকে সমর্থন করিনি। শুধু এইসব ভণ্ড শহিদুল আলমের ভণ্ডামিকে একটু নাড়া দিতে চাইছি। দেখুন তার ছবিতে কারা উপস্থিত! আর হাতকড়াটা আগে থেকে এনেছেন। সাজানো গপ্প। আমার প্রশ্ন--এই শহিদুল আলম এই কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন কিভাবে? ক্রস ফায়ারের জন্মকালে সময় তিনি কোথায় ছিলেন? ঘুমিয়ে?
আর এই বিড়ি খোর মহেশ্বেতা দেবি এখনো মনে করেন--তিনি উচ্চবর্ণেই আছেন। তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে লেখাপড়ার লিস্টি দিয়ে যাচাই করে নিতে হবে যে, তার সঙ্গে কথা বলার যোগ্যতা কিনা। আর এই হলুদ স্টান্টবাজ লোকটির সংগে এসেছেন বাংলাদেশে কি যাচাই করে?
চরম আপত্তিকর ও নোংরা মন্তব্য কুলদা রায়ের কাছ হতে আশা করি নাই। ধূমপান কখনোই অপরাধের পর্যায়ের পরে না, সে যেই করুক না কেনো। একজন মহিলা ধূমপান করলে তাকে "বিড়িখোর" বলা এক ধরনের পূরুষতান্ত্রিক আচরনের প্রকাশ ঘটালেন। আর "বুড়ি" বলেও একই রকম আচরনের প্রকাশ দেখলাম। মানুষকে সম্মান করলে কেউ ছোট হয়ে যায় না , যতই ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকুক না কেনো। বিজন ভট্টাচার্য বল্লেই কি কুলদা রায়কেও তার পথে হাঁটতে হবে ?
ছাগু চীফরে দেকতাম যুদ্ধপরাধীর বিচার প্রসঙ্গ আইলে অন্য অপরাধের ঘটনা টাইনা আনতো... এইখানেও সেইটা দেখলাম।
দলীয় ভক্তি অনেক সময় খুবি বিরক্তিকর হয়ে দাড়ায়। যেটা ফকির ইলিয়াস দেখাইছে... যদিও পাবলিকের বিরক্ত তার গায়ে লাগে না।
এটাই জরুরী
একমত
একমত
মহাশ্বেতা দেবীর বিষয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যাই হোক না কেন, তাঁর নামের সঙ্গে বুড়ি, বিড়িখোর এই ট্যাগগুলো যোগ করা আপত্তিকর। বয়োবৃদ্ধ হওয়া অথবা (পাবলিক প্লেইস ছাড়া অন্যত্র) ধূমপান করা- কোনটাই অপরাধ নয়।
সেলুকাস ! এভাবে মুখ বন্ধ করে দিতে পারবে বলে মনে করল কোন আক্কেলে !
---------------
বুড়ি মহাশ্বেতা " বলতে কাকে বুঝিয়েছেন কুলদা রায় ?
আচ্ছা । লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী । --- ভালো , একজন লেখক কিভাবে আরেকজন লেখক সম্বন্ধে বিনা কারণে এরকম সৌজন্যবোধ হীন মন্তব্য করেন , বা করতে পারেন ! ভালোই সেলুকাস !
দেখুন, একবার মহাশ্বেতা দেবী বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমরা কজন গিয়েছিলাম তার সঙ্গে কথা বলতে। তিনি বংশটংশ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি এক পর্যায়ে খেপে গেলেন। বললেন, লেখাপড়া করে তার কাছে আসতে। তিনি সে সময়ে যে পরিমাণ বিড়ি টেনেছিলেন--আমরা বিরক্ত এবং অপমানিত চলে এসেছিলাম। আর বিড়িখোরের অভিধানটি পাবেন বিজন ভট্টাচার্যের লেখায়। এটা আমার কথা নয়।
আমার মনে হয় , এরশাদ বিরোধী আন্দোলন আসলে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল না , ব্যক্তি এরশাদের কারনে এদের চুর চামারী করার সুযোগ ছিলনা বলেই আন্দোলন ছিল ব্যক্তি এরশাদের বিরুদ্ধে।
কথাটা বললাম এই কারনে , ঐ স্বৈরতন্ত্র আর এই তথাকথিত গণতন্ত্র এর মধ্যে আমি কোন পার্থক্য দেখিনা।
এই একই চিত্র - গলা চেঁপে ধরা , মুখ আটকিয়ে রাখা দেখে আসছি , এখনও চলছে সেটা।
কোত্থেকে কোথায় চলে গেলো!
এটাই কথা।
যে দেশে আইনের এত ফাকফোকর সেই দেশে ক্রসফায়ারকে সমর্থক করি। বঙ্গবন্ধু সিরাজ সিকদারকে গুলি করে মেরে ছিলেন। জিয়ার কথা আর নাই বললাম। আমাদের এরশাদের চুরি চামারি জগৎখ্যাত। জামাতী'রাতো গোনার বাইরে। খা রানী আর হা রানী সম্পর্কে পাবলিকই ভাল জানেন। ভাল বা অনুসরণ যোগ্য কাউকেতো দেখিনা। আমার মনে হয় সবচেয়ে ভাল হত যদি সবার কাছে লাইসেন্সধারী অস্ত্র থাকত। তবে এরও হাজার রকম সাইড এ্যাফেক্ট আছে।
যে কোন সন্ত্রাসের প্রতিবাদ হওয়াটা জরুরী। সেটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ব্যক্তিগত সন্ত্রাস , কলম সন্ত্রাস, ছবি সন্ত্রাস, বুদ্ধি বৃত্তিক সন্ত্রাস... সন্ত্রাস মাত্রই তার প্রতিবাদ হওয়াটা জরুরী।
যে কোন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতিবাদ হওয়াটা জরুরী
--পিরিয়ড।
আমি অবশ্য শিরোনাম দেখে অন্য কথা ভেবেছিলাম। ক্রসফায়ার বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ আর করবেটা কি? করেইতো এই একটা কাজ।
মন্তব্য করুন