বিশ্বকাপ শর্টনোট (৩)
জাপানের বিশ্বকাপে খেলার ইতিহাস খুব সংক্ষিপ্ত, ১৯৯৮ সাল থেকে বারো বছর হলো মাত্র। এরমধ্যে এবারের দলটির মতো এত বাজে দল আগে কখনও চোখে পড়েনি। তারওপর দল ঘোষিত হবার পর চারটা প্রস্তুতি ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে বসে আছে -- এই দল নিয়ে লোকের তেমন আশা ছিলোনা। একেই মনে হয় "লীলাখেলা" বলে। "যতোই হোক, পাঁচটার বেশী তো খাবেনা!" -- এরকম একটা সান্ত্বণা দিয়ে দেখতে বসেছিলাম খেলা। আমার মতে জাপানের জয়টা এই বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন।
তবে ক্যামেরুণের খেলায় কোন ধার খুঁজে পেলামনা, খেলোয়াড়দের মধ্যে একাত্মতার অভাব চোখে পড়ার মতো ছিলো। অবশ্য যে দলের ক্যাপ্টেন জাতীয় দলের সাবেক তারকার মুখে নিজের সমালোচনা শুনে "খেলবোনা" বলে হুমকী দেয়, সে দলে এর চেয়ে ভালো টিমওয়ার্ক আশা করাও হয়তো বৃথা। অবশ্য জাপানেরও ক্রেডিট আছে, সেকেন্ড হাফে তারা সাতজনকে নামিয়ে খেলে গোল বাঁচিয়েছে। কিছুটা হলেও প্রমাণ করেছে যে কপালগুণে গোলটা দিতে পারলেও, গোল খাওয়াটা ঠেকিয়েছে যোগ্যতার গুণেই।
তবে হল্যান্ড আর ডেনমার্কের কাছে জাপানের এই একই দল দাঁড়াতেও পারবে বলে মনে হচ্ছেনা। ফিলিপ ত্রোশিয়ে যে অসাধারণ দলটা দাঁড় করিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো আট বছর আগে, সেটাকে স্থবির করে রেখে গেছে অলস নিষ্কর্মা জিকো, আর তার বারোটা বাজিয়েছে ঘাড়ত্যাড়া বুদ্ধু তাকেশী ওকাদা (এই লোকের সাথে আমি বাংলাদেশের জনপ্রিয় কার্টুণচরিত্র উন্মাদের হেভী মিল পাই)। এপর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বোরিং খেলাটা হয়েছে গতকালের জাপান-ক্যামেরুনের খেলাটি।
হল্যান্ডের ম্যাচে রোবেনকে মিস করেছি, বেঞ্চে বসে থাকা বেচারার চেহারা দেখে কষ্ট লাগছিলো, খালি খালি ঢং করে পাস দিতে গেছিলো! আমার মতে বর্তমান বিশ্বে মেসির সাথে পাল্লা দেবার মতো খেলোয়াড়ের তালিকায় রোবেনই সবচেয়ে এগিয়ে। হয়তো মেসির চেয়েও বেশী ইফেক্টিভ! আর বার্সার জাভির পর রোবেনকেই আমার সবচেয়ে বুদ্ধিমান খেলোয়াড় বলে মনে হয়। তবে রোবেনের খেলা দেখতে না পাবার দুঃখ ঘুচিয়ে দিয়েছে এলইয়া, বিশ্ব কি নতুন আরেক বিস্ময় দেখতে যাচ্ছে?





কালকের ক্যামেরুনের টিমটা সেই ৯০ এর টিমের চেয়ে দুর্বল মনে হয়েছে। ফিজিক্যালীও ৯০ এর টিমের মত দেহাতী না। বরং অনেক প্লেয়ারকে দেখলে ল্যাটিন আমেরিকান মনে হচ্ছিলো।
ক্যামেরুনের একজন দুর্ধষ এটাকিং মিডফিল্ডার দরকার, যে বিপক্ষের দলের ডিফেনস ছিন্ন-ভিন্ন করতে পারবে। নইলে বাইরে থেকে উচু করে বল পাঠিয়ে গোল দেয়ার সৌভাগ্যের আশায় তাদের থাকতে হবে।
সেইটাই ... ফিজিকালিও এদেরকে সেই তাগড়া ক্যামেরুনী সিংহদের ধারকাছেও মনে হয়নাই ... এমনকি ৪০ বছর বয়েসী রজার মিলাও এদের চেয়ে আগ্রাসী ছিলো
ব্যাপার না। সবচাইতে বাজে খেলার লিস্ট আপডেট হইছে। আজকে ক্রোয়েশিয়া আর পর্তুগালের খেলা দেখছেন??

পর্তুগাল /আইভরি কোস্ট?
সেকেন্ড হাফ কিন্তু বেশ ভালো জমাইছে ...
শনিবারে হল্যান্ড - জাপান খেলার রেজাল্ট লিখে দেই
হল্যান্ড ৪ - জাপান ০
ফুটবল আমিও শিখে গেছি বস
হে হে হে ... শিখবেননা আবার? কন্যা ফুটবল-জ্বরে পড়লে মা'তো শিখবেই
হল্যান্ডের বিজয় নিয়ে টুকটুকির আনন্দ/লাফালাফি নিয়া পোস্ট দেন, নিশ্চয়ই ঐদিন সে খুব মজা পেয়েছে!
ঐদিন কমলা জামা কাপড় পড়ে টুকটুকি স্কুলে গেছে আমিও কমলা ফতুয়া লাগিয়ে অফিসে গেলাম। ওরা স্কুলে রেডিওতে খেলা শুনেছে। খেলাতো বুঝে না বুঝে শুধু কমলা আর টুটার
আমার ভাগ্না-ভাগ্নিরা তো বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপাকাঁপি করতেছে
... সবচেয়ে পিচ্চিটা দুই বছর বয়স, ফোন করলেই তিন চারবার জিজ্ঞেস করবে "তুমি কি? তুমি কি?" তারপর বলবে "আমি আর্জেন্টিনা!"
... অথচ নিজের নামও ঠিকমতো বলতে পারে কিনা সন্দেহ! 
পরের পর্ব কই?
বস্
গতকাল আর আজকে লাগাতার মিটিঙের চিপায় ধরা খাইছি ... আইজকা সন্ধ্যায় ইনশাল্লাহ
চমৎকার একটা সিরিজ। ক্যারি অন
ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন