বিশ্বকাপ শর্টনোট (৪)
মেসি, তেভেজ, ইগুয়াইন, ডি মারিয়া, আগুয়েইরা -- এদের যে কোন একজনকে পেলেই একটা দল বর্তে যাবার কথা, আর আর্জেন্টিনা খেলছে এই বোমাগুলোকে একদলে নিয়ে! এই আক্রমণভাগই কি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা আক্রমণভাগ? অন্ততঃ আমার দেখায় (১৯৮৬ থেকে ২০১০) তো তাই মনে হচ্ছে। এর আগে বাতিস্তুতা, ক্রেসপো, ওরতেগা, স্যাভিওলা, আইমাররা একই দলে খেললেও, এমন তুখোড় ফর্মেও সবাই ছিলোনা, এবং এরকম ক্ষুধার্ত বাঘের মতো এ্যাটিচিউডও তাদের মধ্যে ছিলোনা। মেসি, তেভজদের দেখে মনে হয়েছে যেন, গোলের জন্য ক্ষুধার্ত বাঘকে খাঁচাবন্দী করে রাখা হয়েছিলো, খেলার আগে মাঠে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কোচ ম্যারাডোনাকে এখানে বিশেষ একটা ক্রেডিট দিতেই হবে।
মেসির পাসিং আর প্লেসিং অসাধারণ! সবচেয়ে অবাক হলাম দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে খেলার ফার্স্ট হাফে ডিবক্সের সামনে মেসিকে ঘিরে গোলের সামনে চারজন ডিফেন্ডার থাকার পরও যেভাবে গোলে শটটা নিলো -- এক কথায় অসাধারণ! আর হিগুয়াইনের প্রথম ম্যাচে গোল মিসের মহড়া দেখে অনেকে বিরক্ত হলেও কাল সে বুঝিয়ে দিয়েছে যে সত্যিকারের সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার কাকে বলে! তিনটি গোলই গোলপোস্টের একদম কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বল পেয়ে করেছে, অথচ একটাও অফসাইড হয়নি -- কি অসাধারণ পজিশনিং! এটা হয়তো বিশ্বরেকর্ড! বাস্তেনের পর সুপার লেভেলের সুযোগসন্ধানী আরেকজনের খেলা দেখলাম কাল। সেদিন চিলির ৭ নং জার্সিপরা খেলোয়াড় সানচেজের খেলা দেখেও রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছি, আর স্পেনের ইনিয়েস্তারও। আরেকটা কথা বলে রাখি, উরুগুয়ে এবার ভালো দল, ফোরলান-সুয়ারেজের মধ্যে ভালো সমঝোতা গড়ে উঠলে নক-আউট পর্বে যে কোন দলের চাট্টি বাট্টি গোল হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে খেলা চলছে, ল্যাটিনরা এবার জ্বলছে!
আফ্রিকান দলগুলো অযথা লাল-কার্ড খাচ্ছে এবং লাল-কার্ড খেয়ে আর গুছিয়ে উঠতে পারছেনা। এটা কি কোচের পরিকল্পনার দোষ না খেলোয়াড়দের মানসিকতা, বোঝা যাচ্ছেনা। নাইজেরিয়ার জেতা ম্যাচ ফেলে দেয়া দেখে কষ্ট লেগেছে। কষ্ট লেগেছে স্পেনের ম্যাচ থ্রোয়িং দেখেও, প্রথমার্ধে তাদের মধ্যে গোলের কোন মরিয়া ভাবই দেখা যায়নি। গ্রুপ লীগে ব্রাজিল ৬০~৭০% দিয়ে খেলে, সেই হিসেবে ব্রাজিলের খেলায় অতটা হতাশ নই। আর উত্তর কোরিয়াও একটা মোটিভেশনে ছিলো, পৃথিবীকে "দেখিয়ে ছাড়ার"। তবে ফ্যাবিয়ানোর গোলখরাটা চিন্তার।
ফ্রান্স দলটা নিয়ে একটা বর্ণবাদী মন্তব্য করি, এদের খেলা দেখে মনে হয় খেলোয়াড়রা তেমন আগ্রহী না কিছু করায়, মনে হয়, খেলোয়াড়দের পরস্পরের মধ্যে তেমন ভালো সম্পর্ক নেই। প্রায় পুরো দলটাই আফ্রিকার অভিবাসীদের নিয়ে গঠিত, তাঁরা হয়তো এখন পুরোদস্তুর ফ্রেঞ্চ নাগরিক, তারপরও যে অবজ্ঞা নেটিভদের কাছ থেকে পুরুষাণুক্রমে তারা বা অন্ততঃ তাদের পূর্বপুরুষেরা পেয়ে এসেছেন, তাতে এই খেলোয়াড়েরা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পরে অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের মতো উজ্জীবিত বোধ না করলে আমি বিস্মিত হবোনা। এই খেলোয়াড়দের কাছে নিজদেশ হয়তো অন্য কোথাও, যেখানে তার জাতিগত পরিচয় অবজ্ঞার শিকার হয়না। ফ্রান্সে কি নেটিভরা একদমই ফুটবল খেলেনা? এগারোটা ভালো খেলোয়াড় নেই?
বিশ্বকাপ জমে উঠেছে, অবস্থা এমন যে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালেই ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড-জার্মানী, হল্যান্ড-ইতালী, ব্রাজিল-স্পেনকে মুখোমুখি দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে উরুগুয়ে-স্লোভেনিয়ার মধ্যে একটি আর প্যারাগুয়ে-কোট-ডি-ভোয়ারের মধ্যে একটি দল সেমিফাইনালে খেলবে।
কি তামশা!





হিগুয়েইনের প্রথম আর আর্জেন্টিনার দুই নাম্বার গোলটা কিন্তু অফসাইড পজিশন থেইকা হইছে।
আপনের শর্টনোট চরম হইতেছে...
ধন্যবাদ ভাস্করদা
রিপ্লেতে যে বারবার দেখাচ্ছিলো যে রদ্রিগেজ যখন বলটা ক্রস করতেছে, তখন ইগুয়াইন আর কোরিয়ান ডিফেন্ডার একই লাইনে দাঁড়ানো
অফসাইড হয় নাই। রিপ্লেতে ক্লিয়ার দেখা গেছে। লাস্ট মুভটা ভালো ছিল।
ফ্রান্সের কোনো চান্স নাই। এইবার বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই বন্ধুদের বলছি ফ্রান্সের এই াল মার্কা টীম ফার্স্ট রাউন্ডে বাদ পড়লে খুশি হব।
হা হা হা ... ফ্রান্সের চান্স আসলেই নাই ... ফ্রান্সের চেয়ে মেক্সিকো হইলেই খেলা জমবে ... তাও বড় নাম ভালো দেখায়, সেইজন্য উৎফুল্ল বোধ করা আর কি
ফ্রান্সকে আসলেই একদল ছন্নছাড়ার দল মনে হছে,এমনিতেই কোচ ডমেনেখের ভাবগতিক ঠাউরানো দায়,তার ওপর প্লেয়ারদের দেখে মনে হচ্ছেনা দলটার প্রতি তারা নূন্যতম মোটিভেটেড।আমার মনে হয়,ফ্রান্স দলে ইগো প্রবলেম প্রকট আকার ধারণ করেছে,আর ডমেনেখের সেটা সামাল দেওয়ার মত তাকত নেই সেটাও বোঝা যাচ্ছে।
আপাতত আর্জেন্টিনাই যা একটু ফুটবল খেলছে,তবে ব্রাজিলই তাদের ঝলক শিঘ্রি দেখাবে বলেম মনে হচ্ছে।
আর বিশ্বকাপটা ল্যাটিন আমেরিকার হতে যাচ্ছে,এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত,\।
আজকের খেলার রেজাল্ট সবাইকে নতুন করে অংক করাবে
ফ্রান্সের বিষয়ে পুরোপুরি একমত। আনেলকাকে কেন লাস্ট ম্যাচে পুরাটা খেলানো হইসিলো এখনো বুঝতে পারি নি। আমার মনে হয়, ডমেনেখ যখন নিজের ভুল বুঝতে পারছিলো তখন তার সে ভুল শোধরানোর ইচ্ছে হয় নাই। নাহলে থিয়েরি অঁরিকে পুরোটা সময় সাইড লাইনে বসায়ে রেখে অদৃশ্য আনেলকাকে নব্বুই মিনিট খেলানোর আর কি কারণ থাকতে পারে। ইগো প্রবলেম।
আর অঁরি কিন্তু ফ্রান্সের পরীক্ষিত সৈন্য। কোনভাবেই বুঝলাম না। প্যাট্রিক এভরা, ডিয়াব্বিরা চেষ্টা করেছে, কিন্তু সাগনা, আনেলকাদের মাঠে কোন উপস্থিতিই ছিলো না। এইসব প্লেয়ার বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টে চান্স পায় ক্যামনে।
ডমেনেখের জন্য একটা পরামর্শ: কোচিং-এর নামে ভদ্দরনোক যা করেছেন তা ফ্রান্স বলেই পেরেছেন। ইংল্যান্ড হলে মিডিয়াওয়ালারা ছুলে ফেলতো। (মতামতটা অবশ্য ব্যক্তিগত চিন্তাপ্রসূত)
শর্টনোট দারুন হইছে।
মন্তব্য করুন