ইউজার লগইন

বিশ্বকাপ শর্টনোট (৬, ইন ফ্যাক্ট, ভেরী লং)

ব্রাজিল দলটা আসলে কোন ফর্মেশনে খেলে? ৪-৪-২ দেখালেও আমি বলবো, ৪(২)-৪(২)-২, মানে ডিফেন্ডার হিসেবে যে চারজনের খেলার কথা তাদের দুজন ডিফেন্ডারের চেয়েও লিবেরোর দায়িত্বেই বেশী থাকে, দুই উইং ধরে বল একেবারে উপরে নিয়ে যাওয়াই (মিশেল বাস্তোস তো প্রতিপক্ষকে চার্জও করেনা টাইপের অবস্থা) এদের মূল দায়িত্ব। আবার মিডফিল্ডার চারজনের মধ্যে দুইজন ভোলান্টে (জিলবার্তো আর মেলো), এরা মাঝমাঠের বৃত্তের চেয়ে খুব একটা বেশী উপরে ওঠেনা, মানে সেই ৯০ দশকের দুইজন কার্লোস দুঙ্গা। এই দুইজনই প্রতিপক্ষের বল স্লো করে দিচ্ছে, উপরে উঠে যাওয়া বাস্তোস/মেইকন/লুসিও/এলানোদেরকে নেমে আসার সময় করে দিচ্ছে। আর হুয়ান তো ডিবক্সে আছেই!

দুঙ্গার ডিফেন্স-মিডফিল্ডে তৈরী এই শিকলটা ভীষন ইন্টারেস্টিং, যে কোন দলকে ভোগাবে জিলবার্তো-মেলো-বাস্তোস-মেইকন চতুষ্টয়। খালি সমস্যাটা হচ্ছে, একটা পর্যায়ে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা ধরে নিচ্ছে যে তারা জিতে গেছে, তখন হুয়ান ছাড়া আর সবার মনোযোগ যেন প্রতিপক্ষের গোল বরাবর। এই নিয়ে তিন খেলায় পরপর (তাঞ্জানিয়া, উঃকোরিয়া, কোট-ডি-ভোয়ার) একই কারণে গোল খেলো তারা, কাল তো গোল দেয়ার সময় দ্রগবার মতো ঝানু স্ট্রাইকারকেও প্রায় পনেরো বিশ গজ কোনাকুনি দৌড়ে ডি বক্সে ঢুকতে দিয়ে দিলো কোন মার্কিং ছাড়াই! জুলিও সিজারেরও বডি ল্যাংগুয়েজ পছন্দ হয়নি, আমার কাছে রুকি গোলকিপারদের জানবাজি রেখে গোল বাঁচানোর এ্যাটিচিউডটাই বেশী ভালো লাগে।

তবে পাস কম্বিনেশনের যে অসাধারণ নিদর্শন কাল কাকা-রবিনিয়ো-এলানো-ফ্যাবিয়ানো দেখালো, এক কথায় অসাধারণ। রাত সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত খেলা দেখে, অফিস যাবার জন্য সাতটার সময় উঠতে হবে ভেবেও তাি মনে হলো, "সমস্যা কি?ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তো আর এও শো দেখা সম্ভব না! " সেই আটানব্বইর রোনালদো-রিভালদো-কাফু-সামপাইয়োদের পর এরকম ডিসপ্লে দেখিনি। আরো বড় ব্যাপার হলো গোলখরা কাটিয়ে উঠেছে ফ্যাবিয়ানো, অসামান্য সব প্লেসিংয়ে এবার বিশ্বকাপ মাতাবে সে, ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে এই ভেবে আনন্দবোধ করি।

বোকার দল কোট-ডি-ভোয়ার :
প্রথমে অসামান্য খেলেছিলো কোট-ডি-ভোয়ার, অন্ততঃ প্রথম পনেরো মিনিট মনে হচ্ছিলো ব্যক্তিগত নৈপূণ্যে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের চেয়ে তাদের খেলোয়াড়রাই বেশী এগিয়ে। তারপরও একটা একটা করে গোল খেলো আর নেতিয়ে পড়লো। মিনিট পঁচিশেক বাকী যখন খেলার, ব্রাজিলের ডিফেন্স সামনে, পয়েন্ট পেতে হলে তাদের বিরুদ্ধে করতে হবে কমপক্ষে তিন গোল -- এমন পরিস্থিতিতে আজ যে তারা হারতে যাচ্ছে এটা মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সেটুকু বুদ্ধি তারা দেখিয়েছে মানছি। কিন্তু তারপর কি যুক্তিতে হঠাৎ ব্রাজিলের প্লেয়ারদের পা নেয়া শুরু করলো এরা? এলানো, বাস্তোস, রবিনিয়ো, ফ্যাবিয়ানো -- চারজনকেই এ্যাংকেলে বুট চার্জ করেছে সরাসরি। বলতে ইচ্ছে হলো, "আরে গাধার দল, এখন তো এই ব্রাজিল দলই তোদের মা-বাপ, তিন গোল দিয়ে জিততে বসা এরা তো আর তোদের প্রতিদ্বন্দী না। এখন তোদের প্রতিদ্বন্দী পর্তুগালকে ঠেকানোর জন্য এই ব্রাজিলের উপরেই ভরসা করতে হবে তোদের!"
আগামী ম্যাচে ব্রাজিল যাতে সবচেয়ে ভালো কন্ডিশনে পর্তুগালের সাথে খেলতে নামে তা নিশ্চিত করাটাই কি কোট-ডি-ভোয়ার দলের কাজ ছিলোনা? এই মাথামোটার দল এটা কি শুরু করেছিলো? আর সভেন এরিকসন নামের ঐ বুদ্ধিজীবি-দর্শন লোকটি কি আসলে বেতন ভোগ ছাড়া আর কিছু করেন? অন্য অনেক কিছু করলেও, সেগুলোও সম্ভবতঃ ভোগই শুধু, কাজের কাজ কিছুনা। অবশ্য এক গোল খাবার পর ব্রাজিল দলের শুরু করা ডার্টি ফুটবলেরও কোন মানে বুঝিনি, আজাইরা সময়ক্ষেপন।

কাকা ইচ্ছা করেই লালকার্ড নিয়েছে:
কিছুটা স্টেরিওটাইপড চিন্তা হলেও বলছি, নিজের পাঁচ-দশজন ব্রাজিলিয়ান বন্ধুদের দেখে যে ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়েছি তা হলো, এরা খুবই "টু-দ্য-পয়েন্ট" চিন্তা করে। আমি অবাক হয়েছি একটু আগে হলুদ কার্ড পাওয়া এমন ঠান্ডা মাথার কাকা কেনো পরমুহূর্তেই আবার কনুই দিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে গুঁতো দেবে, একেবারে কোন রাখঢাক ছাড়াই! টিভি ক্যামেরায় যে আজ খেলার মাঠের কোন অপকর্মই লুকোনো সম্ভব না, সেটা কাকার মতো বুদ্ধিমান খেলোয়াড়ের ভালোই জানার কথা। তার ওপর যখন সে লালকার্ড পেলো, তখন তার মধ্যে লজ্জা, বিস্ময়, আক্ষেপ কিছুই দেখা গেলোনা! ভাবলাম, "ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।"
ফিফার ২০১০ এর ওয়ার্ল্ড কাপের হলুদ কার্ডের নিয়ম চেক করলাম। আগে গ্রুপ পর্যায়ের হলুদ কার্ড নক-আউট রাউন্ডে কাউন্ট বা এ্যাকিউমুলেট করা হতোনা, ফ্রেশ স্টার্ট হতো নক আউটে। কিন্তু মাইকেল বালাক, ক্যানিজিয়ার মতো অনেকেই এক হলুদ কার্ড নিয়ে সেমিফাইনাল খেলতে নেমে আরেকটি হলুদ কার্ড পেয়ে ফাইনালে খেলার সুযোগ হারায়। তারই ফলশ্রুতিতে, এবার ফিফা নিয়ম করেছে যে ফ্রেশ স্টার্ট গ্রুপ পর্যায় শেষ হলেই শুরু হবেনা, বরং কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত আগের খেলাগুলোর হলুদ কার্ড নিয়মমতো কাউন্ট করা হবে। ফ্রেশ স্টার্ট হবে সেমিফাইনালে, যাতে সেমিতে এক হলুদ কার্ড পেয়ে কেউ ফাইনালে খেলার সুযোগ না হারায়।
এখন দেখা যাক, কাকা যখন লাল কার্ডটি পায় তখন সে নিশ্চিত আজ ব্রাজিল জিতছে, মানে পরের রাউন্ডে উঠছে। তাই পর্তুগালের সাথে পরের ম্যাচটি অত গুরুত্বপূর্ণ না, বরং পরের রাউন্ডের শুরুতেই হট ফেবারিট স্পেন, পরে অলটাইম ফেবারিট নেদারল্যান্ডসের সাথে দেখা হতে পারে। এখন সে কি করবে? একটা হলুদ কার্ড মাথায় নিয়ে পর্তুগাল, স্পেন আর নেদারল্যান্ডসের সাথে নার্ভাস হয়ে খেলবে (প্রতিপক্ষের কী প্লেয়ারের একটা হলুদ কার্ড থাকলে তাকে ভীষন জ্বালাতন করা হয়, এটা কাকা জানে), নাকি লালকার্ড খেয়ে পর্তুগালের ম্যাচটা স্কিপ করে নক আউট রাউন্ডে ফ্রেশ স্টার্ট করবে?

আমার সূক্ষ্ম ধারনা, বেঞ্চ থেকে দুঙ্গাই তাকে এই ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে। আগামী খেলায় কাকা-এলানোকে বসিয়ে আরেকটা কম্বিনেশনকে ঝালিয়েও নিতে পারবে দুঙ্গা। দুঙ্গার প্ল্যানিং মারাত্মক; আমি নিশ্চিত, অবস্থা যদি এমন হয় যে স্পেন তার গ্রুপে দ্বিতীয় হচ্ছে, তবে ব্রাজিল পরের ম্যাচ পর্তুগালকে ছেড়ে দেবে। নক আউট পর্বে স্পেনের সাথে খেলে পরের ম্যাচ নেদারল্যান্ডস-ইতালীর বিজয়ীর সাথে খেলার চেয়ে, প্রি-কোয়ার্টারে চিলি-সুইস এবং কোয়ার্টারে প্যারাগুয়ে / ডেনমার্ক / জাপান প্রতিপক্ষ হিসেবে অনেক পছন্দনীয়।

এবারের বিশ্বকাপ জমজমাট হয়ে উঠেছে। পরের রাউন্ডে যেতে হলে তৃতীয় ম্যাচে মাস্ট উইন শর্তের আওতায় পড়ে আছে ব্রাজিল/নেদারল্যান্ড/আর্জেন্টিনা ছাড়া বড় সব দল। ফ্রান্সকে জিততে হবে দক্ষিন আফ্রিকার সাথে অনেক গোলে (তাও উরুগুয়ে মেক্সিকো ড্র করলে লাভ নেই), ইংল্যান্ডকে জিততে হবে স্লোভেনিয়ার সাথে (এদের ডিফেন্স মারাত্মক), ইতালীকে জিততে হবে স্লোভাকিয়ার সাথে (চান্স আছে), জার্মানীকে জিততে হবে ঘানার সাথে (সবচেয়ে কঠিন অবস্থা), স্পেনকে জিততে হবে চিলির সাথে (আজকে চিলি সুইসের সাথে না)। অবস্থা বোঝেন?

এমনও হতে পারে যে,
উরুগুয়ে-নাইজেরিয়া, যুক্তরাস্ট্র-সার্বিয়া (পুল ১), আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো, জার্মানী-ইংল্যান্ড (পুল ২), ইতালী-হল্যান্ড, ব্রাজিল-স্পেন (পুল ৩), প্যারাগুয়ে-ডেনমার্ক, পর্তুগাল-সুইস(চিলি) (পুল ৪) -- এই চারটা পুল থেকে একটা করে দল সেমিতে খেলবে।
সর্বনাশ! পুল ২ আর ৩ এর অবস্থা দেখছেন! ফ্রান্স যদি চামেচিকনে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তাহলে পুল ২ তে মেক্সিকোর জায়গায় ফ্রান্স!

সেমিফাইনালে উরুগুয়ে ব্রাজিল প্যারাগুয়ে আর্জেন্টিনা খেললে আমি অবাক হবোনা। এবার ল্যাটিনরা জমজমাট অবস্থায় আছে।

বিশ্বকাপ রকস্!

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


খেলা দেখার মতই উপভোগ্য শর্ট নোটস, সকাল থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম এইটার।

জ্বিনের বাদশা's picture


নাহ, খেলার উপভোগ্যতার সাথে তুলনা চলেনা Wink
ব্রাজিল যেভাবে ডিফেন্সের দেয়াল ভেঙে ছোট পাসে ঢুকে পড়ছে বারবার ... এই খেলা দেখার জন্যই তো রাত জাগি

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


কাকারটা প্লানড মনে হলো না। বরং আইভরি কোস্টের খেলোয়াড়রা অনেকক্ষন ধরেই কাকাকে বিরক্ত করছিল আর কনুই মারার আগেও একবার কাকা টেমপার হারিয়েছিল। আইভরি কোস্টকে বোকা মনে হলেও, আমার ধারণা ফিজিক্যাল খেলাটা শুরু থেকে খেললে ব্রাজিলকে গোল পেতে আরেকটু বেগ পেতে হতো।

আহমেদ রাকিব's picture


আমারো তাই মনে হয়।

জ্বিনের বাদশা's picture


হে হে ব্রো, কিছুই বলা যায়না ... ব্রাজিল টিম এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য সব করবে ... এটলিস্ট লাল-কার্ড পাওয়াটা "শাপেবর" তো হইছে?

তানবীরা's picture


আমার ওনিও বললেন প্ল্যানড। আমি আবার ওনার কথার ওপর বিশাল ভরসা করি Wink

মামুন ম. আজিজ's picture


অনেক পর্যালোচনা করলেন.............সুন্দর সুন্দর ...
কিন্তু ব্রাজিল পর্তুগালের কাছে ইচ্ছে করে হারবে এইটা মানা যাযনা।
কারন গ্রুপে দ্বিতীয হরে সেমিতেই আর্জেন্টিনার দেখা মিলবে...সেটাও নবোদ হয কাম্য না
ফাইনালেই চির প্রতিদন্দীকে পাওযা বেশী ভালো।
যা হোক ... কাকা ইচ্ছে রে লাল কার্ড খেতেও পারে।

জ্বিনের বাদশা's picture


সব ডিপেন্ড করবে আজকের চিলি-সুইস ম্যাচের ওপর ...আর স্পেন পর্তয়গালের মতো কতগোলের বন্যায় ভাসাইতে পারে হন্ডুরাসকে সেটাও দেখার বিষয়

টুটুল's picture


কাকার লাল কার্ড যে পরবর্তী রাউন্ডে কাকা নির্ভার হয়ে খেলবে সেটা কার্ড পাওয়ার পরেই টের পাওয়া গেছে।

১০

জ্বিনের বাদশা's picture


আমারও কাকার ভীষন রকম ইন্ডিফারেন্ট চেহারাটা দেখে অবাক লাগছে ... স্টার প্লেয়াররা সাধারণতঃ লালাকার্ড পেলে খুব মুষড়ে পড়ে ... ওদিকে কাকার প্রথম হলুদ কার্ডের পর দুঙ্গা বেঞ্চ থেকে প্লেয়ারদেরকে হিট আপ করছে, এমন অভিযোগও আসছে ... দুঙ্গার মাথায় বুদ্ধি গিজগিজ করে ...

১১

মীর's picture


হুম এখন আপনার কথাই সত্য মনে হচ্ছে। যদিও আমি মনে করছিলাম কাকাকে লাল কার্ড দেয়াটা যৌক্তিক ছিলো না।

১২

জ্বিনের বাদশা's picture


প্রথম যেই ধাক্কাটা দিছে কাকা তাতেই যে লাল-কার্ড দেয়নাই আমি আশ্চর্য হইছি ... বল কাড়াকাড়ি হচ্ছেনা, এমন অবস্থায় পরিস্কার অপোনেন্টের খেলোয়াড়ের বুকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা -- এটা লাল কার্ড দাবী করে। সেকেন্ডটাও খুবই বাজে একটা ফাউল (যদিও কোটডিভোয়ারের প্লেয়ারটার এ্যাকটিংয়ে আমোদিত হইছি Wink)

১৩

অলৌকিক হাসান's picture


স্পেন দ্বিতীয় রাউণ্ডে উঠছে না। তাই ব্রাজিল পর্তুগালকে ছাড় দিচ্ছে না।

১৪

জ্বিনের বাদশা's picture


কিসসু কওয়া যায়না ... হন্ডুরাসও ফেলনা দল না ... সুইস এই আক্রমণভাগ নিয়া ধরা খাইতে পারে

১৫

শওকত মাসুম's picture


সেমিফাইনালে উরুগুয়ে ব্রাজিল প্যারাগুয়ে আর্জেন্টিনা খেললে আমি অবাক হবোনা। এবার ল্যাটিনরা জমজমাট অবস্থায় আছে।
এইটা আমিও ভাবি। খুব বেশি ওয়াইল্ড ড্রিম নিশ্চই না?

১৬

জ্বিনের বাদশা's picture


সম্ভাবনা খুবই বেশী ... প্যারাগুয়ের জায়গায় চিলিও হতে পারে

১৭

কিংকং's picture


ব্রাজিলের যে ফর্মেশনের কথা বল্লেন, এইটা এখন অনেক দলই ফলো করে ... ইনফ্যাক্ট, এখন ফুলব্যাকে খেলার প্রধান শর্তই হচ্ছে সময়ে সময়ে এটাকে যাইতে হবে ... দুইটা পিওর ডিফেন্সিভ ফুলব্যাক দিয়ে আর্জেন্টিনা ছাড়া আর কোন দল খেলে বলে মনে হয় না ...

গত দশ বছরে ফুটবলের সবচে বড় ট্যাকটিকাল চেঞ্জগুলির মধ্যে তিনটা হচ্ছেঃ
১) রং-ফুটেড উইংগার
২) এটাকিং ফুলব্যাক
৩) মিডফিল্ড ডেস্ট্রয়ার
মজার ব্যপার হচ্ছে এই তিনটা ট্যাকটিসই ক্লোজলি রিলেটেড এবং একটা ছাড়া আরেকটা ভালো কাজ করে না ...

রং-ফুটেড উইংগারের ব্যাপারটা হচ্ছে, যে উইংগার যে পায়ে খেলে তারে তার উল্টাদিকের উইংয়ে খেলানো ... যেমন মেসি বাম পায়ের প্লেয়ার, তাকে খেলানো হয় ডান উইংয়ে ... এতে যেটা হয়, উইংগাররা আর ক্রস করতে পারে না, বদলে বল নিয়ে কোনাকুনিভাবে কেটে বক্সে ঢুকে যায় ... একইভাবে খেলে রবেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ... এরা উইংয়ে খেললেও ক্রস দেয়া উইংগার না, বক্সে ঢোকা ফরোয়ার্ড ...

যেহেতু ট্র্যাডিশনাল উইংগার আর কোন দলই খুব একটা খেলায় না [ব্যতিক্রমঃ এ্যারন লেনন, এন্টোনিয়ো ভ্যালেন্সিয়া টাইপ দুই একজন] তাই উইং থেকে ক্রস দেয়া প্লাস বিপক্ষের ফুল্ব্যাকদের সাইদে সরায়ে আনার কাজটা করতে হয় উইংব্যাকদের ... এই কারণেই এখন মাইকন, ড্যানি আলভেস, এভরা, লাম, সার্জিও রামোসদের এত রমরমা অবস্থা ... বার্সেলোনার খেলা ফলো করলে দেখবেন, মেসির ইফেক্টিভনেস অনেক বেড়ে যায় যখন সাইড থেকে ড্যানি আলভেস উপরে উঠে আসে; বিপক্ষের ফুলব্যাকরা তখন কনফিউজড হয়ে যায় কাকে মার্ক করবে ...

যেহেতু উইংব্যাকদের প্রায়ই উপরে উঠে এটাকে হেল্প করতে হয়, তাই ডিফেন্সে একটা ফাঁকা জায়গা থেকে যায় ... সেইটা চেক দেয়ার জন্য ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের নেমে আসতে হয় ... কোন দল একটা ডিফেন্সিভ মীড খেলায়, কোন দল ব্রাজিলের মত দুইটা; কিন্তু মূল লক্ষ্য ঐ ডিফেন্সের গ্যাপ ফিলাপ করা ...

কিছু জ্ঞান ঝাড়লাম Laughing out loud

১৮

জ্বিনের বাদশা's picture


ধন্যবাদ Wink

তবে ব্রাজিলের উইংব্যাক/উইংগার (বাস্তবে কোনটা বলা ঠিক হবে সেই কনফিউশনে আছি Wink) মেইকন/বাস্তোস কিন্তু ইনসাইড-আউট উইংয়ে খেলেনা ... মেইকন ডান-পা, বাস্তোস বাম ...

দুই ভোলান্তে (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার) কি আর কোন দল খেলাচ্ছে? আবার ব্রাজিলের ভোলান্তে দুইটাকে মিডফিল্ডার বলা যায় কিনা সেই ভাবনা থেকেও ফর্মেশন সংক্রান্ত কনফিউশনটা ...

১৯

কিংকং's picture


উঁহু, মাইকন আর বাস্তোস ঠিক পায়েই খেলার কথা, কারণ ওরা দুইজন উইংব্যাক ... রংফুটে খেলার কথা রবিনহো আর এলানোর, যারা স্ট্রাইকারের দুই পাশে খেলতেসে, ট্র্যাডিশনাল উইংগারের জায়গায় ...

আর দুই ডিফেনসিভ মিডফিল্ডার অনেকেই খেলায়; যেমন হল্যান্ড [ডি জোং, ভ্যান বোমেল], বা আজকের স্পেন [বুস্কেটস, আলোনসো] ... তবে আলোনসো বা ডিজোং ব্রাজিলের দুইটার মত এত বেশি ডিফেন্সিভ না মনে হয় ...

২০

আসিফ (অতিথি)'s picture


দারুন বিশ্লেষণ।

জ্বিনের বাদশা আর কিংকং দুজনকেই ধন্যবাদ।
@জ্বিনের বাদশা, ডাবল হ্যান্ডবলের কথা কিছু বললেন না। ফ্যাবিয়ানো তো হাত দিয়াই লবটা রিসিভ করেছিলো বলে মনে হলো।

২১

জ্বিনের বাদশা's picture


ধন্যবাদ
একটা প্রশ্ন করি, ফ্যাবিয়ানোর দ্বিতীয় গোলটায় প্রথমে বল রিসিভ করার সময় হাতে লাগার ভুমিকা কতটুকু? ... ঐ বলটা যদি ফ্যাবিয়ানোর হাতে না লেগে এমনিতেই এসে পায়ে পড়তো তাহলেই কি তিন চারজন ডিফেন্ডারের মধ্য দিয়া এমন প্লেসিং শটে গোল হয়ে যাইতো? ...
হ্যান্ডবল না হলে এই গোলটাকে এখন পর্যন্ত "ব্যক্তিগত নৈপূণ্যের সেরা গোল" বলা হতো এই টুর্ণামেন্টে

২২

আসিফ (অতিথি)'s picture


জ্বিনের বাদশা ভাই,ফ্যাবিয়ানো তো নিজেই স্বীকার করলো হ্যান্ডবল ছিলো!!

"It seems the ball hit my hand and the second time it hit my shoulder. But it was a spectacular goal and I believe it was not a voluntary handball," Fabiano said.

সূত্র: http://allafrica.com/stories/201006220081.html

তবে গোলটা ভালো ছিলো মানতেই হবে-হাতের অংশটুকু বাদ দিলে Smile

২৩

সাহাদাত উদরাজী's picture


খেলা দেখতে পারছি না। রাত ৯টায় অফিস ছুটি। ১২টা ৩০ শে আর জেগে থাকতে পারি না, পরের দিনের চিন্তায়। আপনাদের কথা গুলো দেখছি মাত্র!

২৪

জ্বিনের বাদশা's picture


কন কি! Wink

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.