সিনেমা রিভিউ: এ্যাটোনমেন্ট

আর এক পা বাড়ালেই হয়তো ভাঙা পোরসেলিনের টুকরোয় পা কাটা যেতো যুবতীর। যুবকের রিফ্লেক্স খুব দ্রুত কাজ করে, ত্বরিৎ গতিতে দুহাত আগে বাড়িয়ে সামনে-এগুনোর-পথে-বাঁধা দেয়ার ভঙ্গিতে মেয়েটিকে সে সাবধান করে দেয়, যাতে পরবর্তী স্টেপ না দেয়। মেয়েটি পেছনে সরে যায়।
অনেক দূর থেকে দৃশ্যটি দেখলে মনে হতে পারে যে ছেলেটি মেয়েটিকে ধাক্কা দিচ্ছে বা দিতে চাচ্ছে। বিশেষ করে দৃশ্যটি যদি দেখে ফেলে দশ/এগারো বছর বয়েসী কোন ভীষন কল্পনাপ্রবন বাচ্চা, যার শখ কিনা টাইপরাইটারে নাটক লেখা, তাহলে এ দৃশ্যের সেরকম নেতিবাচক অনুবাদ হওয়াটা বিচিত্র না, এবং বাস্তবেও তাই হয়। সম্পর্কে বাচ্চা মেয়েটির বড় বোন ঐ যুবতী, আর সেজন্য দৃশ্যটি দেখার পর যুবকটি সম্পর্কে তার নেতিবাচক ধারনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। অঘটনের শেষ অবশ্য এখানেই না, ঘটনাক্রমে দেকহা যায় যে যুবকের নিজেরই সামান্য এক মিষ্টি ভুলে বাচ্চা মেয়েটির মনে তার ইমেজ আরো ভয়াবহ প্রকৃতি ধারন করে।
যুবকটি সম্পর্কে একটি মিথ্যে কথা বলে বাচ্চা মেয়েটি, তবে সে মিথ্যেটা সে সজ্ঞানে বলছে না নিজের মনের ভেতর গড়ে ওঠা যুবকের ইমেজের কারণে অবচেতন মনে মিথ্যেটি তৈরী হয়েছে -- পরিচালক আমাদের তা জানতে দেননা, তবে এর ফলাফলটুকু দেখিয়ে নির্বাক করে দেন।
পরিচালক শুরুতে আরো অনেক কিছুই জানতে দেননা। পরে ধীরে ধীরে ঘটনার জট খোলেন, জানা যায় বাচ্চা মেয়েটির একটি মিথ্যে কথা কিভাবে প্রভাব ফেলে অনেকগুলো মানুষের ওপর। দেখা যায়, পুরো ঘটনাটি নিয়ে বাচ্চা মেয়েটির প্রচন্ড রকমের মনস্তাত্বিক টানা-পোড়েনের দন্দ্ব। দেখা যায় যুবক আর যুবতীর পরিণত। জানা যায়, পরবর্তীতে বাচ্চা মেয়েটি কিভাবে সেই মিথ্যে কথার প্রায়শ্চিত্ত করেছিলো।
ছবির গল্প নিয়ে এর বেশী বলছিনা, বাকীটুকু দেখে নিলেই বেশী মজা পাওয়া যাবে।
ছবিটি ধীর লয়ের, তবে কাহিনীটি অসাধারন। ধীর গতির দৃশ্যায়নের ছবিটির প্রতি মুহূর্তেই কাহিনীর নাটকীয়তাটা উপভোগ্য, সাথে বুননের চমৎকারিত্ব তো রয়েছেই। বারংবারের লোকাল ফ্ল্যাশব্যাক ছবির শুরুর দিকে কিঞ্চিৎ ধৈর্য্যবিচ্যুতি ঘটালেও, ঘটনার ভেতর যত ঢোকা হয় তত বোঝা যায় যে এরকম একটি গভীর মনস্তাত্বিক টানাপোড়েনের কাহিনী দেখানোর জন্য একটি ঘটনাকে বিভিন্ন এ্যাঙ্গেলে অর্থাৎ বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে চিত্রায়ণ করার প্রয়োজনীয়তা আছে। তাছাড়া কাহিনীনির্ভর এ ধরনের ছবিতে যেখানে প্রায় প্রতিটি দৃশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এ ধরনের চিত্রায়ন দর্শককে কাহিনীতে ঢুকতেও সাহায্য করে।
ক্যামেরার কাজ অসাধারণ, দৃশ্যায়ন আর চরিত্রদের অভিব্যক্তি ফোটানো -- দুটো দৃষ্টিকোণ থেকেই। বিশেষ করে বাচ্চা মেয়েটির মনস্তত্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য ক্যামেরার যে কাজ, সেটাকে এ পর্যন্ত আমার দেখা সেরা মনস্তাত্বিক চিত্রায়ন বললেও ভুল হবেনা। মেয়েটির অভিব্যক্তিই সংলাপে না বলা অনেক কথা বলে দিচ্ছিলো, যাতে মেয়েটির অভিনয় দক্ষতাও সমানভাবে প্রশংসার প্রাপ্য।
যুবকের চরিত্রে জেমস ম্যাকেভয় করেছেন দুর্দান্ত অভিনয়, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশটুকুতে যেখানে তার দেশে ফেরার তুমুল ইচ্ছে দর্শককে নাড়া দিতে বাধ্য।
তবে ছবির শেষ অংশটুকুকে আরেকটু সংক্ষিপ্ত করে, এমনকি টিভি সাক্ষাৎকারের দৃশ্যটি না দেখিয়েও আরো সুন্দরভাবে ছবিটি শেষ করা যেতো বলে মনে হয়েছে।
একশোতে পঁচানব্বুই তো দেয়াই যায়। একটু গভীর অবসরে প্রিয়জনকে পাশে নিয়ে দেখার মতো অসাধারণ একটি ছবি।





....ইশশ, মাইনাস.....ছিনেমা দেখার সুযোগ কম এখন, আর এখন এইসব রিভি্য পড়লে, চুলকায়....
আরো দুইটা রেডি আছে, অহনই ছাড়তাছি
তাইলে আমিও আসিয়ান ম্যুভির রিভিউ দেয়া শুরু করুম নে....নন ইংলিশ....মু হা হা হা
হে হে হে ... আমারে এশিয়ান মুভির ভয় দেকহাইয়া লাভ নেই ব্রাদার
... চীনা ভাষাও টুকটাক শিকহার চেষ্টা করছিলাম
আমি কইলাম আদ্ধেক জাপানী
ছবিটা পুরোটা দেখতে পারিনি তবে ছোট মেয়েটার ছেলেটার বিপরীতে সাক্ষীদেয়া পর্যন্ত দেখেছি (যুবকটি সম্পর্কে একটি মিথ্যে কথা বলে বাচ্চা মেয়েটি, তবে সে মিথ্যেটা সে
সজ্ঞানে বলছে না নিজের মনের ভেতর গড়ে ওঠা যুবকের ইমেজের কারণে অবচেতন মনে
মিথ্যেটি তৈরী হয়েছে -- পরিচালক আমাদের তা জানতে দেননা, তবে এর ফলাফলটুকু
দেখিয়ে নির্বাক করে দেন।)-- আমার তো মনে হল পরিচালক তা জানতে দিতে চাইছে যে মেয়েটা ভুল/নাজেনে মিথ্যে বলতেসে, ঐ দৃশ্যে সে ফোকাস করতে চাইছে মানুষের দেখাটাই সব না, সব সময় সত্য না, প্রিডিটারমাইন্ড মস্তিষ্কের চোখ ও সেটাই দেখে যেটা সে দেখতে চায়।
ছবিটার গল্প বলার স্টাইল টা আমার দারুন লাগসে; তখনি আফসোস হচ্ছিল দেখতে না পারার জন্য
আপনার জন্য এই ছবি দেখা এখন মাস্ট হয়ে গেছে ... খুব মজা পাবেন
ছবিটা অনেকদিন ধরে আমার কাছে। দেখবো দেখবো করে দেখা হচ্ছিল না। এখন মনে হচ্ছে দেখতেই হবে।
রিভিউ লিখতে আমার এখন মনচাইতাছে। অনেকদিন মুভি নিয়া কিছু লিখা হয় না।
বস্, দেখে ফেলে একটা ফাটাফাটি রিভিউ দিয়া ফেলেন ..
আমি একশই দিতে চাই এবং গত ছয় মাসে আমার দেখা সেরা দুইটা সিনেমার একটা এটা। অসাধারন কাহিনী অসাধারন অভিনয়। যারা ধীর গতির সিনেমা দেখতে অপছন্দ করেন না তাদের অবশ্যই দেখা উচিত।
যান তাইলে আমিও একশো দিয়া ফেললাম ...
দেখা হয় নাই। দেখতে হবে।
কি বলেন! শেষটায় তো পুরা মাথা আউলায় গেছে। পুরো ছবিতে আমি এটোনমেন্ট কোন জায়গায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শেষের সাক্ষাৎকারে এসে রীতিমত মুগ্ধ। আমার দেখা অন্যতম সেরা ছবি।
আমার মনে হইছে যে টিভিতে সাক্ষাৎকার হিসেবে না দেখিয়ে লেখিকার স্বগোতক্তিতে শেষ অংশটুকুকে তুলে ধরলে মূল ছবির ফ্লোর সাথে ভালো যাইতো ... হঠাৎ টিভির স্টেজকে কেমন যেনো একটা ছন্দপতন বলে মনে হইছে ...
নিসন্দেহে অ্যাটোনমেন্ট আমার দেখা সেরা ড্রামাগুলির একটি। একটি চলচ্চিত্রের কাছে আমি সবসময়ই আশা করি যে আমি চমক খাব, সবসম্ই যে ক্লাইম্যাক্সের চমক হতে হবে এমন না, হতে পারে পুরোপুরি ইউনক কাহিনী। কিন্তু অ্যাটোনমেন্ট এর শেষটা যেমন হল, এতো মুভি দেখবার পরও বিন্দুমাত্র ধারণা করতে পারিনি। এখানেই ডিরেক্টর জো রাইটের কৃতিত্ব, এছাড়া সিনেম্যাটোগ্রাফি চমৱকার হয়েছে, কখনোই আমার মনে হয় নি কাহিনী ধীর হয়ে আসছে, অভিনেতারা টের পেতে দেন নি। সবমিলিয়ে খুবই পছন্দের মুভি।
এটোনমেন্ট দেখার জন্য তোর কাছেও কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ, তোর পোস্ট পড়েই নামাইছিলাম। ঠকি নাই
মুভি দেখার ব্যাপারে আবালবৃদ্ধবণিতা, সুস্থ এবং অসুস্থ মস্কিষ্ক সব কিসিমের মানুষের জন্যই আমার প্রেসক্রিপশন অব্যর্থ(এখন পর্যন্ত! প্রতিদিন রুচি চানাচুর খাই কিনা
)
বাহ, আপনার কমেন্টটাই তো একটা ভালো রিভিউ হয়ে গেছে ... আসলেই, অভিনয়ও চমৎকার করছে সবাই ... জেমস ম্যাকেভয়ের অভিনয় অবশ্য এমনেও বেশ ভালো
এতো মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারিনি ।
রিভিউ ভালো লাগলো । ভালো প্রিন্ট পেলে দেখএ নিবো।
তবে যদ্দুর মনে পড়ে যুবক-যুবতীর মধ্যে আসলেই ইটিশ পিটিশ সম্পর্ক ছিলো।
একটু সময় হাতে নিয়ে দেখতে হবে
ইটিশ-পিটিশ ছাড়া সিনেমা হয় নাকি?
সিনেমা দেখাটা পুরাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জীবন থেকে, এই দুঃখেই আত্মহত্যা করতে হবে এবার
এইটা কি কইলেন বস্!!! ... অবশ্য আপনে যেই হারে বই কিনছেন!!!
রোববারে আই ম্যাক্সে এ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড দেখতে যাবো সপরিবারে। তারপর এইটা দেখবোনে। রিভিউ দেখেই বসে পড়তে ইচ্ছে করছে।
ওয়াও!
এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড অবশ্য আইম্যাক্সেই দেখা উচিত
এ্যাভাটার থ্রিডিতে দেখলাম (আইম্যাক্স না যদিও
) ... সেইরকম!
দেখা হয় নাই। দেখতে হবে।
দেইখা একটা রিভিউ দেন দেশী
অ্যাটোন্মেন্ট নিয়ে আমার এক কথায় বলতে বলব ,পুরোই বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম , একেবারেই মন ছুঁয়ে যাওয়া একটি সিনেমা ।ডিরেক্টর হয়তো হলিউডি নন বলেই টিপিক্যাল হলিউডি সিনেমার চেয়ে আবেগের প্রকাশটা খানিকটা ভিন্ন ধাঁচের ছিল...
আসলেই! লোকটার মেকিং দেখে আমি মুগ্ধ ... হলিউডি মেকিং হলে অনেক সাদামাটা হয়ে যেত
এই মুভিটা আমি আদ্ধেক দেইখা রাইখা দিসিলাম (আলসেমী লাগতাসিলো ক্যান জানি)। এইবার আশা করি পুরাটাই দেইখা ফালামু।
হায় হায়!!
মন্তব্য করুন