ইউজার লগইন

অনুবাদ: গাছ পাথর মেঘ(শেষার্ধ)

প্রথম পর্ব
‘এক টুকরা কাচ...’—ছেলেটা অস্ফুটে বলে।

‘যে কোনো কিছু। পথে ঘোরাফেরার সময়ে কখন কীভাবে তাকে মনে পড়বে তার উপরে আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তুমি ভাবতে পার হয়তো চারদিকে দেয়াল তুলে নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়। কিন্তু স্মৃতি মানুষের দিকে কখনো সোজাপথে জানান দিয়ে আসে না—আসে অতর্কিতে, চুপিসারে। চারপাশে যা দেখি বা শুনি তার কাছে আমার অসহায়ত্ব চরমে পৌঁছেছিল। হঠাৎ করে শহরে-গ্রামে তাকে তন্নতন্ন করে খোঁজার বদলে সে নিজেই আমাকে ধাওয়া করতে শুরু করলো, একেবারে আমার আত্মার গহীনে। ভাবতে পারো সে অবস্থা? আমাকে সে উলটো তাড়া করছে, আমার অস্তিত্বের শেকড়ে! ’

ছেলেটি কৌতুহলী হয়ে জানতে চায়-‘আপনি তখন কোন এলাকায় থাকতেন?’

‘ওহ্‌,’—লোকটির কন্ঠস্বর গোঙানির মতো শোনায়, ‘আমি আকন্ঠ পাপে নিমজ্জিত ছিলাম। গুটি বসন্তের মতো পাপ আমাকে ছেয়ে ফেলেছিল। মদ, মেয়েমানুষ, যত রকমের পাপের নাগাল পেয়েছি তার সবগুলোকেই আলিঙ্গন করেছি। লজ্জা লাগলেও এখন সসংকোচে এগুলো স্বীকার করে নিচ্ছি। সেই সময়টা আমার স্মৃতিতে জমাট রক্তের মতো ঘন হয়ে আছে, এতটাই ভয়াবহ ছিল আমার কার্যকলাপ।’

লোকটি ধীরে ধীরে তার মাথা নামিয়ে কাউন্টারের উপরে রাখে। অবনত মস্তকে নীরব রইলো কিছুটা সময়। তার ঘাড়ের পেছন দিকটা কমলা রঙের পশমে আবৃত, দু’হাতের বেঁকে যাওয়া দীর্ঘ আঙ্গুলগুলো একে অপরের মধ্যে ঢুকে গিয়ে প্রার্থনার একটা আবহ সৃষ্টি করে। তারপর হঠাৎ করে সে হাসিমুখে সোজা হয়ে বসে, তার কাঁপাকাঁপা চেহারা বুড়োটে হলেও তাতে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট।

‘মনে পড়ে সে চলে যাবার পঞ্চম বছরে সেটা ঘটে, আর তখন থেকেই আমি মৌনব্রত গ্রহণ করি।’

লিও ফ্যাকাশে মুখে দাঁত বের করে একটু হাসার চেষ্টা করে। ‘আরে সারাটা সময় কি এর জন্য পড়ে আছে?’ তারপর হঠাৎ করে রেগে ওঠে , থালা-বাসন মোছার কাপড়টা দলা করে সজোরে মেঝেতে ছুড়ে মারে, ‘ বুড়োহাবড়া, গান্ধা মজনু কোথাকার!’

‘তারপর কী হলো’—উৎসুক ছেলেটি বলে।

‘শান্তি’—পরিস্কার, উঁচুগলায় লোকটি জবাব দেয়।

-‘মানে?’

‘এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুব কঠিন বাবা। তবে মনে হয় যৌক্তিক ব্যাখ্যাটা হলো, সে আর আমি একে অপরের কাছ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম, অবশেষে আমরা বিশ্রী রকমের তালগোল পাকিয়ে এ বিষয়ে হাল ছেড়ে দিলাম। শান্তি। একটি অদ্ভুত সুন্দর শুন্যতা। পোর্টল্যান্ডে তখন বসন্ত, আর প্রতি দুপুরেই বৃষ্টি হতো। প্রতিটা বিকেল আমি অন্ধকার ঘরে আমার বিছানায় কাটিয়ে দিতাম। আর এভাবেই ভালোবাসার গুঢ় রহস্য আমার জানা হয়ে যায়।’

রাস্তার গাড়িগুলোর জানালায় আলো পড়ে প্রাণহীন নীলচে দেখাচ্ছে, সৈন্য দু’জন বিয়ারের দাম চুকিয়ে দরজা খোলে। বাইরে পা দেবার আগে একজন চুল আঁচড়ে নিয়ে পায়ে বাঁধা পট্টি থেকে কাদা ঝেড়ে নেয়। মিল শ্রমিক তিনজন নীরবে নাশতার প্লেটে মনোযোগ দেয়। লিওর দেয়ালে ঘড়ি টিকটিক করে আগে বাড়তে থাকে।

‘বিষয়টা হলো, ভালো করে শোন—আমি গভীর ধ্যানের মধ্যে দিয়ে ভালোবাসার রহস্য বুঝে নিয়েছি। আমি বুঝে নিয়েছি আমাদের ভুলগুলো। লোকে প্রেমে পড়ে, কিন্তু সর্বপ্রথম সে কার প্রেমে পড়ে?’

ছেলেটি তার নরম-সরম মুখটি একটু খুললেও কোনো উত্তর দিল না।

-‘নারী। কোনো ধরনের যুক্তি-অবলম্বনের তোয়াক্কা না করে তারা মানব জীবনের সবচাইয়ে বিপজ্জনক আর পবিত্র বিষয়টিতে জড়িয়ে পড়ে। তারা এক নারীর প্রেমে পড়ে। ঠিক বলেছি বাবা?’—লোকটি নিজে থেকেই উত্তর দেয়।

‘হ্যাঁ’—ছেলেটি সম্মতি জানায়।

-‘তারা ভালোবাসার উলটো প্রান্ত থেকে চলতে শুরু করে। প্রেমের পথে হাঁটি হাঁটি পা পা এর সূত্রপাত ঘটায় চরম উত্তেজনা দিয়ে। ভালোবাসায় এতটা কষ্ট কেন ভেবেছ কোনোদিন? জান ভালোবাসা আসলে কোথা থেকে শুরু করা উচিত?’

সে হাত বাড়িয়ে ছেলেটির চামড়ার জ্যাকেটের কলার ধরে মৃদু একটা ঝাঁকুনি দেয়। কঠিন একজোড়া সবুজ চোখে সে একদৃষ্টিতে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে থাকে।

-‘বাবা, তুমি কি জান ভালোবাসার শুরু কোথায় হওয়া উচিত?’

ছেলেটি জড়োসড়ো হয়ে নীরবে বসে থাকে। ডানে-বামে মাথা নাড়ায়। লোকটি আরেকটু কাছে এসে ফিসফিস করে বলে, ‘ একটি গাছ। একটি পাথর। একটি মেঘ।’

বাইরে তখনো ঝমঝম বৃষ্টি হচ্ছে—সামান্য ধরে আসা, বিষণ্ণ, অফুরন্ত বৃষ্টি। দূরে কোথাও সুতার কলের ঘন্টা বেজে উঠলো, শ্রমিকেরা নাশতা-কফির দাম মিটিয়ে বেরিয়ে গেল। কাফেতে এই মুহূর্তে বৃদ্ধ আগন্তুক, লিও আর খবরের কাগজের হকার ছেলেটি ছাড়া আর কেউ নেই।

লোকটি আবার বলতে শুরু করে,—‘পোর্টল্যান্ডের আবহাওয়াও তখন এরকমের ছিল। সে সময়েই আমার মধ্যে যুক্তিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক চিন্তা-চেতনার বিস্তার শুরু হয়। আমি ধ্যানে বসতাম, খুব সাবধানে। রাস্তা থেকে যে কোনো কিছু কুড়িয়ে এনে ঘরে ওঠাতাম। একদিন একটা গোল্ডফিশ কিনে এনে সেটার উপরে সব মনোযোগ ঢেলে দিলাম, এক পর্যায়ে আমি সেটাকে ভালোবেসে ফেলি। আমি একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন জিনিসকে ভালোবাসতে শিখলাম। দিনকে দিন এই কৌশলটাতে আমার দখল বাড়তে থাকে। পোর্টল্যান্ড থেকে সান ডিয়েগো যাবার পথে—’

-‘আহ্‌ অনেক হয়েছে থামো এইবার, চুপ করো! একদম চুপ!’—লিও হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে।

লোকটির হাতে তখনো ছেলেটির কলার ধরা ছিল, তার কাঁপতে শুরু করা চেহারা উজ্জ্বল আর কিছুটা পাগলাটে দেখায়।

-‘ছয় বছর ধরে আমি পথে পথে ঘুরে এই কৌশলটাকে আরও পোক্ত করেছি। বলতে গেলে আমি একজন মাস্টার এই বিষয়ের এখন। আমি যেটাকে খুশি ভালোবাসতে পারি। এ নিয়ে আমাকে এমনকি ভাবতেও হয় না। আমি দেখি রাস্তায় মানুষের ঢল, আর তাদের মধ্য থেকে একটা আলো আমার কাছে চলে আসে। বা আকাশে যখন একটা পাখিকে উড়তে দেখি। অথবা কোনো নিঃসঙ্গ অপরিচিত পথিকের সাথে দেখা হয়। সবকিছু, সবাইকে ভালোবাসতে পারি। তুমি ভাবতে পার এমন একটা আবিষ্কারের প্রভাব কতোটা হতে পারে?’

ছেলেটি শক্ত হয়ে কাউন্টারের প্রান্ত আঁকড়ে ধরে বসে। তারপর দ্বিধা ঝেড়ে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি কি সেই মহিলাকে আর খুঁজে পেয়েছিলেন?’

-‘কী? কী বললে তুমি বাবা?’

-‘মানে আমি জানতে চাইছি আপনি কি আবারও কোনো নারীকে ভালোবেসেছিলেন?’—ছেলেটি ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করে।

লোকটি ছেলেটির কলারে তাঁর মুঠোর বাঁধন একটু আলগা করে। সে প্রথমবারের মতো ঘুরে দাঁড়ায় আর তার সবুজ চোখে ঘোলাটে, বিক্ষিপ্ত দৃষ্টি ফুটে ওঠে। কাউন্টার থেকে মগ উঠিয়ে নিয়ে সে হলদে পানীয় গলায় ঢালে। ডানে বামে তাঁর মাথা মৃদু কাঁপতে শুরু করে। অবশেষে সে মুখ খোলে, ‘না। দেখ বাবা সেটাই আমার আবিষ্কারের শেষ ধাপ। আমি খুব সতর্কতার সাথে আগাচ্ছি। এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।’

‘ভালো ভালো, বেশ ভালো’—লিও বলে ওঠে।

লোকটি উঠে গিয়ে খোলা দরজার মাঝে দাঁড়ায়। ‘মনে রেখো’—সে বলে। ভোরের বিষণ্ণ সেঁতসেঁতে আলোর পটভূমিতে তাঁকে জবুথবু, চুপসানো আর ভঙ্গুর দেখায়। কিন্তু তাঁর মুখের হাসিটি অমলিন। ‘মনে রেখো আমি তোমাকে ভালোবাসি’—সে মাথা ঝাঁকিয়ে নিচুস্বরে বলে। বিদায় নেবার পরে তাঁর পেছনে দরজাটা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।

ছেলেটি অনেকটা সময় চুপচাপ বসে রইলো। সে মাথার সামনের দিকের চুল টেনে ধরে খালি মগটার চারদিকে আনমনে আঙুল বোলাতে থাকে। তারপর লিওর দিকে না তাকিয়েই প্রশ্ন করে, -‘বদ্ধ মাতাল ছিল নাকি?’

‘না’—লিও এককথায় উত্তর দেয়।

-‘তাহলে কি নেশাখোঁর?’—গলা চড়িয়ে পরিষ্কার উচ্চারণে জানতে চায়।

‘না’

ছেলেটি পূর্ণদৃষ্টিতে লিওর দিকে তাকায়, তীক্ষ্ণ কন্ঠে মরিয়া সুরে আবারও প্রশ্ন করে, ‘পাগল? আপনার কি ধারণা লোকটা উন্মাদ?।’ জবাব না পেয়ে দ্বিধা নিয়ে আবার বলে, ‘লিও? হ্যাঁ বা না একটা কিছু বলুন।’

কিন্তু লিও কোন জবার দেয় না। সে একটানা চৌদ্দ বছর যাবৎ এই কাফেটি চালিয়ে আসছে, বরাবরই পাগলামীর খুব কড়া সমালোচক। শহরের নিজস্ব বেখাপ্পা চরিত্রে অভাব নেই, আবার রাত হলে আশপাশের এলাকা থেকেও অনেকে আসে। সে এদের সবারই পাগলামী সম্পর্কে ভালোভাবে জানে। কিন্তু একটা বাচ্চা ছেলের সরল প্রশ্নের উত্তর দিতে তার ইচ্ছা করছিল না। সে তার ফ্যাকাশে চেহারাকে আরও কঠিন করে নীরব থাকে।
ছেলেটি তার হেলমেটের ফিতা টেনে সোজা করে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হয়। লিও খুব ভেবেচিন্তে নিরাপদ একটা মন্তব্য ছুঁড়ে দেয় যেটা শুনলে কেউ হেসে উঠবে না, বা কারও প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ পাবে না—

‘লোকটা খুব ঘোরাফেরা যে করেছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মামুন ম. আজিজ's picture


ভালো

হাসান রায়হান's picture


অনুবাদ নিয়া কোনো কথা নাই। সুন্দর ঝরঝরে। কিন্তু পুরা গল্পটা পড়ে লেখিকা কী বলতে চাইল ঠিক বোধগম্য হল না।

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


শেষ পর্যন্ত আমিও কিছু বুঝি নাই Puzzled

টুটুল's picture


শেষ লাইনে আপনার সাথে মিল পাইলাম Wink

ভাস্কর's picture


ভালোবাসার এই সর্বব্যাপী রূপটারে আমরা আসলেই চিনি না। আমাগো ভালোবাসা হইতে হয় একরৈখিক...ঐ লোকের মতোন আমি হয়তো হইতে চাই না। কিন্তু ঐরম হইতে পারলে হয়তো বাইচা যাওয়া যাইতো...

অনুবাদ নিয়া কোন কথা কইতে চাই না। মূল গল্প পড়ি নাই যদিও তবু বুঝতে সক্ষম হইছি, ঐ আবহটা তৈরী করতে পারছেন...রহস্যময়তার আবহ...

মামুন হক's picture


পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ভাস্করদা খুব ইম্পর্ট্যান্ট একটা পয়েন্ট বলে দিসেন, এর পরেও কিছু কথা আছে। আপাতত কাজের চাপে আছি, ফ্রি হলেও আমার ব্যাখ্যাটাও জানাব।

রাসেল আশরাফ's picture


খালি অনুবাদ!!!!!!!!!!এষা আর আয়লার ছবি কই?লেখা পইড়া কিছু বুঝিনাইক্কা।আসলে বয়স কম তো!!!!!!!!

মীর's picture


তুমি কি জান ভালোবাসার শুরু কোথায় হওয়া উচিত? একটি গাছ। একটি পাথর। একটি মেঘ।

বিচ্ছেদ যদি এরকম হয় তবে সেটাও ভালো। প্রিয়াকে সবশেষে ভালবাসা নিয়ে ইরানেও একটা কথা চালু আছে।


প্রিয়া তুই জেনে নিস
রুটি-শরাব আর বই ছেড়ে একদিন
তোর কোলে এসেই মরবো
(সংগৃহীত -ফুটলো গোলাপ ইরান দেশে)

গল্পের দুই পর্ব এক সাথে পড়ে মনে হয় বুঝতে পেরেছি। প্রিয় গল্পে সংযোজিত হলো। মামুন ভাই সাহিত্যরসিক মানুষ। তাকে সহস্রাধিক শুভেচ্ছা। আর মনে রাখবেন আমি কিন্তু আপনাকে ভালোবাসি

মামুন হক's picture


এই তো মীর ভাই ধরতে পারছেন। মনে রাখবেন আমিও আপনাকে ভালোবাসি Smile

১০

নজরুল ইসলাম's picture


দুই পর্ব একসঙ্গে পড়লাম। খুব ভালো লাগলো। ঝরঝরে অনুবাদ।
গল্পটাও খুব ভালো। এরকম ছোট ছোট গল্প অনুবাদ চালায়ে যা

১১

মামুন হক's picture


ধন্যবাদ বন্ধু। এখন চেখভের একটা গল্প হাতে নিয়েছি, একেবারে ভিন্নস্বাদের। দিয়ে দেব আজকালের মধ্যেই।

১২

তানবীরা's picture


শেষটা রহস্যময়। কষ্টকরে একটা গল্প মনোযোগ দিয়ে পড়ে যদি পুরোটা না বুঝতে পারি, নিজেরে বোকা লাগে, তাহলে Sad

১৩

সাঈদ's picture


আলোচ্য গল্পে লেখক কি বুঝাতে চেয়েছেন আমি বুঝি নাই ।

ছ্যাঁকা খাইলে কি পাহাড় - নদী - কাঁচ রাস্তা এইসব ভালো বাসতে হয় ?

সেই জন্য কবি বলেছেন - যাদের জীবনের সব আশা ভরষা শেষ তারা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল দেখে।

১৪

রুমন's picture


দুটো পর্বই পড়লাম। বুঝলাম কি না বুঝলাম না Sad

১৫

মামুন হক's picture


হায় হায় বেশিরভাগ বন্ধুরাই দেখি বোঝেন নাই লেখক কী বলতে চাইছেন, আসলে এইটা গল্পের না, অনুবাদের দোষ। তবুও আমি যা বুঝলাম সেটা আপনাদের বলি, দেখি তাতে বুঝতে কোনো সুবিধা হয় কি না।

সোজা বাংলায় লেখিকা এখানে সত্যিকারের ভালোবাসার তরিকা বোঝাইতে চাইছেন। যে আমরা প্রায় সবাই ভালোবাসতে না শিখেই ভালোবাসতে শুরু করি, প্রেমে পড়ে যাই। তাঁর ভাষ্যমতে প্রকৃতিকে নিঃশর্ত ভালোবাসার মধ্য দিয়েই আমাদের প্রেমের পাঠ শুরু হওয়া উচিত। নর-নারীর মধ্যকার প্রেম হইলো সেই বিদ্যাপীঠের সর্বোচ্চ ডিগ্রী। বর্ণশিক্ষা না করেই মাস্টার্স ডিগ্রী কোর্সে ভর্তি হলে সে অবস্থা হবে, ভালোবাসার প্রাথমিক পর্যায়গুলো অতিক্রম না করেই মানবিক প্রেমে পতিত হলে সেই রকমেরই ভজঘট পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

গল্পে মূল চরিত্র মাত্র তিনটি, তার মধ্যে দুজনেই বেনামী, সেই পেপারের হকার আর মাতাল বৃদ্ধ। একজন সরলতার প্রতীক আর আরেকজন অভিজ্ঞতার। একমাত্র যার নাম আমরা জানি সে হলো লিও--খিটখিটে মেজাজের অসংবেদনশীল মানুষ। বৃদ্ধ চাচ্ছেন ছেলেটি তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক, মানবীর প্রেমে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ার আগে ভালোবাসার গোপন রহস্যকে জানুক। লিও নিজেও কোনোদিক সত্যিকারের ভালোবাসার সন্ধান পায়নি, তাই সে বৃদ্ধের কথাগুলোকে অগ্রাহ্য করে তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। কিন্তু শেষদিকে ভালোবাসার গুঢ় রহস্যের ব্যাখ্যা শুনে সে নিজেও নরম হয়ে যায়, এবং বৃদ্ধ সম্পর্কে কোনো বাজে মন্তব্য করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে।

আলোচ্য গল্পটি খুবই ব্যতিক্রমধর্মী এবং একই সাথে সৃষ্টির রহস্যের শিকড় ধরে টান দেয়। এ কারণেই বুঝতে এত কষ্ট হলেও গল্পটি ভীষণভাবে সমাদৃত, এটি নিয়ে অনেক গবেষণা, আলোচনা এমনকি একটা শর্ট ফিল্ম পর্যন্ত তৈরী হয়েছে।

কিছু বুঝাইতে পারলাম কি না জানি না, তবে শেষ কথাটা বলে যাই, আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি Smile

১৬

তানবীরা's picture


ক্যান আপ্নে সবাইকে ভালোবাসেন ক্যান? আপ্নের কি সমস্যা Wink

১৭

নাহীদ Hossain's picture


খুব ভাল লাগলো।
এভাবেও মনে হয় বলা যায় যে, নারী হচ্ছে এই সৃষ্টি জগতের একটা গুরুত্বপূর্ন অংশ। তেমনি পুরুষও এর একটা অংশ। আমরা দুচোখ দিয়ে যা কিছু দেখি, যা কিছু শুনি কিংবা যা কিছু করি তার প্রতিটিই এর এক একটি অংশ এবং ভালবাসার পরিপূর্নতা তখনই আসে যখন এই সৃষ্টি জগতের প্রতিটি অংশকেই ভালবাসা যায় একসাথে। নারী-পুরুষের ভালবাসায় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মাত্র। যা সৃষ্টি করে নতুন সুন্দরের, নতুন ভালবাসার।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.