ইউজার লগইন

মেঘকন্যা'এর ব্লগ

এলোমেলো নদী

মেঘনাতে আমি দিনক্ষণ ঠিক করে যাইনি আর। হঠাৎ মনে হয়েছে দৌড় দিয়েছি। স্প্যানিশ গীটার প্রথম হাতে খড়ি আমার বন্ধু সোহাগের কাছে। সেই উপলক্ষে কোনদিন সকালে তো কোনদিন বিকালে আমরা এক এক জায়গায় বসতাম। এক সকালে সোহাগ এলো দোস্ত লিপুকে নিয়ে। আমরা আইয়ূব বাচ্চুর Ôসেই তুমি বাজাচ্ছি নিষ্ঠার সাথে। লিপু বলে উঠলো ওর না কি অসহ্য লাগছে। সোহাগের মনে তখন কোনভাবেই জাকিয়াকে পটাতে না পারার কষ্ট আর আমার মনে তো ব্যথার স্থায়ী বসতবাড়ী। তিনজনে ভর দুপুর বেলা গুলিস্তান গিয়ে হাজির। মেঘনার পারে গিয়ে দেখি পূজার মৌসুম শেষ করে শত শত বউ ঝি লঞ্চে করে এসে পাড়ে নামছে। আমাদের ঘণ্টার নৌকা পাওয়া দুষ্কর। হুন্ডাই সিমেন্টের কারখানা হব হব। নদীর এপাড়ে বাঁধা ওপাড়ে বাঁধা। টিকটিক করে চলা একটা মুদির দোকানে বসে চা আর নাবিস্কো বিস্কুট খেলাম। তারপর বসলাম গিয়ে ব্রীজের নীচে। চুপচাপ বসে থেকে, পানির দিকে তাকিয়ে একদম চুপ করে বাসে করে ঢাকা চলে এলাম। সেদিন কেন আমরা এত নীরব ছিলাম তিনজনের কেউ সোহাগের মৃত্যুর আগেও না পরেও না জানতে পারিনি।

জীবনানন্দীয় ক্লান্তি

সমস্ত দিনশেষে ভ্রু'র কোণে এসে জমে
জীবানন্দীয় ক্লান্তি
এসব অবগুণ্ঠনহীন যাপিত জীবন
বহুদিন ছুটিতে থাকা অশ্বের অনভ্যস্ত ক্ষুর ঠোকা
অজানার পারে ছুটবে বলে-
কেউ বোঝে না, দেখে না কেউ মন দেহ
উল্টে পাল্টে;
উন্মুক্ত রং রস, তারচেয়ে বেশি প্রকাশিত
হৃদয় দ্বার, সুবিধাটুকু করে উপভোগ
উগড়ে দেয়া আধুনিক ভাষার ধার!
কেউ জানে না কি লেখা প্রাচীন মিশরীয় স্লেটে-
ভুলে যাওয়ার সুত্র বা পারম্পর্যহীন কথার ভার!
আগামীকাল তুমি আসোনি মায়াসভ্যতা-
কালো বিড়াল বৃথা মরলো কেঁদে।
সমস্ত দিনশেষে ভ্রু'র কোণে জমে থাকে
মানবীয় ক্লান্তি,
জীবনানন্দ সেই কবে থেকে কবি মাত্রেরই
মৃত্যু-প্রাণের ঐকতান অথবা নিখাদ বিভ্রান্তি।

মনের গুরু "তনা"-আমার তসলিমা নাসরিন

“সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি”- এভাবেই তো চলতাম! যে যা বলতো শুনতাম, জানতাম একমাত্র লেখাপড়াতেই এ মেয়েজীবনের মুক্তি ঘটতে পারে। পাড়ার সবাই ভালো মেয়ে ভালো ছাত্রী হিসেবে আমার উদাহরণ টানতো। আমি ও তাতে কম আহ্লাদিত হতাম না। মাটির দিকে তাকিয়ে স্কুলে যাই, মাটির দিকে তাকিয়েই ফিরে আসি, যাতায়াতের পথে কেউ ভালো বললেও রা কাড়ি না, মন্দ বললে তো একদমই কাড়ি না। বাসে যদি কেউ গায়ে হাত দেয় কিশোরী আমি লজ্জায় দুঃখে মনে মনে কাঁদি, বাসায় ফিরে কেউ না দেখে মতো করে কাঁদি, কখনো স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে কাঁদি। এই ছিলাম ৯২ সাল পর্যন্ত, ক্লাস নাইন পর্যন্ত আমার জানা আমি। মা-বাবার ভালো ছাত্রী, ভালো মেয়ে, পাড়া প্রতিবেশীর লক্ষ্মী মেয়ের রোলমডেল হঠাৎ করে রং বদলানো পৃথিবীকে অন্যচোখে অন্যধ্যানে একটু একটু বুঝতে শুরু করলাম। কচি মনে মালুম হতে থাকলো সারাদেশ যে লেখকের লিখা নিয়ে ছিঃ ছিঃ করছে তার লিখা পড়ে আমার বদল হচ্ছে, আর আমি ‌‌ভালো মেয়ের সার্টিফিকেট হারাচ্ছি প্রতিনিয়ত অল্প অল্প করে।

নির্বাক আমার স্বর ফোটে না....

26.07.13
আমার আস্তিনের নীচে লুকোনো নখ
বিড়ালের মুখে ইঁদুর
অপার জলে ওড়াওড়ি সীগাল
মাঝে মাঝে ডাক দেয়, সু-দূর

আমার মুখে হাসি
বিষণ্নতার কবর
রমণের ইতিহাস নিংড়ে
জন্মের ক্ষণ খোঁজা, মনের চোখ থাকে বোঁজা

আমার মুক্তির স্বেদবিন্দু
বন্ধুর পথে বন্ধু
অপেক্ষার দুর্বিনীত প্রহর
ডানে বামে এলায়িত
দিকচক্রবাল
ডাকছে সমুদ্দূর...

--------------
প্রজাপতি ওড়া পাঁজরে
নবাগত অনুভব
দিচ্ছে চাপা বিগত দিনের
দুঃখ-হতাশা-ক্ষোভ;
ইথার জানে, জানে দোর ছাওয়া
কৃষ্ণচূড়া, ইসাবেলা-
দিন শেষে ওল্ড ইজ গোল্ড।

হাজারের সাথে আরো একশ পঁচানব্বই দিন
পুড়ে গেল ঠোঁট, সাথে ফুসফুসের জমিন,
বলতে পারিনি ইসাবেলা-
“তোমাকে ভালোবাসি না”।
সারস ডানায় বন্দী স্বাধীন পদ্য
প্রথম চুম্বনস্বাদ এখনো স্মৃতিতে অনবদ্য!
কতজন কত স্মৃতিতে বাচেঁ
আমি এখনো পড়ে আছি তোমারই গড়া ছাঁচে;
ক্লান্ত মন জপে যায় একই সুর
কাছে আসো পাশে বসো
আমার আদরের ‘দূর-বহুদূর’
এককথায় –সুদূরিকা...
এবার তো দাও দেখা!

০৫০৮১৩

কত সহজ উচ্চারণে বলে ফেলো
“ভালোবাসি না”
প্রতিদিনের শেকল ভাঙা গান
কে গায় তোমাদের জন্যে

গান

পিচ্ছিল আঁধারে বয়ে চলা সময়
ভাবছো বসে এভাবে হবে বুঝি
ধ্বংসের জয়
আজ গাড়ি পোড়ানো, কাল পুলিশ খুন
ভাবছো বসে এভাবেই হবে বুঝি
ক্ষমতায় আরোহণ
আমি আম জনতা বলছি তোমায়
শুনে নাও
পারেনি কেউ করতে বাঙ্গালীকে
এমন করে ভাও
বায়ান্ন বলো, বলো ঊনসত্তর, কিংবা সেই উত্তাল একাত্তর
আমরাই ছিনিয়ে এনেছি বারবার
আঁধার সরিয়ে ঝকঝকে রোদ্দূর
কেমন করে ভাবো তোমরা
ট্রেনে আগুন, বাসে আগুন দেখ
ভয় পাবে বাঙ্গালীর প্রাণ ভোমরা
ভাবছো বসে দেখিয়ে জুজু ধর্মের
ঢেকে দেবে ইতিহাস যত অপকর্মের
জেনে রেখো জেনে রেখো সে হবার নয়
হবে হবে হবেই শুনো- জয় বাংলার জয়
বলি আবার একসাথে জয় বাংলার জয়
জয় বাংলার জয়
জয় বাংলার জয়

https://soundcloud.com/afsana-kishwar/020413-1

ইসাবেলার ঘর সংসার

১.ইসাবেলা, আমার বসন্ত মানে না
বিপ্লব, হরতাল, আন্দোলন
এ বসন্ত চাইছে তোমার সাথে
নিরবিচ্ছিন্ন সঙ্গম।

২. আহা! তোমার মোমসম শরীর!
মানুষের নয় যেন পরীর, পরীর।

৩. লড়তে লড়তে বড্ড ক্লান্ত আছি, ইসাবেলা
প্রাচীন তালপাখা দিয়ে মায়ার বাতাস
চাইছি এ-বেলা।

৪. দীপিতাসোনা তুমি এখন আমার সব
তুমি সুস্থ থাকলে প্রতিটা দিন মুখরিত
অঘোষিত পরব, পরব।

৫. আপনি ছিলেন বটগাছের নামান্তর
বিদেশ গেলে ভালো মানুষগুলো আর ফেরে না
কি চিকিৎসা হয় জানি না
খবর আসে ঘটেছে দেহান্তর।
(জাতি আজ সত্যিকারার্থে অভিভাবকহীন হলো প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে)

একপিস গুলাবী

১.এক পিস গুলাবী

আহ বৈধব্য!জলপাই স্বামী যেদিন গেল মরে
প্রাণ ফিরে এলো আমার গোলাপবরণ ধড়ে।
ঘুটেকুড়ানী থেকে রাণী
কেন দেখায় না ডিসকভারী আমার কাহিনী!

সন্তানদের গড়তে করিনি আপোস
বাবা নেই এ অজুহাতে কেউ যেন দিতে না পারে দোষ ।
উইন্ডমিলের বরপুত্র কোকেনের আবর্ত
আর খাম্বার সমাহার,
আমার সন্তানেরা এনশাল্লাহ ঘি খেয়ে
করেনি কখনো ধার।

নিস্তরঙ্গ বাংলায় এনেছি গ্রেনেড নিনাদ - জঙ্গীবাদ
আহ বৈধব্য! গুলাবী মাত্রই জানে
সার্টিফিকেট না থাকার আশীর্বাদ।

২. কিশোরী আমি বেণী দুলিয়ে জামাতী স্কুলে যাই
ভাবের জগত টালমাতাল-
ওমা একদিন সফেদ দাঁড়িয়াল বলে -
আমাকে না কি ধর্ষণ করা জায়েয
যুদ্ধের সময় আমি গণিমাতের মাল!
সেই থেকে শুরু নিজেকে দেশকে ধর্মকে জানা
বেশভূষায় সুফী হলেও জানলাম
জামাত মানেই ইবলিসের ছানা।

৩. কি আশায় বেঁচে থাকা জানে না মন
মোবাইল পর্দায় রাত্রি জাগরণ
তুমি ঘুম সে ঘুম, সবাই নিদ্রাদেবীর কোলে
আমি জেগে যদি তুমি ডাকো মনের ভুলে
সীমানা পেরোনো সময় তোমার সূর্য
আমার আকাশে চাঁদ
ভালোবাসা মানে আমৃত্যু অজেয় ফাঁদ

৪. কে কে কে কে সে,
হঠাৎ নেতা বনে গেল শাহবাগে এসে!

পাকি গন্ধী গান...অনেকেই হবে বদনাম

১. তুই চিরকাল এড়িয়ে গেলি জীবনের সহজ দাবী
আমাকে রাখলি দূরে
নিজেও খেলি অনন্ত অস্থিরতায় খাবি

২.জানি তুমি বলবে জীবন মানে
এটা সেটা অনেক কিছুর জয়
আমার কাছে পুরোটাই অব্যর্থ ক্ষয়

৩. নিজেকে আদরে মায়ায় আজ রেখেছিলাম ভীষণ যতনে
কেমন করে ভাবো আসতে দেব তোমায় আমার একক ভুবনে
যতই করাঘাত করো দখিন দুয়ারে প্রতিক্ষণে

৪ বিয়াল্লিশবছর দেখেছি তোদের দুর্বলের ক্ষমা সুন্দর চোখে
পেছন থেকে ছোরা মারতি না যদি সাহস থাকতো বুকে

৫. পাকিস্তানী আর্মি আর রাজাকাররা করেছে যাদের ধর্ষণ
তাঁদের নাম বীরাঙ্গনা অথবা শহীদ বোন
পাক আর্মির প্রতি যার ভালোবাসা
পুরো একাত্তর জামশেদের নেশা
তাকে কি নামে ডাকি?
"ম" বর্গীয় শব্দের সাথে বাঁধা তার একজীবনের রাখি

৬. তুমি যখন সত্যের পথে তোমার হাজার বদনাম
যখন ভুল করছো শুধরে দেবে না
করবে প্রশংসার জপনাম
এরাই আসল শত্রু
অতএব সাধু সাবধান

৭. আমার কোন নাম ছিল না
দল ছিল না, মঞ্চ ছিল না
নই আমি টক শো কাঁপানো আন্দালিব
আমার কণ্ঠে জয় বাংলা
বুকে আমার শেখ মুজিব

৮. লুতুপুতু প্রেমের ছন্দ হয়ে যায় বন্ধ
তুমি পসরা সাজালে
তোমার প্রতি মুগ্ধতা সোনার বাংলা
রাখবো কেন আড়ালে!

টুকটুক ঠোকর

১. মুঠোফোনে কাব্য লিখে মুগ্ধ করি কাকে!
দেখলে তুমি হাসবে (ইসা) বেলা
রূপোলী চুল ভেংচে উঠে
কালো কেশের ফাঁকে।

২.সেদিনও ছিল কানের পাশে
তোমার গুঞ্জরণ
এখন কর্ণমাঝে বাজছে কেবল
এফএম আয়োজন।

৩.যে ভালোবাসে তার তো ধর্ম একটাই
কখনো ইউসুফ-জুলেখা
কখনো কৃষ্ণ-রাই

৪. না না একদম যত্ন নিচ্ছ না ত্বকের।
ত্বক দেখলে,
জানলে না তুমি না থাকলে সব থেমে যায়
সময় তখন শুধুই শোকের।

৫.এ শহরের জ্যামকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে
আমাদের আড্ডা চলেছে বহুবার
এখন সবই ভার্চুয়াল, মোবাইল নেটে
চলে দেন দরবার। স্মৃতি ঘিরে থাকে
কুলকুল হাসি, ঘৃণা ব্যথা অভিমান
ভালোবাসাবাসি,
সময় বলে এরা এখন ভিন্ন গ্রহে
আছে হয়ে প্রবাসী।

৬.সতেরো থেকে তোমাকে ছুয়েঁছি-ছেড়েছি
করেছি প্রতিজ্ঞা না দেখবার
অথচ দেখো কিছুতেই থামলো না
বারবার করা মুখাগ্নি তোমার।

৭. পাগলা -রঙ্গীন পানি, মদিরা সুরা
কত নাম তোমার
কাজের বেলায় একজনই তুমি
পঙ্গুকেও করে দাও পার
স্বপ্নে সর্বোচ্চ পাহাড়।

৮. ভালোবেসে কত ডাকলাম
ভুতোসোনা,
তুমি শুধু সরছো দূরে
দেখে দীপিপোনা।

কাঠ ঠোকরার ঠোকর

মননের সবটুকু মনোযোগ এখন দেশের উপর নিবদ্ধ। এর ভেতর কেমন করে এরা এলো আমি জানি না-

১. আমায় থাকো তোমরা ঘিরে
সাথে হাজার কাজ
এমন ভীড়ে কেমন করে
দেখি তোমার সাজ!

২. হরিণ চোখে ক্ষিপ্র কাজল
বুকে তখন শতেক মাদল
লাগ ভেলকি লাগ
খুন হয়ে যাই তক্ষুণি
একটু তো তাকাক!

৩. আমি জটিল, তুমি সরল
দন্ডিত দূরাভাস
একজনমে মোহমায়
মিটে না ভালোবাসার আঁশ

৪. শেষ ফাগুনের চিবুকে শুয়ে আছে
কাঙিক্ষত বুষ্টির বিন্দু বৃষ্টি নামাবে বলে
তুমি পিচ্ছিল হ্রদে ঝাঁপ দিলে
প্রত্যহর দাবীমাখা তুমুল কোলাহলে

৫.শব্দেরা সীমান্তে আটক ভিসার গন্ডগোলে
এভাবে হয় না ইসাবেলা,
চুমু খেতে হয দু'চঞ্চু
সম্পূর্ণ খুলে!

৬. আমি এখন ভূতুড়ে পরিত্যক্ত শহর ইসাবেলা,
চারপাশে চামচিকাদের উড্ডয়ন
মেনে নেই অনায়াসে,
কে করবে ক্লান্তি হরণ!

৭. আমার দেহে এখনো বর্ণহীনতার দাগ
তিনটি বছর কেটে গেল
এবারো বললে,
বসন্ত ফিরে যাক!

দিন শেষ

বোবা ইমারতের বারান্দায় জ্বলছে একটি মোম
একটি দু’টি করে শাহবাগ পর্যন্ত যজ্ঞের হোম
কতবার কত হায়েনা হয়েছে পাকিস্তানের দোসর
জন্মপরিচয়হীন বুদ্ধিবেশ্যারা করে কত তোড়জোর
হা হা পায় যে হাসি, বলছে কাজী নজরুল
বিদ্রোহে ভাসি-
আস্তিক-নাস্তিক ভেদ করে পাবে না তো পার
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার
বিভেদের বাণী চিরন্তন শোনেনি তো বাঙ্গালী
’জয় বাংলা’য় রাসেল জাফর রাজীব দিচ্ছে রক্ত ঢালি
অপেক্ষায় ফাঁসীর দড়ি, রাজাকার-জামায়াত-শিবির
দিন শেষ তোদের, ঐ দেখ বলছে টিকটিক ঘড়ি

তারিখ : ২০.০২.২০১৩, ১২ টা (দুপুর)

ভালোবাসা আজ তোমার জন্যে স্বদেশ

ভালোবাসা আজ তোমার জন্যে স্বদেশ
শাহবাগে প্রেমিক প্রেমিকার ছুটি,বলছে
আমাদের ভালোবাসা অশেষ
শুধু তোমার জন্যে বাংলাদেশ

কোটিপ্রাণের মুষ্টিবদ্ধ হুংকার
আমাদের সব অহংকার
রক্তের দাম, তোমাকে সালাম
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম
আমাদের বন্য বেশ
তোমার জন্যে বাংলাদেশ

তোমার শরীরে থাকবে না কালো ভূষণ
বুকে থাকবে না রাজাকারের দূষণ
ধর্মের অহেতুক শোষণ
আমাদের দামামা, খালাম্মা সুফিয়া কামাল
আমরা যে আপনারই স্নেহের সন্তান
হৃদয়ে জাগ্রত একাত্তরের রেশ

ভালোবাসা আজ তোমার জন্যে স্বদেশ
আমাদের ভালোবাসা অশেষ
শুধু তোমার জন্যে বাংলাদেশ

স্থায়ী অপেক্ষা

স্থায়ী অপেক্ষা

কাঁচের ওপারে জাফরি রোদ
ব্যস্ত রাস্তা, হুড়োহুড়ি বেশ
এপারে আয়না ঘরে আমাদেরও
দমবন্ধ, বাতাসে কর্মযজ্ঞের রেশ।
রবি থেকে বৃহস্পতি একই বৃত্ত
এক ই মুখ, একই অসন্তুষ্ট চিত্ত;
জীবন মানে আদতে নারদ নৃত্য,
তোমাকে মাড়িয়ে আমি চলে যাব,
কেউ বোঝে না সবাই-ই
”কর্পোরেট ভৃত্য”।
স্থায়ী নয় সুখ, নয় স্থায়ী নিঃশ্বাস
অপেক্ষায় সেই পুরানো-
’তিন এবং আধ’ মাটির আবাস।।

’ক্লান্তি’ কোলাজ

’ক্লান্তি’ কোলাজ

ভীষণ ক্লান্ত আমি
ভ্রু-তে, পাপড়ি -তে এমন কী
নখের ডগায়ও আমার বিষাদ ।
আমার ঘুম নেই, খাওয়া নেই
বায়বীয় প্রার্থনায় উলুঝুলু সময়
ত্বকের ভাঁজে ভাঁজে বাসা বেঁধেছে ক্ষয়;
এসব অহেতুক ভীড়, মানুষের হলাহল
আমাকে প্রতিদিন ক্লান্ত করে তোলে।
আমাকে ঘিরে থাকা অর্থহীন কাজ
আমার করে যাওয়া স্বাভাবিকতার সাজ!
আমি জানি ”মুক্তি” শব্দটি
জীবিত মানুষের জন্যে অপ্রযোজ্য;
স্বপ্নের রকমারি হেরফের, ফাঁস ঝোলানো গাছ
করণিক দাগাবাজিতে বুকের পাঁজর চুরচুর
জীবিকা-ই আমার আসল সর্বনাশ!

ফেটে যাওয়া ঠোটেঁ হাসি...

অতি বাস্তবের ঘূর্ণাবর্তে নিজেই এখন উপন্যাস বা ছোটগল্পের উপজীব্য, দেশলাই জ্বালতে জ্বালতে ছাইটুকু উড়াতে গিয়ে মনে পড়ে শীতের সেইসব ঘন চুম্বন; আত্মজার ঘ্রাণে প্রেম কায়া ইতিহাসের অংশ, পরিযায়ী তুমি, আ্মার করোটিতে জন্মভূমি, পরিবার- কোন অয়েভ লেংথে কোকিছু আর মিলছে না কোনভাবেই। সাগর পেরানো আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল সব বিল মিটিয়েও তোমার প্রস্থানের অভাব পূরণ করতে পারে না।
আমি অবন্যিস্ত, অতি মাত্রায় দায়িত্বশীল, আমি নিশিপক্ষী, মোবাইলের স্ক্রীণ, আমি বন্ধুহীন, আমার ঠোঁটে লাগেনি ভেসলিন-আমি ফেটে যাওয়া ঠোটেঁ করি আগুন চুম্বন, প্রেম বোকা নারীর একমাত্র অলীক ভূষণ....