মেঘকন্যা'এর ব্লগ
বেঁচে আছি??!!!
কখন রাত হয়, কখন সন্ধ্যা নামে, রাতের ঘুম কি জিনিস, অবসর কাকে বলে, নিজের কাছে নিজে ফেরা কি, এগুলো সব আজকে একবছরের উপর ভুলে গেছি, লিখতে ভলে গেছি, শেষ কবে টিভি দেখেছি বলতে পারি না। সবকিছু সব সময় কন্যাকে দিচ্ছি, তারপর যখন দিনশেষে মেয়ে চরম অসুস্থ হয়, বেচারার কান্নার শক্তিটুকুও আর থাকে না, ৪ ৫ দিনে ২কেজি ওজন কমে যায তখন নিজেকে কেমন যেন অপরাধী লাগে। মনে হয আমি ঠিকঠাক ওর যত্ন করতে পারছি না, নিজেকে কেমন ব্যর্থ মা মনে হয়।
সব ঠিক আছে আমার কিছুর দরকার নেই, শুধু দীপিতা সুস্থ থাক, মাঝে মাঝে মাথার ভেতর যখন কোন গদ্য অথবা পদ্য লাফ দিয়ে ওঠে তখনই আমার একটু কষ্ট হয়। এবার দীপিতা আম্মু বই ও করছি না, ডায়রী পর্যন্ত লিখি না তোমার কষ্ট হবে ভেবে, একটা ঈদ সংখ্যা পূজো সংখ্যা কিনিনি, যদি পড়তে ইচ্ছে করে এই ভেবে। আমার ভূতুম পাখি তুমি তাড়াতাড়ি সেরে ওঠো, এখন তুমি না খেয়ে ঘুমা্চ্ছো, এ সুযোগে পিসি খুললাম। আদর গো মা-মণি
এইসব ক্লািন্তরা....
আমােদর বাসার পেঁপেঁ গােছ পেঁপেঁ ধরেছে। ইদানীং খুব অল্পতেই স্মৃিত আক্রান্ত হই। সারািদেনর অহেতুক হৈ চৈ, তথাকথিত কাস্টমার সার্ভিস মুখোশ আঁটা কলিগ এসব ক্লািন্ত িবষাদ বিষ সব সরিয়ে দেশের খবর বাসার খবর বিশ্বের খবর কিছুই আমার কাছে পৌঁছায় না।
হঠাৎ তেঁতুল পেঁপেঁ আহ্ মাখােনার কথা মনে পড়লো। তার পাশাপািশ দেখি পত্রিকায় বৌদ্ধ মন্দির পোড়ানোর খবর। আমার মাথা কাজ করে না। সেই নুনু কাটা মুসলমােনর দেশ, েসই গরু খাওয়া মুসলমােনর দেশ রয়েই গেলাম। আগুন দাও, জায়গা খালি েসই ভিটা আসুন দখল করি। তারপর কান্না করি, মানববন্ধন করি। অজুহাত আমার ধর্মে আঘাত, কি আঘাত! না কে জানি মুভি বানিয়েছে, কে জানি ছবি পোস্ট করেছে। আহা মরি মরি...আমার আইন রক্ষা করার বাহিনী ও তো সুসলমান...ওরা তাই দেখেছে রোম পুড়েছে নিরো বাঁশী বাজিয়েছে...মজা মজা...
মুসলমান বাঙ্গালী এরা ছাড়া আর কেউ দেশে থাকেব না বলে দিলেই তো হয়...সবাই দেশ খালি করে চলে যাক...আমরা ডুগডুগি বাজাই...মানববন্ধন করি...
ও নদীরে (২)
কথা আমি রেখেছিলাম মেঘনার কাছে। আমাদের এক সনাতনধর্মী বান্ধবী হঠাৎ সপরিবারে ভারত চলে যাবার কথা শুনলাম। আমরা সেই ক্লাস ফাইভ থেকে একসাথে পড়েছি। এইচএসসির পর যখন শুনলাম আমার জুটি ভাঙ্গতে যাচ্ছে তখন মনে মনে ভাবলাম এতবছরের স্মৃতিকে মেঘনাতেই না হয় দাফন করব। কষ্ট কম হবে। নাগালের ভেতর থাকা সব বন্ধু বান্ধবীকে ল্যান্ডফোনে ফোন দিলাম। ২২ এপ্রিল ১৯৯৭, বাইরে একটা নিদারুণ রোদাক্রান্ত দিন। রোদে ভাজা ভাজা যাকে বলে। সাড়ে ৯টার ভেতর সব মীরপুর দশ নাম্বার গোল চক্করে জড়ো হয়ে গেলাম। গোণাগুণতি করে দেখা গেল জেরীন ছাড়া সবাই-লিমা, মাবরুকা,কাজলা, শর্মিলা,সোহাগ, জিমি, শামীম,রিপন, খালেদ,শর্মিলার কাজিন পলাশী এবং আমি লোচন;-ওরে বাবা এ তো বিরাট বহর। আমরা একটা বাসে উঠলাম- উদ্দেশ্য গুলিস্তান যাওয়া। পকেটের অবস্থা সবার যা ইচ্ছা তাই। ৫০- ১০০ এভাবে করে যা টাকা পাওয়া গেল সব একসাথে একজনের কাছে দিলাম। গুলিস্তান পৌঁছতে পৌঁছতে গরমে ঘেমে নেয়ে সবাই একাকার। খালেদের স্বাস্থ্য ভালো সে বেচারা একেবারে হাঁসফাঁস করছে গরমে। কিছু যে কিনে খাবো সে অবস্থাও নেই। টাকার সংকট।
ও নদীরে...
ও নদীরে...
মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই, এখন আমার ওষ্ঠে লাগে না কোন প্রিয় স্বাদ...এমন অবস্থাতে বার বার ছুটে গিয়েছি নানা বয়সে, নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে একই জায়গায়। আমার একটা নদী ছিল, সে নদীকে আমি কাছের বন্ধু সবার সাথে বছরের পর বছর ভাগাভাগি করে নিয়েছি, বন্ধুরাও সে নদীকে ভালোই বেসেছে তার পাড়ে অজস্র কারখানা না হওয়া পর্যন্ত - আমার সে নদীর নাম মেঘনা। গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা হবার সুবাদে যাতায়াতের পথে মেঘনাকে ঝলক পলকে দেখেছি হয়তো কিন্তু মেঘনাতে দাপাদাপির শুরু ৯৫ সালের ৯ মার্চ থেকে। মীরপুর ১০নম্বরে ই.হক কোচিং সেন্টারের শাখায় কিছুদিন এইচএসসির শুরুতে পড়েছিলাম। সেখানে আমাদের টিচার ছিল সুজন ভাই। আমার জন্মদিনের পরের দিন আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন – আরেক টিচার ইলোরা এবং বন্ধু উজ্জ্বল। অনেকেই যাবে বললেও যাবার সময় আর কারো দেখা মিললো না। আমরা মাইক্রোতে না বাসে গিয়েছি মনে পড়ছে না।
চক্বরের টুকিটাকি
চক্বরের টুকিটাকি
নিজের মনেই মাঝে মাঝে ভাবি আমি এমন ব্যাপক আকারে ঘোরাঘুরির প্রতি নিবিষ্ট হলাম কিসের মন্ত্রণায়! যেখানে বাংলাদেশের নারীরা এ পাড়া থেকে সে পাড়ায় যাওয়া ও পরিণত বয়সে একটি অপরাধের মধ্যে পড়ে। কিভাবে কিভাবে যেন হয়ে গেল।
প্রথম পাহাড় দেখা, প্রথম সাগরে স্নান...
"দিল চাহতা হ্যায়" সিনেমাতে প্রীতি জিনতার প্রথমে যে ছেলেটার সাথে বিয়ে হবার কথা থাকে সে বিভিন্ন দিনের সময় উল্লেখ করে প্রীতিকে উপহার দিতে থাকে এবঙ এ ধরনের ক্যালেন্ডার ধরা ব্যবহারে প্রীতি ছেলেটার উপর দারুণ অসন্তুষ্ট থাকে।
জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা সিনেমার কবিতা অনুবাদ
বুকের ভেতর বিরহ শোক
সে তো বেঁচে থাকার উপযোগ
চোখের কোণায় স্বপ্নের ঝলক
সে তো বেঁচে থাকার উপযোগ
খোলা হাওয়া নাই বা হলে
নাই বা হলে উন্মাতাল ঢেউ
হৃদয় খুলে প্রতি পল বাঁচো
নতুন এর সাথে বেহুল নাচো
মনের গহীনে না পাওয়ার ক্ষোভ
জেনো, সে তো বেঁচে থাকার উপযোগ ।।
দিনপঞ্জী এমনও হয়, তোমার কাজটাই কাজ এমন ভাবা ঠিক নয়
ঘুমাতে যাওয়া : ভোর ৪:৩০ এরপর আর না জানা কখন ঘুমালাম (কারণ রাত ১১টা থেকে রাণীকন্যা কাঁদছেন, খাচ্ছেন, ছোটবড় বাথরুম করছেন এবং কোলে উঠছেন)
৬:৩০ সকাল : রাণীকন্যাকে খাওয়ানো
৮:০০ : শয্যায় বাচ্চাকে খাওয়ানো
৮:৩০ : শয্যা ত্যাগ, প্রাত:কৃত সমাপ্তকরণ সাপেক্ষে প্রাত:রাশ গ্রহণ, বাচ্চা তথা রাণীকন্যাকে বাইরে নেয়ার জন্য জামাকাপড় পরানো,বাচ্চাকে খাওয়ানো
৯: ৩০: নিজে তৈরী হয়ে বাচ্চাসহ টিকাদানের উদ্দেশ্যে বের হওয়া
১১:১৫ : টিকা দেয়া শেষ
১১:৩০ : টুকটাক কেনাকাটা করতে গিয়ে গাড়ীর স্টার্ট বন্ধ হয়ে রাস্তায় ফেঁসে যাওয়া, সিএনজি ধরে বাসায় আসা
১১:৫০ : বাসায় ফেরা, বাচ্চার গোসল করার ব্যবস্থা করা
১২:১৫ ; গোসল শেষে খাওয়ানো
১২ :৪৩ : ফোনের ফ্ল্যাক্সি, টুকটাক জিনিস ক্রয়
১: ২০ : বাসায় ঢোকা, নাকেমুখে একটা রুটি গুঁজে , যে যে কাপড় কাঁথা ধুতে হবে সেসব সমেত বাথরুমে ঢোকা
১:৪৪ এ গোসলে যাওয়া
মিথ্যার ফাঁদে সরলতার সফর [”চক্বর" ২য় কিস্তি]
মিথ্যার ফাঁদে সরলতার সফর
এক একটা বয়স থাকে তখন মানুষের ব্যতিক্রম কিছু করার ইচ্ছা থাকে। চুরি করে আঁচার খেলেও তখন মানুষ বিরাট ঘটনা ঘটাতে পেরেছে বলে নিজের পিঠ নিজেই চাপড়ে দেয়। ক্লাস টেনে উঠে যাওয়াটা স্কুল জীবনে মনে হয় সবচাইতে বড় প্রাপ্তি। নিজেকে কেমন বড় বড় লাগে। মনে হতে থাকে এবার আর অন্য কারো কথা নয় নিজের যা মন চায় তাই বুঝি করার এক্তিয়ার আমাদের হাতে এলো বলে!
বিশুদ্ধ জীবন
বিশুদ্ধ জীবনের অপর নাম কি?
নিজেকে যতবার প্রশ্ন করেছি উত্তর পেয়েছি ‘ছক’ এ চলা।
অমন একটেরে চলা কে কবে মানতে পারে!
অথচ চারিদিকে সেই প্রস্তুতি;
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া মানে গোল্ডফিশের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জন -
অ্যাকুরিয়ামের সীমিত গন্ডিতে সব তর্জন গর্জন।
এফএম শুনতে শুনতে দাঁড়ি কামানো, ওড়না পিন্আপ,
লাঞ্চ বক্স ব্যাগে পুরে নামানো ঘরের ঝাঁপ;
তারপর দৌড়, ন’টা পঁয়তাল্লিশ বাজি রেখে কার্ড পাঞ্চ,
হাজিরা খাতায় সই-
নিজের মনকে চোখ ঠারা আদতে প্রত্যেকে”বাঁশী” কবিতার
কেরানী ছাড়া অন্য কেউ নই -
খুব ক্যাতা আমি অমুক, ভিজিটিং কার্ড, গলায় টাই
হিলের ঠকঠক, ঠোঁট পালিশ-
কেরানীগিরিটা কেড়ে নিলে বিছানায় শুইয়ে রাখা জীবন্মৃত
কোলবালিশ।
বিশুদ্ধ জীবনে তাই বরাবর ঢেলে দিয়েছি ছাই,
‘ছক’ এর চারপাশ ছেঁড়া, সুযোগ করে যখন তখন
খ্যামটা নেচে গাই।
(১৫.০৭.১১)
গোল্লায় যাক সমাজ ভাবনা
গোল্লায় যাক সমাজ ভাবনা
জানিস হরতাল সামনে রেখে দশটা গাড়ি পুড়লো ধিকিধিকি?
শুনেছিস যোগাযোগমন্ত্রী কিভাবে খাচ্ছে
পরিবহন মালিকদের হাতে ফাঁকি!
ভীষণ ঘটমান বর্তমান সচেতন বন্ধুর ফোন ইচ্ছে করে,
আলগোছে কানের কাছ থেকে একটু দূরে রাখি।
আমার বলতে ইচ্ছে করে, ”তুই জানিস না ইসাবেলা,
আমিও এখন নির্বিরোধ নৈর্ব্যক্তিকতার একনিষ্ঠ সাকি!”
বলি না।
সত্য জেনে চেপে যাওয়ার মতো মাহাত্ম্য
আর কোনকিছুতে নেই।
কতদিন, মাস, বছর আমি রাজনীতি সচেতন নই
আমার সামনে সীমিত কড়িতে চলার হিসাব,
আমি ন্যূব্জ, যেখানে সেখানে রাখা আসবাব
আমার উপর কথিত বাস্তবতার ধূলো জমে যায় প্রতিদিন,
আমি মুছিনা,
এমন কী এখন আর স্বীকারও করি না
কোথাও কোন ঋণ
এই যে খামারী জীবন টেনে নিয়ে যাচ্ছি এই যথেষ্ট
বরং আমাকে বাঁচাতে তুই হ’ আরেকটু সচেষ্ট
এমন লাগে...দেউলিয়া
অক্ষরের উপর চোখের জল ঝরে পড়া, এমন তো ঘটেই থাকে। কত কাগজ ভিজে থ্যাবড়ে গেছে! কী-বোর্ডে আঙ্গুল চলার সাথে বড়জোর চোখজ্বলা, মনের সুখে কান্না আর কোথায় তেমন হয়! তাই সম্ভবত প্রেমের ভালোবাসার গল্পগুলো ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের মতোই ঠুনকো। পকেট টেলিফোন ইনডেক্স মেমোরিতে কিছু নাম্বার টুকে ঘনিষ্ঠদের তালিকা তৈরী হতো সহজেই - ফেসবুক এ ২০০, মোবাইলে ৫০০ সব না কি বন্ধু, খেই হারাই; ইমেজ তৈরীর আগেই ভুলে যাই। দিনশেষে মোবাইল হাতে বেস দেখি নিজের ক্লান্তিটুকু বলবার মতোও আদতে কোথাও কেউ নেই। রঙহীন স্বপ্নের মতো, গন্তব্য ছাড়া গতির মতো - এ এক অদ্ভূত বয়ে চলা যেখানে ডান হাতও বাম হাতের অগম্য। মানুষে মানুষে দূরত্ব ছাড়া তৈরী হবার কিছুই অবশিষ্ট নেই। চূড়ান্ত কিছু দেখবার আশায় দেউলিয়া হয়ে বসে আছে সবাই - এমন লাগে...
ছন্দ ভাঙ্গা, বিষণ্ন আকাশ
ছন্দ ভাঙ্গার গান
আমার সুরে না কি ছন্দ নেই আর
সুর ভেঙ্গে ছুটে চলে জীবন
যেন আজ যন্ত্রণারই পাহাড়।
তোমারও কি রাতভোর বৃষ্টিতে শুকনো দু’হাত
তুমিও কি আমারই মতো খোঁজো
শান্তির একটি প্রভাত!
তোমারও কি দুকূল জোড়া আঁধার
জীবন যেন আজ যন্ত্রণারই পাহাড়।
আমারো জল জমা চোখে আগুনের ছাটা
আমিও বন্দী তোমারই মতো
যতই জুড়ি শূন্য দু’মুঠা।
আমারো সব মুছে যায় বারবার
আমার সুরে তাই ছন্দ নেই আর
সুর ভেঙ্গে ছুটে চলে জীবন
যেন আজ যন্ত্রণারই পাহাড়।
(২০.০৪.১১)
বিষণ্ন আকাশ মেলা
বিষণ্ন আকাশ যেদিন মাথায় ঢুকে পড়ে
সেদিন ভীষণ কষ্ট হয় প্রাত্যহিকতা পালন করতে।
ভেজা মাটি নিজেকে রোদে মেলে খুঁজছে সুখ,
এমন সময় জল যদি গড়াতে হয় উৎসুক
তেমন লাগে সেইসব দিনগুলোতে।
নিজের ইচ্ছেগুলোকে প্রতি মুহূর্তে প্রত্যাখ্যান করতে করতে
ক্লান্ত হয়ে উঠি,
উত্তরাধিকারের খোঁজে
উত্তরাধিকারের খোঁজে
বলতে দ্বিধা নেই আগ্রহ বা অনাগ্রহ কোন ভিটাতেই
আমার শেকড় গাঁথা নেই
আমি দৃশ্যপটে ধারালো তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে আছি,
আক্রমণ কাকে করব জানতে পেলে
এককথায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।
আমার সামনে দৈনন্দিনতার ফিরিস্তি
তুলে ধরা একধরনের সময় নষ্ট।
একা হতে না পারলে আমার সব সংকল্প
নিমিষেই ভ্রষ্ট - অপছন্দের ছায়ায় তারাজ্বলা
আকাশও হয়ে যায় উধাও।
আমাকে তোমারা যতই স্বাভাবিকতার গেরস্থ সুতায় বাঁধো
জেনো আমি তো নেই আমাতেই -
তাই আগ্রহ বা অনাগ্রহ কোন ভিটেতেই শেকড় না গেঁথে
পেট কাটা চাঁদিয়াল হয়ে বাতাসের অনুকূলে ভেসে যাওয়া
এই আমার নিয়তি;
শুধু দৃশ্যপটের ধারালো তলোয়ার
হাত বদলের জন্যে উত্তরাধিকার খুঁজি
আজো অজান্তেই ।
(১৩.০৪.১১)
বিরল মৌতাতে সাহসী ভোরের একজন
হুলোর ছোঁকছোঁক
উঁকি দিয়ে পাহারা দেয় বিড়াল চোখ
সহানুভূতির আশায় করে ছোঁকছোঁক
হুলোভাবে ছানা তার, গিন্নীকে এখন
তাই দেয় অনেক মনোযোগ।
লোক দেখানো এসব অভিনয়
নয় তো অজানা
অনতিক্রম্য সেই ব্যবধান নিজ হাতে হুলো
টেনেছে যার সীমানা
করাল অক্ষিতে গোলাপের নিশানও
মাপি ভীষন সতর্কতায়
ফুটো করে জল প্রবেশ হবে না তো
আর আমার নায়।
সাঁতার জানি, হয়েছি তো মাঝি মাল্লার
হারাব না হাল, সবটা জানি এখন নিশানার।
(০৪.০৪.১১)
বিরল মৌতাতে সাহসী ভোরের একজন
শেষ বসন্তের এলোমেলো বৃষ্টিতে তোমাকে
অনায়াসে গুঁজে দিতে পারতাম আমি!
একবার ঝড়ো ঘূর্ণিতে পড়লেই তুমি জানো
কেমন নিস্পৃহতায় আমি ভুলে যেতে পারি
এ নষ্ট শহরের ধর্মব্যবসায়ীদের ছল,
তোমার স্মৃতি,
তা আমি করিনি ইসাবেলা।
এক্বাদোক্বা খেলার মতো আছি, আছি, নাই, নাই
করতে করতে খরচোখে আমি সব দেখি