ইউজার লগইন

মেঘকন্যা'এর ব্লগ

কেউ কারো নই,দূরে ঠেলে কড়ির গন্ধ

কেউ কারো নই

তুমি বিচ্ছিনতাবাদী হতে চাও
আমার তো ওজর নেই।
তুমি আধুনিক মানুষের প্রতিচ্ছবি,
দায়হীন সম্পর্ক ভালোবাসো
আমি তাতেও হারাইনি খেই।
আধুনিকতার অনুসঙ্গ Individualism বা
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে যদি থাকে তোমার অনুরাগ
আমার অনুরোধ একটাই- মিছে ভন্ডামীর
”আমাদের” শব্দটার এবার করো বিভাগ;
অংকটা ভীষন সহজ ‘‘আমাদের ÷ দুই” =
‘ তুমি এবং আমি’ - কেউ কারো নই।

(02.04.11)

দূরে ঠেলে কড়ির গন্ধ

ঘনায়মান ছায়াতেও আমি খুঁজে পাই ঘৃণার শরীর
শুধু তোন জন্যে মা, তোর জন্যে
আমি বুকের লাল খুঁড়ে সিঁদুর রাঙা হই
বিষ গিলতে গিলতে তোর বাহুতে আঁকি ডানা পরীর
যদি কোনদিন আমি তোর বিশ্বভুবন ছুঁই!

দোজবর শালিক নোংরা ঘাঁটা ঠোঁটে
নির্লজ্জের মতো গেয়ে উঠতে চায় আপোসের গান,
তুই জানিস মা, তোকে বাঁচাতে আমার এখন সিনা টানটান।

ছিন্ন পদ্য

১.
বিম্বিত প্রতিচ্ছবিতে লড়াই এর আহ্বান
যূথবদ্ধতা অমিলের কান্ডে বোকামীর স্নান;
তবে প্রিয়তমা তাই হোক - তোমার লীলায়িত অধরের স্মৃতি নিয়ে
আমিও না হয়, মৃত্তিকাতে পুনঃর্জন্মের ইতিহাস লিখব আরেকবার !

২.
আমাদের অমীমাংসিত হিংসার তীর নিক্ষেপ চলতেই থাকে,
তুলনার দাঁড়িপাল্লা এদিক ওদিক দোলে বারবার-
আমি দোষী, তুমি দোষী, রুচি-অরুচি, দাঁত ঘষাঘষি
অতীত বর্তমান সব বিষে পিষে ছারখার।

৩.
বদলাবে দিন বদলায়, শত্তুর বসে মুচকি হাসে ঘরের দাওয়ায়
মন্ত্রপূতঃ জলের ছিটা, অবনত প্রাথর্না,
ঐসব ঘনায়মান কালরাত্তির হতে
নিঃশর্ত মুক্তি চায়।

৪.
আমি তো দুঃখী ই ছিলাম
তুমি আর কি নতুন দুঃখ দেবে!
সবার শেষ লক্ষ্য একটাই
মাটির বিছানা,
কেমন করে ভাবো তুমি তা
আমার পায়ের নীচ হতে
কেড়ে নেবে!

৫.
ভীষণ আতশবাজি পুড়বে পুরো শহরে
হয়তো বা সারারাত
ফেনিল উল্লাসে অনেক বৈঠকখানা
হয়ে যাবে মৌতাত;

সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ

পরিচিত গন্ডী বারবার আঙ্গুল তুলে জানতে চেয়েছে
আমাদের সম্পর্কের কথা, আমি নিরুত্তর
সাথে ফিকে হাসি- তোমাকে কেউ এমন প্রশ্ন করতেই পারেনি;
কারণ ভীষণ সাধারণ আমার সাথে "তুমি" ভাবা যায় না,
আমার আঞ্চলিক টানের পাশে তোমার পূর্ণেন্দু পত্রী'র নন্দিনীর বিভাস,
যে কোন তৈলচিত্রের ক্যানভাসও মুহূর্তে করে দেবে উদাস।
আমার অগোছালো বেশভূষা-জিনস, কেডস...
সবকিছু যেনতেন তার সমান্তরালে তুমি তো
"অপর্ণা সেন"।
তাই সবাই জানে আমি প্রেমী কিন্তু ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে অপারগ।
সেই সুযোগে তুমিও একটু দূরে,
আমিও ফিকে হাসি নিয়ে আছি সরে -
এ বয়সে ভালোবাসা আর চৌকান করতে সাধ জাগে না,
আমাদের উল্লাসটুকু আমরা নীরবে করি পান।

দায়হীন বন্ধুতা

রোদ্দূর জল কাদা মাখা
তোমার হাত আমাদের আনন্দ মেহেদী রাঙা,
অবাক বালিকার বাউল-দেউল হওয়া -
রুদ্ধ করলে যখন,
অভিমানের প্রতি স্তর গলতে লাগলো
স্নেহে পূর্ণ করলে জখম।
ব্রীড়ায়-আড্ডায়-ক্ষোভে, লাজে কার্তুজ আগুনে
প্রশ্ন করেছি যতবার, বলেছো এ প্রেম নয়-
তোমার একান্ত প্রকাশ হয়তো বা ভালোবাসার;
অমীমাংসিত বাস্তবে,
আকাশ পেরোনো স্বপ্নের সীমায়
জেনেছি প্রথমত-শেষ পযর্ন্ত আমরা "বন্ধু"
যেখানে নেই আর কোন দায়।

কবিতা লিখার পর বলে আমার লিখার দৈর্ঘ্য খুবই কম, নূনতম ৫০ শব্দ লাগবে । কি করি এখন??
এটা কেমন বিচার?? তাহলে হেলাল হাফিজের "পারমাণবিক বোমা বোঝ, মানুষ বোঝ না" এই লিখা তো আমরাবন্ধু তে জীবনেও পোস্ট হতো না Sad

ফেরানো গেল না কিছুতেই

বহুকালের পরিচিত সেই জটিল মুখটি দেখার জন্যে পাশে মুখ ফেরালাম। সেই একই ভঙ্গী! কোনকিছু মনমতো না হলে দু’ঠোঁট চেপে রাখা ওর সবসময়ের অভ্যাস।ভেবে ভেবে দিশেহারা হওয়া মনে হয় একেই বলে! কিভাবে আমি ওকে আজ বিয়ের কথা বলব! বললে প্রতিক্রিয়াই বা কী হবে!ভ্রু থেকে ঘাম গড়িয়ে পড়লো;আমার পাগলপারা দশাকে ওর কাছে একেবারে উন্মুক্ত করে দেবার জন্য যে এটা যথেষ্ট হবে আমি জানতাম।
ও আমার দিকে মুখ ফেরালো, স্বাভাবিক প্রশ্নটাই ছুড়েঁ দিলো – তুমি এভাবে ঘামছো কেন?
বোকার মতো হেসে বললাম, “এখানে আজকে খুব গরম, না কি বলো? দাঁড়াও গাড়ির জানালার কাঁচ নামিয়ে দেই।”
কাঁচ নামানোর সুইচে হাত দিতে গিয়েই দেখলাম ও সিট বেল্ট বাধেঁনি, নিশ্চয়ই প্র্যাগন্যান্সির এমন অ্যাডভান্স স্টেজে বেচারার সামনের সিটে সিটবেল্ট বেঁধে অনেক সময় ধরে বসতে খুবই কষ্ট হবে!পরক্ষণেই মনে হলো ও সামনের সিটে, সিট বেল্ট ছাড়া বসাটা বিপদজনক তো বটেই, বিশেষ করে হাইওয়েতে।

নতুন ডিকশনারী যেদিন লিখিত হবে, কেউ আমাকে ভুলে যেও না (চিক্বুর সহ)...

সারা জীবনের পড়া বাংলা মিডিয়ামে। পড়া মানে মুখস্থ করতে হবে। যা আপনাদের মেঘ একটুও পারে না। ফলাফল হাত পেতে মার খাওয়া। যাক্‌, সেসব নিয়ে হায় আফসোস নেই। ইংলিশ ফর টুডে পড়ে ই কেউ ইংরেজিতে কবিতা লিখে আর আমাদের মতো মাঝারীরা ভাবে - এভাবে কি ভাষা শেখা যায় (এভাবে কি তার সাথে প্রেম করা যায় - ফজলের সেই গান নোভা ব্যান্ড)। আরবীতে যখন ব্যাকরণ আর কবিতা লিখা শিখলাম ( শিখতে বাধ্য হলাম) তখন ভাবনার ষোলকলা পূর্ণ হলো। বাপস, আমি বাংলা জানি (আজো জানি না সত্যি জানি কি না), ইংরেজি জানি (ইংলিশ বই পড়তে দিলে আমার একমাস লাগে), আরবী জানি (পড়তে পারি কিন্তু আগের মতো কিছুতেই অর্থ বুঝি না) - আমরা ক্লাসের সবাই একদিন আলাপ করছিলাম আমরা আসলে বহু ভাষা বিশারদ এর খেতাব পাওয়া উচিত। এসব চিরতা গিলতে গিলতে এসএসসি র বৈতরণী পার হলাম। এবং খুব সুন্দরভাবে ঐ টিক মার্কের আমলেও ইংরেজিতে লেটার পেলাম না। সব দোষ আমার মুখস্থবিদ্যা না থাকার Sad(

নিজের সুরতহাল নিজের পঠনের তলে

মনোযোগহীনতা আমার সব ব্যর্থতার পেছনে ঘাপটি মেরে থাকে। কোন কাজেই আমি পূর্ণ মনঃসংযোগ করতে পারি না সেই পনেরো বছর বয়স থেকে। গত একমাসের উপর বাসায় আছি। নিজেকে খুব কাছ থেকে অবলোকন করার এমন দীর্ঘ সুযোগ কর্মজীবনে প্রবেশের পর থেকে আর পাইনি। প্রতি দশ মিনিট ও নয়, বরঞ্চ প্রতি মিনিটে আমার চিন্তার বিষয় পরিবর্তিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে মানুষের প্রতি আস্থা কমেছে।একমাত্র ভালোবাসার মানুষ ছাড়া আর কারও কাছে নিজেকে উন্মুক্ত করি না, আবেগের প্রবাহ অনেকটাই স্তিমিত।সংযুক্তদের প্রতি প্রত্যাশার কোটা শূন্য; ফলাফল - মানসিকভাবে দুঃখভারাক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম। সময়, বয়স, পেশা, ক্ষমতার উপযুক্ত ব্যবহার, সামাজিক অবস্থান, পরিচয়, অর্থ মানুষকে কিভাবে পরিবর্তন করতে পারে তা নিজেকে দিয়ে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছি।

অধরের স্বাদ ভুলে গেছি

অধরের স্বাদ ভুলে গেছি,
জেলখানার কয়েদি জানালার ফাঁকে দেখে
একফালি খোলা আকাশ
তোমার ছবি দু'চোখের আয়না থেকে বুকে নামে যেই
কি যে ভয়ংকর গুরু গুরু প্রকাশ!
এই বুঝি মেঘ নামলো -
এটা মুছি, সেটা গুঁজি
তারপর বুঝে যাই
অধরের স্বাদ ভুলে গেছি।
টুনটুনির চঞ্চলতায় ধরেছিলাম তোমার আঙ্গুল,
সে হাতেই খুঁজে এনেছো তুমি
স্থিরতার আশ্চর্য পরিবেশ অনুকূল;
এখনো স্মৃতির কাছে যতবার যাই
আমার কপালে তোমার শেষ চুম্বন
কি করে এই মুখে করি গুঞ্জন
তোমার স্বাদ ভুলে গেছি, ছাই!

এই দুপুরটা তোমাকে দিতে পারি

নির্মাণ শ্রমিকদের করা শব্দের আড়ালে নীরবতার দুপুর যখন সতীত্ব হারায়, তখন মনে পড়ে এমন কত না দুপুর সব তুচ্ছ করে তুমি আমার কাছে এসেছো, আমি নির্দ্বিধায় তোমার হয়েছি। কেমন মন কেমন করা দুপুর আসে ফিরে ফিরে এইসব নির্বিষ বেকারত্বের দিনগুলোতে, আমার কারো সাথে অভিসারে যাওয়া হয় না। লুকানো বরফের আড়াল থেকে তোমার ছুরিধার উষ্ণতা এসে আমাকে ছারখার করার ডংকা বেজে উঠে না, ইসাবেলা। আমি যখন তোমাকে দুপুর দিতে চাই তুমি তখন ভোরের কম্বল আদরে ঘুমন্ত। আমার এখানে গ্লাসে গ্লাসে ব্লাডি মেরির ঝলকে এখন আর তোমার উচ্ছ্বল ছায়া উকিঁ দেয় না, বড় বন্ধুবিহীন, ন্যাড়া এই শেষ বসন্তের দিনগুলো। আলাদা করে তামাকের ব্র্যান্ড খুজেঁ আমাদের সাপ্তাহিক পার্টির আয়োজন ও কবেই চৌপাট!

ডাবল রুফ না কি ভুলে যাবার উসিলা?

চার মাস অনেকের কাছে কোন সময় নয়। আমার কাছে ১২০ দিন, কলমের বৈধব্য, কাগজ জমে যাওয়া, কী-বোর্ডের শীত কাতরতা...মনের শুষ্কতা। এটা কি রাইটার্স ব্লকেজ না কি প্রতিদিনের শিকড় উপড়ানো ব্যস্ততার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ!!
আমি এতকিছু জানি না, আমের সাথে জাম মিলিয়ে ও যদি একটা লিখা আসে আমি এখন খুশি হব আমার অবস্থা এমনই...

জীবনটা যেন ডাবল রুফে রাখা কোন জিনিসের মতো
প্রতিদিন ভাবি নামাব কিন্তু নানা টানাপোড়েনে আর হয়ে ওঠে না;
বেহুল জোস্‌নায় চরাচর ভেসে যায়, আমি চাদেঁর নীচে বসি কই!
বাউলা বাতাসে ঘূর্ণি নাচন,
মাথার ভেতর পাক্‌ দিয়ে ওঠে, বসন্ত তবু বলে আমি তার নই।
হরিণের জিহ্বায় বড়শি গেঁথে দূর বহুদূর-
আলো নেই, বেতাল বিংশতির (অ) সুর,
ডাবল রুফের শেষটা দেখা হয় না; বন্যাবাতি অনিত্য হয়ে
সব নগ্ন করে ধরিয়ে দেয় না চোখের আয়নায়,
আয়ু ক্ষয় হতে থাকে-
ঘষটে চলা পথের সীমানায়...

দু’টি মানুষ

দু’টি মানুষ চোখে চোখ রাখলেই
দু’টি মানুষ একযোগে হেসে উঠলেই
দু’টি মানুষ চেনাজানার ঝাঁপি খুললেই,
সম্পর্কের আকিকার প্রয়োজন।
তাদের বন্ধু হতে আয়োজন,
কখনো দেয়াল ঘের দিতে চায় স্বজন
কখনো বা তারা করে রাখী বন্ধন।
দু’টি মানুষ মুছতেই পারে একে অন্যের
অশ্রু অথবা জল
দু’টি মানুষ হতেই পারে একসঙ্গে
শোকে কিংবা সুখে বিহ্বল!
দু’টি মানুষ কোন সংজ্ঞায় পড়ে না
থাকতেই পারে এমনভাবে সম্পর্কিত
হোক তা বিরল,
দু’টি মানুষ হতেই পারে সহযোদ্ধা,
শুধু তাদের রয়েছে লড়াইয়ের ভিন্ন ভূ-গোল।

(১৯.১১.১০)

প্রিয় নারী,”শুভ জন্মদিন”

প্রিয় নারী,
আজ রাতে কিছুতেই নিজেকে অন্য কারো দৃষ্টিতে প্রশংসিত দেখতে ইচ্ছে করছে না। পৃথিবীর তাবত ভালোকে পাশ কাটিয়ে আমার আপন দুর্ভাগ্যের জন্য নিজেকেসহ অপরাপর অন্য নারীরা যারা আমার সাথে কোন না কোনভাবে যুক্ত তাদের দোষারোপ করার সাধ জাগছে।

ছদ্মবেশের প্রতিটা মুখোশ টেনে সরিয়ে আসল ’আমি’ কে নিয়ে যদি বাঁচতে পারতাম! বেদনার সব স্তর অতিক্রম করতে করতে আমি জানি তুমি আমার সব শান্তির উৎস। হায়! আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি ’দূরত্ব ’ নামক অদ্ভূত দেয়ালের আড়ালে। সময়ের ফেরে আমি হাবুডুবু, স্পর্শহীনতায় আমার নাক পর্যন্ত বিষাদ। আমাদের আর একে অন্যের ঝুরকো রূপোলী চুল নিয়ে হাসা হয় না। তুমি হয়তো আজকাল বানরটুপিতে সবটা ঢাকো!